শ্রীলংকায় বোমা হামলা

সুনামগঞ্জের বনেদি জমিদার পরিবারের সন্তন জায়ান

হককথা ডেস্ক: শ্রীলংকার কলম্বোয় সিরিজ বোমা হামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য, সাবেক মন্ত্রী ও সিনিয়র পার্লামেন্টেরিয়ান শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান চৌধুরী (৮) নিহত হয়েছে। জায়ান চৌধুরীর মরদেহ বুধবার দেশে আনা হবে। রোববারের (২১ এপ্রিল) এ হামলায় আহত শেখ সেলিমের মেয়ের জামাতা (জায়ানের বাবা) মশিউল হক চৌধুরী সেখানকার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে এখনই দেশে আনা হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ফুপাতো ভাই শেখ সেলিম। জানা গেছে, শেখ সেলিমের ছেলে শেখ ফাহিম প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়ে ব্রুনাই গিয়েছিলেন। সেখান থেকে শ্রীিলংকা গেছেন তিনি। অপর ছেলে শেখ নাইম তার মাকে নিয়ে শ্রীলংকা পৌঁছেছেন। সোমবার (২২ এপ্রিল) সকালে শেখ সেলিমের বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সান্তনা জানানোর পর শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
সোমবার রাত ৮টার দিকে শেখ সেলিমের বাসায় সান্তনা জানাতে যান আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, জায়ানের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার সব আনুষ্ঠানিকতা আজ (সোমবার) সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। তাই আগামীকালের (মঙ্গলবার) পরিবর্তে পরশু (বুধবার) লাশ বিমানে বেলা সাড়ে ১১টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছবে। সেখান থেকে সরাসরি বনানী ২ নম্বর রোডের বাড়িতে লাশ নিয়ে আসা হবে। এরপর বাদ আসর চেয়ারম্যানবাড়ি মাঠে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। এদিন সকালে শেখ ফজলুল করিম সেলিমের বনানীর ২/এ রোডের ৯ নম্বর বাসায় শিল্পমন্ত্রী ছাড়াও আত্মীয়স্বজন ও শুভাকাক্সক্ষীরা ভিড় করেন।
আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মো. নাসিম, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, সাবেক তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, সাবেক সংস্কৃতিবিষয়কমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম ও শেখ সেলিমের ভাই শেখ মারুফসহ অনেকেই সেখানে ছুটে যান। শেখ সেলিমসহ পরিবারের সদস্যদের তারা সান্তনা দেন। বাসার নিচতলায় জায়ানের রুহের মাগফিরাত কামনায় কোরআনখানির আয়োজন করা হয়। নানার এ বাসাতেই থাকত জায়ান।

শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ৮ বছর বয়সী নাতি জায়ান চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন বলেন, শ্রীলংকার ঘটনা খুব মর্মান্তিক। এটি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। তারপরও আমরা এসেছি শেখ সেলিমকে সান্তনা দিতে। তিনি বলেন, শেখ সেলিমের নাতি জায়ান মারা গেছে; কিন্তু জামাতা এখনও সেভ আছেন। তবে তার দুটি পা ড্যামেজ হয়ে গেছে।
এদিকে জায়ানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিক এক টুইটবার্তায় বলেন, শ্রীলংকার হামলায় আমি একজন আত্মীয় হারিয়েছি। এটি বিধ্বংসী ঘটনা। সবাইকে নিরাপদ রাখার প্রত্যাশা করি। শ্রীলংকার জনগণের সঙ্গে একাত্ততা ঘোষণা করেন তিনি।
জায়ান তার মা-বাবা ও ভাইয়ের সঙ্গে শ্রীলংকায় বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে একটি হোটেলে উঠেছিল তারা। শনিবার সেখানে বোমা হামলার ঘটনায় জায়ান নিহত হয়। আহত হন তার বাবা।
শ্রীলংকায় হামলার পর পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম রোববার (২১ এপ্রিল) দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে বলেছিলেন, বোমা হামলার ঘটনার পর থেকে এক শিশুসহ দুই বাংলাদেশির খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে তাদের নাম-পরিচয় সে সময় প্রকাশ করেননি তিনি। এরপর ব্রুনাই সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেখানে প্রাসীদের দেয়া এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তার বক্তব্যে নিজের স্বজনদের বোমা হামলার শিকার হওয়ার কথা প্রথম জানান।
তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে লিখেছেন, আদুরে জায়ান দেখা হলেই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ‘দাদু’ বলে জড়িয়ে ধরত।
১৫ দিনের আগে সরানো যাবে না শেখ সেলিমের জামাতাকে: শ্রীলংকায় ভয়াবহ সিরিজ বোমা হামলায় আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিমের নাতি জায়ান মারা যাওয়ার পাশাপাশি মেয়ে শেখ সোনিয়ার স্বামী মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্সের দুটি পা ড্যামেজ (অকেজো) হয়ে গেছে। তিনি শ্রীলংকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানিয়েছেন সাবেক স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন। সোমবার (২২ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টায় শেখ সেলিমের বনানী বাসা থেকে বের হয়ে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান উপস্থিত ছিলেন।
খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শেখ সেলিমের জামাই খুব বাজেভাবে আহত হয়েছেন। তার দুটি পা ড্যামেজ হয়ে গেছে। কমপক্ষে ১৫ দিন না গেলে তাকে হাসপাতাল থেকে মুভ করানো সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, ব্রেকফাস্ট করার জন্য জামাই এবং তার ছেলে জায়ান চৌধুরী একটি হোটেলে পৌঁছেছিলেন। হোটেলের নিচেই আত্মঘাতী বোমা বিস্ফোরণে জায়ান নিহত হয়।
এদিকে জায়ান নিহত হওয়ার খবরে গোপালগঞ্জে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রোববার রাতে গোপালগঞ্জে এ খবর পৌঁছার পর শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়ে দলমত নির্বিশেষে সব মানুষ। প্রাণপ্রিয় নেতার আদরের নাতি জায়ান চৌধুরীর মর্মান্তিক মৃত্যু দলের নেতাকর্মীদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি চৌধুরী এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলী খান শোকাহত পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।
মাহবুব আলী খান বলেন, শেখ ফজলুল করিম সেলিম কেবল আমাদের নেতা নন। তিনি আমাদের অভিভাবক। তিনি পরপর আটবার গোপালগঞ্জ-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এলাকার মানুষের সঙ্গে রয়েছে সবার প্রিয় এ নেতার নাড়ির সম্পর্ক। প্রিয় নেতার প্রাণপ্রিয় নাতির মর্মান্তিক অকাল মৃত্যুতে আমরা বাকরুদ্ধ হয়ে গেছি। সমবেদনা জনানোর কোনো ভাষা আমাদের নেই।
জায়ান চৌধুরী নিহতের ঘটনায় শোক জ্ঞাপন ও সমবেদনা জানিয়েছেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিটু, গোপালগঞ্জ পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসমত আলী সিকদার চুন্নু, সাধারণ সম্পাদক সিকদার মো. নজরুল ইসলাম, টুঙ্গিপাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি ইলিয়াস হোসেন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, টুঙ্গিপাড়ার পৌর মেয়র শেখ আহমেদ হোসেন মীর্জা, কাশিয়ানী আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. মোক্তার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক কাজী জাহাঙ্গীর আলম, কোটালীপাড়া আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট সুভাষ চন্দ্র জয়ধর, সাধারণ সম্পাদক এসএম হুমায়ূন কবীর এবং মুকসুদপুর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও পৌর মেয়র আতিকুর রহমান মিয়া।
এছাড়া শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন জেলা যুবলীগের সভাপতি জিএম সাহবুদ্দীন আযম, সাধারণ সম্পাদক এমবি সাঈফ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আবদুল হামিদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ, বশেমুরবিপ্রবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শাহজাহান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. রাজিউর রহমান, জেলা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি অ্যাডভোকেট জিন্নাত আলী, গোপালগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি এসএম হুমায়ূন কবীর প্রমুখ।
সুনামগঞ্জের বনেদি জমিদার পরিবারের সন্তন জায়ান: শ্রীলংকায় বর্বরোচিত সিরিজ বোমা হামলায় নিহত শেখ সেলিমের নাতি ছোট্ট জায়ান চৌধুরীর (৮) পৈতৃক বাড়ি সুনামগঞ্জের বনেদি জমিদার পরিবারে। জেলার দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়ার জমিদার বাড়ির সন্তান সে। প্রয়াত জায়ানের বাবা মশিউল হক চৌধুরী প্রিন্স দিরাই ভাটিপাড়ার জমিদার মতিনুল হক চৌধুরী ওরফে এমএইচ চৌধুরীর ছেলে। এদিকে জায়ানের মৃত্যুতে শোক ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাকির পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তফা আমীর ফয়সাল।






একই ধরনের খবর

  • ইউরোপ অভিবাসন প্রত্যাশীদের করুণ পরিণতি : ভূমধ্যসাগরে ৩৭ বাংলাদেশীর মৃত্যু
  • ‘ঋণের বোঝা আরও বেড়ে গেল’
  • কর্মচারী নির্যাতনের দায়ে নিউজিল্যান্ডে বাংলাদেশী দম্পতির জেল
  • ফারমার্স ব্যাংকে ৫শ’ কোটি টাকা জালিয়াতি : এক পরিবারের পেটে ৩০০ কোটি টাকা
  • প্রতিশোধ নেয়ার ভয়ে বাংলাদেশের সম্পাদকরা অনেক রিপোর্ট প্রকাশ করেন না : অ্যামনেস্টির সাদ হাম্মাদি 
  • প্রধানমন্ত্রী শপথ ভঙ্গ করেছেন: খন্দকার মাহবুব
  • দক্ষিণ আফ্রিকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী নিহত
  • জাতিসংঘকে বাংলাদেশ থেকে বিদায় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • Shares