নিউইয়র্ক ০৪:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫, ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

যেসব সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীকে হারিয়েছি

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ জানুয়ারী ২০২২
  • / ৮১ বার পঠিত

ঢাকা ডেস্ক : মৃত্যু বলতে জীবনের সমাপ্তি বোঝায়। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন- ‘আজিকে হয়েছে শান্তি, জীবনের ভুলভ্রান্তি, সব গেছে চুকে।’ সেই নিয়মে জীবনের পাঠ চুকিয়ে দিয়ে এ বছর আমাদের কাছ থেকে মৃত্যু কেড়ে নিয়ে গেছে বেশকজন কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে।খবর সাম্প্রতিক দেশকাল

আমরা যাঁদেরকে হারিয়েছি তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন আমাদের মাঝ থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। তাঁর বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- মালিনীর দুপুর, রঙিন কাচের জানালা, মেঘের পর মেঘ, যা কিছু অপ্রত্যাশিত, দূরে বৃষ্টি, সাকিন ও মায়াতরু, রমনা পার্কের পাঁচবন্ধু ইত্যাদি।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি চলে গেছেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান (সংক্ষেপে এটিএম শামসুজ্জামান হিসেবে অধিক পরিচিত) ছিলেন একজন বাংলাদেশি অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক। অভিনয়ের জন্য আজীবন সম্মাননাসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয় বার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

৮ মার্চ আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা শাহীন আলম। তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তার পুরো নাম শাহীনূর আলম শাহীন। চলতি বছর এপ্রিলের ৭ তারিখে চির বিদায় নেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। তিনি ছিলেন একজন লোকগানের শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, জারি, সারি, মুর্শিদি ইত্যাদি গাইতেন। পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীও ছিলেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সংগীত বিভাগে একুশে পদক প্রদান করে।

১০ এপ্রিলে আমরা সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারকে হারাই। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। শাহরিয়ার দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক নিউজ ম্যাগাজিন নিউজউইক, দুবাইয়ের খালিজ টাইমস, ভারতের ডেইলি ডেকান হেরাল্ড, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রভৃতি পত্রিকায় কাজ করেছেন।

আমাদের মাঝ থেকে ১১ এপ্রিল বিদায় নেন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিতা হক। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সর্বোচ্চ গ্রেডের তালিকাভুক্ত শিল্পী। তার এককভাবে মুক্তি পাওয়া মোট ২৪টি অ্যালবাম আছে। এর মধ্যে ১৪টি ভারত থেকে ও ১০টি বাংলাদেশ থেকে। তিনি ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার তাঁকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।

১৭ এপ্রিল বিদায় নেন সারাহ বেগম কবরী। পূর্বে নাম ছিল মিনা পাল। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিশ শতকের ষাট ও সত্তর দশকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। তিনি একটি অভিনয় ও আজীবন সম্মাননাসহ দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ছয়টি বাচসাস পুরস্কার এবং মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী আমাদের মাঝ থেকে চলতি বছর ২৪ মে চির বিদায় নিয়েছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। সিরাজী ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে মৃত্যুঅবধি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি অনেক বই লিখেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- কাদামাখা পা (২০০৬), ভুলের কোনো শুদ্ধ বানান নেই (২০০৮), শূন্য, পূর্বে না উত্তরে (২০০৯), ইতিহাস বদমাশ হলে মানুষ বড় কষ্ট পায় (২০০৯), একা ও করুণা (২০১০)।

গত ২৩ জুলাই বিদায় নিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফকির আলমগীর। তিনি ছিলেন দেশের একজন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী। গণসংগীত ও দেশীয় পপ সংগীতে তাঁর ব্যাপক অবদান রয়েছে। তিনি ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৯ সালে সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন।

চলতি বছরের ৪ জুলাই বিদায় নিয়েছেন কবি ফজল-এ-খোদা। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গানের তালিকায় সেরা ২০ গানের মধ্যে ফজল-এ-খোদার লেখা ‘সালাম সালাম হাজার সালাম গানটি’ ১২তম স্থান পেয়েছিল। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সাবেক পরিচালক ছিলেন।

১১ অক্টোবর বিদায় নিয়েছেন অভিনেতা, লেখক, নাট্যকার ও শিক্ষক ইনামুল হক। তিনি দীর্ঘকাল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। নাট্যকলায় অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে।

চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর চিরবিদায় নিয়েছেন বাংলাভাষার অন্যতম গল্পকার ও ঔপন্যাসিক হাসান আজিজুল হক। ষাটের দশকে আবির্ভূত এই কথাসাহিত্যিক তাঁর সুঠাম গদ্য এবং মর্মস্পর্শী বর্ণনাভঙ্গির জন্য প্রসিদ্ধ। জীবনসংগ্রামে লিপ্ত মানুষের কথকতা তাঁর গল্প-উপন্যাসের প্রধানতম অনুষঙ্গ। রাঢ়বঙ্গ তাঁর অনেক গল্পের পটভূমি।

আগুনপাখি (২০০৬) তাঁর প্রথম উপন্যাস। তিনি ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ১৯৯৯ সালে একুশে পদকে ও ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য (১৯৬৪), আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭), জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩) ও নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫)সহ অনেক মূল্যবান গ্রন্থ রেখে গেছেন।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

যেসব সাহিত্যিক ও সংস্কৃতি কর্মীকে হারিয়েছি

প্রকাশের সময় : ০৭:৩৫:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ জানুয়ারী ২০২২

ঢাকা ডেস্ক : মৃত্যু বলতে জীবনের সমাপ্তি বোঝায়। রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন- ‘আজিকে হয়েছে শান্তি, জীবনের ভুলভ্রান্তি, সব গেছে চুকে।’ সেই নিয়মে জীবনের পাঠ চুকিয়ে দিয়ে এ বছর আমাদের কাছ থেকে মৃত্যু কেড়ে নিয়ে গেছে বেশকজন কবি, সাহিত্যিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে।খবর সাম্প্রতিক দেশকাল

আমরা যাঁদেরকে হারিয়েছি তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি সাহিত্যিক রাবেয়া খাতুন আমাদের মাঝ থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। তাঁর বিখ্যাত বইয়ের মধ্যে রয়েছে- মালিনীর দুপুর, রঙিন কাচের জানালা, মেঘের পর মেঘ, যা কিছু অপ্রত্যাশিত, দূরে বৃষ্টি, সাকিন ও মায়াতরু, রমনা পার্কের পাঁচবন্ধু ইত্যাদি।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি চলে গেছেন আবু তাহের মোহাম্মদ শামসুজ্জামান (সংক্ষেপে এটিএম শামসুজ্জামান হিসেবে অধিক পরিচিত) ছিলেন একজন বাংলাদেশি অভিনেতা, পরিচালক ও লেখক। অভিনয়ের জন্য আজীবন সম্মাননাসহ জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন ছয় বার। শিল্পকলায় অবদানের জন্য ২০১৫ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।

৮ মার্চ আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছেন চলচ্চিত্র অভিনেতা শাহীন আলম। তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর। তার পুরো নাম শাহীনূর আলম শাহীন। চলতি বছর এপ্রিলের ৭ তারিখে চির বিদায় নেন ইন্দ্রমোহন রাজবংশী। তিনি ছিলেন একজন লোকগানের শিল্পী ও মুক্তিযোদ্ধা। তিনি ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালী, জারি, সারি, মুর্শিদি ইত্যাদি গাইতেন। পাশাপাশি রবীন্দ্রসংগীত শিল্পীও ছিলেন। ২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে সংগীত বিভাগে একুশে পদক প্রদান করে।

১০ এপ্রিলে আমরা সাংবাদিক হাসান শাহরিয়ারকে হারাই। তিনি জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ছিলেন। শাহরিয়ার দীর্ঘদিন দৈনিক ইত্তেফাকের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তিনি আন্তর্জাতিক নিউজ ম্যাগাজিন নিউজউইক, দুবাইয়ের খালিজ টাইমস, ভারতের ডেইলি ডেকান হেরাল্ড, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস প্রভৃতি পত্রিকায় কাজ করেছেন।

আমাদের মাঝ থেকে ১১ এপ্রিল বিদায় নেন রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী মিতা হক। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সর্বোচ্চ গ্রেডের তালিকাভুক্ত শিল্পী। তার এককভাবে মুক্তি পাওয়া মোট ২৪টি অ্যালবাম আছে। এর মধ্যে ১৪টি ভারত থেকে ও ১০টি বাংলাদেশ থেকে। তিনি ২০১৬ সালে শিল্পকলা পদক লাভ করেন। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার তাঁকে ২০২০ সালে একুশে পদক প্রদান করে।

১৭ এপ্রিল বিদায় নেন সারাহ বেগম কবরী। পূর্বে নাম ছিল মিনা পাল। অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্র পরিচালক ও রাজনীতিবিদ ছিলেন। বিশ শতকের ষাট ও সত্তর দশকে বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় নায়িকা ছিলেন। তিনি একটি অভিনয় ও আজীবন সম্মাননাসহ দুটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, ছয়টি বাচসাস পুরস্কার এবং মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননা পুরস্কার অর্জন করেছেন। কবি হাবীবুল্লাহ সিরাজী আমাদের মাঝ থেকে চলতি বছর ২৪ মে চির বিদায় নিয়েছেন। বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০১৬ সালে একুশে পদকে ভূষিত হয়েছিলেন। সিরাজী ২০১৮ সালের ২০ ডিসেম্বর থেকে মৃত্যুঅবধি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক ছিলেন। তিনি অনেক বই লিখেছেন। এর মধ্যে কয়েকটি হচ্ছে- কাদামাখা পা (২০০৬), ভুলের কোনো শুদ্ধ বানান নেই (২০০৮), শূন্য, পূর্বে না উত্তরে (২০০৯), ইতিহাস বদমাশ হলে মানুষ বড় কষ্ট পায় (২০০৯), একা ও করুণা (২০১০)।

গত ২৩ জুলাই বিদায় নিয়েছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফকির আলমগীর। তিনি ছিলেন দেশের একজন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী। গণসংগীত ও দেশীয় পপ সংগীতে তাঁর ব্যাপক অবদান রয়েছে। তিনি ঋষিজ শিল্পী গোষ্ঠীর প্রতিষ্ঠাতা। ১৯৯৯ সালে সরকার কর্তৃক একুশে পদকে ভূষিত হন।

চলতি বছরের ৪ জুলাই বিদায় নিয়েছেন কবি ফজল-এ-খোদা। বিবিসির জরিপে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাংলা গানের তালিকায় সেরা ২০ গানের মধ্যে ফজল-এ-খোদার লেখা ‘সালাম সালাম হাজার সালাম গানটি’ ১২তম স্থান পেয়েছিল। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সাবেক পরিচালক ছিলেন।

১১ অক্টোবর বিদায় নিয়েছেন অভিনেতা, লেখক, নাট্যকার ও শিক্ষক ইনামুল হক। তিনি দীর্ঘকাল বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রসায়ন বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। নাট্যকলায় অবদানের জন্য ২০১২ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক প্রদান করে।

চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর চিরবিদায় নিয়েছেন বাংলাভাষার অন্যতম গল্পকার ও ঔপন্যাসিক হাসান আজিজুল হক। ষাটের দশকে আবির্ভূত এই কথাসাহিত্যিক তাঁর সুঠাম গদ্য এবং মর্মস্পর্শী বর্ণনাভঙ্গির জন্য প্রসিদ্ধ। জীবনসংগ্রামে লিপ্ত মানুষের কথকতা তাঁর গল্প-উপন্যাসের প্রধানতম অনুষঙ্গ। রাঢ়বঙ্গ তাঁর অনেক গল্পের পটভূমি।

আগুনপাখি (২০০৬) তাঁর প্রথম উপন্যাস। তিনি ১৯৭০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন। বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ১৯৯৯ সালে একুশে পদকে ও ২০১৯ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে। সমুদ্রের স্বপ্ন শীতের অরণ্য (১৯৬৪), আত্মজা ও একটি করবী গাছ (১৯৬৭), জীবন ঘষে আগুন (১৯৭৩) ও নামহীন গোত্রহীন (১৯৭৫)সহ অনেক মূল্যবান গ্রন্থ রেখে গেছেন।