নিউইয়র্ক ১০:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৫, ১৫ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

জুলাই সনদে প্রবাসীদের অবদান উল্লেখ থাকবে : বাংলাদেশ কনস্যুলেট মতবিনিময় সভায় তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:০৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
  • / ৪২ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহফুজ আলম চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেছেন ‘জুলাই সনদে প্রবাসীদের অবদান উল্লেখ থাকবে’। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনগণের আশা-আকাংখা বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অসমাপ্ত আর প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত রোববার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিসে আয়োজিত সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সবশেষে তথ্য উপদেষ্টা সভায় উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
ব্যতিক্রমী এই সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং সবশেষে প্রশ্নোত্তর পর্বেরও সমন্বয় করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কনস্যুলেটের কাউন্সিলার ইশরাত জাহান।
অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আরো বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অংশীজন নই। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তারা জুলাই চেতনাকে ধারণ করে দেশ পরিচালনা করবেন। দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক হবে রাষ্ট্র। নিজের রাজনৈতিক চেতনার চেয়ে দেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। সবার ঊর্ধ্বে দেশকে এবং দেশের জনগণকে যেন আমরা রাখি।
বাংলাদেশে ভারতীয় টেলিভিশন অথবা গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমি কোনো কিছু বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নই। আমি সব সময় বিকল্প ভালোর কথা বলে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের কোনো কিছুও বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নই।
গোলাম মোর্তোজা বলেন, ‘একটা দেশে রাজতন্ত্র চলছিল, সে দেশের রাজা ছিলেন, রাজার বোন ছিলেন, রাজার ছেলে-মেয়েরা রাজপুত্র ছিলেন। পুরো দেশটা তাঁদের ছিল, আপনারা ছাত্র-জননেতারা রক্ত দিয়ে সেই রাজার পতন ঘটালেন, দেশ থেকে বিতাড়িত করলেন, এখন সে একটা ডিম নিক্ষেপ করবে, সে একটা কটূক্তি করবে, মাহফুজ আলমের পতন চাইবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে জুলাই শহীদদের স্মরণ করা হয় এবং পরে জুলাই অভ্যুত্থানের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক বৈষম্য আন্দোলনের নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে রাত দশটার দিকে প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে কিছুটা হট্টগোল হয়। এসময় অনেকটা বিরক্ত হয়ে তথ্য উপদেষ্টা সভাস্থল ছেড়ে কনস্যুলেটের ভিতরে চলে যান।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান শুরুর আগে কনস্যুলেটের সামনে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ ও দরজা ভাংচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা আইনি ব্যবস্থা নেয়া এবং ওয়াশিংটন দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার নিষিদ্ধ সংগঠনের সংবাদ প্রচারে সাংবাদিকদের আরো বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনুষ্ঠান চলাকালে মাহফুজ আলম কখন বের হবেন, সে জন্য একদল ব্যক্তি বাইরে অপেক্ষা করেন। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অবস্থান জেনে কনস্যুলেট অফিস পুলিশ ডাকে। অবশেষে স্থানীয় সময় রাত ১২টার পর নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) পাহারায় উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কনস্যুলেট অফিস থেকে বের হয়ে যান।
এর আগে মাহফুজ আলম নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে ঢোকার সময় কনস্যুলেট অফিসের সামনে দলীয় পতাকা হাতে, ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন। তারা মাহফুজ আলমকে উদ্দেশ করে ডিম ছোড়েন। এবং তারা বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে তারা কনস্যুলেট ভবনের কাচের দরজা ভেঙে ফেলেন।
রাষ্ট্রীয় সফরে মাহফুজ আলম আগামী ২৭ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন বলে জানা গেছে।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

জুলাই সনদে প্রবাসীদের অবদান উল্লেখ থাকবে : বাংলাদেশ কনস্যুলেট মতবিনিময় সভায় তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

প্রকাশের সময় : ১২:০৭:১৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫

বিশেষ প্রতিনিধি: বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মোহাম্মদ মাহফুজ আলম চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানে প্রবাসীদের অবদানের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেছেন ‘জুলাই সনদে প্রবাসীদের অবদান উল্লেখ থাকবে’। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে জনগণের আশা-আকাংখা বাস্তবায়নের জন্য সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অসমাপ্ত আর প্রস্তাবিত সংস্কার বাস্তবায়নে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে গত রোববার (২৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় নিউইয়র্ক কনস্যুলেট অফিসে আয়োজিত সভায় তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। সবশেষে তথ্য উপদেষ্টা সভায় উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
ব্যতিক্রমী এই সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনসাল জেনারেল মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক এবং সবশেষে প্রশ্নোত্তর পর্বেরও সমন্বয় করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কনস্যুলেটের কাউন্সিলার ইশরাত জাহান।
অনুষ্ঠানে তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম আরো বলেন, আমি কোনো রাজনৈতিক দলের অংশীজন নই। আমরা চাই, ভবিষ্যতে যারাই ক্ষমতায় আসুক, তারা জুলাই চেতনাকে ধারণ করে দেশ পরিচালনা করবেন। দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক হবে রাষ্ট্র। নিজের রাজনৈতিক চেতনার চেয়ে দেশকে প্রাধান্য দিতে হবে। সবার ঊর্ধ্বে দেশকে এবং দেশের জনগণকে যেন আমরা রাখি।
বাংলাদেশে ভারতীয় টেলিভিশন অথবা গণমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়ার আহ্বানের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, আমি কোনো কিছু বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নই। আমি সব সময় বিকল্প ভালোর কথা বলে এসেছি। আমি আওয়ামী লীগের কোনো কিছুও বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে নই।
গোলাম মোর্তোজা বলেন, ‘একটা দেশে রাজতন্ত্র চলছিল, সে দেশের রাজা ছিলেন, রাজার বোন ছিলেন, রাজার ছেলে-মেয়েরা রাজপুত্র ছিলেন। পুরো দেশটা তাঁদের ছিল, আপনারা ছাত্র-জননেতারা রক্ত দিয়ে সেই রাজার পতন ঘটালেন, দেশ থেকে বিতাড়িত করলেন, এখন সে একটা ডিম নিক্ষেপ করবে, সে একটা কটূক্তি করবে, মাহফুজ আলমের পতন চাইবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে জুলাই শহীদদের স্মরণ করা হয় এবং পরে জুলাই অভ্যুত্থানের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক বৈষম্য আন্দোলনের নেতা, মুক্তিযোদ্ধা, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী সহ কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিগণ উপস্থিত ছিলেন। অপরদিকে রাত দশটার দিকে প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে কিছুটা হট্টগোল হয়। এসময় অনেকটা বিরক্ত হয়ে তথ্য উপদেষ্টা সভাস্থল ছেড়ে কনস্যুলেটের ভিতরে চলে যান।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠান শুরুর আগে কনস্যুলেটের সামনে আওয়ামী লীগের বিক্ষোভ ও দরজা ভাংচুরের ঘটনা প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা আইনি ব্যবস্থা নেয়া এবং ওয়াশিংটন দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার নিষিদ্ধ সংগঠনের সংবাদ প্রচারে সাংবাদিকদের আরো বেশি সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অনুষ্ঠান চলাকালে মাহফুজ আলম কখন বের হবেন, সে জন্য একদল ব্যক্তি বাইরে অপেক্ষা করেন। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অবস্থান জেনে কনস্যুলেট অফিস পুলিশ ডাকে। অবশেষে স্থানীয় সময় রাত ১২টার পর নিউইয়র্ক পুলিশ ডিপার্টমেন্টের (এনওয়াইপিডি) পাহারায় উপদেষ্টা মাহফুজ আলম কনস্যুলেট অফিস থেকে বের হয়ে যান।
এর আগে মাহফুজ আলম নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট অফিসে ঢোকার সময় কনস্যুলেট অফিসের সামনে দলীয় পতাকা হাতে, ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন। তারা মাহফুজ আলমকে উদ্দেশ করে ডিম ছোড়েন। এবং তারা বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এক পর্যায়ে তারা কনস্যুলেট ভবনের কাচের দরজা ভেঙে ফেলেন।
রাষ্ট্রীয় সফরে মাহফুজ আলম আগামী ২৭ তারিখ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে থাকবেন বলে জানা গেছে।