নিউইয়র্ক ১০:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834
হাসপাতালে দেখতে গেলেন মেয়র অ্যাডামস

মরহুম ডিটেকটিভ দিদারুলের শোকের পরিবারে নতুন অতিথির আগমন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২৫ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি: নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানের মিডটাউনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশী পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম রতনকে হারানোর শোকে মুহ্যমান পরিবারে নতুন অতিথির আগমন ঘটেছে। দিদারুলের প্রয়াণের ২০ দিনের মাথায় শোকে স্তব্দ পরিবার আলো করে জন্ম নিয়েছে তার এক ফুটফুটে পুত্র সন্তান। রোববার (১৭ আগষ্ট) তাঁর স্ত্রী জামিলা আক্তার পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকের নাম ‘আরহাম’। আরবি ভাষায় এই নামের অর্থ ‘পরম করুণাময়’। আরহাম তাদের তৃতীয় পুত্র।
জানা যায়, নিহত পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলামের স্ত্রী জামিলা আক্তার রোববার রাতে প্রসববেদনা অনুভব করেন এবং তাকে মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি তাদের ‘সুন্দর পুত্র’ জন্ম নেয়।
এদিকে সোমবার এক ‘আনরিলেটেড’ সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এরিক অ্যাডামস মরহুম পুলিম অফিসার দিদারুল ইসলামের পুত্র সন্তান হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। এর আগে তিনি দিদারুল ইসলাম পিতা হওয়ার খবরের পেয়ে মেয়র অ্যাডামস সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক সন্তান ও পরিবারকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে জানান। এসময় মেয়র বলেন, দিদারুলের পরিবার নিউইয়র্ক সিটির অংশ, তাঁদের সাথে আমাদের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, যে মেয়র হিসেবে আমি তার পরিবারকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমরা তাদের জন্য সর্বদা পাশে থাকব।’
নিউইয়র্ক পুলিশের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন এরিক অ্যাডামস বলেন, ‘তারা আমাদের পরিবার এবং এই মহান শহর, নিউইয়র্কের পরিবার’।
অপরদিকে এনওয়াইপিডি’র কমিশনার জেসিকা টিশ মরহুম দিদরুল ইসলামের পুত্র সন্তান লাভের খবর শুনে বলেছেন- ‘ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে, এই পৃথিবীতে একটি নতুন জীবনের প্রবেশ ঘটেছে’। পুলিশ কমিশনার দিদারুলের তিন সন্তানের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একসাথে, তারা তাদের বাবার সেবা এবং সাহসের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নিউইয়র্ক পুলিশ দিদারের মতোই এই শহরকে যে নিষ্ঠা দিয়েছিল, সেই একই নিষ্ঠার সাথে এই উত্তরাধিকারকে রক্ষা করবে এবং সমুন্নত রাখবে’। ‘জামিলা, আহিয়ান, আজহান এবং এখন, আরহাম চিরকাল এনওয়াইপিডি’র পরিবারের অংশ হয়ে থাকবে।’
এদিকে আহিয়ানের শিক্ষক তাজওয়াত্তি সিং দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন যে, ব্রঙ্কসে তার প্রি-স্কুলে থাকাকালীন ছোট্ট আহিয়ান পুলিশ বিভাগের মতোই বøæজ পরেছিল এবং সে বলেছিলো ‘আমি আমার বাবার মতোই আমার পুলিশের পোশাক পরি’।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক এভিনিউয়ের একটি অফিস ভবনে পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম রতন সহ চারজন নিহত হন। সে সময় তাঁর স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত¡া ছিলেন। তার ৭ বছর বয়সী আহিয়ান এবং ৫ বছর বয়সী আজহান নামের আরো দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত দিদারুল ইসলাম ব্রঙ্কসের বেচেস্টার এলাকায় এনওয়াইপিডির ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্বরত ছিলেন। সাড়ে তিন বছরের কর্মজীবনে তিনি সহকর্মীদের কাছে সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। নিউইয়র্ক সিটিতে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রথম বাংলাদেশী পুলিশ সদস্য তিনি। মৃত্যুর পর তাঁকে মরণোত্তর পদোন্নতি দিয়ে ‘ডিটেকটিভ’ পদে উন্নীত করা হয়েছে।
আরো উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম রতন ইসলাম একটি অনুমোদিত অফ-ডিউটি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। যখন বন্দুকধারী শেন তামুরা ম্যানহাটনের ইস্ট ৫১ স্ট্রিট এবং পার্ক অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ‘এনএফএল’ সদর দপ্তরের আকাশচুম্বী ভবনের লবিতে প্রবেশ করে এবং একটি এআর-১৫ দিয়ে গুলি চালায়। ঘটনার সময় তামুরা ৪৭ রাউন্ড গুলি চালায়। যার ফলে দিদারুল ইসলাম এবং আরও তিনজন নিহত হয়। তারা হলেন- ভবনের নিরাপত্তারক্ষী অ্যাল্যান্ড এটিয়েন, বø্যাকস্টোনের নির্বাহী ওয়েসলি লেপ্যাটনার এবং রুডিন ম্যানেজমেন্ট কর্মী জুলিয়া হাইম্যান। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয় এবং ঘাতক শেন তামুরা ভনটির ৩৩ তলায় নিজের উপর গুলি চালিয়ে আতœহত্যা করে।
জানা যায়, লাস ভেগাসের হর্সশু হোটেল এবং ক্যাসিনোতে কাজ করা ২৭ বছর বয়সী তামুরার এনএফএল-এর সাথে কোনও সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু তিনি হাই স্কুলে ফুটবল খেলতেন এবং দীর্ঘস্থায়ী ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি, যা সিটিই নামেও পরিচিত (বারবার মাথার আঘাতের কারণে ঘটে যাওয়া মস্তিষ্কের রোগ) যা থেকে তামুরা বিশ্বাস করতো যে সে এই রোগে ভুগছে এবং এর জন্য সে লীগকে দোষারোপ করেছিলো। তবে তামুরার এই রোগ ছিল কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

হাসপাতালে দেখতে গেলেন মেয়র অ্যাডামস

মরহুম ডিটেকটিভ দিদারুলের শোকের পরিবারে নতুন অতিথির আগমন

প্রকাশের সময় : ১২:৫৯:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি: নিউইয়র্ক সিটির ম্যানহাটানের মিডটাউনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত বাংলাদেশী পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম রতনকে হারানোর শোকে মুহ্যমান পরিবারে নতুন অতিথির আগমন ঘটেছে। দিদারুলের প্রয়াণের ২০ দিনের মাথায় শোকে স্তব্দ পরিবার আলো করে জন্ম নিয়েছে তার এক ফুটফুটে পুত্র সন্তান। রোববার (১৭ আগষ্ট) তাঁর স্ত্রী জামিলা আক্তার পুত্র সন্তান জন্ম দিয়েছেন। নবজাতকের নাম ‘আরহাম’। আরবি ভাষায় এই নামের অর্থ ‘পরম করুণাময়’। আরহাম তাদের তৃতীয় পুত্র।
জানা যায়, নিহত পুলিশ অফিসার দিদারুল ইসলামের স্ত্রী জামিলা আক্তার রোববার রাতে প্রসববেদনা অনুভব করেন এবং তাকে মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি তাদের ‘সুন্দর পুত্র’ জন্ম নেয়।
এদিকে সোমবার এক ‘আনরিলেটেড’ সংবাদ সম্মেলনে মেয়র এরিক অ্যাডামস মরহুম পুলিম অফিসার দিদারুল ইসলামের পুত্র সন্তান হওয়ার খবর আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। এর আগে তিনি দিদারুল ইসলাম পিতা হওয়ার খবরের পেয়ে মেয়র অ্যাডামস সদ্য জন্ম নেওয়া নবজাতক সন্তান ও পরিবারকে হাসপাতালে দেখতে গিয়ে জানান। এসময় মেয়র বলেন, দিদারুলের পরিবার নিউইয়র্ক সিটির অংশ, তাঁদের সাথে আমাদের অঙ্গীকার অব্যাহত থাকবে। তিনি আরো বলেন, যে মেয়র হিসেবে আমি তার পরিবারকে আশ্বস্ত করতে চাই যে আমরা তাদের জন্য সর্বদা পাশে থাকব।’
নিউইয়র্ক পুলিশের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন এরিক অ্যাডামস বলেন, ‘তারা আমাদের পরিবার এবং এই মহান শহর, নিউইয়র্কের পরিবার’।
অপরদিকে এনওয়াইপিডি’র কমিশনার জেসিকা টিশ মরহুম দিদরুল ইসলামের পুত্র সন্তান লাভের খবর শুনে বলেছেন- ‘ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে, এই পৃথিবীতে একটি নতুন জীবনের প্রবেশ ঘটেছে’। পুলিশ কমিশনার দিদারুলের তিন সন্তানের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘একসাথে, তারা তাদের বাবার সেবা এবং সাহসের উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। নিউইয়র্ক পুলিশ দিদারের মতোই এই শহরকে যে নিষ্ঠা দিয়েছিল, সেই একই নিষ্ঠার সাথে এই উত্তরাধিকারকে রক্ষা করবে এবং সমুন্নত রাখবে’। ‘জামিলা, আহিয়ান, আজহান এবং এখন, আরহাম চিরকাল এনওয়াইপিডি’র পরিবারের অংশ হয়ে থাকবে।’
এদিকে আহিয়ানের শিক্ষক তাজওয়াত্তি সিং দ্য নিউইয়র্ক পোস্টকে বলেছেন যে, ব্রঙ্কসে তার প্রি-স্কুলে থাকাকালীন ছোট্ট আহিয়ান পুলিশ বিভাগের মতোই বøæজ পরেছিল এবং সে বলেছিলো ‘আমি আমার বাবার মতোই আমার পুলিশের পোশাক পরি’।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই ম্যানহাটনের ৩৪৫ পার্ক এভিনিউয়ের একটি অফিস ভবনে পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম রতন সহ চারজন নিহত হন। সে সময় তাঁর স্ত্রী আট মাসের অন্তঃসত্ত¡া ছিলেন। তার ৭ বছর বয়সী আহিয়ান এবং ৫ বছর বয়সী আজহান নামের আরো দুই পুত্র সন্তান রয়েছে।
বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত দিদারুল ইসলাম ব্রঙ্কসের বেচেস্টার এলাকায় এনওয়াইপিডির ৪৭তম প্রিসিঙ্কটে দায়িত্বরত ছিলেন। সাড়ে তিন বছরের কর্মজীবনে তিনি সহকর্মীদের কাছে সৎ ও নিবেদিতপ্রাণ পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। নিউইয়র্ক সিটিতে দায়িত্ব পালনকালে নিহত প্রথম বাংলাদেশী পুলিশ সদস্য তিনি। মৃত্যুর পর তাঁকে মরণোত্তর পদোন্নতি দিয়ে ‘ডিটেকটিভ’ পদে উন্নীত করা হয়েছে।
আরো উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় ৩৬ বছর বয়সী দিদারুল ইসলাম রতন ইসলাম একটি অনুমোদিত অফ-ডিউটি নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। যখন বন্দুকধারী শেন তামুরা ম্যানহাটনের ইস্ট ৫১ স্ট্রিট এবং পার্ক অ্যাভিনিউতে অবস্থিত ‘এনএফএল’ সদর দপ্তরের আকাশচুম্বী ভবনের লবিতে প্রবেশ করে এবং একটি এআর-১৫ দিয়ে গুলি চালায়। ঘটনার সময় তামুরা ৪৭ রাউন্ড গুলি চালায়। যার ফলে দিদারুল ইসলাম এবং আরও তিনজন নিহত হয়। তারা হলেন- ভবনের নিরাপত্তারক্ষী অ্যাল্যান্ড এটিয়েন, বø্যাকস্টোনের নির্বাহী ওয়েসলি লেপ্যাটনার এবং রুডিন ম্যানেজমেন্ট কর্মী জুলিয়া হাইম্যান। এই ঘটনায় আরও একজন আহত হয় এবং ঘাতক শেন তামুরা ভনটির ৩৩ তলায় নিজের উপর গুলি চালিয়ে আতœহত্যা করে।
জানা যায়, লাস ভেগাসের হর্সশু হোটেল এবং ক্যাসিনোতে কাজ করা ২৭ বছর বয়সী তামুরার এনএফএল-এর সাথে কোনও সম্পর্ক ছিল না। কিন্তু তিনি হাই স্কুলে ফুটবল খেলতেন এবং দীর্ঘস্থায়ী ট্রমাটিক এনসেফালোপ্যাথি, যা সিটিই নামেও পরিচিত (বারবার মাথার আঘাতের কারণে ঘটে যাওয়া মস্তিষ্কের রোগ) যা থেকে তামুরা বিশ্বাস করতো যে সে এই রোগে ভুগছে এবং এর জন্য সে লীগকে দোষারোপ করেছিলো। তবে তামুরার এই রোগ ছিল কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।