নিউইয়র্ক ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

যুক্তরাজ্যকে ইইউতে থাকতে বলে তোপের মুখে ওবামা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১০:২২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০১৬
  • / ৭৭৮ বার পঠিত

ঢাকা: ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থেকে যাওয়ার পক্ষে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাজ্যে সফররত ওবামা ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এক নিবন্ধে লিখেছেন, যুক্তরাজ্য ইইউ ছেড়ে না গেলে বিশ্বে দেশটির প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকবে এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে তাদের সামর্থ্য ‘আরও কার্যকর’ হবে।
যুক্তরাজ্যের ইইউ ছাড়ার পক্ষের একাধিক ব্রিটিশ নেতা ও সংবাদ বিশ্লেষক বারাক ওবামার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে যাবে কি যাবে না, সেটি দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে ওবামার ‘নাক গলানো’ উচিত হয়নি।
সৌদি আরবে দুই দিনের সফর শেষ করে ওবামা গত বৃহস্পতিবার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ যুক্তরাজ্যে গেছেন। গতকাল শুক্রবার তাঁর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দুপুরের ভোজে অংশ নেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। আজ শনিবার তাঁর যুক্তরাজ্য থেকে জার্মানি যাওয়ার কথা।
‘একজন বন্ধু হিসেবে বলছি, ইইউ যুক্তরাজ্যকে আরও ক্ষমতাধর করতে পারে’ শীর্ষক নিজের লেখা নিবন্ধে ওবামা বলেছেন, ইইউতে থেকে যুক্তরাজ্য গোটা বিশ্বে তার প্রভাব বিস্তার করতে পারছে। তাই যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকা উচিত। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার যুক্তরাজ্যের ভোটারদেরই—এ কথা স্বীকার করে ওবামা বলেন, ‘তবে আপনাদের (যুক্তরাজ্যবাসী) এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে।’
ইইউ ত্যাগের পক্ষে আন্দোলনের নেতা নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন জনপ্রিয় সান পত্রিকায় এক নিবন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। বরিস জনসন লিখেছেন, তাঁরা যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো নসিহত শুনতে চান না। জনসন মনে করেন, ওবামার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কাছে ব্রিটিশ নাগরিকদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানানোরই নামান্তর।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলেছেন, এ বিষয়ে এভাবে ওবামার হস্তক্ষেপের দরকার ছিল না। তিনি বিষয়টি আরেকটু বিমূর্তভাবে বলতে পারতেন।
বিবিসির রাজনীতিবিষয়ক সম্পাদক লরা কুয়েন্সবার্গ বলেছেন, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষের একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, ওবামার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বতঃসিদ্ধ অবস্থান নয়। টেড ক্রুজসহ বহু রিপাবলিকান যুক্তরাজ্যের ইইউ ছাড়ার পক্ষে।
যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের এমপি ইয়ান ডানকান স্মিথ বলেছেন, ওবামা এ বিষয়ে কথা বলে তাঁর দ্বিমুখী নীতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
ইউকে ইনডিপেন্ডেস পার্টির নেতা নাইজেল ফ্যারাজ ওবামাকে ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ব্রিটিশবিরোধী মার্কিন প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ওবামার বক্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘ভাগ্য ভালো, তাঁর (ওবামা) আর বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা হবে না।’ প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ জুন যুক্তরাজ্যের ইইউ ছাড়ার পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

যুক্তরাজ্যকে ইইউতে থাকতে বলে তোপের মুখে ওবামা

প্রকাশের সময় : ১০:২২:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২২ এপ্রিল ২০১৬

ঢাকা: ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) যুক্তরাজ্যের থেকে যাওয়ার পক্ষে মন্তব্য করে সমালোচনার মুখে পড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। যুক্তরাজ্যে সফররত ওবামা ডেইলি টেলিগ্রাফ পত্রিকায় এক নিবন্ধে লিখেছেন, যুক্তরাজ্য ইইউ ছেড়ে না গেলে বিশ্বে দেশটির প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকবে এবং সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে তাদের সামর্থ্য ‘আরও কার্যকর’ হবে।
যুক্তরাজ্যের ইইউ ছাড়ার পক্ষের একাধিক ব্রিটিশ নেতা ও সংবাদ বিশ্লেষক বারাক ওবামার এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। তাঁরা বলেছেন, যুক্তরাজ্য ইইউ থেকে বেরিয়ে যাবে কি যাবে না, সেটি দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে ওবামার ‘নাক গলানো’ উচিত হয়নি।
সৌদি আরবে দুই দিনের সফর শেষ করে ওবামা গত বৃহস্পতিবার ঘনিষ্ঠ মিত্র দেশ যুক্তরাজ্যে গেছেন। গতকাল শুক্রবার তাঁর রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথের সঙ্গে দুপুরের ভোজে অংশ নেন। এরপরই প্রধানমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরনের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। আজ শনিবার তাঁর যুক্তরাজ্য থেকে জার্মানি যাওয়ার কথা।
‘একজন বন্ধু হিসেবে বলছি, ইইউ যুক্তরাজ্যকে আরও ক্ষমতাধর করতে পারে’ শীর্ষক নিজের লেখা নিবন্ধে ওবামা বলেছেন, ইইউতে থেকে যুক্তরাজ্য গোটা বিশ্বে তার প্রভাব বিস্তার করতে পারছে। তাই যুক্তরাজ্যের ইইউতে থাকা উচিত। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার যুক্তরাজ্যের ভোটারদেরই—এ কথা স্বীকার করে ওবামা বলেন, ‘তবে আপনাদের (যুক্তরাজ্যবাসী) এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ নিবিড়ভাবে জড়িয়ে আছে।’
ইইউ ত্যাগের পক্ষে আন্দোলনের নেতা নিউইয়র্কে জন্মগ্রহণকারী লন্ডনের মেয়র বরিস জনসন জনপ্রিয় সান পত্রিকায় এক নিবন্ধে মার্কিন প্রেসিডেন্টের বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। বরিস জনসন লিখেছেন, তাঁরা যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে মার্কিন কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো নসিহত শুনতে চান না। জনসন মনে করেন, ওবামার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতির কাছে ব্রিটিশ নাগরিকদের আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানানোরই নামান্তর।
বিশ্লেষকদের কেউ কেউ বলেছেন, এ বিষয়ে এভাবে ওবামার হস্তক্ষেপের দরকার ছিল না। তিনি বিষয়টি আরেকটু বিমূর্তভাবে বলতে পারতেন।
বিবিসির রাজনীতিবিষয়ক সম্পাদক লরা কুয়েন্সবার্গ বলেছেন, ইইউ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পক্ষের একজন ব্রিটিশ মন্ত্রী তাঁকে বলেছেন, ওবামার এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বতঃসিদ্ধ অবস্থান নয়। টেড ক্রুজসহ বহু রিপাবলিকান যুক্তরাজ্যের ইইউ ছাড়ার পক্ষে।
যুক্তরাজ্যে ক্ষমতাসীন রক্ষণশীল দলের এমপি ইয়ান ডানকান স্মিথ বলেছেন, ওবামা এ বিষয়ে কথা বলে তাঁর দ্বিমুখী নীতির প্রকাশ ঘটিয়েছেন।
ইউকে ইনডিপেন্ডেস পার্টির নেতা নাইজেল ফ্যারাজ ওবামাকে ‘এযাবৎকালের সবচেয়ে বড় ব্রিটিশবিরোধী মার্কিন প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি ওবামার বক্তব্যকে ‘অগ্রহণযোগ্য হস্তক্ষেপ’ আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘ভাগ্য ভালো, তাঁর (ওবামা) আর বেশি দিন ক্ষমতায় থাকা হবে না।’ প্রসঙ্গত, আগামী ২৬ জুন যুক্তরাজ্যের ইইউ ছাড়ার পক্ষে-বিপক্ষে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।