নিউইয়র্ক ০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ মে ২০২৪, ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

নিউইয়র্কে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত : ‘তাঁর মতো আদর্শবাসী নেতার বড় প্রয়োজন’

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০২:২৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯
  • / ২৩৩ বার পঠিত

বিশেষ প্রতিনিধি: স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, আফ্রো-এশিয়া, ল্যাতিন আমেরিকার নিপিড়ীত-নির্যাতিত গণ মানুষের নেতা, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নিউইয়র্কে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বব্যাপী জনমানুষের উপর চলমান নিপীড়ন-নির্যাতন আর মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় তাঁর মতো আদর্শবাদী জননেতার প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বক্তারা বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন একজন আধ্যাত্বিক আর বড় মাপের, বড় মনের মানুষ। যিনি ক্ষমতার বাইরে থেকে ক্ষমতার রাজনীতি করতেন। ছিলেন নেতাদের নেতা। তাঁর মতো আদর্শবান রাজনীতিকের বড় প্রয়োজন। উল্লেখ্য ১৭ নভেম্বর ছিলো মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফাউন্ডেশন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৭ নভেম্বর রোববার বিকেলে এই সভার আয়োজন করে। জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ টিপু সুলতান। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম শিকদার।
সভার শুরুতে মওলানা ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং তাঁর বিদেহী আতœার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু, অধ্যাপক দেওয়ান শামসুল আরেফীন, বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আবু জাফর ও মঈনুদ্দীন নাসের, সাপ্তাহিক রানার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, ড. শওকত আলী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন ও গিয়াস আহমেদ, সাংবাদিক ইমরান আনসারী, বিশিষ্ট লেখক ও কবি এবিএম সালেউদ্দীন, এডভোকেট মনির প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ড. মাহবুব হাসান, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদ, ডা. ফারুক আজম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, বিশিষ্ট কবি শাহ আলম দুলাল, লেখক কাজী জহিরুল ইসলাম, কৃষিবীদ আশরাফুজ্জামান, কমিউনিটি নেতা কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, সালেহ চৌধুরী, নাজমুল আলম শ্যামল, শাহাদৎ হোসেন, আহসান হাবিব, শাহানারা রহমান প্রমুখ সহ দলমত নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মওলানা ভাসানী গণমানুষ অর্থাৎ কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতী মানুষর নেতা ছিলেন। তিনি সবসময় গরীব, কৃষক ও শ্রমিক মানুষের কথা চিন্তা করতেন। তিনি দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর রাজনীতি করতেন। বক্তারা বলেন, আমাদের দূর্ভাগ্য আজো আমরা মওলানাকে পূর্ণাঙ্গ আবিষ্কার করতে পারিনি। কিন্তু সেই সময় আজো ফুরিয়ে যায়নি। আজ আমাদের ভাসানীকে আবিষ্কারের কাজ করতে হবে। আশার কথা হচ্ছে বিশ্বের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ মওলানা ভাসানীর উপর গবেষণা করে ডক্টরেট করছেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ভাসানীর বহু ভাষণ সহ তাঁর অনেক ইতিহাস আজ মুছে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে। এসব ইতিহাস রক্ষণাবেক্ষণ সময়ের দাবী। বক্তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আজ বাংলাদেশের মানুষকে চুপ বলে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু মওলানা ভাসানী আজ বেঁচে থাকলে তাঁকে চুপ বলে দমিয়ে রাখা যেতো না।
বক্তারা মওলানা ভাসানীর আদর্শ বাংলাদেশী নতুন প্রজন্ম সহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য ভাসানী অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

About Author Information

নিউইয়র্কে মওলানা ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী পালিত : ‘তাঁর মতো আদর্শবাসী নেতার বড় প্রয়োজন’

প্রকাশের সময় : ০২:২৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৯

বিশেষ প্রতিনিধি: স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, আফ্রো-এশিয়া, ল্যাতিন আমেরিকার নিপিড়ীত-নির্যাতিত গণ মানুষের নেতা, মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে নিউইয়র্কে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বাংলাদেশ তথা বিশ্বব্যাপী জনমানুষের উপর চলমান নিপীড়ন-নির্যাতন আর মানুষের মৌলিক অধিকার রক্ষায় তাঁর মতো আদর্শবাদী জননেতার প্রয়োজন বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। বক্তারা বলেন, মওলানা ভাসানী ছিলেন একজন আধ্যাত্বিক আর বড় মাপের, বড় মনের মানুষ। যিনি ক্ষমতার বাইরে থেকে ক্ষমতার রাজনীতি করতেন। ছিলেন নেতাদের নেতা। তাঁর মতো আদর্শবান রাজনীতিকের বড় প্রয়োজন। উল্লেখ্য ১৭ নভেম্বর ছিলো মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী।
মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী ফাউন্ডেশন, নিউইয়র্ক, যুক্তরাষ্ট্র তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ১৭ নভেম্বর রোববার বিকেলে এই সভার আয়োজন করে। জ্যাকসন হাইটসের জুইস সেন্টারে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ফাউন্ডেশনের সভাপতি সৈয়দ টিপু সুলতান। সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক আলী ইমাম শিকদার।
সভার শুরুতে মওলানা ভাসানীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন এবং তাঁর বিদেহী আতœার শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। আলোচনায় অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান, প্রবীণ সাংবাদিক মনজুর আহমদ, আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটির চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান ইউসুফজাই সালু, অধ্যাপক দেওয়ান শামসুল আরেফীন, বিশিষ্ট সাংবাদিক সৈয়দ আবু জাফর ও মঈনুদ্দীন নাসের, সাপ্তাহিক রানার সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন, ড. শওকত আলী, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হোসেন খান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুল আলম, সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকী, যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি’র সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন ও গিয়াস আহমেদ, সাংবাদিক ইমরান আনসারী, বিশিষ্ট লেখক ও কবি এবিএম সালেউদ্দীন, এডভোকেট মনির প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের মধ্যে সাপ্তাহিক পরিচয় সম্পাদক নাজমুল আহসান, সাপ্তাহিক বাংলাদেশ সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান, সাপ্তাহিক জন্মভূমি সম্পাদক রতন তালুকদার, মুক্তিযোদ্ধা মশিউর রহমান, মুক্তিযোদ্ধা ড. মাহবুব হাসান, মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার ফরহাদ, ডা. ফারুক আজম, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ, বিশিষ্ট কবি শাহ আলম দুলাল, লেখক কাজী জহিরুল ইসলাম, কৃষিবীদ আশরাফুজ্জামান, কমিউনিটি নেতা কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন, সালেহ চৌধুরী, নাজমুল আলম শ্যামল, শাহাদৎ হোসেন, আহসান হাবিব, শাহানারা রহমান প্রমুখ সহ দলমত নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক প্রবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বক্তারা বলেন, মওলানা ভাসানী গণমানুষ অর্থাৎ কৃষক-শ্রমিক আর মেহনতী মানুষর নেতা ছিলেন। তিনি সবসময় গরীব, কৃষক ও শ্রমিক মানুষের কথা চিন্তা করতেন। তিনি দুখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর রাজনীতি করতেন। বক্তারা বলেন, আমাদের দূর্ভাগ্য আজো আমরা মওলানাকে পূর্ণাঙ্গ আবিষ্কার করতে পারিনি। কিন্তু সেই সময় আজো ফুরিয়ে যায়নি। আজ আমাদের ভাসানীকে আবিষ্কারের কাজ করতে হবে। আশার কথা হচ্ছে বিশ্বের ৮টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপকগণ মওলানা ভাসানীর উপর গবেষণা করে ডক্টরেট করছেন।
বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ভাসানীর বহু ভাষণ সহ তাঁর অনেক ইতিহাস আজ মুছে যাচ্ছে, হারিয়ে যাচ্ছে। এসব ইতিহাস রক্ষণাবেক্ষণ সময়ের দাবী। বক্তাদের কেউ কেউ বাংলাদেশ সরকারের সমালোচনা করে বলেন, আজ বাংলাদেশের মানুষকে চুপ বলে দমিয়ে রাখা হচ্ছে। কিন্তু মওলানা ভাসানী আজ বেঁচে থাকলে তাঁকে চুপ বলে দমিয়ে রাখা যেতো না।
বক্তারা মওলানা ভাসানীর আদর্শ বাংলাদেশী নতুন প্রজন্ম সহ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার জন্য যার যার অবস্থান থেকে কাজ করার জন্য ভাসানী অনুসারীদের প্রতি আহ্বান জানান।