নিউইয়র্ক ০৭:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834
উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার

বোয়িংকে ২৪ কোটি ডলার জরিমানা

হককথা ডেস্ক
  • প্রকাশের সময় : ০৬:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪
  • / ২২ বার পঠিত

৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজের দুই ফ্লাইটের দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বোয়িং। প্রতারণার অভিযোগে দায় স্বীকার করায় প্রতিষ্ঠানটিকে মোটা অংকের জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগ। সোমবার (৮ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

বোয়িং এক বিবৃতিতে এএফপিকে জানিয়েছে, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি।’ যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, বোয়িং ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে।

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বোয়িং এর দুইটি ফ্লাইট বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪৬ জন আরোহী নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র বিচারবিভাগের সঙ্গে বোয়িং এর চুক্তি অনুযায়ী, এই দুই দুর্ঘটনার প্রতারণার ফৌজদারি অভিযোগ মেনে নিয়েছে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে জমা দেওয়া আদালতের নথি মতে, ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজকে ফ্লাইট পরিচালনার সনদ দেওয়ার সময় ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণা করার চক্রান্তের’ অভিযোগে দায় স্বীকার করেছে বোয়িং।

এই চুক্তির আওতায় বোয়িংকে জরিমানা করা হবে এবং তাদেরকে ‘নিরাপত্তার মানদণ্ড’ অর্জনে অন্তত ৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া, হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ হিসেবেও গুণতে হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ, যার পরিমাণ আদালত পরবর্তীতে নির্ধারণ করবে।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বোয়িং এর জন্য এই ‘সহজ’ চুক্তির ব্যবস্থা করায় বিচার বিভাগের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়ে নিহতদের মৃত্যুর দায়ের বড় অংশ এড়িয়ে গেছে বোয়িং।

এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়ে দায় স্বীকার করে নেওয়ায় বোয়িংকে এখন আর ফৌজদারি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে না। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা চাইছিলেন বোয়িং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাক।

২০১৮ ও ২০১৯ সালের দুই দুর্ঘটনায় বড় আকারে সঙ্কটে পড়ে যায় বোয়িং। প্রায় এক বছর সারা বিশ্বে এই উড়োজাহাজের চলাচল বন্ধ ছিল।

২০২১ সালে বোয়িং একটি চুক্তিতে সাক্ষর করেছিল, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিষ্ঠানটি দায়মুক্ত থাকবে। তবে এই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করায় বিচার বিভাগ বোয়িং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

জানুয়ারিতে অপর এক দুর্ঘটনায় ফ্লাইট চলার সময় প্যানেল খুলে আসায় বোয়িং এর উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

৫ জানুয়ারিতে আলাস্কা এয়ারলাইন্সের ৭৩৭ ম্যাক্স নাইন জেট উড়োজাহাজের একটি প্যানেল খুলে এসেছিল। ২০২১ সালে বিচার বিভাগের সঙ্গে বোয়িংয়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার দুইদিন আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

উল্লেখিত চুক্তির কারণে এর আগের দুইটি মারাত্মক দুর্ঘটনায় বোয়িং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব ছিল না।

এর আগে ১ জুলাই বলা হয়েছিল বোয়িংকে ৪৮ কোটি ৭২ লাখ যুক্তরাষ্ট্র ডলার জরিমানা করা হবে, যার অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করলেই চলবে। সে হিসেবেই ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার জরিমানার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে লায়ন এয়ার ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের দুর্ঘটনার জন্য দেওয়া জরিমানার বিপরীতে বাকি অর্থ ঋণ হিসেবে পাবে বোয়িং।

এ ধরনের অপরাধের জন্য এটাই সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণ। সূত্র: ইত্তেফাক।

Tag :

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

উড়োজাহাজ দুর্ঘটনায় প্রতারণার অভিযোগ স্বীকার

বোয়িংকে ২৪ কোটি ডলার জরিমানা

প্রকাশের সময় : ০৬:৪৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুলাই ২০২৪

৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজের দুই ফ্লাইটের দুর্ঘটনার দায় স্বীকার করেছে বোয়িং। প্রতারণার অভিযোগে দায় স্বীকার করায় প্রতিষ্ঠানটিকে মোটা অংকের জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগ। সোমবার (৮ জুলাই) এই তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

বোয়িং এক বিবৃতিতে এএফপিকে জানিয়েছে, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগের সঙ্গে একটি চুক্তি করেছি।’ যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগ (ডিওজে) জানিয়েছে, বোয়িং ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার জরিমানা দিতে সম্মত হয়েছে।

পাঁচ বছরেরও বেশি সময় আগে ইথিওপিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় বোয়িং এর দুইটি ফ্লাইট বিধ্বস্ত হয়ে ৩৪৬ জন আরোহী নিহত হন। যুক্তরাষ্ট্র বিচারবিভাগের সঙ্গে বোয়িং এর চুক্তি অনুযায়ী, এই দুই দুর্ঘটনার প্রতারণার ফৌজদারি অভিযোগ মেনে নিয়েছে উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি।

রোববার যুক্তরাষ্ট্র অঙ্গরাজ্য টেক্সাসে জমা দেওয়া আদালতের নথি মতে, ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজকে ফ্লাইট পরিচালনার সনদ দেওয়ার সময় ‘যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতারণা করার চক্রান্তের’ অভিযোগে দায় স্বীকার করেছে বোয়িং।

এই চুক্তির আওতায় বোয়িংকে জরিমানা করা হবে এবং তাদেরকে ‘নিরাপত্তার মানদণ্ড’ অর্জনে অন্তত ৪৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার বিনিয়োগ করতে হবে। এ ছাড়া, হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিপূরণ হিসেবেও গুণতে হবে বিপুল পরিমাণ অর্থ, যার পরিমাণ আদালত পরবর্তীতে নির্ধারণ করবে।

নিহতদের পরিবারের সদস্যরা বোয়িং এর জন্য এই ‘সহজ’ চুক্তির ব্যবস্থা করায় বিচার বিভাগের কড়া সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়ে নিহতদের মৃত্যুর দায়ের বড় অংশ এড়িয়ে গেছে বোয়িং।

এই চুক্তিতে সম্মতি দিয়ে দায় স্বীকার করে নেওয়ায় বোয়িংকে এখন আর ফৌজদারি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে না। নিহতদের পরিবারের সদস্যরা চাইছিলেন বোয়িং মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাক।

২০১৮ ও ২০১৯ সালের দুই দুর্ঘটনায় বড় আকারে সঙ্কটে পড়ে যায় বোয়িং। প্রায় এক বছর সারা বিশ্বে এই উড়োজাহাজের চলাচল বন্ধ ছিল।

২০২১ সালে বোয়িং একটি চুক্তিতে সাক্ষর করেছিল, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের উড়োজাহাজে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে প্রতিষ্ঠানটি দায়মুক্ত থাকবে। তবে এই চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করায় বিচার বিভাগ বোয়িং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

জানুয়ারিতে অপর এক দুর্ঘটনায় ফ্লাইট চলার সময় প্যানেল খুলে আসায় বোয়িং এর উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ও গুণগত মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়।

৫ জানুয়ারিতে আলাস্কা এয়ারলাইন্সের ৭৩৭ ম্যাক্স নাইন জেট উড়োজাহাজের একটি প্যানেল খুলে এসেছিল। ২০২১ সালে বিচার বিভাগের সঙ্গে বোয়িংয়ের চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার দুইদিন আগেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।

উল্লেখিত চুক্তির কারণে এর আগের দুইটি মারাত্মক দুর্ঘটনায় বোয়িং এর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব ছিল না।

এর আগে ১ জুলাই বলা হয়েছিল বোয়িংকে ৪৮ কোটি ৭২ লাখ যুক্তরাষ্ট্র ডলার জরিমানা করা হবে, যার অর্ধেক অর্থ পরিশোধ করলেই চলবে। সে হিসেবেই ২৪ কোটি ৩৬ লাখ ডলার জরিমানার কথা বলা হয়েছে।

এর আগে লায়ন এয়ার ও ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটের দুর্ঘটনার জন্য দেওয়া জরিমানার বিপরীতে বাকি অর্থ ঋণ হিসেবে পাবে বোয়িং।

এ ধরনের অপরাধের জন্য এটাই সর্বোচ্চ অর্থদণ্ডের পরিমাণ। সূত্র: ইত্তেফাক।