নিউইয়র্ক ০২:৪৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
বিজ্ঞাপন :
মঙ্গলবারের পত্রিকা সাপ্তাহিক হককথা ও হককথা.কম এ আপনার প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন দিতে যোগাযোগ করুন +1 (347) 848-3834

ভারতকে কোণঠাসা করতে সৌদি-ইরানকে মিলিয়ে দিয়েছে চীন!

রিপোর্ট:
  • প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩
  • / ২১ বার পঠিত

ইরান ও সৌদি আরবের পারস্পরিক দ্বন্দ্বে নাক গলিয়েছে চীন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এশিয়ার প্রভাবশালী দেশ চীন নিজ দেশের স্বার্থকে এগিয়ে নিতে এবং ভারতকে কোণঠাসা করতে সৌদি আরব ও ইরানকে মিলিয়ে দিয়েছে। এ ধরনের দাবি উত্থাপন করছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চীনের এই অতিসক্রিয়তায় আমেরিকা, বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ও ভারত সমস্যায় পড়তে পারে। সৌদি আরব ও ইরান মূলত পশ্চিম এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ। চিরকালীন দ্বন্দ্ব লেগে আছে তাদের মধ্যে। তেল থেকে শুরু করে আমেরিকার সান্নিধ্য এবং নানান বিষয়কে কেন্দ্র করে ঝামেলায় জড়িয়েছে ইরান ও সৌদি আরব।


ইরান, সৌদি আরবের মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নয়। দুই দেশকে আলাদা করেছে পারস্য উপসাগর। দু’টি দেশের মধ্যে আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক মনে করিয়ে দিতে পারে ভারত ও পাকিস্তানকেও। সম্প্রতি এই ইরান ও সৌদি আরবের পারস্পরিক দ্বন্দ্বে নাক গলিয়েছে চীন। শুধু তাই নয়, দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তিও স্থাপিত হয়েছে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায়। গত ১০ মার্চ ইরান ও সৌদির প্রতিনিধিরা চীনের এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাতে বলা হয়েছে, দুই দেশই আগামী দু’মাসের মধ্যে দূতাবাস খুলে দেবে। পশ্চিম এশিয়ায় চীনের এই সক্রিয়তায় প্রমাদ গুনেছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। ইরান আর সৌদির দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সেই এলাকায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঠিক কী করতে চাইছেন, তা নিয়ে চিন্তার মেঘ ঘনিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর আকাশে।

আরোও পড়ুন । রাত ৮ টার মধ্যে মার্কেট ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের

চীন অবশ্য বিশেষ কোনো সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছে। সে দেশের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইরান-সৌদি শান্তি চুক্তি এশিয়ার পশ্চিম অংশে চীনের দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার ফল। বিশ্বে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব নিরাপত্তা প্রকল্প গ্রহণ করেছিল চিন। ইরান ও সৌদির মধ্যস্থতাও সেই উদ্যোগেরই অংশ, দাবি বেইজিংয়ের।চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজ সেন্টারের প্রধান ইউ বিংবেন দ্য ওয়্যারকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে তারা নতুন একটি কাঠামো গঠন করেছে। সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তিও তারই অন্তর্গত।

বিশ্ব নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে চীন কী ভাবছে, তার নথি গত বছরই প্রকাশ করেছিল বেজিং। বিংবেন জানিয়েছেন, এই প্রথম নয়, এর আগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্যও তারা উদ্যোগী হয়েছিল। সিরিয়া বিতর্কেও হস্তক্ষেপ করেছিল চীন। চীনা কূটনীতিবিদ এ প্রসঙ্গে আমেরিকার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপনে আমেরিকার চেয়ে বেশি সফল চীন। কারণ, আমেরিকা যেকোনো ইস্যুতে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। ইরানের সঙ্গেও তা-ই করেছে। বিপরীতে ইরান এবং সৌদি আবর দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে চীন। তাই তারাই সাফল্য পেয়েছে।


ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ভালো নয়। সৌদির সঙ্গেও গত কয়েক বছরে ওয়াশিংটনের মতানৈক্য প্রকাশ্যে এসেছে। চীনের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে আমেরিকাকেই বার্তা দিতে চাইল সৌদি আরব, বলছেন অনেকে। চীনা কূটনীতিবিদ জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় তাদের মূল লক্ষ্য জ্বালানি তেলের খনি এবং সেই সংক্রান্ত বাণিজ্য। সেই বাণিজ্য যাতে অটুট থাকে, তার জন্য ওই এলাকায় শান্তি স্থাপিত হওয়া জরুরি। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি বজায় না থাকলে, সেখানে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাবেন। তাতে শুধু চীন নয়, সামগ্রিকভাবে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলো সমস্যায় পড়বে। সেই আগ্রহ থেকেই ইরান ও সৌদিতে চীনের এই হস্তক্ষেপ। অন্তত এমনটাই দাবি চীনের।

ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চীনের এই অতিসক্রিয়তায় ভারত, আমেরিকা এবং অন্য পশ্চিমা দেশগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। চীনের হস্তক্ষেপের পর আর কোনো দেশ এই এলাকার রাজনীতিতে নাক গলাতে চাইবে না। যা শেষ পর্যন্ত বেইজিংয়ের রাস্তাকেই পরিষ্কার করবে। পশ্চিম এশিয়ার সব দেশের সঙ্গেই কমবেশি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে ভারত। তারা কোনো বিতর্কে নাক গলায় না। চীনের বক্তব্য, ভারতকে এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। ভারত কোন পক্ষ নিয়ে কথা বলে, তা দেখতে আগ্রহী বেইজিং।

বাণিজ্যিক স্বার্থে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে নাক গলানোর কথা বললেও চীনের আসল মতলব সম্পর্কে পশ্চিমারা শঙ্কিত। অনেকেই মনে করছেন, জিনপিংয়ের অন্য উদ্দেশ্য আছে। ইরান এবং সৌদি আরব, দুই পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে হাত মেলাতে বাধ্য করেছে চীন। এর মাধ্যমে আসলে ভারতের পশ্চিমে বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে বেইজিং। পাকিস্তানের সঙ্গে বরাবরই চীনের সম্পর্ক ভাল। আফগানিস্তানের রাজনীতিতেও হস্তক্ষেপ করেছে বেইজিং। এবার ইরান ও সৌদির মতো দেশকে মিলিয়ে দিয়ে ভারতকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছেন জিনপিং? সেই প্রশ্নও উঠেছে। সূত্র : এবিপি

বেলী/হককথা

সোশ্যাল মিডিয়ায় খবরটি শেয়ার করুন

ভারতকে কোণঠাসা করতে সৌদি-ইরানকে মিলিয়ে দিয়েছে চীন!

প্রকাশের সময় : ০৩:৫২:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ জুন ২০২৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : এশিয়ার প্রভাবশালী দেশ চীন নিজ দেশের স্বার্থকে এগিয়ে নিতে এবং ভারতকে কোণঠাসা করতে সৌদি আরব ও ইরানকে মিলিয়ে দিয়েছে। এ ধরনের দাবি উত্থাপন করছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে চীনের এই অতিসক্রিয়তায় আমেরিকা, বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ও ভারত সমস্যায় পড়তে পারে। সৌদি আরব ও ইরান মূলত পশ্চিম এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ। চিরকালীন দ্বন্দ্ব লেগে আছে তাদের মধ্যে। তেল থেকে শুরু করে আমেরিকার সান্নিধ্য এবং নানান বিষয়কে কেন্দ্র করে ঝামেলায় জড়িয়েছে ইরান ও সৌদি আরব।


ইরান, সৌদি আরবের মধ্যে দূরত্ব খুব বেশি নয়। দুই দেশকে আলাদা করেছে পারস্য উপসাগর। দু’টি দেশের মধ্যে আদায় কাঁচকলায় সম্পর্ক মনে করিয়ে দিতে পারে ভারত ও পাকিস্তানকেও। সম্প্রতি এই ইরান ও সৌদি আরবের পারস্পরিক দ্বন্দ্বে নাক গলিয়েছে চীন। শুধু তাই নয়, দুই দেশের মধ্যে শান্তি চুক্তিও স্থাপিত হয়েছে বেইজিংয়ের মধ্যস্থতায়। গত ১০ মার্চ ইরান ও সৌদির প্রতিনিধিরা চীনের এক শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিকের সঙ্গে ত্রিপাক্ষিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তাতে বলা হয়েছে, দুই দেশই আগামী দু’মাসের মধ্যে দূতাবাস খুলে দেবে। পশ্চিম এশিয়ায় চীনের এই সক্রিয়তায় প্রমাদ গুনেছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। ইরান আর সৌদির দ্বন্দ্ব মিটিয়ে সেই এলাকায় চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঠিক কী করতে চাইছেন, তা নিয়ে চিন্তার মেঘ ঘনিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলোর আকাশে।

আরোও পড়ুন । রাত ৮ টার মধ্যে মার্কেট ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র বন্ধের সিদ্ধান্ত পাকিস্তান সরকারের

চীন অবশ্য বিশেষ কোনো সম্ভাবনার কথা উড়িয়ে দিয়েছে। সে দেশের এক কূটনীতিক জানিয়েছেন, ইরান-সৌদি শান্তি চুক্তি এশিয়ার পশ্চিম অংশে চীনের দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার ফল। বিশ্বে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিশ্ব নিরাপত্তা প্রকল্প গ্রহণ করেছিল চিন। ইরান ও সৌদির মধ্যস্থতাও সেই উদ্যোগেরই অংশ, দাবি বেইজিংয়ের।চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়ের মিডল ইস্টার্ন স্টাডিজ সেন্টারের প্রধান ইউ বিংবেন দ্য ওয়্যারকে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে তারা নতুন একটি কাঠামো গঠন করেছে। সাম্প্রতিক শান্তি চুক্তিও তারই অন্তর্গত।

বিশ্ব নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে চীন কী ভাবছে, তার নথি গত বছরই প্রকাশ করেছিল বেজিং। বিংবেন জানিয়েছেন, এই প্রথম নয়, এর আগে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে শান্তি স্থাপনের জন্যও তারা উদ্যোগী হয়েছিল। সিরিয়া বিতর্কেও হস্তক্ষেপ করেছিল চীন। চীনা কূটনীতিবিদ এ প্রসঙ্গে আমেরিকার প্রসঙ্গও টেনে আনেন। তিনি জানান, পশ্চিম এশিয়ায় শান্তি স্থাপনে আমেরিকার চেয়ে বেশি সফল চীন। কারণ, আমেরিকা যেকোনো ইস্যুতে সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। ইরানের সঙ্গেও তা-ই করেছে। বিপরীতে ইরান এবং সৌদি আবর দুই দেশের সঙ্গেই সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে চীন। তাই তারাই সাফল্য পেয়েছে।


ইরানের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক ভালো নয়। সৌদির সঙ্গেও গত কয়েক বছরে ওয়াশিংটনের মতানৈক্য প্রকাশ্যে এসেছে। চীনের মধ্যস্থতায় শান্তি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে আমেরিকাকেই বার্তা দিতে চাইল সৌদি আরব, বলছেন অনেকে। চীনা কূটনীতিবিদ জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ায় তাদের মূল লক্ষ্য জ্বালানি তেলের খনি এবং সেই সংক্রান্ত বাণিজ্য। সেই বাণিজ্য যাতে অটুট থাকে, তার জন্য ওই এলাকায় শান্তি স্থাপিত হওয়া জরুরি। পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শান্তি বজায় না থাকলে, সেখানে বিনিয়োগকারীরা আগ্রহ হারাবেন। তাতে শুধু চীন নয়, সামগ্রিকভাবে এশিয়া, আফ্রিকা ও ইউরোপের দেশগুলো সমস্যায় পড়বে। সেই আগ্রহ থেকেই ইরান ও সৌদিতে চীনের এই হস্তক্ষেপ। অন্তত এমনটাই দাবি চীনের।

ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়ায় চীনের এই অতিসক্রিয়তায় ভারত, আমেরিকা এবং অন্য পশ্চিমা দেশগুলো সমস্যায় পড়তে পারে। চীনের হস্তক্ষেপের পর আর কোনো দেশ এই এলাকার রাজনীতিতে নাক গলাতে চাইবে না। যা শেষ পর্যন্ত বেইজিংয়ের রাস্তাকেই পরিষ্কার করবে। পশ্চিম এশিয়ার সব দেশের সঙ্গেই কমবেশি সুসম্পর্ক বজায় রেখে চলে ভারত। তারা কোনো বিতর্কে নাক গলায় না। চীনের বক্তব্য, ভারতকে এ বিষয়ে তার অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। ভারত কোন পক্ষ নিয়ে কথা বলে, তা দেখতে আগ্রহী বেইজিং।

বাণিজ্যিক স্বার্থে পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিতে নাক গলানোর কথা বললেও চীনের আসল মতলব সম্পর্কে পশ্চিমারা শঙ্কিত। অনেকেই মনে করছেন, জিনপিংয়ের অন্য উদ্দেশ্য আছে। ইরান এবং সৌদি আরব, দুই পরস্পর প্রতিদ্বন্দ্বী দেশকে হাত মেলাতে বাধ্য করেছে চীন। এর মাধ্যমে আসলে ভারতের পশ্চিমে বিস্তীর্ণ ভূখণ্ডে আধিপত্য কায়েম করতে চাইছে বেইজিং। পাকিস্তানের সঙ্গে বরাবরই চীনের সম্পর্ক ভাল। আফগানিস্তানের রাজনীতিতেও হস্তক্ষেপ করেছে বেইজিং। এবার ইরান ও সৌদির মতো দেশকে মিলিয়ে দিয়ে ভারতকে কোণঠাসা করার পরিকল্পনা করছেন জিনপিং? সেই প্রশ্নও উঠেছে। সূত্র : এবিপি

বেলী/হককথা