নিউইয়র্ক ০৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

জমে উঠেছে আটলান্টার ফোবানা সম্মেলন

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২২ বার পঠিত

আটলান্টা থেকে হেলাল উদ্দীন রানা: জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্ট জোনস বলেছেন, শুধু জর্জিয়াতেই নয়, সর্বত্রই বাংলাদেশীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় কমিউনিটি। ফোবানার মাধ্যমে আটলান্টার গ্যাস সেন্টারে বাংলাদেশীদের যে সমাবেশ ঘটেছে তা এ কমিউনিটির ঐক্য ও সংহতির প্রমাণ বহন করে। শনিবার সকালে শুরু হওয়া ফোবানা সম্মেলনের বিজনেস নেটওয়ার্ক পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। বিজনেস নেটওয়ার্ক লাঞ্চে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট কমিউনিটির চেয়ারপার্সন ডিউক খান। এসময় বক্তব্য রাখেন আবীর আলমগীর, মোহাম্মদ আলমগীর, মাহবুবুর রহমান ভুইয়া ও নাহিদুল খান সাহেল। আলোচনা পর্বে আরও মতবিনিময় করেন ফোবানা লোকাল কমিটির প্রেসিডেন্ট ডিউক খান, ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডিএম সালাউদ্দিন মাহমুদ, মায়ামির কনসাল জেনারেল মিস সেহেলি সাবরিন, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর গেইভ ওকিই, ষ্টেট সিনেটর শেখ রহমান, ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান রেহান রেজা, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভুইয়া, ফোবানা’র সিনিয়র কো-কনভেনর কাজী নাহিদ, চীফ কো-অর্ডিনেটর এম মৌলা দিলু, কাব্য জলসা ও সাহিত্য সভা কমিটির চেয়ারম্যান আবু লিয়াকত হুসেন প্রমুখ।
এর আগে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ফোবানা সম্মেলনের প্রধান মঞ্চ এবং বিভিন্ন হল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্টল ঘুরে দেখেন। তিনি আয়োজকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং অভিবাদন বিনিময় করেন।
তিন দিনব্যাপী এ ফোবানা সম্মেলন শুক্রবার শুরু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জমজমাট ফোবানা আয়োজন এটি।
ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভুইয়া বলেন, এ সম্মেলনের প্রাণচাঞ্চল্য ও ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে বাংলাদেশী কমিউনিটি উত্তর আমেরিকায় কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
ফোবানার সাবেক আহ্বায়ক নার্গিস আহমেদ জানান, উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশীদের ঐক্য ও অংশগ্রহণ সবসময়ই অনুপ্রেরণার উৎস।
এবারের ফোবানা উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলা সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকসহ প্রায় দুই ডজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সমবেত হয়েছেন আটলান্টায়। ফলে লেবার ডে উইকেন্ডে পুরো আটলান্টা শহর হয়ে উঠেছে বাংলাদেশীময়।
কাব্যজলসা: আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হলো ফোবানার বর্ণাঢ্য কাব্যজলসা। কবিতা পাঠ, বক্তব্য আর সাহিত্যচর্চার উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছিল পুরো আয়োজন। এতে সভাপতিত্ব করেন কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু লিয়াকত হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন রিজোয়ান আহমেদ হৃদয়। কাব্যজলসার প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও বাচিক শিল্পী ড. ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, প্রবাসের মাটিতেও কবিতা মানুষের হৃদয়ে নতুন বীজ বোনে। কাব্যই পারে ভিন্ন সংস্কৃতিকে একত্র করতে।
আলোচনা করেন, বক্তব্য রাখেন এবং কবিতা পাঠে অংশ নেন রাশেদ চৌধুরী, মৃদুল রহমান, জুয়েল সাদাত, কৃষন রয়, পংকজ কুমার, হেলাল উদদীন রানা, জাফরিন ফরিদ, সোহানা তুলি, সেলিনা মলি, ইকবাল এমদাদ জুয়েল, জুনায়েদ আকতার, আনিস আহমেদ, জাকিয়া তৌফিক, নাসিম জাফর, সরোয়ার কামাল,কাকলি বিশ্বাস, মাহমুদ মোরশেদ আনোয়ার, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ শারমিন, আবীর আলমগীর, সুমিত্রা পন্ডিত, ফাহমিদা হোসেন শম্পা, তামান্না জেসমিন এবং ওমর কায়সার। প্রত্যেকে কবিতার ভূমিকায় ব্যক্তিগত অনুভূতি আর সাহিত্য ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
এক পর্যায়ে একে একে শুরু হয় কবিতা পাঠ। প্রবাসী জীবনের টানাপোড়েন, জন্মভূমির স্মৃতি, ভালোবাসা, মানবতা আর সমকালীন সমাজ নিয়ে আবৃত্তি করেন কবি-লেখকরা। মুগ্ধ শ্রোতারা বারবার করতালি দিয়ে কবিদের উজ্জীবিত করেন। অনুষ্ঠান শেষে আবু লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘ফোবানার কাব্যজলসা শুধু কবিতা নয়, এটি প্রবাস জীবনে আমাদের সংস্কৃতির শিকড়কে ধরে রাখার এক মহোৎসব।’
প্রবাসের মাটিতে কবিতা ও সাহিত্যের এমন প্রাণোচ্ছল আসর একে অপরকে আরও কাছাকাছি এনে দিলো—এমন মন্তব্য করেন অনেক উপস্থিত সাহিত্যপ্রেমী। কাব্য জলসা অনুষ্ঠানে তিনটা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আটলান্টা ফোবানায় প্রবাসীদের প্রাণবন্ত উচ্ছ্বাস
আটলান্টা থেকে জুয়েল সাদাত জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া আটলান্টা ফোবানা তিনদিনের প্রবাসী বাংলাদেশীদের নন-প্রফিট কনভেনশন হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। ২৮টি স্টেট থেকে ৮৭টি সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধি এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে তরুণদের সক্রিয় উপস্থিতি এবারের ফোবানাকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
ফোবানা ৩৯ বছর ধরে প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে প্রমোট করে আসছে। কনভেনর নাহিদুল খান সাহেল বলেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, কমিউনিটির সহযোগিতাও পেয়েছি।
মেম্বার সেক্রেটারী মাহবুব ভুইয়া বলেন, ‘কনভেনশনের মধ্যেই আমরা, আশা করি সবাই অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন।
সিনিয়র কো-কনভেনর কাজী নাহিদ যোগ করেন, ‘ছোটখাট সমস্যা আমরা ঠিক করেছি, সব কিছুই ভালোভাবে চলছে।
নিউইয়র্কের ফোবানা সংগঠক নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘আটলান্টা ফোবানা চমৎকার আবহাওয়ায় উপভোগ করা যাচ্ছে।
ওরল্যান্ডোর প্রতিনিধি বাবুল হাই জানান, ফোবানা মূলত মিলনমেলা। বছরে একবার আমরা একত্রিত হই।
মায়ামির মিম খান বলেন, ফোবানা মানেই জমজমাট কমিউনিটি গেটটুগেদার। সবই দৃশ্যমান।
নিউইয়র্কের পুলক মাহমুদ বলেন, ফোবানা শুধু গান-সঙ্গীত নয়, এটি বাংলাদেশের সুনাম বিশ্বে ছড়াচ্ছে।
ফোবানা’র নব নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী শিকাগোর খালেদ আহমদ রউফ জানান, ফোবানা ৩৯ বছর ধরে উত্তর আমেরিকার কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আটলান্টা কনভেনশন বহুমাত্রিকভাবে সফল হয়েছে।
মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী বলেন, প্রথম দিনের অনুষ্ঠানগুলো চমৎকার ছিল, সব কিছুই ভালোভাবে হচ্ছে।
ডালাসের হাসমত মোবিন যোগ করেন, ফোবানা দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের হাতে এ উদ্যোগ এগোচ্ছে।
ভার্জিনিয়ার সামসুদ্দিন বলেন, ইউথদের অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। সব কিছুই চমৎকার হয়েছে।
ফোবানার দ্বিতীয় দিনে ইউথদের জন্য সেমিনার আয়োজন করা হয়। খালেদ মহিউদ্দিনের সেমিনার এবং গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা সেশন দর্শকপ্রিয় হয়ে ওঠে।
খাবার ও কাপড়ের স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দেশীয় কাপড়ের ব্র্যান্ড ‘টুয়েলভ’ নিয়ে উপস্থিত টনি ডায়াস বলেন, ‘প্রবাসীরা বিদেশি কাপড় বেশি কিনছেন। দেশীয় কাপড়ের প্রচার করা উচিত।’
বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া কাব্য জলসাতেও দর্শক উপচে পড়ে। শতাধিক কবির অংশগ্রহণে আটলান্টার সাহিত্যপ্রেমীরা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। ফোবানার দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই কনভেনশন জমজমাট হয়ে ওঠে।

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

জমে উঠেছে আটলান্টার ফোবানা সম্মেলন

প্রকাশের সময় : ০২:৫৭:৪০ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

আটলান্টা থেকে হেলাল উদ্দীন রানা: জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের লেফটেন্যান্ট গভর্নর বার্ট জোনস বলেছেন, শুধু জর্জিয়াতেই নয়, সর্বত্রই বাংলাদেশীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় কমিউনিটি। ফোবানার মাধ্যমে আটলান্টার গ্যাস সেন্টারে বাংলাদেশীদের যে সমাবেশ ঘটেছে তা এ কমিউনিটির ঐক্য ও সংহতির প্রমাণ বহন করে। শনিবার সকালে শুরু হওয়া ফোবানা সম্মেলনের বিজনেস নেটওয়ার্ক পর্বে এসব কথা বলেন তিনি। বিজনেস নেটওয়ার্ক লাঞ্চে সভাপতিত্ব করেন হোস্ট কমিউনিটির চেয়ারপার্সন ডিউক খান। এসময় বক্তব্য রাখেন আবীর আলমগীর, মোহাম্মদ আলমগীর, মাহবুবুর রহমান ভুইয়া ও নাহিদুল খান সাহেল। আলোচনা পর্বে আরও মতবিনিময় করেন ফোবানা লোকাল কমিটির প্রেসিডেন্ট ডিউক খান, ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ডিএম সালাউদ্দিন মাহমুদ, মায়ামির কনসাল জেনারেল মিস সেহেলি সাবরিন, জর্জিয়া স্টেট সিনেটর গেইভ ওকিই, ষ্টেট সিনেটর শেখ রহমান, ফোবানার সাবেক চেয়ারম্যান রেহান রেজা, ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভুইয়া, ফোবানা’র সিনিয়র কো-কনভেনর কাজী নাহিদ, চীফ কো-অর্ডিনেটর এম মৌলা দিলু, কাব্য জলসা ও সাহিত্য সভা কমিটির চেয়ারম্যান আবু লিয়াকত হুসেন প্রমুখ।
এর আগে লেফটেন্যান্ট গভর্নর ফোবানা সম্মেলনের প্রধান মঞ্চ এবং বিভিন্ন হল জুড়ে ছড়িয়ে থাকা স্টল ঘুরে দেখেন। তিনি আয়োজকদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন এবং অভিবাদন বিনিময় করেন।
তিন দিনব্যাপী এ ফোবানা সম্মেলন শুক্রবার শুরু হয়েছে। রোববার সন্ধ্যায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর সমাপ্তি ঘটবে। অংশগ্রহণকারীদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে জমজমাট ফোবানা আয়োজন এটি।
ব্যবসায়ী ও শিল্পপতি গোলাম ফারুক ভুইয়া বলেন, এ সম্মেলনের প্রাণচাঞ্চল্য ও ব্যাপক উপস্থিতি প্রমাণ করে বাংলাদেশী কমিউনিটি উত্তর আমেরিকায় কতটা শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
ফোবানার সাবেক আহ্বায়ক নার্গিস আহমেদ জানান, উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশীদের ঐক্য ও অংশগ্রহণ সবসময়ই অনুপ্রেরণার উৎস।
এবারের ফোবানা উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে বাংলা সংবাদমাধ্যমের সম্পাদক ও সাংবাদিকসহ প্রায় দুই ডজন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব সমবেত হয়েছেন আটলান্টায়। ফলে লেবার ডে উইকেন্ডে পুরো আটলান্টা শহর হয়ে উঠেছে বাংলাদেশীময়।
কাব্যজলসা: আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হলো ফোবানার বর্ণাঢ্য কাব্যজলসা। কবিতা পাঠ, বক্তব্য আর সাহিত্যচর্চার উচ্ছ্বাসে ভরে উঠেছিল পুরো আয়োজন। এতে সভাপতিত্ব করেন কবি ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আবু লিয়াকত হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন রিজোয়ান আহমেদ হৃদয়। কাব্যজলসার প্রধান অতিথি ছিলেন কবি ও বাচিক শিল্পী ড. ভাস্বর বন্দোপাধ্যায়। তিনি বলেন, প্রবাসের মাটিতেও কবিতা মানুষের হৃদয়ে নতুন বীজ বোনে। কাব্যই পারে ভিন্ন সংস্কৃতিকে একত্র করতে।
আলোচনা করেন, বক্তব্য রাখেন এবং কবিতা পাঠে অংশ নেন রাশেদ চৌধুরী, মৃদুল রহমান, জুয়েল সাদাত, কৃষন রয়, পংকজ কুমার, হেলাল উদদীন রানা, জাফরিন ফরিদ, সোহানা তুলি, সেলিনা মলি, ইকবাল এমদাদ জুয়েল, জুনায়েদ আকতার, আনিস আহমেদ, জাকিয়া তৌফিক, নাসিম জাফর, সরোয়ার কামাল,কাকলি বিশ্বাস, মাহমুদ মোরশেদ আনোয়ার, মোস্তাফিজুর রহমান, নাহিদ শারমিন, আবীর আলমগীর, সুমিত্রা পন্ডিত, ফাহমিদা হোসেন শম্পা, তামান্না জেসমিন এবং ওমর কায়সার। প্রত্যেকে কবিতার ভূমিকায় ব্যক্তিগত অনুভূতি আর সাহিত্য ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
এক পর্যায়ে একে একে শুরু হয় কবিতা পাঠ। প্রবাসী জীবনের টানাপোড়েন, জন্মভূমির স্মৃতি, ভালোবাসা, মানবতা আর সমকালীন সমাজ নিয়ে আবৃত্তি করেন কবি-লেখকরা। মুগ্ধ শ্রোতারা বারবার করতালি দিয়ে কবিদের উজ্জীবিত করেন। অনুষ্ঠান শেষে আবু লিয়াকত হোসেন বলেন, ‘ফোবানার কাব্যজলসা শুধু কবিতা নয়, এটি প্রবাস জীবনে আমাদের সংস্কৃতির শিকড়কে ধরে রাখার এক মহোৎসব।’
প্রবাসের মাটিতে কবিতা ও সাহিত্যের এমন প্রাণোচ্ছল আসর একে অপরকে আরও কাছাকাছি এনে দিলো—এমন মন্তব্য করেন অনেক উপস্থিত সাহিত্যপ্রেমী। কাব্য জলসা অনুষ্ঠানে তিনটা বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
আটলান্টা ফোবানায় প্রবাসীদের প্রাণবন্ত উচ্ছ্বাস
আটলান্টা থেকে জুয়েল সাদাত জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় শুরু হওয়া আটলান্টা ফোবানা তিনদিনের প্রবাসী বাংলাদেশীদের নন-প্রফিট কনভেনশন হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে। ২৮টি স্টেট থেকে ৮৭টি সদস্য সংগঠনের প্রতিনিধি এই মিলনমেলায় অংশগ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে তরুণদের সক্রিয় উপস্থিতি এবারের ফোবানাকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
ফোবানা ৩৯ বছর ধরে প্রবাসে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে প্রমোট করে আসছে। কনভেনর নাহিদুল খান সাহেল বলেন, আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, কমিউনিটির সহযোগিতাও পেয়েছি।
মেম্বার সেক্রেটারী মাহবুব ভুইয়া বলেন, ‘কনভেনশনের মধ্যেই আমরা, আশা করি সবাই অনুষ্ঠান উপভোগ করছেন।
সিনিয়র কো-কনভেনর কাজী নাহিদ যোগ করেন, ‘ছোটখাট সমস্যা আমরা ঠিক করেছি, সব কিছুই ভালোভাবে চলছে।
নিউইয়র্কের ফোবানা সংগঠক নার্গিস সুলতানা বলেন, ‘আটলান্টা ফোবানা চমৎকার আবহাওয়ায় উপভোগ করা যাচ্ছে।
ওরল্যান্ডোর প্রতিনিধি বাবুল হাই জানান, ফোবানা মূলত মিলনমেলা। বছরে একবার আমরা একত্রিত হই।
মায়ামির মিম খান বলেন, ফোবানা মানেই জমজমাট কমিউনিটি গেটটুগেদার। সবই দৃশ্যমান।
নিউইয়র্কের পুলক মাহমুদ বলেন, ফোবানা শুধু গান-সঙ্গীত নয়, এটি বাংলাদেশের সুনাম বিশ্বে ছড়াচ্ছে।
ফোবানা’র নব নির্বাচিত এক্সিকিউটিভ সেক্রেটারী শিকাগোর খালেদ আহমদ রউফ জানান, ফোবানা ৩৯ বছর ধরে উত্তর আমেরিকার কমিউনিটিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আটলান্টা কনভেনশন বহুমাত্রিকভাবে সফল হয়েছে।
মিশিগানের জাবেদ চৌধুরী বলেন, প্রথম দিনের অনুষ্ঠানগুলো চমৎকার ছিল, সব কিছুই ভালোভাবে হচ্ছে।
ডালাসের হাসমত মোবিন যোগ করেন, ফোবানা দিন দিন প্রসারিত হচ্ছে। নতুন প্রজন্মের হাতে এ উদ্যোগ এগোচ্ছে।
ভার্জিনিয়ার সামসুদ্দিন বলেন, ইউথদের অংশগ্রহণ আমাদের জন্য অনুপ্রেরণার। সব কিছুই চমৎকার হয়েছে।
ফোবানার দ্বিতীয় দিনে ইউথদের জন্য সেমিনার আয়োজন করা হয়। খালেদ মহিউদ্দিনের সেমিনার এবং গণমাধ্যম স্বাধীনতা নিয়ে আলোচনা সেশন দর্শকপ্রিয় হয়ে ওঠে।
খাবার ও কাপড়ের স্টলে ছিল উপচে পড়া ভিড়। দেশীয় কাপড়ের ব্র্যান্ড ‘টুয়েলভ’ নিয়ে উপস্থিত টনি ডায়াস বলেন, ‘প্রবাসীরা বিদেশি কাপড় বেশি কিনছেন। দেশীয় কাপড়ের প্রচার করা উচিত।’
বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া কাব্য জলসাতেও দর্শক উপচে পড়ে। শতাধিক কবির অংশগ্রহণে আটলান্টার সাহিত্যপ্রেমীরা অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন। ফোবানার দ্বিতীয় দিন সকাল থেকেই কনভেনশন জমজমাট হয়ে ওঠে।