নিউইয়র্ক ০১:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপযোগিতা কতটুকু?

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৮:২৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩
  • / ২০ বার পঠিত

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী:  দেশে দীর্ঘকাল ধরে যান-জলজটের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। ভাটির দেশ বাংলাদেশে ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা-খরা নতুন কোনো বিষয় নয়। নগর-শহর, এমনকি গ্রামীণ জনপদেও সামান্য বৃষ্টিপাতে যান-জলজট জনজীবনে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ী, কৃষকসহ সর্বস্তরের শ্রমজীবী মানুষের জীবনে পড়ছে এর প্রভাব।

একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আয়বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নানামুখী সামাজিক অসংগতি সাধারণ মানুষের জীবনপ্রবাহকে পর্যুদস্ত করে চলেছে, অন্যদিকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ব্যতিরেকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঘনবসতি অধ্যুষিত শহরগুলোকে ক্রমাগত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে। অতিসম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানজট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, উন্নয়নের সব অর্জন তথা অবকাঠামো-জনপথ-সেতু বিভিন্ন মাত্রায় দৃশ্যমান হলেও সংকট থেকে পরিত্রাণ মিলছে না জনগণের। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কর্মকৌশল পরিলক্ষিত নয়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি গৃহায়ন সংস্থা, সিটি করপোরেশন-পৌরসভা, রাজউক-সিডিএ, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা এবং পারস্পরিক দোষারোপের প্রবণতা সংকটগুলো আরও ঘনীভূত করে তুলছে। নিয়ম না মেনে দালানকোঠা, বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও টার্মিনাল নির্মাণ এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নগরবাসীর নৈমিত্তিক দুর্দশার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর ঢাকা। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১৫২টি দেশের তিন লাখের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে এমন ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরে যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। সবচেয়ে ধীরগতির ২০টি শহরের তালিকায় ঢাকার পরে রয়েছে নাইজেরিয়ার দুই শহর-লাগোস ও ইকোরোদু। এর পরের অবস্থানে আছে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা। ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইসহ আটটি শহর রয়েছে এ তালিকায়। তালিকায় ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের দুই শহর ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের অবস্থান যথাক্রমে ৯ম ও ১২তম। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রাস্তায় যানবাহনের চাপ যখন কম থাকে, তখন সবচেয়ে ধীরগতির ২০টি শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশের আরও চারটি শহর-খুলনা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা রয়েছে যথাক্রমে ৪র্থ, ৫ম, ১৮তম ও ১৯তম স্থানে।

গবেষণাটির ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী টাইমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতি ও দ্রুতগতির দুই শহরে চলাচলের চিত্র কেমন, তার উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৯ মাইল দূরের গুলশানে যেতে সময় লাগে গড়ে ৫৫ মিনিট। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ফ্লিন্ট শহরে সমদূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে মাত্র ৯ মিনিট। দুই কোটি মানুষের শহর ঢাকা আর চার লাখ মানুষের শহর ফ্লিন্টে যাতায়াতে সময়ের এ ব্যবধান শুধু গাড়ির চাপের কারণে নয়, এক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মধ্যরাতেও ঢাকায় ওই দূরত্বে চলাচল করতে আধঘণ্টা সময় লাগে, যা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির শহরে চলাচলের সময়ের তিনগুণ বেশি। গবেষকদের মতে, ৩৮টি ধনী দেশের জোট অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে গাড়ি ও মানুষের গতি গড়ে ২৭ শতাংশ বেশি। আবার দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের গতি কম। অন্যান্য দরিদ্র দেশের তুলনায় বাংলাদেশের গতি গড়ে ২০ শতাংশ কম। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, রাস্তায় চলাচলের গতি ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পারলে দেশের মোট জিডিপি ১০ শতাংশ বাড়বে।

গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা শহরের যানজটের ভোগান্তি কমাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বহুলপ্রতীক্ষিত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর-ফার্মগেট অংশের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যোগাযোগের একটি নবযুগে প্রবেশ করেছে। রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনসহ সার্বিকভাবে যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে এটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। আগে যেখানে বিমানবন্দর দিয়ে রাজধানীতে প্রবেশের পর যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে কত সময় লাগবে তা নির্দিষ্ট করে বলার উপায় ছিল না, সেখানে উড়াল সড়ক দিয়ে এ পথ পাড়ি দিতে গাড়িতে সময় লাগবে ১০ থেকে ১২ মিনিট। যানজটের কারণে বর্তমানে যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, তা অনেকটাই কমে যাবে। রাজধানীর উত্তর অংশে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ শিল্পই হলো তৈরি পোশাকশিল্প। এসব রপ্তানি পণ্য রাজধানীর যানজট পেরিয়ে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসহ নির্ধারিত গন্তব্যে পরিবহণ করা ছিল দুরূহ কাজ। তবে সেই কষ্টের দিন শেষ হবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে। এ উড়াল সড়ক ধরে রাজধানীর চিরায়ত যানজট এড়িয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে রপ্তানি পণ্যবাহী যানবাহন। এতে দেশের অর্থনৈতিক চাকা আরও সচল হবে। এ উড়াল সড়ক দেশের জন্য নতুন দিগন্তের দুয়ার খুলে দেবে। এর ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ রাজধানীবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত অনেক বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এ অংশে যানবাহনকে চার শ্রেণিতে ভাগ করে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সর্বনিু ৮০ ও সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা টোল নির্ধারণ করেছে। এ টোল হার নির্ধারণ সাময়িক বলে জানায় সেতু মন্ত্রণালয়। পুরো এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর হালকা শ্রেণির যানবাহনের জন্য সর্বনিু টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার পর শেষ পর্যন্ত না গেলে হালকা শ্রেণির যানবাহন থেকে উল্লেখিত পরিমাণ টোল আদায়ের বিপরীতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হালকা যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হবে ১২৫ টাকা। হালকা শ্রেণির যানবাহনকে টোল আদায়ের ভিত্তি হিসাবে ধরে বাস থেকে আদায় করা হবে ভিত্তি টোলের দ্বিগুণ। একইভাবে ভিত্তি টোলের চার ও পাঁচগুণ টোল নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে মাঝারি (ছয় চাকা পর্যন্ত) ও বড় (ছয় চাকার বেশি) ট্রাকের জন্য। গত ২৫ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, জনসাধারণের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর তিন সপ্তাহে ৫ কোটি টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ১৫২টি যানবাহন চলাচল করেছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে শুরু করে মগবাজার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামার জন্য মোট ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩১টি র‌্যাম্পসহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। প্রকল্পটিতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা এবং কিলোমিটারপ্রতি খরচ ১৯১ কোটি টাকারও বেশি। থাইল্যান্ডভিত্তিক ইতালীয় প্রতিষ্ঠান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড, চায়না শানডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ এবং সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের অংশীদারত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গঠন করা হয়েছে ‘ফাস্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নামের একটি বেসরকারি কোম্পানি। চুক্তি মোতাবেক এ এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাল সাড়ে তিন বছর। নির্মাণ-পরবর্তী সাড়ে ২১ বছর টোল আদায় করবে ‘ফাস্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’। চুক্তিবদ্ধ সময় অতিক্রান্তে এক্সপ্রেসওয়েটির মালিকানা পাবে বাংলাদেশ সরকার।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামবাসীর জন্য সরকারের উপহারস্বরূপ চলতি মাসেই চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি খুলে দেওয়ার সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। নগরীর যানজট নিরসনে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এ এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজ উদ্বোধন করেন। প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৬ দশমিক ৫ মিটার চওড়া এ অবকাঠামোর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের অধীনে ৯টি জংশনে র‌্যাম্প আছে ২৪টি। এর মধ্যে টাইগারপাসে ৪টি, আগ্রাবাদে ৪টি, বারিক বিল্ডিং, নিমতলা, কাস্টম মোড়ে ২টি করে, সিইপিজেডে ৪টি, কেইপিজেডে ২টি, কাঠগড়ে ২টি এবং পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ২টি র‌্যাম্প থাকছে। এ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে শহরের যে কোনো অংশ থেকে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করা যাবে।

এছাড়াও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করে বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত আরেকটি এক্সপ্রেসওয়ে গড়ে তুলছে সরকার। এক্সপ্রেসওয়েগুলো পুরোপুরি চালু হলে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কসহ দেশের সব জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে ৩০টি জেলার সংযোগস্থল আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা করিডরে যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে। সামগ্রিকভাবে এটি দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারে দশমিক ২১৭ শতাংশ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নির্মিত এসব এক্সপ্রেসওয়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনার অভাবে সমস্যা নিরসনে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইতোমধ্যেই কিছু অপরিকল্পিত উড়াল সেতু নগরীর সৌন্দর্যকে মলিন করেছে এবং এগুলোর কাঙ্ক্ষিত উপযোগিতা আশাজাগানিয়া নয়। আধুনিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত প্রশাসনের কারিগরি দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়নের সম্ভাব্যতা নির্ধারণপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা এবং সময়ক্ষেপণের কারণে যোগাযোগ উন্নয়ন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র : যুগান্তর

লেখক: শিক্ষাবিদ; সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের উপযোগিতা কতটুকু?

প্রকাশের সময় : ০৮:২৪:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৩

ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী:  দেশে দীর্ঘকাল ধরে যান-জলজটের কারণে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। ভাটির দেশ বাংলাদেশে ঝড়-বৃষ্টি-বন্যা-খরা নতুন কোনো বিষয় নয়। নগর-শহর, এমনকি গ্রামীণ জনপদেও সামান্য বৃষ্টিপাতে যান-জলজট জনজীবনে বিরূপ পরিস্থিতি তৈরি করছে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ক্ষুদ্র-মাঝারি ব্যবসায়ী, কৃষকসহ সর্বস্তরের শ্রমজীবী মানুষের জীবনে পড়ছে এর প্রভাব।

একদিকে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, আয়বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নানামুখী সামাজিক অসংগতি সাধারণ মানুষের জীবনপ্রবাহকে পর্যুদস্ত করে চলেছে, অন্যদিকে ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা ব্যতিরেকে অপরিকল্পিত নগরায়ণ ঘনবসতি অধ্যুষিত শহরগুলোকে ক্রমাগত কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি করছে। অতিসম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বড় শহরগুলোতে যানজট এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, উন্নয়নের সব অর্জন তথা অবকাঠামো-জনপথ-সেতু বিভিন্ন মাত্রায় দৃশ্যমান হলেও সংকট থেকে পরিত্রাণ মিলছে না জনগণের। এক্ষেত্রে পর্যাপ্ত কর্মকৌশল পরিলক্ষিত নয়। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি গৃহায়ন সংস্থা, সিটি করপোরেশন-পৌরসভা, রাজউক-সিডিএ, ওয়াসা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থার দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতা এবং পারস্পরিক দোষারোপের প্রবণতা সংকটগুলো আরও ঘনীভূত করে তুলছে। নিয়ম না মেনে দালানকোঠা, বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক কেন্দ্র ও টার্মিনাল নির্মাণ এবং অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা নগরবাসীর নৈমিত্তিক দুর্দশার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যমে প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চের গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতির শহর ঢাকা। বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় ১৫২টি দেশের তিন লাখের বেশি মানুষের বসবাস রয়েছে এমন ১ হাজার ২০০টির বেশি শহরে যান চলাচলের গতি বিশ্লেষণে এ চিত্র উঠে এসেছে। সবচেয়ে ধীরগতির ২০টি শহরের তালিকায় ঢাকার পরে রয়েছে নাইজেরিয়ার দুই শহর-লাগোস ও ইকোরোদু। এর পরের অবস্থানে আছে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলা। ভারতের কলকাতা ও মুম্বাইসহ আটটি শহর রয়েছে এ তালিকায়। তালিকায় ঢাকা ছাড়াও বাংলাদেশের দুই শহর ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামের অবস্থান যথাক্রমে ৯ম ও ১২তম। গবেষণায় আরও দেখা গেছে, রাস্তায় যানবাহনের চাপ যখন কম থাকে, তখন সবচেয়ে ধীরগতির ২০টি শহরের তালিকায় ঢাকার অবস্থান দ্বিতীয়। তালিকায় স্থান পাওয়া বাংলাদেশের আরও চারটি শহর-খুলনা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা রয়েছে যথাক্রমে ৪র্থ, ৫ম, ১৮তম ও ১৯তম স্থানে।

গবেষণাটির ওপর ভিত্তি করে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সাময়িকী টাইমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতি ও দ্রুতগতির দুই শহরে চলাচলের চিত্র কেমন, তার উদাহরণ তুলে ধরে বলা হয়েছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ৯ মাইল দূরের গুলশানে যেতে সময় লাগে গড়ে ৫৫ মিনিট। পক্ষান্তরে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ফ্লিন্ট শহরে সমদূরত্ব অতিক্রম করতে সময় লাগে মাত্র ৯ মিনিট। দুই কোটি মানুষের শহর ঢাকা আর চার লাখ মানুষের শহর ফ্লিন্টে যাতায়াতে সময়ের এ ব্যবধান শুধু গাড়ির চাপের কারণে নয়, এক্ষেত্রে অন্যান্য বিষয়ও রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে মধ্যরাতেও ঢাকায় ওই দূরত্বে চলাচল করতে আধঘণ্টা সময় লাগে, যা বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুতগতির শহরে চলাচলের সময়ের তিনগুণ বেশি। গবেষকদের মতে, ৩৮টি ধনী দেশের জোট অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন সংস্থার (ওইসিডি) সদস্য দেশগুলোর মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের শহরগুলোতে গাড়ি ও মানুষের গতি গড়ে ২৭ শতাংশ বেশি। আবার দরিদ্র দেশগুলোর মধ্যেও বাংলাদেশের গতি কম। অন্যান্য দরিদ্র দেশের তুলনায় বাংলাদেশের গতি গড়ে ২০ শতাংশ কম। গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, রাস্তায় চলাচলের গতি ১ দশমিক ৩ শতাংশ বৃদ্ধি করতে পারলে দেশের মোট জিডিপি ১০ শতাংশ বাড়বে।

গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা শহরের যানজটের ভোগান্তি কমাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক বহুলপ্রতীক্ষিত ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিমানবন্দর-ফার্মগেট অংশের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ যোগাযোগের একটি নবযুগে প্রবেশ করেছে। রাজধানী ঢাকার যানজট নিরসনসহ সার্বিকভাবে যোগাযোগব্যবস্থার আধুনিকায়নে এটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মাধ্যমে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানো যাবে। আগে যেখানে বিমানবন্দর দিয়ে রাজধানীতে প্রবেশের পর যানজটের কারণে গন্তব্যে পৌঁছতে কত সময় লাগবে তা নির্দিষ্ট করে বলার উপায় ছিল না, সেখানে উড়াল সড়ক দিয়ে এ পথ পাড়ি দিতে গাড়িতে সময় লাগবে ১০ থেকে ১২ মিনিট। যানজটের কারণে বর্তমানে যে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, তা অনেকটাই কমে যাবে। রাজধানীর উত্তর অংশে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের বেশির ভাগ শিল্পই হলো তৈরি পোশাকশিল্প। এসব রপ্তানি পণ্য রাজধানীর যানজট পেরিয়ে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরসহ নির্ধারিত গন্তব্যে পরিবহণ করা ছিল দুরূহ কাজ। তবে সেই কষ্টের দিন শেষ হবে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কারণে। এ উড়াল সড়ক ধরে রাজধানীর চিরায়ত যানজট এড়িয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারবে রপ্তানি পণ্যবাহী যানবাহন। এতে দেশের অর্থনৈতিক চাকা আরও সচল হবে। এ উড়াল সড়ক দেশের জন্য নতুন দিগন্তের দুয়ার খুলে দেবে। এর ফলে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ রাজধানীবাসীর দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িত অনেক বিষয়ে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটবে।

ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের এ অংশে যানবাহনকে চার শ্রেণিতে ভাগ করে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয় সর্বনিু ৮০ ও সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা টোল নির্ধারণ করেছে। এ টোল হার নির্ধারণ সাময়িক বলে জানায় সেতু মন্ত্রণালয়। পুরো এক্সপ্রেসওয়ে চালুর পর হালকা শ্রেণির যানবাহনের জন্য সর্বনিু টোল নির্ধারণ করা হয়েছে ১০০ টাকা। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠার পর শেষ পর্যন্ত না গেলে হালকা শ্রেণির যানবাহন থেকে উল্লেখিত পরিমাণ টোল আদায়ের বিপরীতে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করা হালকা যানবাহন থেকে টোল আদায় করা হবে ১২৫ টাকা। হালকা শ্রেণির যানবাহনকে টোল আদায়ের ভিত্তি হিসাবে ধরে বাস থেকে আদায় করা হবে ভিত্তি টোলের দ্বিগুণ। একইভাবে ভিত্তি টোলের চার ও পাঁচগুণ টোল নির্ধারণ করা হয়েছে যথাক্রমে মাঝারি (ছয় চাকা পর্যন্ত) ও বড় (ছয় চাকার বেশি) ট্রাকের জন্য। গত ২৫ সেপ্টেম্বর গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, জনসাধারণের জন্য এক্সপ্রেসওয়ে উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর তিন সপ্তাহে ৫ কোটি টাকার বেশি টোল আদায় হয়েছে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর ভোর ৬টা পর্যন্ত মোট ৬ লাখ ২১ হাজার ১৫২টি যানবাহন চলাচল করেছে।

বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্যানুসারে, ২০১১ সালের জানুয়ারিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের দক্ষিণে কাওলা থেকে শুরু করে মগবাজার হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুতুবখালী পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। এক্সপ্রেসওয়েতে ওঠানামার জন্য মোট ২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ৩১টি র‌্যাম্পসহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ৪৭ কিলোমিটার। প্রকল্পটিতে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ৮ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা এবং কিলোমিটারপ্রতি খরচ ১৯১ কোটি টাকারও বেশি। থাইল্যান্ডভিত্তিক ইতালীয় প্রতিষ্ঠান থাই ডেভেলপমেন্ট পাবলিক কোম্পানি লিমিটেড, চায়না শানডং ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেশন গ্রুপ এবং সিনোহাইড্রো করপোরেশন লিমিটেডের অংশীদারত্বে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এক্সপ্রেসওয়েটি নির্মাণ, পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য গঠন করা হয়েছে ‘ফাস্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’ নামের একটি বেসরকারি কোম্পানি। চুক্তি মোতাবেক এ এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাল সাড়ে তিন বছর। নির্মাণ-পরবর্তী সাড়ে ২১ বছর টোল আদায় করবে ‘ফাস্ট ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে’। চুক্তিবদ্ধ সময় অতিক্রান্তে এক্সপ্রেসওয়েটির মালিকানা পাবে বাংলাদেশ সরকার।

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামবাসীর জন্য সরকারের উপহারস্বরূপ চলতি মাসেই চট্টগ্রামের লালখান বাজার থেকে পতেঙ্গা পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েটি খুলে দেওয়ার সংবাদ প্রকাশ পেয়েছে। নগরীর যানজট নিরসনে ২০১৭ সালের জুলাইয়ে একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি এ এক্সপ্রেসওয়ের পিলার পাইলিং কাজ উদ্বোধন করেন। প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ১৬ দশমিক ৫ মিটার চওড়া এ অবকাঠামোর নির্মাণকাজ ইতোমধ্যে ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, এ প্রকল্পের অধীনে ৯টি জংশনে র‌্যাম্প আছে ২৪টি। এর মধ্যে টাইগারপাসে ৪টি, আগ্রাবাদে ৪টি, বারিক বিল্ডিং, নিমতলা, কাস্টম মোড়ে ২টি করে, সিইপিজেডে ৪টি, কেইপিজেডে ২টি, কাঠগড়ে ২টি এবং পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ২টি র‌্যাম্প থাকছে। এ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মিত হলে শহরের যে কোনো অংশ থেকে ২০ থেকে ২৫ মিনিটে বিমানবন্দরে আসা-যাওয়া করা যাবে।

এছাড়াও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে যুক্ত করে বিমানবন্দর থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত আরেকটি এক্সপ্রেসওয়ে গড়ে তুলছে সরকার। এক্সপ্রেসওয়েগুলো পুরোপুরি চালু হলে এশিয়ান হাইওয়ে নেটওয়ার্কসহ দেশের সব জাতীয় মহাসড়কের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে ৩০টি জেলার সংযোগস্থল আবদুল্লাহপুর-আশুলিয়া-বাইপাইল-চন্দ্রা করিডরে যানজট অনেকাংশে হ্রাস পাবে। সামগ্রিকভাবে এটি দেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধির হারে দশমিক ২১৭ শতাংশ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তবে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে নির্মিত এসব এক্সপ্রেসওয়ে কার্যকর কর্মপরিকল্পনার অভাবে সমস্যা নিরসনে কতটা ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। ইতোমধ্যেই কিছু অপরিকল্পিত উড়াল সেতু নগরীর সৌন্দর্যকে মলিন করেছে এবং এগুলোর কাঙ্ক্ষিত উপযোগিতা আশাজাগানিয়া নয়। আধুনিক ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বরত প্রশাসনের কারিগরি দক্ষতা, প্রশিক্ষণ ও আধুনিকায়নের সম্ভাব্যতা নির্ধারণপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করা এবং সময়ক্ষেপণের কারণে যোগাযোগ উন্নয়ন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হওয়ার সমূহ আশঙ্কা রয়েছে। সূত্র : যুগান্তর

লেখক: শিক্ষাবিদ; সাবেক উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়