সাড়ে ৩ লাখ ডলারের বাজেট ঘাটতি: নাউাউ কলোসিয়ামে ফোবানা : দর্শক-শ্রোতাদের উপস্থিতি ছিল কম : যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশীদের নতুন ইতিহাস

হককথা ডেস্ক: নতুন ইতিহাসের দ্বার খোলেছে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী কমিউনিটি। সফল সমাপ্তি ঘটেছে ড্রামা সার্কেলের নেতৃত্বে আয়োজিত ফোবানা বাংলাদেশ সম্মেলনের। বাংলাদেশী কমিউনিটির নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রথম নাসাউ কলোসিয়ামে ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ইতিহাসে রাণীর আসন করে নিলেন ড্রামা সার্কেলের প্রতিষ্ঠাতা ফোবানা সম্মেলনের কনভেনার নার্গিস আহমেদ। তিনদিনের ফোবানা সম্মেলন ঘিরে ছিল ব্যাপক আয়োজন। এবারের সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল চোখে পড়ার ন্যায় নতুন প্রজন্মের বাংলাদেশীরা। ‘আমাদের প্রজন্ম আমাদের গর্ব’ এই শ্লোগান ছিল সম্মেলনের মুল উপজীব্য। সম্মেলনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছাড়াও ছিল বিভিন্ন বিষয়ভিত্তিক আলোচনা ও সেমিনার। যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ২৫টি অঙ্গরাজ্য থেকে বাংলাদেশী বিভিন্ন কমিউনিটি সংগঠন অংশগ্রহনের জন্য ছুটে এসেছিল নাসাউ কলোসিয়ামে। সম্মেলনে অংশ নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র কানাডার বিভিন্ন অঙ্গারাজ্যের প্রতিনিধিরা। যার ফলে এবারের ফোবানা কার্যকরী কমিটির বৈঠকে অংশ নেন সর্বাধিক নেতৃবৃন্দ ও সংগঠন।

নিউইয়র্কের এই সম্মেলনে আয়োজন ও চেষ্টার ত্রুটি না থাকলেও হলের তুলনায় দর্শক শ্রোতাদের সংখ্যা ছিল অনেকটা অপ্রত্যাশিত। নাসাউ কলোসিয়ামের অডিটোরিয়ামে ১০ হাজার লোক সমাবেশের প্রস্তুতি থাকলেও ফোবানা সম্মেলনের উপস্থিতি ছিল কম।
ফোবানার এই বিশাল সম্মেলন অনুষ্ঠানে প্রায় কেবল হল ভাড়াই ৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলার দিতে হচ্ছে। সর্বমোট ফোবানা সম্মেলনের খরচ প্রায় ৭ লক্ষ ৪ হাজার বলে ফোবানা সম্মেলনের সদস্য সচিব আবীর আলমগীর ফোবানা নির্বাহী কমিটির সভায় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ফোবানা আইকনদের অবদানের কারণেই এই সম্মেলন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা সম্ভভ হয়েছিল। তবে ফোবানার নামে আরেকটি অনুষ্ঠান আয়োজনের কারণে বিভিন্নভাবে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ১ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেলে ৩টা পর্যন্ত সম্মেলনের সদস্য সচিব আবীর আলমগীরের দেয়া রিপোর্ট অনুযায়ী ফোবানা সম্মেলনের খরচে এখনো ঘাটতি হচ্ছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ ডলার।
ফোবানা নির্বাহী কমিটির সভায় এধরনের একটি সম্মেলন অনুষ্ঠানের জন্য বিভিন্ন ষ্টেট থেকে আগত কার্যকরী কমিটির সদস্যরা আয়োজক সংগঠন ড্রামা সার্কেল ও নার্গিস আহমেদকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।
গত ৩০ আগষ্ট শুক্রবার রাতে উর্ধ্ব গগণে বাজে মাদলের সুরে সুরে লাল সবুজের বাংলাদেশ আর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডার পতাককে উচিয়ে ধরে পর্দা উঠে ৩৩তম ফোবানা সম্মেলনের। লং আইল্যান্ডের ইউনিয়নডেলে অবস্থিত লং আইল্যান্ড ম্যারিয়ট হোটেলের গ্র্যান্ড বলরুমে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে।
ফোবানার শ্লোগান ‘আমাদের প্রজন্ম, আমাদের গর্ব।’ আর এ কারণে নতুন প্রজন্মের দু’জন প্রতিনিধি যথাক্রমে বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্কের কৃতি ছাত্র তৌহিদ প্রান্ত ও মারফাত রহমান যৌথভাবে ফোবানার উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
৩৩ বছরের ইতিহাসে এবারই প্রথম ব্যয়বহুল একটি ভেন্যুতে ফোবানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত ফোবানা সম্মেলনে এবার প্রধান অতিথি হিসেবে এসেছিলেন দুবাইয়ে বাংলাদেশী মালিকানাধীন বিশ্বখ্যাত পারফিউম প্রতিষ্ঠান আল-হারামাইনের প্রধান মাহতাবুর রহমান নাসির। অনুষ্ঠানের এবারের অন্যতম আকর্ষন ছিল বিজনেস সেমিনার। এই সেমিনারে যুক্তরাষ্ট্রের বাংলাদেশী বাণিজ্য উদ্যেক্তা ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছিলেন বাংলাদেশী উদ্যেক্তাদের একটি গ্রুপ। যাদের নেতৃত্বে ছিলেন আল হারামাইন গ্রুপের প্রধান মাহতাবুর রহমান নাসির।
বিজনেস সেমিনারে কী নোট স্পীকার ছিলেন ইউটিসি এসোসিয়েটস এর প্রধান আজিজ আহমেদ। এছাড়া কোরিয়া বাংলাদেশ চেম্বারের আবু বকর সিদ্দিক, আর্জেন্টিনা-বাংলাদেশ চেম্বার এন্ড ইন্ডাষ্ট্রির সভাপতি তালুকদার আলীম আর রাজী, সিএফবি গ্রুপের গোলাম ফারুক ভুইয়া, প্লানেট ইন্সুরেন্সের জসীম উদ্দীন, সিঙ্গাপুর-বাংলাদেশ চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান, এলাইড মর্টগেজ গ্রুপের মোহাম্মদ ফাহিম জান, রেইনবো কালারের নাহিদ এ চৌধুরী, উৎসব গ্রুপের প্রধান রায়হান জামান, ফ্যামা ক্যাশ এর প্রধান ড. সাইফুল খন্দকার, এইমেক্স এর প্রধান তানভীর মাহমুদ, টাউন এমডি গ্রুপের সিইও রাহাত আল মুক্তাদির প্রমুখ। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ফাতেমা শাহাব রুমা।
এছাড়াও উদ্বোধনী দিন ছাড়াও দুইদিনের অনুষ্ঠানে ৩০জনের বেশী নতুন প্রজন্মের শিল্পীর অংশ গ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মত।
অনুষ্ঠানের আকর্ষন ছিল ফোবানা ইয়ুথ কনফারেন্স। যার সাথে সম্পৃক্ত ছিল বাংলাদেশ স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন অব নিউইয়র্ক। এই সংগঠনের উদ্যোগে আয়োজি একটি সেমিনারে বাংলা পত্রিকা’র সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশনের সিইও আবু তাহের সহ রাহাত মুক্তাদির, রায়হান জামান প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। যুক্তরাষ্ট্রে আগামী প্রজন্মকে কিভাবে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে তারা এগিয়ে যেতে পারে এবিষয়ে তারা তাদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেণ।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাইয়েদ আল আমীন। এছাড়া রিয়েল এস্টেট বিষয়ক সেমিনারে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ ফাহিম জান, ইসমাইল হোসেন, প্রমুখ। মহিলা ক্ষমতায়ন বিষয়ক সেমিনার পরিচালনা করেন ড. বিলকিস রহমান দোলা।
সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাহতাবুর রহমান নাসির বলেন, ফোবানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমরা বাংলাদেশের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐহিত্য তুলে ধরতে পারছি। যেখানেই থাকি না কেনো আমরা যেন বাংলাদেশী হিসাবে নিজেদের নিয়ে গর্ব করতে পারি। তিনি বাংলাদেশীদের সুনাম ক্ষুন্ন হয় এমন কোনো কাজ না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে। এজন্য নতুন প্রজন্মের স্বার্থে যেকোন উদ্যোগ নেয়া হলে তিনি তাতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
শুক্রবার উদ্বোধনীতে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন নাসাউ কাউন্টির প্রধান নির্বাহী লরা কারেন। তিনি বলেন, নাসাউ কাউন্টিতে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশী অভিবাসী রয়েছেন, যারা তাদের কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য তুলে ধরছেন। ফোবানা সম্মেলনের জন্য নাসাউ কাউন্টিকে বেছে নেওয়ায় তিনি ধন্যবাদ জানান আয়োজকদের।
অনুষ্ঠানে ফোবানার সদস্য সচিব আবীর আলমগীরের লেখা ফোবানা সঙ্গীত সবার দৃষ্ঠি কাড়তে সক্ষম হয়েছে। গানটির সুর করেছেন প্রখ্যাত সুরকার নাদিম আহমেদ।
ফোবানার সাংস্কৃতিক পর্বে অংশ নেয় নিউইয়র্কের সাংস্কৃতিক সংগঠন বিপা, বাফা ও আনন্দধ্বনি। তারা সঙ্গীত ও নৃত্য পরিবেশন করে উপস্থিত দর্শক-শ্রোতা ও অতিথিদের মুগ্ধ করেন। অনুষ্ঠানে সেতার পরিবেশন করেন প্রখ্যাত সেতারবাদক মোরশেদ খান অপু। তাকে তবলায় সঙ্গত করেন তপন মোদক।
অনুষ্ঠানের প্রথম পর্ব উপস্থাপনা করেন ফাতেমা সাহাব রুমা এবং দ্বিতীয় পর্ব পরিচালনা করেন আবীর আলমগীর। ফোবানার অনুষ্ঠানের অতিথি ছাড়াও ফোবানা আইকনদের উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় তারা শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন।
উদ্ধোধনী অনুষ্ঠানে বক্তাদের মধ্যে ছিলেন, ফোবানা আয়োজক কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন, ড্রামা সার্কলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি ও ৩৩তম ফোবানার আহ্বায়ক নার্গিস আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাম্বেলীওম্যান এলিসিয়া হাইন্ডম্যান, ফোবানা নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান মীর চৌধুরী, নির্বাহী সচিব জাকারিয়া চৌধুরী, টাইটেল স্পন্সর স্পন্সর উৎসব ডটকমের সিইও রায়হান জামান এবং টাউন এমডি গ্রুপের সিইও রাহাত আল মুক্তাদির।
উদ্বোধনী মঞ্চে আরো উপস্থিত ছিলেন ফোবানা সম্মেলনের প্রধান উপদেষ্টা ও মূলধারার রাজনীতিক মোহাম্মদ আমিন উল্লাহ, চিফ কনসালটেন্ট বেদারুল ইসলাম বাবলা, ফোবানা ২০১৯ আইকন রিয়েলটর জন ফাহিম, আব্দুল হাই জিয়া, কবির পাটোয়ারী, পারভীন পাটোয়ারী, গোলাম ফারুক, মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী, জিআই রাসেল প্রমুখ।
অনুষ্ঠানের শেষে মঞ্চে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট থেকে নিউইয়র্ক ডিস্ট্রিক্ট অ্যাসেম্বলীওম্যান প্রার্থী মেরী জোবায়দাকে। তাকে নির্বাচিত করার জন্য বাংলাদেশীদের প্রতি আহ্বান জানান ফোবানার আহ্বায়ক নার্গিস আহমেদ। এরপর পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র সফররত বাংলাদেশের নারী সমাজকর্মী আফরোজা পারভীন ও বাংলাদেশের পতাকা নিয়ে ১৩৩টি দেশ ভ্রমণকারী নাজমুন নাহারকে।
এছাড়া ফোবানা সম্মেলনের কার্যকারী কমিটির সভা ছিল অন্যতম উল্লেখযোগ্য। এতে সভাপতিত্ব করেন ফোবানা চেয়ারম্যান মীর চৌধুরী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সদস্য সচিব জাকারিয়া চৌধুরী। সভায় সম্মেলনের আহ্বায়ক নার্গিস আহমেদ ও সদস্য সচিব আবির আলমগীর বক্তব্য রাখেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের ফোবানা সম্মেলনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী বছর (২০২০)-এর ৩৪তম ফোবানা সম্মেলন টেক্সাসের ডালাস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে। এই সম্মেলনের হোস্ট সংগঠন বাংলাদেশ এসেআসিয়েশন অব নর্থ টেক্সাস। এছাড়াও চলতি বছরের ফোবানা সম্মেলনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২০২১ সালের ৩৫তম ফোবানা সম্মেলন হবে ওয়ামিশংটন ডিসিতে। এই সম্মেলনের হোস্ট সংগঠন থাকবে আমেরিকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ সোসাইটি।(বাংলা পত্রিকা)






একই ধরনের খবর

  • নাইন-ইলেভেনের ১৮ বছর: কী ঘটেছিল সেদিন?
  • জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচন ২৭ অক্টোবর
  • ৯/১১ : কী ঘটেছিল সেদিন
  • নাইন ইলেভেন : সন্ত্রাসী হামলার আতঙ্ক এখনো কাটেনি
  • ভয়াল ৯/১১ বুধবার
  • ‘এ-এইচ ১৬ ড্রিম ফাউন্ডেশন’র স্কুল সাপ্লাই বিতরণ
  • বাংলাদেশ সোসাইটি ভবনে ৮৬ হাজার ডলারের লীন : বাড়ী হাত ছাড়া হওয়ার আশংকা
  • লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট ফোবানা কনভেনশনে ঐক্যের আহবান : ২০২০ সালের সম্মেলন মন্ট্রিয়ল
  • Shares