নিউইয়র্ক ০৭:১২ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫, ১৬ ভাদ্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834
সম্পাদকের কলাম

নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই দেশপ্রেম

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:১৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • / ২১ বার পঠিত

সালাহউদ্দিন আহমেদ: বাংলাদেশের ছাত্রদের ‘কোটা আন্দোলন’ ঘিরে সৃষ্ট ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন গড়ে উঠে। পুরো মাস অর্থাৎ ৩১ জুলাই আর আগষ্টের ৫ দিন নিয়ে ৩৬ জুলাই’র ঐতিহাসিক আন্দোলনে পতন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। হাসিনা সরকারের ১৫/১৬ বছরের শাসনামল খ্যাতি পায় ‘ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার আর খুনী-মানবতা বিরোধী’ সরকার হিসেবে। দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আ্রয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার আগে-পরে দেশ ত্যাগ করেন বা পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ দলীয় মন্ত্রী-এমপি-নেতা-কর্মীরাও। যা পৃথিবীতে কোন দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগকে বা আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের এমন পতন ঘটবে তা কারো কল্পনার মধ্যেও ছিলো না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশে যে রাম রাজত্ব কায়েম করেছিলো তাতে জনগন বলেছেন যে, সৃষ্টিকর্তা না চাইলে বা মিরাকল কিছু না ঘটলে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটবে না। ইতিহাস বলছে- স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের অন্যায়-অবিচারের মাসুল গুনতে হয়ে ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিবকে সপরিবারে (ভাগ্যক্রমে মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় প্রানে বেঁচে যান) প্রাণ দিয়ে। আর শেখ হাসিনা সরকারের গুম, খুন, হামলা-মামলা, ঘুষ-দূর্নীতি, অর্থ পাচার সহ সকল অন্যায়ের মাসুল দিতে হলো ‘প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশ ত্যাগ করে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে’।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মতো এমন আন্দোলন দেশের ইতিহাসে আর ঘটেনি। মাঝে ‘স্বৈরাচার হিসেবে পরিচিত’ ৯০-এ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকার বিরোধী গণ আন্দোলন ছিলো দেশের অন্যতম বড় আন্দোলন। তবে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের মতো নয়। যাই হোক বিদায় ঘটলো ফ্যাসিবাদী-স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের। ২০২৪ সালের ৮ আগষ্ট গঠন হলো শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী, খ্যাতিমান অর্থনীতিবীদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের।
‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে ড. ইউনূস সরকার তথা দেবাসী। ইতিমধ্যেই জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্তী হয়েছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের এক বছর হতে চললো। কিন্তু এই এক বছরে কতটুকু অর্জন হয়েছে? কেন অর্জন হচ্ছে না? সমস্যা বা গলদ কোথায়? এসব না প্রশ্ন দেশবাসীর মতো প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও মাঝে। সংগত কারণেই সরকার আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড স্থগিত করেছে। নিষিদ্ধ করেছে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মকান্ড। ফলে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের অন্য সকল দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি সরকার সমর্থিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)ও রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন না পেয়েও রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ক্ষমতায় যাওয়ার নেশা দলগুলোকে স্বার্থপর করে তুলছে। ফলে ‘দেশের চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়’ হয়ে উঠছে। অথচ হওয়া উচিৎ ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে দেশ বড়’।
আমরা বিশ্বাস করতে চাই ড. ইউনূস সরকার ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তেই কাজ করছেন। যথাসময়ে নির্বাচন হবে। দেশ ও জাতির স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্ববোধ নিয়ে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করবে- এটাই জাতির প্রত্যাশা। কিন্ত আমরা কী দেখছি। গত এক বছরে ড. ইউনূস সরকারের সাফল্য নেই বললেই চলে। শুধু শুধু কথার ফুলঝুরি। সবার মুখে কথায় কথায় পতিত সরকার ষড়যন্ত্র তত্ত¡। নিজেদের ব্যর্থতার কথা কারো মুখে নেই কেউ স্বীকারও করছে না। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের যে অবস্থা তারজন্য যে আমরা সবাই দায়ী- এই কথাটা কেউ বলছেন না। এটা তো সবারই জানার কথা- গণ আন্দোলনের মুখে পতিত সরকার দেশ ত্যাগ করেছে। তারা তো বসে থাকবে না। তাদের ষড়যন্ত্র তত্ত¡ সামনে রেখই তো চলতে হবে। এমনটাই তো হওয়ার কথা। তার মাঝে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি’র বিরুদ্ধে নানান দখল, চাঁদাবাজী আরো কত কী অভিযোগ! দেশে চলছে প্রতিহিংসার রাজনীতি।
আসলে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দেশপ্রেম। দেশের রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে শুরু করে জনগনের মধ্যে কোন দেশ প্রেম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের মাঝে যদি প্রকৃত দেশ প্রেম থাকতো তাহলে দেশে এতো দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রতিহিংসার রাজনীতি থাকতো না। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হতো না। নির্বাচন ঘিরে মনোনয়ন বাণিজ্য হতো না। সংস্কার নিয়ে এতো বাদানুবাদ হতো না। জাতীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না। সকলের মনে রাখতে হবে নতুন বংলাদেশ গড়তে দেশে প্রেমের বিকল্প নেই। তাইর সবার আগে চাই দেশপ্রেম।
লেখক: সম্পাদক, আজকের টেলিগ্রাম ও সাপ্তাহিক হককথা। সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

সম্পাদকের কলাম

নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই দেশপ্রেম

প্রকাশের সময় : ০৩:১৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

সালাহউদ্দিন আহমেদ: বাংলাদেশের ছাত্রদের ‘কোটা আন্দোলন’ ঘিরে সৃষ্ট ছাত্র-জনতার গণ অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন গড়ে উঠে। পুরো মাস অর্থাৎ ৩১ জুলাই আর আগষ্টের ৫ দিন নিয়ে ৩৬ জুলাই’র ঐতিহাসিক আন্দোলনে পতন শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের। হাসিনা সরকারের ১৫/১৬ বছরের শাসনামল খ্যাতি পায় ‘ফ্যাসিবাদ, স্বৈরাচার আর খুনী-মানবতা বিরোধী’ সরকার হিসেবে। দেশ ত্যাগ করে ভারতে আশ্রয় নিয়ে রক্ষা পান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আ্রয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার আগে-পরে দেশ ত্যাগ করেন বা পালিয়ে যান আওয়ামী লীগ দলীয় মন্ত্রী-এমপি-নেতা-কর্মীরাও। যা পৃথিবীতে কোন দেশের ইতিহাসে বিরল ঘটনা।
অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ১৯৭১-এ বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগকে বা আওয়ামী লীগ দলীয় সরকারের এমন পতন ঘটবে তা কারো কল্পনার মধ্যেও ছিলো না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ দেশে যে রাম রাজত্ব কায়েম করেছিলো তাতে জনগন বলেছেন যে, সৃষ্টিকর্তা না চাইলে বা মিরাকল কিছু না ঘটলে শেখ হাসিনা তথা আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটবে না। ইতিহাস বলছে- স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সরকারের অন্যায়-অবিচারের মাসুল গুনতে হয়ে ১৯৭৫ এর ১৫ আগষ্ট শেখ মুজিবকে সপরিবারে (ভাগ্যক্রমে মুজিব কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থান করায় প্রানে বেঁচে যান) প্রাণ দিয়ে। আর শেখ হাসিনা সরকারের গুম, খুন, হামলা-মামলা, ঘুষ-দূর্নীতি, অর্থ পাচার সহ সকল অন্যায়ের মাসুল দিতে হলো ‘প্রধানমন্ত্রীর পদে থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে দেশ ত্যাগ করে ভারতে গিয়ে আশ্রয় নিয়ে’।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের মতো এমন আন্দোলন দেশের ইতিহাসে আর ঘটেনি। মাঝে ‘স্বৈরাচার হিসেবে পরিচিত’ ৯০-এ হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকার বিরোধী গণ আন্দোলন ছিলো দেশের অন্যতম বড় আন্দোলন। তবে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলনের মতো নয়। যাই হোক বিদায় ঘটলো ফ্যাসিবাদী-স্বৈরাচার শেখ হাসিনার সরকারের। ২০২৪ সালের ৮ আগষ্ট গঠন হলো শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার বিজয়ী, খ্যাতিমান অর্থনীতিবীদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন অন্তবর্তী সরকারের।
‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রত্যয়ে এগিয়ে চলছে ড. ইউনূস সরকার তথা দেবাসী। ইতিমধ্যেই জুলাই বিপ্লবের এক বছর পূর্তী হয়েছে। অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকারের এক বছর হতে চললো। কিন্তু এই এক বছরে কতটুকু অর্জন হয়েছে? কেন অর্জন হচ্ছে না? সমস্যা বা গলদ কোথায়? এসব না প্রশ্ন দেশবাসীর মতো প্রবাসী বাংলাদেশীদেরও মাঝে। সংগত কারণেই সরকার আওয়ামী লীগের কর্মকান্ড স্থগিত করেছে। নিষিদ্ধ করেছে আওয়ামী লীগের ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কর্মকান্ড। ফলে আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের অন্য সকল দল রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এমনকি সরকার সমর্থিত ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)ও রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন না পেয়েও রাষ্ট্র ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। ক্ষমতায় যাওয়ার নেশা দলগুলোকে স্বার্থপর করে তুলছে। ফলে ‘দেশের চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে ব্যক্তি বড়’ হয়ে উঠছে। অথচ হওয়া উচিৎ ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড় আর দলের চেয়ে দেশ বড়’।
আমরা বিশ্বাস করতে চাই ড. ইউনূস সরকার ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়তেই কাজ করছেন। যথাসময়ে নির্বাচন হবে। দেশ ও জাতির স্বার্থে রাজনৈতিক দলগুলো দায়িত্ববোধ নিয়ে স্ব স্ব অবস্থান থেকে কাজ করবে- এটাই জাতির প্রত্যাশা। কিন্ত আমরা কী দেখছি। গত এক বছরে ড. ইউনূস সরকারের সাফল্য নেই বললেই চলে। শুধু শুধু কথার ফুলঝুরি। সবার মুখে কথায় কথায় পতিত সরকার ষড়যন্ত্র তত্ত¡। নিজেদের ব্যর্থতার কথা কারো মুখে নেই কেউ স্বীকারও করছে না। স্বাধীনতার পর থেকে দেশের যে অবস্থা তারজন্য যে আমরা সবাই দায়ী- এই কথাটা কেউ বলছেন না। এটা তো সবারই জানার কথা- গণ আন্দোলনের মুখে পতিত সরকার দেশ ত্যাগ করেছে। তারা তো বসে থাকবে না। তাদের ষড়যন্ত্র তত্ত¡ সামনে রেখই তো চলতে হবে। এমনটাই তো হওয়ার কথা। তার মাঝে বিএনপি-জামায়াত-এনসিপি’র বিরুদ্ধে নানান দখল, চাঁদাবাজী আরো কত কী অভিযোগ! দেশে চলছে প্রতিহিংসার রাজনীতি।
আসলে দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা দেশপ্রেম। দেশের রাজনৈতিক দলের নেতা থেকে শুরু করে জনগনের মধ্যে কোন দেশ প্রেম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমাদের মাঝে যদি প্রকৃত দেশ প্রেম থাকতো তাহলে দেশে এতো দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, প্রতিহিংসার রাজনীতি থাকতো না। দেশের অর্থ বিদেশে পাচার হতো না। নির্বাচন ঘিরে মনোনয়ন বাণিজ্য হতো না। সংস্কার নিয়ে এতো বাদানুবাদ হতো না। জাতীয় ঐক্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতো না। সকলের মনে রাখতে হবে নতুন বংলাদেশ গড়তে দেশে প্রেমের বিকল্প নেই। তাইর সবার আগে চাই দেশপ্রেম।
লেখক: সম্পাদক, আজকের টেলিগ্রাম ও সাপ্তাহিক হককথা। সাবেক সাধারণ সম্পাদক, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাব ও টাঙ্গাইল প্রেসক্লাব।