নিউইয়র্ক ০৫:০২ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ জুলাই ২০২৫, ২৩ আষাঢ় ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

তৃণমূল বিএনপির অনিশ্চিত পথচলা

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩
  • / ১৫৬ বার পঠিত

বাংলাদেশ ডেস্কঃ তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার অনুপস্থিতিতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়া দলটি। আদালতের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার নিবন্ধন পায় তৃণমূল বিএনপি। এর পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন নাজমুল হুদা। তাই দলীয় ফোরামের বৈঠক করতে পারেননি। দিতে পারেননি কোনো নির্দেশনা। গত রোববার রাতে তিনি মারা যান।নিবন্ধন পাওয়ার আগে এ দলের মহাসচিব পরিবর্তন হয়েছে চারবার। বর্তমানে কেউ মহাসচিবের দায়িত্বে নেই। তাই চেয়ারম্যানের অবর্তমানে শক্তভাবে দল পরিচালনার কেউ নেই।

দলটির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন জাহাঙ্গীর নামের একজন। তবে তিনিও তেমন সক্রিয় নন। রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি রয়েছে এমন কোনো নেতা নেই দলটির। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আক্কাস আলী খানকেই সব দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। তিনি এক সময় নাজমুল হুদার নির্বাচনী এলাকা দোহারে ছাত্রদল, যুবদলে সক্রিয় ছিলেন। নাজমুল হুদা বিএনপি ছাড়ার পর তিনি পাশে দাঁড়ান। ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক সচিব। একের পর এক রাজনৈতিক দল ও জোট গঠনের সময় তিনি ছিলেন নাজমুল হুদার সহচর। এখনও বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আক্কাস আলী জানান, নাজমুল হুদার অবর্তমানে দলের হাল ধরার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি। কয়েক দিন শোক পালনের পর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নাজমুল হুদার পরিবার থেকে কেউ হাল ধরলে দল পরিচালনা সহজ হবে। নাজমুল হুদার স্ত্রী আইনজীবী সিগমা হুদা এবং দুই কন্যা অন্তরা সামিলা ও শ্রাবন্তী আমিনা। ব্যারিস্টার অন্তরা তৃণমূল বিএনপি নিয়ে আগ্রহী নন। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে ঝুঁকতে চাইছেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সিগমা হুদাও তৃণমূল বিএনপির কোনো পদে নেই। স্বামীর অবর্তমানে তিনি দলের হাল ধরবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে। তিনিও অনেক অসুস্থ।

দল-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, নাজমুল হুদার পরিবারের কোনো সদস্য দলের দায়িত্বে না এলে পথচলা কঠিন হয়ে পড়বে। সিগমা হুদা কিংবা অন্তরা যদি দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সরকারের আনুকূল্য পান, তাহলে হয়তো কিছুকালের জন্য আলোচনায় থাকতে পারবে দলটি। দলটির নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠাকালে মহাসচিব ছিলেন ডা. সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি চলে যাওয়ার পর চলচ্চিত্র অভিনেতা আহমেদ শরীফকে মহাসচিব করা হয়। তার পর ব্যারিস্টার আকবর আমিন বাবুল দায়িত্ব নেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি অন্য দলে যান। তখন মেজর (অব.) ডা. শেখ হাবিবুর রহমানকে মহাসচিব করা হয়। কিন্তু নিবন্ধনের আগে তিনিও চলে যান। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কথা বলা হলেও হাতেগোনা কয়েকজন রয়েছেন দলটিতে। দলের কোনো কার্যালয় নেই। পল্টনে মেহেরবা প্লাজায় নাজমুল হুদার চেম্বারের একটি কক্ষে এতদিন দলীয় কাজ পরিচালনা করা হতো। এখন নতুন কার্যালয়ের সন্ধানে নামবেন নেতারা। নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সার্বিক পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

আরোও পড়ুন। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না: আইনমন্ত্রী

নাজমুল হুদা ১৯৭৭ সালে জাগো দলে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠিত হলে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সালে এবং ২০০১ সালে তিনি বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ২০১০ সালে ২১ নভেম্বর বিএনপি থেকে বহিস্কার হন। ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল তাঁর সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আবারও বহিস্কারের পর ২০১২ সালের ১০ আগস্ট গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)। কিন্তু কয়েক মাস পর বিএনএফ থেকেও বহিস্কার হন। ২০১৪ সালের মে মাসে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জোট গঠন করেন এবং ২১ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি গঠন করেন।

২০১৫ সালে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার দলের নিবন্ধন বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। দলটির প্রতীক সোনালি আঁশ। তৃণমূল বিএনপি গঠন ও নিবন্ধন পাওয়ার প্রক্রিয়াকে শুরু থেকেই সন্দেহ করে আসছেন বিএনপির নেতারা। তাঁরা মনে করছেন, সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটা করা হয়েছে। সূত্রঃ সমকাল

হককথা/সুমি

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

তৃণমূল বিএনপির অনিশ্চিত পথচলা

প্রকাশের সময় : ০১:৪৬:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

বাংলাদেশ ডেস্কঃ তৃণমূল বিএনপির চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার অনুপস্থিতিতে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে যাচ্ছে সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন পাওয়া দলটি। আদালতের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার নিবন্ধন পায় তৃণমূল বিএনপি। এর পরই অসুস্থ হয়ে পড়েন নাজমুল হুদা। তাই দলীয় ফোরামের বৈঠক করতে পারেননি। দিতে পারেননি কোনো নির্দেশনা। গত রোববার রাতে তিনি মারা যান।নিবন্ধন পাওয়ার আগে এ দলের মহাসচিব পরিবর্তন হয়েছে চারবার। বর্তমানে কেউ মহাসচিবের দায়িত্বে নেই। তাই চেয়ারম্যানের অবর্তমানে শক্তভাবে দল পরিচালনার কেউ নেই।

দলটির কো-চেয়ারম্যান হিসেবে রয়েছেন জাহাঙ্গীর নামের একজন। তবে তিনিও তেমন সক্রিয় নন। রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতি রয়েছে এমন কোনো নেতা নেই দলটির। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব আক্কাস আলী খানকেই সব দায়িত্ব সামলাতে হচ্ছে। তিনি এক সময় নাজমুল হুদার নির্বাচনী এলাকা দোহারে ছাত্রদল, যুবদলে সক্রিয় ছিলেন। নাজমুল হুদা বিএনপি ছাড়ার পর তিনি পাশে দাঁড়ান। ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক সচিব। একের পর এক রাজনৈতিক দল ও জোট গঠনের সময় তিনি ছিলেন নাজমুল হুদার সহচর। এখনও বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

আক্কাস আলী জানান, নাজমুল হুদার অবর্তমানে দলের হাল ধরার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়নি। কয়েক দিন শোক পালনের পর দলীয় ফোরামে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। নাজমুল হুদার পরিবার থেকে কেউ হাল ধরলে দল পরিচালনা সহজ হবে। নাজমুল হুদার স্ত্রী আইনজীবী সিগমা হুদা এবং দুই কন্যা অন্তরা সামিলা ও শ্রাবন্তী আমিনা। ব্যারিস্টার অন্তরা তৃণমূল বিএনপি নিয়ে আগ্রহী নন। তিনি বিএনপির রাজনীতিতে ঝুঁকতে চাইছেন। ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির মনোনয়ন চেয়েছিলেন। সিগমা হুদাও তৃণমূল বিএনপির কোনো পদে নেই। স্বামীর অবর্তমানে তিনি দলের হাল ধরবেন কিনা, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকে। তিনিও অনেক অসুস্থ।

দল-সংশ্নিষ্টরা বলছেন, নাজমুল হুদার পরিবারের কোনো সদস্য দলের দায়িত্বে না এলে পথচলা কঠিন হয়ে পড়বে। সিগমা হুদা কিংবা অন্তরা যদি দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং সরকারের আনুকূল্য পান, তাহলে হয়তো কিছুকালের জন্য আলোচনায় থাকতে পারবে দলটি। দলটির নেতারা জানান, প্রতিষ্ঠাকালে মহাসচিব ছিলেন ডা. সালাহউদ্দিন আহমেদ। তিনি চলে যাওয়ার পর চলচ্চিত্র অভিনেতা আহমেদ শরীফকে মহাসচিব করা হয়। তার পর ব্যারিস্টার আকবর আমিন বাবুল দায়িত্ব নেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি অন্য দলে যান। তখন মেজর (অব.) ডা. শেখ হাবিবুর রহমানকে মহাসচিব করা হয়। কিন্তু নিবন্ধনের আগে তিনিও চলে যান। নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র জমা দেওয়ার সময় ৭১ সদস্যবিশিষ্ট কমিটির কথা বলা হলেও হাতেগোনা কয়েকজন রয়েছেন দলটিতে। দলের কোনো কার্যালয় নেই। পল্টনে মেহেরবা প্লাজায় নাজমুল হুদার চেম্বারের একটি কক্ষে এতদিন দলীয় কাজ পরিচালনা করা হতো। এখন নতুন কার্যালয়ের সন্ধানে নামবেন নেতারা। নেতারা জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে সার্বিক পরিকল্পনা নেওয়া হবে।

আরোও পড়ুন। খালেদা জিয়া নির্বাচন করতে পারবেন না: আইনমন্ত্রী

নাজমুল হুদা ১৯৭৭ সালে জাগো দলে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে বিএনপি গঠিত হলে প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। ১৯৯১ সালে এবং ২০০১ সালে তিনি বিএনপি সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। ২০১০ সালে ২১ নভেম্বর বিএনপি থেকে বহিস্কার হন। ২০১১ সালের ৫ এপ্রিল তাঁর সদস্য পদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়। আবারও বহিস্কারের পর ২০১২ সালের ১০ আগস্ট গঠন করেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ফ্রন্ট (বিএনএফ)। কিন্তু কয়েক মাস পর বিএনএফ থেকেও বহিস্কার হন। ২০১৪ সালের মে মাসে তিনি বাংলাদেশ জাতীয় জোট গঠন করেন এবং ২১ নভেম্বর তিনি বাংলাদেশ মানবাধিকার পার্টি গঠন করেন।

২০১৫ সালে তৃণমূল বিএনপি গঠন করেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশে গত বৃহস্পতিবার দলের নিবন্ধন বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। দলটির প্রতীক সোনালি আঁশ। তৃণমূল বিএনপি গঠন ও নিবন্ধন পাওয়ার প্রক্রিয়াকে শুরু থেকেই সন্দেহ করে আসছেন বিএনপির নেতারা। তাঁরা মনে করছেন, সরকারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে এটা করা হয়েছে। সূত্রঃ সমকাল

হককথা/সুমি