নিউইয়র্ক ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ নভেম্বর ২০২৪, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

গণহত্যার প্রমাণ লুকাতে গুগলকে ঘুষ দিচ্ছে ইসরায়েল

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৭:৩২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪
  • / ৬৭ বার পঠিত

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন গুগল। ছবি : সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠতে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এসব অভিযোগের প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্ররা। ইসারয়েলের গণহত্যার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেখেও না দেখার ভান কেরছে তারা। এর মধ্যেই নির্বিচার এমন হত্যা বন্ধ ও এর বিচার দাবিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) তেল আবিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর তাতেই অনেকটা বিপাকে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে গুগলকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।

সম্প্রতি তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ-এর এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে দেখা যায়, ব্যবহারকারীদের কাছে ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইটগুলো বেশি করে দেখানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করছে তেল আবিব। আইসিজে-তে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উত্থাপনের পর এমন পদক্ষেপ নেয় নেতানিয়াহু প্রশাসন।

গুগলে ‘আইসিজে ইসরায়েলে কেস’ লিখে অনুসন্ধান করার সময় বিজ্ঞাপন হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার এই মামলা কতটা অবান্তর তা তুলে ধরে ইসরায়েলি সরকারি ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেখানো হয়। বিভিন্ন ব্রাউজারে একই শব্দ ব্যবহার করে অনুসন্ধানের সময় পপ-আপ হিসেবে ‘এসএ’স কেস এগেইনস্ট ইসরায়েল-স্ট্যান্ড উইথ আস’ বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, যাতে ওয়েবসাইটের ঠিকানা হিসেবে ইসরায়েলি সরকারি ওয়েবসাইট ভেসে আসে।

একই চিত্র দেখা যায় গুগলের ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের ক্ষেত্রেও। সেখানে ‘আইসিজে ইসরায়েলে কেস’ লিখে অনুসন্ধান করার সময় আইসিজে-তে সত্যকে বিকৃতভাবে উপস্থানের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি ইসরায়েলি অভিযোগের ভিডিও প্রথমে দেখানো হয়। তারপরই আইসিজেতে গণহত্যার মামলায় ইসরায়েলকে জার্মানির সমর্থনের ভিডিও ভেসে আসে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো প্রতিনিয়ত মানবতার গল্প শুনিয়ে যাওয়া কোনো পশ্চিমা দেশ এ মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমর্থন দেয়নি। বরং জার্মানি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তেল আবিবকে সমর্থন দিয়ে যাবে বার্লিন। অন্য দিকে এ মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক, মালয়েশিয়া, জর্ডান, ভেনেজুয়েলা, মালদ্বীপ, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশ।

এদিকে ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক হামলা বন্ধ করার আহ্বানসহ ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষার জন্য আদালতের কাছ থেকে অস্থায়ী ব্যবস্থার অনুরোধ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গেল বছরের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে ২৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া নেতানিয়াহু বাহিনীর হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার স্বাস্থ্যসেবাসহ যাবতীয় মৌলিক নাগরিক সুবিধা।

হককথা/নাছরিন

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

গণহত্যার প্রমাণ লুকাতে গুগলকে ঘুষ দিচ্ছে ইসরায়েল

প্রকাশের সময় : ০৭:৩২:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৪

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলি বাহিনীর বিরুদ্ধে গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ উঠতে থাকে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। এসব অভিযোগের প্রত্যক্ষ প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছে ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্ররা। ইসারয়েলের গণহত্যার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড দেখেও না দেখার ভান কেরছে তারা। এর মধ্যেই নির্বিচার এমন হত্যা বন্ধ ও এর বিচার দাবিতে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) তেল আবিবের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। আর তাতেই অনেকটা বিপাকে পড়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে রেহাই পেতে গুগলকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দিচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।

সম্প্রতি তুর্কি সংবাদমাধ্যম ডেইলি সাবাহ-এর এক প্রতিবেদনে উঠে আসে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য। সেখানে দেখা যায়, ব্যবহারকারীদের কাছে ইসরায়েলি প্রোপাগান্ডা ওয়েবসাইটগুলো বেশি করে দেখানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সার্চ ইঞ্জিন গুগলকে বিপুল অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করছে তেল আবিব। আইসিজে-তে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ উত্থাপনের পর এমন পদক্ষেপ নেয় নেতানিয়াহু প্রশাসন।

গুগলে ‘আইসিজে ইসরায়েলে কেস’ লিখে অনুসন্ধান করার সময় বিজ্ঞাপন হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার এই মামলা কতটা অবান্তর তা তুলে ধরে ইসরায়েলি সরকারি ওয়েবসাইটের ঠিকানা দেখানো হয়। বিভিন্ন ব্রাউজারে একই শব্দ ব্যবহার করে অনুসন্ধানের সময় পপ-আপ হিসেবে ‘এসএ’স কেস এগেইনস্ট ইসরায়েল-স্ট্যান্ড উইথ আস’ বিজ্ঞাপন দেখানো হয়, যাতে ওয়েবসাইটের ঠিকানা হিসেবে ইসরায়েলি সরকারি ওয়েবসাইট ভেসে আসে।

একই চিত্র দেখা যায় গুগলের ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবের ক্ষেত্রেও। সেখানে ‘আইসিজে ইসরায়েলে কেস’ লিখে অনুসন্ধান করার সময় আইসিজে-তে সত্যকে বিকৃতভাবে উপস্থানের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতি ইসরায়েলি অভিযোগের ভিডিও প্রথমে দেখানো হয়। তারপরই আইসিজেতে গণহত্যার মামলায় ইসরায়েলকে জার্মানির সমর্থনের ভিডিও ভেসে আসে।

বিস্ময়কর বিষয় হলো প্রতিনিয়ত মানবতার গল্প শুনিয়ে যাওয়া কোনো পশ্চিমা দেশ এ মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমর্থন দেয়নি। বরং জার্মানি স্পষ্টভাবেই জানিয়ে দিয়েছে গণহত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় তেল আবিবকে সমর্থন দিয়ে যাবে বার্লিন। অন্য দিকে এ মামলায় দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে থাকার ঘোষণা দিয়েছে তুরস্ক, মালয়েশিয়া, জর্ডান, ভেনেজুয়েলা, মালদ্বীপ, কলম্বিয়া, বলিভিয়া, বাংলাদেশ, পাকিস্তানসহ বেশ কিছু দেশ।

এদিকে ইসরায়েলকে অবিলম্বে সামরিক হামলা বন্ধ করার আহ্বানসহ ফিলিস্তিনি জনগণের সুরক্ষার জন্য আদালতের কাছ থেকে অস্থায়ী ব্যবস্থার অনুরোধ করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গেল বছরের ৭ অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধে ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয়েছে ২৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নাগরিক, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া নেতানিয়াহু বাহিনীর হামলায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে গাজার স্বাস্থ্যসেবাসহ যাবতীয় মৌলিক নাগরিক সুবিধা।

হককথা/নাছরিন