নিউইয়র্ক ০৪:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২২ জুলাই ২০২৪, ৭ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

সাংবাদিক প্রবীর সিকদার আটক

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৪:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৫
  • / ৫২৪ বার পঠিত

ঢাকা: সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে ধরে নিয়ে গেছে ডিবি। এমন অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ১৬ আগষ্ট রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শেরে বাংলা নগর থানা-পুলিশের সহায়তায় তাকে ডিবি ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানায় পরিবার। প্রবীর সিকদার নামের ওই সাংবাদিক ২০০১ সালে দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকার সময় সন্ত্রাসীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গ জীবন যাপন করছেন।
সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসে প্রবীর সিকদার স্থানীয় সরকার মমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিয়েও লিখেছিলেন, যাতে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কার কথা জানান তিনি। গত কয়েকদিন ধরে তিনি নিজের ফেইসবুক পাতায় মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে সেই লেখাগুলো তুলছিলেন। সেই প্রতিবেদনের সঙ্গে রোববারও লেখেন- “যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ছে ! রেহাই নেই কারও !”
রোববার রাতে প্রবীর সিকদারের ছেলে সুপ্রিয় সিকদার তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের সকল সাংবাদিকদের সহায়তা চাচ্ছি।”
প্রবীর সিকদারের স্ত্রী অনিতা শিকদার বলেন, আজ (রোববার) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে তেজগাঁওয়ের ইন্দিরা রোডের প্রবীর সিকদারের অনলাইন পত্রিকার কার্যালয়ে শেরে বাংলা নগর থানার একদল পুলিশ আসে। তারা প্রবীরকে থানায় যেতে হবে বলে জানান। কী কারণে থানায় যেতে হবে জানতে চাইলে পুলিশের দলটি প্রবীর শিকদারকে জানায়, তিনি মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে শেরে বাংলা নগর থানায় যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলেন সে বিষয়ে পুলিশ কথা বলবে।
এ সময় ওই অনলাইন পত্রিকা কার্যালয়ে ছিলেন প্রবীর সিকদারের ছেলে সুপ্রিয় সিকদার। পুলিশ প্রবীরকে পিকআপ ভ্যানে তোলার পর ভ্যানটিকে মোটর সাইকেলে করে অনুসরণ করেন সুপ্রিয় সিকদার। সুপ্রিয় বলেন, পুলিশ খামার বাড়ি মোড়ে গিয়ে তার বাবাকে পিকআপ থেকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে দেয়। প্রাইভেট কারটি ডিবির বলে পরে পুলিশ সুপ্রিয়কে জানায়। পরে সুপ্রিয় গাড়িটির পেছন পেছন মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয় পর্যন্ত যান। তাঁর বাবাকে ডিবি কার্যালয়ের ভেতরে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগরে উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, প্রবীর সিকদার সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে নিরাপত্তা পাননি। তিনি জনতার আদালতে বিচার দিয়েছেন। তার কিছু হলে দুই তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি দায়ী থাকবেন বলেও তিনি জানান। এসব বিষয়ে শোনার জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক প্রবীর সিকদার গত ১০ আগস্ট ফেসবুকে তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন। ভার্চুয়াল জগতে স্ট্যাটাসটি বেশ আলোচিত হয়। ওই স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হল-
‘আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’
আমি আমার জীবন শংকার কথা পুলিশকে জানিয়েছি। কোনও লাভ হয়নি। তখনও ফেসবুকের মাধ্যমে আমার জীবন শংকার কথা জনতার আদালতে পেশ করেছিলাম। আর কোনও অভিযোগ করবার সময় ও সুযোগ আমি নাও পেতে পারি। আমি আজ ফেসবুকের মাধ্যমে জনতার আদালতে জানিয়ে রাখছি আবার সেই জীবন শংকার কথা। আমি খুব স্পষ্ট করেই বলছি, নিচের ব্যক্তিবর্গ আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন :
১. এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি
২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের
৩. ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং এই তিন জনের অনুসারী-সহযোগীরা।
ফেসবুকের মাধ্যমে আমি সকল দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইছি। (দৈনিক যুগান্তর)

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

About Author Information

সাংবাদিক প্রবীর সিকদার আটক

প্রকাশের সময় : ০৪:৪৪:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০১৫

ঢাকা: সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে ধরে নিয়ে গেছে ডিবি। এমন অভিযোগ করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। ১৬ আগষ্ট রোববার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে শেরে বাংলা নগর থানা-পুলিশের সহায়তায় তাকে ডিবি ধরে নিয়ে যাওয়া হয় বলে জানায় পরিবার। প্রবীর সিকদার নামের ওই সাংবাদিক ২০০১ সালে দৈনিক জনকণ্ঠের ফরিদপুর প্রতিনিধি থাকার সময় সন্ত্রাসীর হামলায় গুরুতর আহত হয়ে পঙ্গ জীবন যাপন করছেন।
সাম্প্রতিক স্ট্যাটাসে প্রবীর সিকদার স্থানীয় সরকার মমন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেনকে নিয়েও লিখেছিলেন, যাতে নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কার কথা জানান তিনি। গত কয়েকদিন ধরে তিনি নিজের ফেইসবুক পাতায় মুসা বিন শমসেরকে নিয়ে সেই লেখাগুলো তুলছিলেন। সেই প্রতিবেদনের সঙ্গে রোববারও লেখেন- “যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা বাড়ছে ! রেহাই নেই কারও !”
রোববার রাতে প্রবীর সিকদারের ছেলে সুপ্রিয় সিকদার তার ফেইসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, “সাংবাদিক প্রবীর সিকদারকে ডিবি অফিসে তুলে নিয়ে গেছে পুলিশ। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের সকল সাংবাদিকদের সহায়তা চাচ্ছি।”
প্রবীর সিকদারের স্ত্রী অনিতা শিকদার বলেন, আজ (রোববার) সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে তেজগাঁওয়ের ইন্দিরা রোডের প্রবীর সিকদারের অনলাইন পত্রিকার কার্যালয়ে শেরে বাংলা নগর থানার একদল পুলিশ আসে। তারা প্রবীরকে থানায় যেতে হবে বলে জানান। কী কারণে থানায় যেতে হবে জানতে চাইলে পুলিশের দলটি প্রবীর শিকদারকে জানায়, তিনি মুসা বিন শমসেরের বিরুদ্ধে শেরে বাংলা নগর থানায় যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে গিয়েছিলেন সে বিষয়ে পুলিশ কথা বলবে।
এ সময় ওই অনলাইন পত্রিকা কার্যালয়ে ছিলেন প্রবীর সিকদারের ছেলে সুপ্রিয় সিকদার। পুলিশ প্রবীরকে পিকআপ ভ্যানে তোলার পর ভ্যানটিকে মোটর সাইকেলে করে অনুসরণ করেন সুপ্রিয় সিকদার। সুপ্রিয় বলেন, পুলিশ খামার বাড়ি মোড়ে গিয়ে তার বাবাকে পিকআপ থেকে একটি প্রাইভেট কারে তুলে দেয়। প্রাইভেট কারটি ডিবির বলে পরে পুলিশ সুপ্রিয়কে জানায়। পরে সুপ্রিয় গাড়িটির পেছন পেছন মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয় পর্যন্ত যান। তাঁর বাবাকে ডিবি কার্যালয়ের ভেতরে রাখা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগরে উপকমিশনার মুনতাসিরুল ইসলাম বলেন, প্রবীর সিকদার সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে নিজের নিরাপত্তাহীনতার কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে নিরাপত্তা পাননি। তিনি জনতার আদালতে বিচার দিয়েছেন। তার কিছু হলে দুই তিনজন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি দায়ী থাকবেন বলেও তিনি জানান। এসব বিষয়ে শোনার জন্য তাকে নিয়ে আসা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সাংবাদিক প্রবীর সিকদার গত ১০ আগস্ট ফেসবুকে তার জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে স্ট্যাটাস দেন। ভার্চুয়াল জগতে স্ট্যাটাসটি বেশ আলোচিত হয়। ওই স্ট্যাটাসটি হুবুহু তুলে ধরা হল-
‘আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী থাকবেন’
আমি আমার জীবন শংকার কথা পুলিশকে জানিয়েছি। কোনও লাভ হয়নি। তখনও ফেসবুকের মাধ্যমে আমার জীবন শংকার কথা জনতার আদালতে পেশ করেছিলাম। আর কোনও অভিযোগ করবার সময় ও সুযোগ আমি নাও পেতে পারি। আমি আজ ফেসবুকের মাধ্যমে জনতার আদালতে জানিয়ে রাখছি আবার সেই জীবন শংকার কথা। আমি খুব স্পষ্ট করেই বলছি, নিচের ব্যক্তিবর্গ আমার জীবন শংকা তথা মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবেন :
১. এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি
২. রাজাকার নুলা মুসা ওরফে ড. মুসা বিন শমসের
৩. ফাঁসির দন্ডাদেশ প্রাপ্ত যুদ্ধাপরাধী বাচ্চু রাজাকার ওরফে মাওলানা আবুল কালাম আজাদ এবং এই তিন জনের অনুসারী-সহযোগীরা।
ফেসবুকের মাধ্যমে আমি সকল দেশবাসীর কাছে দোয়া চাইছি। (দৈনিক যুগান্তর)