সাফল্য : যুক্তরাষ্ট্রে রেসিডেন্সী পেলেন অর্ধ শতাধিক বাংলাদেশী চিকিৎসক

বিশেষ প্রতিনিধি: অভিবাসীদের দেশ যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী নানা শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে চিকিৎসা পেশায় বাংলাদেশীদের সংখ্যাও ক্রমাগত বেড়ে চলেছে। বাংলাদেশ থেকে আগত অনেক এমবিবিএস ডাক্তারগণ নিউইয়র্ক তথা যুক্তরাষ্ট্রের মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে সুনামের সাথে দেশী-বিদেশীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছেন। চলতি বছর বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন উত্তর আমেরিকা (বিএমএএনএ)-এর নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের সার্বিক সহযোগিতায় অর্ধ শতাধিক ডাক্তার বিভাগীয় বিভিন্ন মেডিক্যাল পরীক্ষায় উত্তীর্ন হওয়ার প্রাথমিক পরীক্ষা শেষে ইন্টার্নী করতে যাচ্ছেন। নিউইয়র্ক ছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে তারা ইন্টার্নী করার সুযোগ পেয়েছেন। এটি এক বড় সাফল্য হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশী-আমেরিকান সিনিয়র চিকিৎসকগণ। আর এই সাফল্যের খবরে তারা সিনিয়র-জুনিয়র ডাক্তারগণ মিলে আনন্দ সমাবেশও করেছেন। সবার সাফল্যের গল্প-গুজব আর আড্ডায় উঠে আসে নানান কথা।
এদিকে বিএমএএনএ’র নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের এমন উদ্যোগ বাংলাদেশী চিকিৎসকদের মাঝে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইন্টারর্ণী করার সুযোগ পাওয়া উল্লেখ্য, বিএমএএনএ’র সাড়ে ৭ শতাধিক সদস্য রয়েছেন। যারা নিউইয়র্ক সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে চিকিৎসা সেবায় জড়িত। বিএমএএনএ-এর নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের ইয়াং ফিজিশিয়ান কেরিয়ার এডভান্সমেন্ট প্রোগ্রাম (ওয়াইপিসিএপি) ওয়ার্কশপের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশী ডাক্তারদের সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
গত ১৫ মার্চ শুক্রবার সন্ধ্যায় সিটির ফ্লাশিং-এ আয়োজিত আনন্দ সমাবেশে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন ওয়াইপিসিএপি’র পরিচালক ডা. ফজলুল এইচ ইউসুফ, বিএমএএনএ’র নিউইয়র্ক চ্যাপাটারের সভাপতি ডা. মাসুদুর রহমান, ইয়াং ফিজিশিয়ান সেক্রেটারী ডা. বর্ণালী হাসান, সিনিয়র ডা. নূরুন্নাহার ইউসূফ রোজী প্রমুখ। এছাড়াও ইন্টারীর সুযোগ পাওয়াদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ডা. মুহাম্মদ হোসেন মিন্টু, ডা. লুবনা রহমান, ডা. তাহমিনা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বিএমএএনএ’র নিউইয়র্ক চ্যাপাটারের সেক্রেটারী ডা. আতাউল ওসমানী সহ সিনিয়র একাধিক বাংলাদেশী ডাক্তার উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ইন্টার্নী করার সুযোগ পাওয়া ডাক্তারদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয় এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ মেন্টরদের পুরষ্কার দিয়ে অভিনন্দিত করেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ইতিপূর্বে এতো বাংলাদেশী ডাক্তার একসাথে ইন্টারনীর সুযোগ পাননি। এবার সেই সুযোগ পাওয়ায় আমরা গর্বিত। আজকের দিনটি অনেক আনন্দের দিন, খুশির দিন, ঈদের দিনের চেয়েও বেশী আনন্দের দিন। কেননা, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশী-আমেরিকান চিকিৎসকের সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে একদিকে প্রবাসী বাংলাদেশী সহ অন্যান্যদের সেবার সুযোগ বাড়বে, তেমনী প্রবাসে বাংলাদেশের নামও গর্বের সাথে উচ্চারিত হবে। বক্তারা ওয়াইপিসিএপি’র ফিজিশিয়ান ওয়ার্কসপ সফল করারতে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সিনিয়র ডা. মোহাম্মদ হামিদুজ্জামান, ডা. মজিবুর রহমান মজুমদার, ডা. মুস্তাক এ সিদ্দিক, ডা. সিদ্দিকুর রহমান, ডা. ওসমান প্রমুখের অবদান কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
আরো উল্লেখ্য, ১৯৮১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত বাংলাদেশী ডাক্তারদের সমন্বয়ে প্রথম বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশন উত্তর আমেরিকা (বিএমএএনএ) গঠিত হয়। পরবর্তীতে ২০১২ সালে এই সংগঠনের কর্মকান্ড নিউইয়র্ক ভিত্তিক শুরু হয়। বর্তমানে এই সংগঠনের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৮০০ বলে ডা. ফজলুল এইচ ইউসুফ জানান।
ডা. ফজলুল এইচ ইউসুফ বলেন, আজ আমরা আমেরিকার মাটিতে বাংলাদেশী ডাক্তার হিসেবে আমরা গর্ববোধ করতে পারি। আমরা প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সবাইকে সেবা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করতে চাই।
ডা. বর্ণালী হাসান বলেন, আমেরিকার মতো দেশে ডাক্তারী পাশ করা সহজ কাজ নয়। এজন্য অনেক শ্রম ও মেধা বিনিয়োগ করতে হয়। অনেক সময় প্রবাসী বাংলাদেশী ডাক্তারদের ‘অডজব’ করে স্ত্রী-পুত্র আর পরিবারের স্বজনদের নানা কথা শুনে এগিয়ে যেতে হয়। পাশাপাশি প্রচুর অর্থেরও প্রয়োজন। তিনি প্রবাসী ডাক্তারদের সার্বিক আমেরিকায় প্রতিষ্ঠিত হতে পরিবারের সদস্যদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
ডা. মাসুদুর রহমান ইন্টার্নীর সুযোগ পাওয়া ডাক্তারদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আমেরিকায় বাংলাদেশী ডাক্তাররা সংখ্যায় বাড়ছে, এগিয়ে যাচ্ছে এটা আশার কথা, আনন্দের কথা। তিনি বলেন, এবারই বিপু সংখ্যক ডাক্তার ইন্টার্নী সুযোগ পেয়েছেন, আগামীতে এই সংখ্যা আরো বাড়বে বলেই আশা করি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর ইন্টারীর সুযোগ পাওয়া প্রবাসী বাংলাদেশী ডাক্তারদের মধ্যে রয়েছে: নাহিদ ইয়াসমীন চৌধুরী, অর্পণা দে নাথ, ফাহিম ইমতিয়াজ, মোহাম্মদ সালাউদ্দিন, পদ্মজা দেব রায়, রেশমীন আশরাফ, মোহাম্মদ হোসাই মিন্টু, নাবিল কেসি, মাইসা ইসলাম, মিসোরী পাল, শতাব্দী সাহা, লুবনা রহমান, রাশেদুল হাসান, কাজী তামান্না সুস্মিতা, মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন, ইরতিয়াজ হাসান, শতাব্দী শবনম, সিরাজুস সালেকিন মিয়া, কাজী নুসরাত জাহান, আখি মুশতারী, তাহমিনা চৌধুরী, মোসলে ইউ উদ্দিন, নার্গিস সুলতানা, তাপতি চৌধুরী, মাসুদ বিল্লাহ, আলেমা খন্দকার, তামান্না ফেরদৌস, কাজী শামীমা অফরিন, নূরজাহান খাতুন, নাদিরা, তাহসিনা সালাম নদী, স্বাগত মিত্র, আশফাক চৌধুরী, ফাহমিদা খান তুহিন, সেলিমা আলম মাহি, অলাল উদ্দিন, আনন্দ কুমার মৌলা, আন্দালিব হোসেন, লাইজুমান নাহার প্রমুখ। (সূত্র : বাংলা পত্রিকা)



« (পূর্ববর্তী খবর)



একই ধরনের খবর

  • চাঁদ দেখা যায়নি : যুক্তরাষ্ট্রে রোববার ঈদ বাংলাদেশে সোমবার
  • নিউইয়র্কে সামার স্কুল পরিকল্পনা
  • নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন উদ্বেগ করোনা আক্রান্ত শিশু
  • করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি লাখে মৃত্যু ২৮.৮জন
  • জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ডিষ্ট্রিবিউশন’ কার্যক্রম তিন শতাধিক পরিবার পেলো ‘ঈদ উপহার’
  • ফ্রেন্ডস সোসাইটির সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ডিষ্ট্রিবিউশন’ কর্মসূচী শুরু
  • করোনা : যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ২,৭৩৮ জনের মৃত্যু
  • এই যুদ্ধে জয়ী হতে হবে মা
  • Shares