নিউইয়র্ক ১০:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০২ এপ্রিল ২০২৫, ১৯ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

এমআইটিতে পড়তে পরীক্ষার ফলাফলই যোগ্যতার মাপকাঠি নয়

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫
  • / ৭০ বার পঠিত

২০২৩ সালে চাঁদপুরের নাফিস উল সিফাত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবরটি বেশ আলোচিত হয়। কারণ নাফিস তখন চাঁদপুর সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছিল। কলেজজীবন শেষ করার আগেই এমআইটির মতো বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বিরল তো বটেই, আলোচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এমআইটিতে পড়তে চাইলে শুধু পরীক্ষার ফলাফলই যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয় না। মেধা ও দক্ষতার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞানও প্রমাণ করতে হয় এখানে। থাকতে হবে ইংরেজি দক্ষতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অর্জন। তারপরই মেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ।

একটি ভর্তি কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করে এমআইটি। কোনো শিক্ষক তার পছন্দ অনুযায়ী এককভাবে শিক্ষার্থী নিতে পারেন না। প্রথমে কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আবেদন যাচাই-বাছাই করে, তারপর প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো বৃত্তি পেয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি এমআইটিতে সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা কিংবা মানবিক বিজ্ঞানেও পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা মানুষের দোরগোড়ায় নিতে যেসব অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা দরকার, সেগুলোকেই এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এখানে স্নাতকে ভর্তি হলেই যে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করার সুযোগ মিলবে, এমনটি মোটেই নয়। স্নাতকেই অনেকে ঝরে যায়। আর যারা টিকে যায়, পরবর্তী কোর্সে ভর্তি হতে গেলে পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হয় নতুন করে। তারপরই পরবর্তী কোর্সে পড়ার সুযোগ মেলে।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তির জন্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়কসহ তিনজন শিক্ষকের সুপারিশপত্র দরকার হয়। গতানুগতিক পন্থার সুপারিশপত্র দিলে কিন্তু গৃহীত হবে না। যে শিক্ষার্থীর সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে ক্লাসে সে কতটুকু মেধার পরিচয় দিয়েছে, জটিল সমস্যা সমাধান ও নেতৃত্বদানের সক্ষমতা তার আছে কি না, সহশিক্ষা কার্যক্রমে সে কতটুকু যুক্ত, এসব কথা সুপারিশপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি। তিনজনের সুপারিশপত্র অনেকটা একই রকম হয়ে গেলেও ভর্তির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়! এমআইটিতে পড়া ও গবেষণার বিষয়ে জ্ঞানের গভীরতার সঙ্গে প্রায়োগিক সম্পর্কটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়োগিক ধারণা তৈরি করার জন্য প্রচুর অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয় শিক্ষার্থীকে। অ্যাসাইনমেন্টগুলো সমাধান করতে হলে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি নিজের দর্শন, স্বকীয়তা ও যুক্তিসম্পন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে উপস্থাপন করতে হয়।

এমআইটিতে শিক্ষার মূলনীতি হচ্ছে শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন শিক্ষাজীবন শেষে একজন শিক্ষার্থী বিশ্বে প্রযুক্তি উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে। মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগল থেকে শুরু করে বায়োটেক ও মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে সবার সঙ্গেই এমআইটি নিবিড় সম্পর্ক রেখে কাজ করে। তো এমআইটি থেকে পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে তারা যে বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুযোগ পাচ্ছে বা পাবে, তা হলফ করে বলাই যায়। সূত্র : সাম্প্রতিক দেশকাল।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

এমআইটিতে পড়তে পরীক্ষার ফলাফলই যোগ্যতার মাপকাঠি নয়

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৩:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৩ মার্চ ২০২৫

২০২৩ সালে চাঁদপুরের নাফিস উল সিফাত যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে (এমআইটি) ভর্তির সুযোগ পাওয়ার খবরটি বেশ আলোচিত হয়। কারণ নাফিস তখন চাঁদপুর সরকারি কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছিল। কলেজজীবন শেষ করার আগেই এমআইটির মতো বিশ্বের প্রথম সারির বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বিরল তো বটেই, আলোচিত হওয়াটাই স্বাভাবিক। এমআইটিতে পড়তে চাইলে শুধু পরীক্ষার ফলাফলই যোগ্যতার মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয় না। মেধা ও দক্ষতার পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক গভীর জ্ঞানও প্রমাণ করতে হয় এখানে। থাকতে হবে ইংরেজি দক্ষতা ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অর্জন। তারপরই মেলে ভর্তি হওয়ার সুযোগ।

একটি ভর্তি কমিটির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করে এমআইটি। কোনো শিক্ষক তার পছন্দ অনুযায়ী এককভাবে শিক্ষার্থী নিতে পারেন না। প্রথমে কমিটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আবেদন যাচাই-বাছাই করে, তারপর প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীকে মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। ভর্তির সুযোগ পাওয়ার পর বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কোনো না কোনো বৃত্তি পেয়ে থাকে শিক্ষার্থীরা। প্রকৌশল ও প্রযুক্তিসংক্রান্ত বিষয়ের পাশাপাশি এমআইটিতে সামাজিক বিজ্ঞান, ব্যবস্থাপনা কিংবা মানবিক বিজ্ঞানেও পড়ার সুযোগ রয়েছে। তবে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা মানুষের দোরগোড়ায় নিতে যেসব অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা দরকার, সেগুলোকেই এখানে প্রাধান্য দেওয়া হয়। এখানে স্নাতকে ভর্তি হলেই যে স্নাতকোত্তর বা পিএইচডি করার সুযোগ মিলবে, এমনটি মোটেই নয়। স্নাতকেই অনেকে ঝরে যায়। আর যারা টিকে যায়, পরবর্তী কোর্সে ভর্তি হতে গেলে পরীক্ষা দিয়ে পাস করতে হয় নতুন করে। তারপরই পরবর্তী কোর্সে পড়ার সুযোগ মেলে।

স্নাতকোত্তর পর্যায়ে ভর্তির জন্য গবেষণা তত্ত্বাবধায়কসহ তিনজন শিক্ষকের সুপারিশপত্র দরকার হয়। গতানুগতিক পন্থার সুপারিশপত্র দিলে কিন্তু গৃহীত হবে না। যে শিক্ষার্থীর সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছে ক্লাসে সে কতটুকু মেধার পরিচয় দিয়েছে, জটিল সমস্যা সমাধান ও নেতৃত্বদানের সক্ষমতা তার আছে কি না, সহশিক্ষা কার্যক্রমে সে কতটুকু যুক্ত, এসব কথা সুপারিশপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকা জরুরি। তিনজনের সুপারিশপত্র অনেকটা একই রকম হয়ে গেলেও ভর্তির সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়! এমআইটিতে পড়া ও গবেষণার বিষয়ে জ্ঞানের গভীরতার সঙ্গে প্রায়োগিক সম্পর্কটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায়োগিক ধারণা তৈরি করার জন্য প্রচুর অ্যাসাইনমেন্ট দেওয়া হয় শিক্ষার্থীকে। অ্যাসাইনমেন্টগুলো সমাধান করতে হলে তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি নিজের দর্শন, স্বকীয়তা ও যুক্তিসম্পন্ন ব্যাখ্যা দিয়ে উপস্থাপন করতে হয়।

এমআইটিতে শিক্ষার মূলনীতি হচ্ছে শিক্ষার্থীকে এমনভাবে গড়ে তুলতে হবে, যেন শিক্ষাজীবন শেষে একজন শিক্ষার্থী বিশ্বে প্রযুক্তি উন্নয়নে নেতৃত্ব দিতে পারে। মাইক্রোসফট, অ্যাপল, গুগল থেকে শুরু করে বায়োটেক ও মহাকাশবিজ্ঞান নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান কাজ করে সবার সঙ্গেই এমআইটি নিবিড় সম্পর্ক রেখে কাজ করে। তো এমআইটি থেকে পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে তারা যে বিশ্বের প্রথম সারির প্রতিষ্ঠানগুলোতে সুযোগ পাচ্ছে বা পাবে, তা হলফ করে বলাই যায়। সূত্র : সাম্প্রতিক দেশকাল।