নিউইয়র্ক ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ মে ২০২৪, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নতুন বাদশাহ সালমান মধ্যপন্থী গণতন্ত্রবিরোধী

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৯:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৫
  • / ৭৫৮ বার পঠিত

ঢাকা: বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের মৃত্যুর পর নতুন বাদশাহ হয়েছেন তার সৎভাই সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ (৭৯)। ইতোমধ্যে তার নতুন উত্তরসূরীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ সালমানের মৃত্যুর পর বাদশা হবেন তারই সৎভাই সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ৬৯ বছরের মাকরিন বিন আবদুল আজিজ। ইউরোপীয় রাজতন্ত্রের মতো সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় না। এখানের ক্ষমতার পালাবদল ঘটে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে। ২০১১ ও ২০১২ সালে বাদশাহ আবদুল্লাহর তৃতীয় উত্তরাধিকারীর মৃত্যুর পর যুবরাজ মনোনীত হন সালমান।
ভাইয়ের শাসনামলে ২০১১ সাল থেকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সালমান। এর আগে প্রায় পাঁচ দশক তিনি রিয়াদের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত সালমান রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে গঠিত মজলিস আল উতরার প্রধানও ছিলেন। ইতিমধ্যে একবার স্ট্রোক করেছেন তিনি।
সৌদি আরবে রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ বিন সৌদের ২৫তম সন্তান। তার মা হাসসা বিন আহমেদ আল সৌদারির সাত সন্তানের অন্যতম সালমান। তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের বাদশাহ হওয়ার পর আবদুল আজিজের ষষ্ঠ সন্তান তিনি। মাত্র ২০ বছর বয়সে সালমান রিয়াদ প্রদেশের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তাকে রিয়াদের উন্নয়নের স্থপতি হিসেবে মনে করা হয়।
জেদ্দার সঙ্গে ঐতিহাসিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে তিনি মরুময় রিয়াদকে একটি আধুনিক নগরে পরিণত করেন।
নীতিগতভাবে সৌদির এই নতুন বাদশাহ সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত। দেশটির গোড়া রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা, শক্তশালী প্রতিদ্বন্দ্বী গোত্র ও প্রগতিশীল আধুনিক তরুণদের মধ্যে তিনি সমন্বয় করতে সক্ষম হবেন বলে মনে করা হয়।
উইকিলিকসের ফাঁঁস করা এক দলিলে জানা যায়, ২০০৭ সালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে সালমান বলেছিলেন, সৌদি আরবের সংখ্যাগরিষ্ঠ রক্ষণশীলদের প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখেই বাদশা আবদুল্লাহ সংস্কার কার্যক্রম ধীরগতিতে পরিচালনা করছেন। তবে তিনি দেশটিতে গণতন্ত্র আমদানির বিরোধিতা করেছেন। তার আশংকা, সৌদি আরব গণতান্ত্রিক হলেই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট রূপ হবে। দেশে বিভক্তির আশংকা প্রবল হবে। আরব বিশ্বের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক হিসেবে গণ্য করা হয় তাকে। কারণ সালমান ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আশারক ও আল ইকতিসাদিয়াহ নামে দুটি আরব দৈনিক। এছাড়া সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটিং গ্রুপ (এসআরএমজি) নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ মালিকানাও রয়েছে সালমানের। এই এসআরএমজির মালিকানায় রয়েছে আরব নিউজ, আশারক ও আল ইকতিসাদিয়াহ।
গভর্নর থাকাকালে রিয়াদের প্রশাসনকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে পেরেছিলেন সালমান। যে কোন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে তিনি। জেদ্দাভিত্তিক ‘মিডল ইস্ট ইন্সটিটিউট অব স্ট্যাটিজিক স্টাডিজ’র বিশ্লেষক আনোয়ার এশকি বলেন, ‘তিনি (সালমান) আলোচনাপ্রিয় মানুষ। যে কোনো সমস্যা সমাধানে আলোচনাকে প্রধান্য দেন। এছাড়াও তাকে রক্ষণশীল না বলে মধ্যপন্থী বলা যায়। তার প্রতি রাজপরিবারে তরুণ প্রজন্মের আনুগত্য রয়েছে।’
উল্লেখ্য, সালমানই প্রথম আরব নভোচারী যিনি ১৯৮৫ সালে মার্কিন মহাকাশযান ডিসকভারিতে করে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।
ব্যক্তিজীবনে প্রিন্স সালমান তিনটি বিয়ে করেছেন। তার ১০ ছেলের দু’জন মারা গেছেন। এ ছাড়া তার এক মেয়ে রয়েছে। (দৈনিক যুগান্তর)

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

নতুন বাদশাহ সালমান মধ্যপন্থী গণতন্ত্রবিরোধী

প্রকাশের সময় : ০৯:৪৭:১৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০১৫

ঢাকা: বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ আল সৌদের মৃত্যুর পর নতুন বাদশাহ হয়েছেন তার সৎভাই সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ (৭৯)। ইতোমধ্যে তার নতুন উত্তরসূরীর নামও ঘোষণা করা হয়েছে। অর্থাৎ সালমানের মৃত্যুর পর বাদশা হবেন তারই সৎভাই সাবেক গোয়েন্দা প্রধান ৬৯ বছরের মাকরিন বিন আবদুল আজিজ। ইউরোপীয় রাজতন্ত্রের মতো সৌদি রাজপরিবারের ক্ষমতা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে হস্তান্তরিত হয় না। এখানের ক্ষমতার পালাবদল ঘটে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে। ২০১১ ও ২০১২ সালে বাদশাহ আবদুল্লাহর তৃতীয় উত্তরাধিকারীর মৃত্যুর পর যুবরাজ মনোনীত হন সালমান।
ভাইয়ের শাসনামলে ২০১১ সাল থেকে দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন সালমান। এর আগে প্রায় পাঁচ দশক তিনি রিয়াদের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরিশ্রমী হিসেবে পরিচিত সালমান রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ সমস্যা সমাধানে গঠিত মজলিস আল উতরার প্রধানও ছিলেন। ইতিমধ্যে একবার স্ট্রোক করেছেন তিনি।
সৌদি আরবে রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা আবদুল আজিজ বিন সৌদের ২৫তম সন্তান। তার মা হাসসা বিন আহমেদ আল সৌদারির সাত সন্তানের অন্যতম সালমান। তেলসমৃদ্ধ সৌদি আরবের বাদশাহ হওয়ার পর আবদুল আজিজের ষষ্ঠ সন্তান তিনি। মাত্র ২০ বছর বয়সে সালমান রিয়াদ প্রদেশের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পান। তাকে রিয়াদের উন্নয়নের স্থপতি হিসেবে মনে করা হয়।
জেদ্দার সঙ্গে ঐতিহাসিক ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করে তিনি মরুময় রিয়াদকে একটি আধুনিক নগরে পরিণত করেন।
নীতিগতভাবে সৌদির এই নতুন বাদশাহ সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত। দেশটির গোড়া রক্ষণশীল ধর্মীয় নেতা, শক্তশালী প্রতিদ্বন্দ্বী গোত্র ও প্রগতিশীল আধুনিক তরুণদের মধ্যে তিনি সমন্বয় করতে সক্ষম হবেন বলে মনে করা হয়।
উইকিলিকসের ফাঁঁস করা এক দলিলে জানা যায়, ২০০৭ সালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে সালমান বলেছিলেন, সৌদি আরবের সংখ্যাগরিষ্ঠ রক্ষণশীলদের প্রতিক্রিয়ার কথা মাথায় রেখেই বাদশা আবদুল্লাহ সংস্কার কার্যক্রম ধীরগতিতে পরিচালনা করছেন। তবে তিনি দেশটিতে গণতন্ত্র আমদানির বিরোধিতা করেছেন। তার আশংকা, সৌদি আরব গণতান্ত্রিক হলেই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট রূপ হবে। দেশে বিভক্তির আশংকা প্রবল হবে। আরব বিশ্বের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রক হিসেবে গণ্য করা হয় তাকে। কারণ সালমান ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে আশারক ও আল ইকতিসাদিয়াহ নামে দুটি আরব দৈনিক। এছাড়া সৌদি রিসার্চ অ্যান্ড মার্কেটিং গ্রুপ (এসআরএমজি) নামে একটি প্রতিষ্ঠানে ১০ শতাংশ মালিকানাও রয়েছে সালমানের। এই এসআরএমজির মালিকানায় রয়েছে আরব নিউজ, আশারক ও আল ইকতিসাদিয়াহ।
গভর্নর থাকাকালে রিয়াদের প্রশাসনকে পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত করতে পেরেছিলেন সালমান। যে কোন সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পক্ষে তিনি। জেদ্দাভিত্তিক ‘মিডল ইস্ট ইন্সটিটিউট অব স্ট্যাটিজিক স্টাডিজ’র বিশ্লেষক আনোয়ার এশকি বলেন, ‘তিনি (সালমান) আলোচনাপ্রিয় মানুষ। যে কোনো সমস্যা সমাধানে আলোচনাকে প্রধান্য দেন। এছাড়াও তাকে রক্ষণশীল না বলে মধ্যপন্থী বলা যায়। তার প্রতি রাজপরিবারে তরুণ প্রজন্মের আনুগত্য রয়েছে।’
উল্লেখ্য, সালমানই প্রথম আরব নভোচারী যিনি ১৯৮৫ সালে মার্কিন মহাকাশযান ডিসকভারিতে করে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।
ব্যক্তিজীবনে প্রিন্স সালমান তিনটি বিয়ে করেছেন। তার ১০ ছেলের দু’জন মারা গেছেন। এ ছাড়া তার এক মেয়ে রয়েছে। (দৈনিক যুগান্তর)