নিউইয়র্ক ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৫, ১০ ফাল্গুন ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

চলে গেলেন ‘মেমসাহেব’ খ্যাত সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ১২:৪৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০
  • / ১৩০ বার পঠিত

হককথা ডেস্ক: কালজয়ী বাংলা ছবি ‘মেমসাহেব’ তাঁর কলম থেকে সৃষ্টি হয়েছে। লিখেছেন আরো বহু উপন্যাস। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই নন্দিত লেখক বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) কলকাতার টালিগঞ্জের মোর এভিনিউয়ে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। কলকাতার একটি প্রকাশনা সংস্থা নিমাই ভট্টাচার্যের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।
১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মাগুরা জেলার শরশুনা গ্রামে জন্ম নিমাই ভট্টাচার্যের। দেশভাগের সময় তাঁর পরিবার এ দেশ ছেড়ে চলে যায়। ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতার রিপন কলেজে ভর্তি হন। কলেজে পড়ার সময়ই সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫০ সালে ‘লোকসেবক’ পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতা জীবনের শুরু তাঁর।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ নাগাদ তাঁর টালিগঞ্জের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত এই প্রখ্যাত সাহিত্যিক। বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন তিনি। তিন পুত্র ও দুই কন্যাকে রেখে প্রয়াত হলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে আগেই মারা গেছেন।
কলকাতায় পেশাগত জীবন শুরু হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর দিল্লিতে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি। ‘বিশ্বামিত্র’ নামে পত্রিকায় তিনি সাংবাদিকতা করতেন। পেশার সূত্রে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, লালবাহাদুর শাস্ত্রী, ইন্দিরা গান্ধী, রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতা ছিল। ইন্দিরা গান্ধীর সফরসঙ্গী হয়ে বহু দেশে ঘুরেছেন তিনি। প্রথমবার রেলমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে প্যাসেঞ্জার অ্যামেনিটিস কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। এই পেশার দৌলতে সেসময়কার রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। তারই ছায়া পড়েছিল নিমাইবাবুর লেখনিতে। তাঁর গল্প-উপন্যাসে সেই সময়ের ঘটনাবলীই উঠে আসে।
১৯৬৪ সালে তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘রাজধানীর নেপথ্যে’ প্রকাশিত হয়। তারপর পুরোপুরি লেখালেখিকেই পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮২ সালে কলকাতায় ফিরে যান তিনি।
‘মেমসাহেব’, ‘এডিসি’, ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’, ‘গোধূলিয়া’র মতো একের পর এক উপন্যাস এক সময়ে উপমহাদেশের বহু মানুষের পড়ার খিদেকে মিটিয়েছিল। ১৫০টিরও বেশি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। ১৯৭২ সালে তাঁর উপন্যাস থেকেই তৈরি হয় হয় পিনাকী মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘মেমসাহেব’। উত্তমকুমার-অপর্ণা সেন জুটি অভিনীত সেই ছবি আজও বাংলা রোম্যান্টিক সিনেমার মাইলস্টোন। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

চলে গেলেন ‘মেমসাহেব’ খ্যাত সাহিত্যিক নিমাই ভট্টাচার্য

প্রকাশের সময় : ১২:৪৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২০

হককথা ডেস্ক: কালজয়ী বাংলা ছবি ‘মেমসাহেব’ তাঁর কলম থেকে সৃষ্টি হয়েছে। লিখেছেন আরো বহু উপন্যাস। বাংলাদেশে জন্ম নেওয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের এই নন্দিত লেখক বৃহস্পতিবার (২৬ জুন) কলকাতার টালিগঞ্জের মোর এভিনিউয়ে নিজ বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর। কলকাতার একটি প্রকাশনা সংস্থা নিমাই ভট্টাচার্যের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছে। বেশ কয়েক বছর ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি।
১৯৩১ সালের ১০ এপ্রিল বাংলাদেশের মাগুরা জেলার শরশুনা গ্রামে জন্ম নিমাই ভট্টাচার্যের। দেশভাগের সময় তাঁর পরিবার এ দেশ ছেড়ে চলে যায়। ১৯৪৮ সালে ম্যাট্রিক পাস করে কলকাতার রিপন কলেজে ভর্তি হন। কলেজে পড়ার সময়ই সাংবাদিকতা শুরু করেন। ১৯৫০ সালে ‘লোকসেবক’ পত্রিকা দিয়ে সাংবাদিকতা জীবনের শুরু তাঁর।
বৃহস্পতিবার বেলা ১২টা ২০ নাগাদ তাঁর টালিগঞ্জের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন বঙ্গবিভূষণ সম্মানে ভূষিত এই প্রখ্যাত সাহিত্যিক। বার্ধক্যজনিত অসুখে ভুগছিলেন তিনি। তিন পুত্র ও দুই কন্যাকে রেখে প্রয়াত হলেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে আগেই মারা গেছেন।
কলকাতায় পেশাগত জীবন শুরু হলেও দীর্ঘ ২৫ বছর দিল্লিতে সাংবাদিকতা করেছেন তিনি। ‘বিশ্বামিত্র’ নামে পত্রিকায় তিনি সাংবাদিকতা করতেন। পেশার সূত্রে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, লালবাহাদুর শাস্ত্রী, ইন্দিরা গান্ধী, রাষ্ট্রপতি সর্বপল্লি রাধাকৃষ্ণণের সঙ্গে তাঁর হৃদ্যতা ছিল। ইন্দিরা গান্ধীর সফরসঙ্গী হয়ে বহু দেশে ঘুরেছেন তিনি। প্রথমবার রেলমন্ত্রী হওয়ার পর ১৯৯৯ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে প্যাসেঞ্জার অ্যামেনিটিস কমিটির চেয়ারম্যান নিযুক্ত করেন। এই পেশার দৌলতে সেসময়কার রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল তাঁর। তারই ছায়া পড়েছিল নিমাইবাবুর লেখনিতে। তাঁর গল্প-উপন্যাসে সেই সময়ের ঘটনাবলীই উঠে আসে।
১৯৬৪ সালে তাঁর প্রথম গ্রন্থ ‘রাজধানীর নেপথ্যে’ প্রকাশিত হয়। তারপর পুরোপুরি লেখালেখিকেই পেশা হিসাবে গ্রহণ করেন তিনি। ১৯৮২ সালে কলকাতায় ফিরে যান তিনি।
‘মেমসাহেব’, ‘এডিসি’, ‘রাজধানী এক্সপ্রেস’, ‘গোধূলিয়া’র মতো একের পর এক উপন্যাস এক সময়ে উপমহাদেশের বহু মানুষের পড়ার খিদেকে মিটিয়েছিল। ১৫০টিরও বেশি উপন্যাস লিখেছেন তিনি। ১৯৭২ সালে তাঁর উপন্যাস থেকেই তৈরি হয় হয় পিনাকী মুখোপাধ্যায় পরিচালিত ছবি ‘মেমসাহেব’। উত্তমকুমার-অপর্ণা সেন জুটি অভিনীত সেই ছবি আজও বাংলা রোম্যান্টিক সিনেমার মাইলস্টোন। সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন।