নিউইয়র্ক ০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুলাই ২০২৪, ২ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

কুলাউড়ায় করোনা যোদ্বাদের পাশে রেমিটেন্স যোদ্বারা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০১:০৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০
  • / ৯৮ বার পঠিত

এমদাদ চৌধুরী দীপু: বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস এখন সারা বিশ্বে এক নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশ্বময় চরম এই বিপদকে তুলনা করা হচ্ছে যুদ্বের সাথে। এর ব্যতিক্রম নয় আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ। দেশের প্রান্তিক মানুষ কোথায় যাবেন কার কাছে যাবেন কিভাবে আসন্ন রমজান কাটাবেন এ নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। শুধু সুবিধা বঞ্চিত মানুষ নয়, নি¤œ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। এমন বাস্তবতায় মা, মাটি আর মানুষের টানে এগিয়ে এসেছেন একটি গ্রামের সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীরা। তারা স্থাপন করেছেন একটি দৃষ্টান্ত। যা অনেকের কাছে হতে পারে অনুকরণের। অনবদ্য আয়োজন শেষ করেছেন তারা। ‘গ্রাম বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ এই মন্ত্রে তারা সাহায্য করেছেন আবেগ আর উৎসাহ নিয়ে।
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনয়নের ছায়াঘেরা, পাখি ডাকা, ছবির মত শান্ত গ্রাম হোসেনপুর। গ্রামের দুই তৃতীয়াংশ মানুষের বসবাস প্রবাসে। গ্রামে যারা আছেন তাদের মধ্যে বেশীরভাগ নানা পেশায় রয়েছেন। একটি ছোট্ট অংশ সুবিধা বঞ্চিত। কিন্ত সাম্প্রতিক করোনা মহামারী ভাবিয়ে তোলে সবাইকে। প্রবাসীরা উদ্যোগ নেন গ্রামের মানুষকে সাহায্য করার। প্রবাসীদের সাথে যুক্ত হন গ্রামের বিত্তবানরা। হোসেনপুর ফ্রেন্ডসক্লাব নামে অনলাইনে খোলা হয় একটি ফেইসবুক আইডি। গ্রæপ হিসেবে এই আইডি সচল হলে আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী যুক্ত হন আইডিতে। শুরু হয় অনলাইনে সভা। এসব সভায় প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে সিদ্বান্ত হয় ১৬০ পরিবারকে দেয়া হবে সহায়তা। যার নাম হবে উপহার সামগ্রী। দ্রæত তালিকা তৈরী করে ৬ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় এবং সেটি সংগৃহীত হয় সফলতার সাথে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাঝে। গ্রামে একজন সমন্বয়ক, পুরো দেশের জন্য একজন, আরেক সমন্বয়ক ইউরোপ-এর জন্য। এছাড়া আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়ায় আরো একজন সমন্বয়ক দফায়, দফায় অনলাইনে আলোচনা করে করোনা মহামারীতে দেশে পাঠানো হয় রেমিটেন্স। প্রাবাসীদের সাথে আলাপাকালে তারা জানান, গ্রামের লোক যাতে বাড়িতে থাকেন এবং এক মাস তারা যাতে চলতে পারেন, সেই বিবেচনায় তাদের ঘরে করোনা সাবধানতা মেনে উপহার পৌছানো হয়েছে।
যা বিতরণ হলো গ্রামের মানুষের মাঝে, তাতে খুশী গ্রামবাসী, কৃতজ্ঞতা প্রবাসীদের প্রতি। উপহার সামগ্রীতে রয়েছে চাল ৫০ কেজি, তেল ৫ লিটার, পিয়াজ ৫ কেজি, আলু ১০কেজি, ছোলা ৩ কেজি ডাল ২ কেজি, লবণ ২ কেজি, সাবান ১ টা।
এই মহতি আয়োজনের সাথে সংশ্লিস্টরা মনে করেন, আমরা বিশ্বাস করি সবাই যদি নিজ নিজ গ্রামে কিংবা এলাকায় সরকারী সাহায্যের পাশাপাশি সামাজিক ভাবে কিছু উপহার সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। করোনা যুদ্বে জয়ী হবে গ্রাম, জয়ী হবে স্ব স্ব এলাকা।
পুরস্কার পাওয়া এক মহিলার নাম কবিরুন বেগম (৭০) ও ছেলে প্রতিবন্ধি (২৫) প্রথম পেলেন খাদ্য সহায়তা। হাউ মাউ করে কেঁদে বললেন- গত ২৫ দিনে কেউ দু’মুটো চাল দেয়নি। ছেলেকে নিয়ে একবেলা, আধবেলা খেয়ে কাটছিলো দিন। যে সহায়তা পেয়েছেন তাতে দু’মাস চলবে তার। দু’হাত তুলে ‘উপহার সামগ্রী’ পেয়ে কাঁদলেন এলাকার কবিরুন বেগম। উদ্যোগের সাথে জড়িতরা অনুভুতি ব্যক্ত করেন এভাবে- রক্তের বন্ধন, মাটির গন্ধ কিংবা গ্রামের টান কোনটাকেই কখনো অবহেলা করার সুযোগ নেই। হোসেনপুর ফ্রেন্ডস ক্লাব আমাদের রক্তের সংগঠন, আমাদের মাটির সংগঠন এবং আমাদের গ্রামের সংগঠন। বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার ভয়াবহতার মধ্যে এই ক্লাবের বিদেশী এবং দেশী সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা হোসেনপুর গ্রামের ১৬০ টি পরিবারের মধ্যে সম্প্রতি (১৭ এপ্রিল, শুক্রবার) কিছু উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছি। এই কার্যক্রমের পরে ক্লাবের পক্ষ থেকে আরো নানা কর্মসূচী গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিস্টরা।
খাদ্য সামগ্রী পৌছানো এবং তদারকীর সাথে জড়িতরা হচ্ছেন ক্লাব সভাপতি আবু তাহের মামুন। অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সদস্যদের মধ্যে সফি আহমদ তারেক, এজাজ মাহমুদ চৌধুরী ফুল, ফখরুল ইসলাম, আজিজুর রহমান রুহি, আব্দুল করিম রিপন, রায়হান, বেলার, ইরশাদ, তুয়েল, আতিক, মুনতাসির, নাহিদ প্রমখ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

About Author Information

কুলাউড়ায় করোনা যোদ্বাদের পাশে রেমিটেন্স যোদ্বারা

প্রকাশের সময় : ০১:০৭:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২০

এমদাদ চৌধুরী দীপু: বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস এখন সারা বিশ্বে এক নাজুক পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। বিশ্বময় চরম এই বিপদকে তুলনা করা হচ্ছে যুদ্বের সাথে। এর ব্যতিক্রম নয় আমাদের প্রিয় মাতৃভুমি বাংলাদেশ। দেশের প্রান্তিক মানুষ কোথায় যাবেন কার কাছে যাবেন কিভাবে আসন্ন রমজান কাটাবেন এ নিয়ে চিন্তার শেষ নেই। শুধু সুবিধা বঞ্চিত মানুষ নয়, নি¤œ মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত মানুষ পড়েছেন চরম বিপাকে। এমন বাস্তবতায় মা, মাটি আর মানুষের টানে এগিয়ে এসেছেন একটি গ্রামের সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসীরা। তারা স্থাপন করেছেন একটি দৃষ্টান্ত। যা অনেকের কাছে হতে পারে অনুকরণের। অনবদ্য আয়োজন শেষ করেছেন তারা। ‘গ্রাম বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ এই মন্ত্রে তারা সাহায্য করেছেন আবেগ আর উৎসাহ নিয়ে।
মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলার কাদিপুর ইউনয়নের ছায়াঘেরা, পাখি ডাকা, ছবির মত শান্ত গ্রাম হোসেনপুর। গ্রামের দুই তৃতীয়াংশ মানুষের বসবাস প্রবাসে। গ্রামে যারা আছেন তাদের মধ্যে বেশীরভাগ নানা পেশায় রয়েছেন। একটি ছোট্ট অংশ সুবিধা বঞ্চিত। কিন্ত সাম্প্রতিক করোনা মহামারী ভাবিয়ে তোলে সবাইকে। প্রবাসীরা উদ্যোগ নেন গ্রামের মানুষকে সাহায্য করার। প্রবাসীদের সাথে যুক্ত হন গ্রামের বিত্তবানরা। হোসেনপুর ফ্রেন্ডসক্লাব নামে অনলাইনে খোলা হয় একটি ফেইসবুক আইডি। গ্রæপ হিসেবে এই আইডি সচল হলে আমেরিকা, ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশের প্রবাসী যুক্ত হন আইডিতে। শুরু হয় অনলাইনে সভা। এসব সভায় প্রস্তাবগুলো বিবেচনায় নিয়ে সিদ্বান্ত হয় ১৬০ পরিবারকে দেয়া হবে সহায়তা। যার নাম হবে উপহার সামগ্রী। দ্রæত তালিকা তৈরী করে ৬ লাখ টাকার তহবিল সংগ্রহ শুরু হয় এবং সেটি সংগৃহীত হয় সফলতার সাথে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মাঝে। গ্রামে একজন সমন্বয়ক, পুরো দেশের জন্য একজন, আরেক সমন্বয়ক ইউরোপ-এর জন্য। এছাড়া আমেরিকা-অস্ট্রেলিয়ায় আরো একজন সমন্বয়ক দফায়, দফায় অনলাইনে আলোচনা করে করোনা মহামারীতে দেশে পাঠানো হয় রেমিটেন্স। প্রাবাসীদের সাথে আলাপাকালে তারা জানান, গ্রামের লোক যাতে বাড়িতে থাকেন এবং এক মাস তারা যাতে চলতে পারেন, সেই বিবেচনায় তাদের ঘরে করোনা সাবধানতা মেনে উপহার পৌছানো হয়েছে।
যা বিতরণ হলো গ্রামের মানুষের মাঝে, তাতে খুশী গ্রামবাসী, কৃতজ্ঞতা প্রবাসীদের প্রতি। উপহার সামগ্রীতে রয়েছে চাল ৫০ কেজি, তেল ৫ লিটার, পিয়াজ ৫ কেজি, আলু ১০কেজি, ছোলা ৩ কেজি ডাল ২ কেজি, লবণ ২ কেজি, সাবান ১ টা।
এই মহতি আয়োজনের সাথে সংশ্লিস্টরা মনে করেন, আমরা বিশ্বাস করি সবাই যদি নিজ নিজ গ্রামে কিংবা এলাকায় সরকারী সাহায্যের পাশাপাশি সামাজিক ভাবে কিছু উপহার সামগ্রীর ব্যবস্থা করতে পারেন তাহলে এলাকার মানুষ উপকৃত হবে। করোনা যুদ্বে জয়ী হবে গ্রাম, জয়ী হবে স্ব স্ব এলাকা।
পুরস্কার পাওয়া এক মহিলার নাম কবিরুন বেগম (৭০) ও ছেলে প্রতিবন্ধি (২৫) প্রথম পেলেন খাদ্য সহায়তা। হাউ মাউ করে কেঁদে বললেন- গত ২৫ দিনে কেউ দু’মুটো চাল দেয়নি। ছেলেকে নিয়ে একবেলা, আধবেলা খেয়ে কাটছিলো দিন। যে সহায়তা পেয়েছেন তাতে দু’মাস চলবে তার। দু’হাত তুলে ‘উপহার সামগ্রী’ পেয়ে কাঁদলেন এলাকার কবিরুন বেগম। উদ্যোগের সাথে জড়িতরা অনুভুতি ব্যক্ত করেন এভাবে- রক্তের বন্ধন, মাটির গন্ধ কিংবা গ্রামের টান কোনটাকেই কখনো অবহেলা করার সুযোগ নেই। হোসেনপুর ফ্রেন্ডস ক্লাব আমাদের রক্তের সংগঠন, আমাদের মাটির সংগঠন এবং আমাদের গ্রামের সংগঠন। বিশ্বব্যাপী মহামারি করোনার ভয়াবহতার মধ্যে এই ক্লাবের বিদেশী এবং দেশী সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা হোসেনপুর গ্রামের ১৬০ টি পরিবারের মধ্যে সম্প্রতি (১৭ এপ্রিল, শুক্রবার) কিছু উপহার সামগ্রী বিতরণ করেছি। এই কার্যক্রমের পরে ক্লাবের পক্ষ থেকে আরো নানা কর্মসূচী গ্রহণের ব্যাপারে আলোচনা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিস্টরা।
খাদ্য সামগ্রী পৌছানো এবং তদারকীর সাথে জড়িতরা হচ্ছেন ক্লাব সভাপতি আবু তাহের মামুন। অন্যান্য কর্মকর্তা এবং সদস্যদের মধ্যে সফি আহমদ তারেক, এজাজ মাহমুদ চৌধুরী ফুল, ফখরুল ইসলাম, আজিজুর রহমান রুহি, আব্দুল করিম রিপন, রায়হান, বেলার, ইরশাদ, তুয়েল, আতিক, মুনতাসির, নাহিদ প্রমখ।