সুস্থ রাজনীতির অভাবে সৈয়দ আশরাফ অসুস্থ!

শিতাংশু গুহ: বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মামলার রায় বৃহস্পতিবার ৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮। ঢাকায় সাঁজ সাঁজ রব। সরকার ও বিএনপি যুদ্ধংদেহী অবস্থায়। সময় যত এগুবে জনমনে অস্থিরতা তত বাড়বে। কি হয় কে জানে? এরমধ্যে নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, খালেদা জিয়ার সাঁজা নিশ্চিত। প্রশ্ন হলো, উনি জানলেন কি করে? বিচারক কি তাকে ফোন করে বলেছেন? দায়িত্বশীল মন্ত্রীদের এমনতর দায়িত্বহীন কথাবার্তার কোন মানে হয়না। আরো দু’একজন মন্ত্রী বলেছেন, আদালত যে রায় দিক, আমরা মেনে নেবো। সাথে সাথে সামাজিক মিডিয়ায় প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে ষোড়শ সংশোধনী সম্পর্কিত রায় মেনে নেননি কেন? আসলে, মামলার রায় যাই হোক, একপক্ষ অখুশিই থাকবে। রায় যদি বেগম জিয়ার বিপক্ষে যায়, তাহলে বলা হবে, ‘আগে থেকেই সেটা সিদ্ধান্ত ছিলো বেগম জিয়াকে আগামী নির্বাচনের জন্যে অযোগ্য ঘোষণা করতে হবে। মামলা তো আই-ওয়াশ’। রায়ে ম্যাডাম জিয়া খালাস পেলে বলা হবে, ‘সরকার সাহস পায়নি। প্রণব মুখার্জি এসে ওই পরামর্শ দিয়ে গেছেন’। খালেদা জিয়া দন্ডিত হলেও বলা হতে পারে যে, ওটা ভারতের প্রেসক্রিপশন। প্রণববাবু ওই বার্তা নিয়েই এসেছিলেন? এও বলা হচ্ছে, ২০১৩-তে প্রণববাবু এসেছিলেন, তারপর ২০১৪-র ভোটারবিহীন নির্বাচন! এবার তিনি কি মেসেজ দিয়ে গেলেন? খালেদাকে মুক্তি না দোষী সাব্যস্ত করা? অর্থাৎ বিচারটি যে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং সুষ্ঠূ হতে পারে, দেশের মানুষের সেই আস্থা উঠে গেছে। একটি দেশের জন্যে এটি ভয়াবহ।
এদিকে খবর বেরিয়েছে, সৈয়দ আশরাফ অসুস্থ, ফুসফুস ক্যান্সারে আক্রান্ত। খবরটি ভুয়া। হটাৎ করে সৈয়দ আশরাফ কেন? কারণ ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০১৮ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। তিনি রাষ্ট্রপতি হতে পারেন। সুতরাং, তাকে অসুস্থ সাজানো হোক। তাও ছোটখাট অসুখ নয়, ক্যান্সার, একেবারে ল্যাঞ্চ ক্যান্সার, যা থেকে বাঁচার সম্ভবনা কম থাকে? এই ‘অসুস্থ’ নাটক আমরা প্রধান বিচারপতি’র ক্ষেত্রেও দেখেছিলাম? মানুষ অসুস্থ হতেই পারে, কিন্তু নাটক কেন? দেশে আসলে সুস্থ রাজনীতির অভাব, তাই আমাদের জাতীয় জীবনে মানসিক অসুস্থতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। এই অসুস্থতার সর্বশেষ বহি:প্রকাশ ঘটেছে নারায়ণগঞ্জে। এমপি শামীম ওসমান এবং মেয়র আইভি রহমান-র মধ্যকার ফাইট সকল প্রকার সৌন্দর্য্যের সীমা অতিক্রম করে গেছে। রাজনীতিতে দ্ধন্দ বা রেষারেষি থাকবে, কিন্তু সেটা ভেতরে, এবার নারায়ণগঞ্জে এই দুই নেতা-নেত্রীর ফাইটে মানুষ তাদের ভেতরের কদর্য রূপটি দেখে ফেলেছে। এরআগে শিক্ষক শ্যামল ভক্তকে নিয়ে ওসমান পরিবারের আর এক সদস্য এমপি সেলিম ওসমান-র কর্মকান্ড জাতি খুব ভালো ভাবে নেয়নি? আমাদের সংসদ সদস্য বা নেতাদের কাছে জাতি নিশ্চয় আরো একটু মর্যাদাশীল আচরণ আশা করতে পারে। সমস্যা হলো, আমাদের দেশের রাজনীতিকরা কি আসলেই মর্যাদার আসনে সমাসীন?
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলিনা ষ্টেটে ১৫শ’ বছরের একটি ওক গাছ আছে। ওরা  এটিকে যতœ করে রেখেছে। নাম দিয়েছে ‘এঞ্জেল ওক ট্রি’। ‘এঞ্জেল’, বাংলায় বলা যেতে পারে ‘মহীরুহ’। আর আমরা কিনা যশোর রোডে ২৩শ’ মহীরুহ গাছ কেটে ফেলছি। জানিনা এই সিদ্ধান্তটি বহাল আছে কিনা? থাকলে, ওটা পাল্টানো দরকার। সিদ্ধান্তটি সঠিক নহে। সারাদেশে এমন আর একটি ছায়াঘেরা রাস্তা আছে কিনা আমার জানা নেই? উন্নয়ন ভালো। গাছ কাটা ভালো নয়? গাছ না কেটে কি রাস্তা সম্প্রসারণ করা যায়না? এই রাস্তাটির একটি গৌরবময় ইতিহাস আছে। পুরানো ঐতিহ্য ধরে রাখাও কর্তব্য। আমাদের প্রকৌশলীরা নিশ্চয় অন্য কোন উপায় খুঁজে বের করতে পারবেন। এদিকে ফরিদপুরে জমিজমা নিয়ে ঝামেলায় দুই সহোদর শিক্ষক ভাই এখন জেলে। জমি দখলে ব্যর্থ হয়ে এই শিক্ষক পরিবারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। ঘটনা বদরপুর সেন-বাড়ীর। সেনবাড়ীর মেয়েরা বলছেন,’ আমাদের বাড়ীঘর, জমিজমা সব নিয়ে নিন, শুধু আমাদের ছেলেদের ফিরিয়ে দিন’। এই ঘটনাটি ফরিদপুরে বেশ আলোচিত। লোকে বলাবলি করছে, অরুন গুহ মজুমদারের ঘটনার পর প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের দ্বারা আক্রান্ত সেনবাড়ী। অবৈধ জমিজমা  দখলের এই ষড়যন্ত্র দেশে কি বন্ধ হবেনা?
এরমধ্যে ঢাকা ভার্সিটির শিক্ষক আনিস আলমগীর তার ফেইসবুকে দেবী সরস্বতী-কে নিয়ে কিছু আপত্তিকর কথাবার্তা লিখেছেন। এনিয়ে বিক্ষোভ-মানববন্ধন হয়েছে। তিনি পোষ্টটি প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। আচ্ছা, ধর্ম নিয়ে সুড়সুড়ি না দিলে কি হয়না? আনিস আলমগীরের এই পোষ্ট প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে যে, মাটির মুর্ক্তি দেখে যাদের ‘চুলকানি’ ওঠে, জ্যান্ত মানবী কি তাদের কাছে নিরাপদ? ক’দিন আগে বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সভায় রুহুল কবীর রিজভী আহমদ তাদের ম্যাডাম জিয়ার সামনেই গয়েশ্বর রায়-কে ‘মালাউন’ বলে গালি দেন। জাতির ওপর লেভেলের এই দৈন্যতা কেন? সদ্য মন্ত্রী পরিষদে অনুমোদিত একটি বিলে বলা হয়েছে, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরুদ্ধাচরণ করলে ১৫ বছর কারাদন্ড এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করলে ১০ বছরের কারাদন্ড? সামাজিক মাধ্যমে কিছু উগ্রবাদী প্রচার করছে যে, ডিজিটাল সিকিউরিটি আইনে ধর্মের চেয়ে মুজিব বড়? প্রবাদ আছে, ‘কোথায় কি পান্তা ভাতে ঘি’। সবকিছুর মধ্যে ধর্মকে টেনে না আনলে কি চলেনা? ধর্ম নিয়ে এই বাড়াবাড়ি আর কতকাল চলবে? ঢাকার পত্রিকাগুলো হেডিং করেছে, ৫৭ ধারা বাতিল। আসলে কি তাই, নাকি ‘নুতন বোতলে পুরানো মদ’? এনালগ যুগে আইন ছিলো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিলে ২ বছরের কারাদন্ড। ডিজিটাল যুগে বলা হচ্ছে, মাত্র ৭ বছর, দ্বিতীয়বার একই অপরাধ করলে ১০ বছর? তাহলে আইনটি বিলুপ্ত হলো কোথায়? এতো আগেকার ‘শত্রু সম্পত্তি আইন’-এর ‘অর্পিত সম্পত্তি আইনে’ রূপান্তরের মত ঘটনা? ‘যেই লাউ সেই কদু’? আচ্ছা, আমাদের দেশে রাজনৈতিক দলগুলো বিরোধী দলে থাকাকালে যেরকম আইন দাবি করে ক্ষমতায় গেলে তারা সেই আইন করেনা কেন?
সংরক্ষিত মহিলা আসনের মেয়াদ আরো পঁচিশ বছর বাড়ছে। মন্ত্রিপরিষদে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এরশাদের আমলে হেডিং হয়েছিলো, ‘২৫ সেট অলঙ্কার’। এখন সংখ্যাটি ৫০। আসলে কি এর প্রয়োজন আছে? মনোনীত আর নির্বাচিত কি এক জিনিস হলো? কাগজে-কলমে হয়তো মর্যাদা এক, বাস্তবে? মহিলাদের উন্নতির লক্ষ্যে মহিলা এমপি, মানুষ কি আজ পর্যন্ত তেমন কথা ওনাদের মুখে শুনেছে? ডিজিটাল বাংলাদেশে মহিলা এমপি সাবজেক্টটি এখনো এনালগেই রয়ে গেছে। মনে হয় এনিয়ে আরো চিন্তাভাবনার দরকার আছে। যাহোক, মহিলা এমপি বা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনটি নিশ্চয় সংসদে পাশ হতে হবে, আরো আলোচনার সুযোগ আছে। এদিকে ৩১ জানুয়ারী বিদেশে অবস্থানরত প্রধান বিচারপতি অবসরে যাবার কথা। তিনি ইতিমধ্যে প্রধান বিচারপতি ভবন ছেড়ে দিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, ফেব্রুয়ারীর প্রথম দিকে নুতন বিচারপতি নিয়োগ পাচ্ছেন। গুজব রয়েছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি ভারমুক্ত না হলে তিনি বিদায় নিতে পারেন।
সর্বশেষ একটি মজার খবর: পাকিস্তানকে দেখতে না পারলেও পাকিস্তানের সেক্সি নায়িকা নিলো-র একদা বেশ নামডাক ছিলো। ষাটের দশকে পাকিস্তানে সম্ভবত: ‘খাইবার মেইল’ নামের একটি ম্যুভিতে দেখানো হয়েছিলো যে, নায়িকা ‘নিলো’ দুই রেল লাইনের ওপর দুই-পা দিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন, ট্রেন তার দুই পায়ের ফাঁকা দিয়ে দ্রুত বেরিয়ে যায়। এ দৃশ্যটি ঐ ম্যুভিকে ‘হিট’ করেছিলো। তখনকার সময়ে কারিগরি দিক থেকে তা ছিলো অবাক কান্ড, কি করে নায়িকার দুই পায়ের ফাঁকা দিয়ে একটি আস্ত ট্রেন বেরিয়ে যেতে পারে? ঠিক প্রায় একই রকম একটি ছবি বেরিয়েছে গত সপ্তাহে কানাডার মিডিয়ায়। এই ছবিতে এক সুন্দরী ললনা নিলোর মত রেলের দুই লাইনের ওপর দুই পা রেখে দাঁড়িয়ে আছেন। ছবিটি এমনভাবে তোলা যে মনে হবে ট্রেন তার দুই পায়ের ফাঁকা দিয়ে বেরিয়ে যেতে পারবে। তবে ছবিটি ষ্টিল, তাতে ট্রেন ছিলোনা, বা ফটোশপ করে ট্রেন বসানো হয়নি। যুবতীর নাম, স্টেফাইনি কেটেলনিকোফ। বয়স ২৮। নিবাস, ক্যালগ্যারি, কানাডা। পেশায় ট্রেনের কন্ডাক্টর। কাজ করেন কানাডিয়ান  পেসিফিক রেলওয়ে-তে। এই ছবিটি’র কারণে মহিলার চাকুরিটি গেছে। তার কোম্পানী বলেছে, ছবিটি কোম্পানীর গাইডলাইনের পরিপন্থী। ছবিটি মোটেই আপত্তিকর মনে হয়নি, তবে চমৎকার ছবি। ধারণা করি, এই মহিলার আর চাকুরী করার দরকার হবেনা, এই ছবির বদৌলতে তিনি মডেল বা নিলোর মত নায়িকা হয়ে যাবেন? কারণ, এই ছবি ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে গেছে।
নিউইয়র্ক।






একই ধরনের খবর

  • প্রসঙ্গ রোহিঙ্গা : অভিশাপ না আর্শিবাদ
  • অদ্ভূত আঁধার আর অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ
  • সাড়ে ছয় কোটি রাজাকার
  • অনিশ্চিত গন্তব্যে বাংলাদেশ
  • ফরহাদ মজহার কাহিনী : জিপিএস ট্র্যাকিং,‘ব্যাগ আবিষ্কার’ ও আইনগত সচেতনতা!
  • বাংলাদেশের সমাজ : গভীর অ-সুখ
  • স্মৃতিতে ১৭ মে: ঐক্য ও অস্তিত্বের প্রতীক শেখ হাসিনা
  • Shares