শখের বসে মডেলিং করতে গিয়ে বাংলাদেশী তাহমিদ ‘আন্তর্জাতিক মডেল’ হলে চলেছেন

হককথা ডেস্ক: নাম তার তাহমিদ শহীদ। ডাক নাম ‘আদিয়াত’। দেখতে নিষ্পাপ মুখ আর আকর্ষনীয় লম্বা দেহের হ্যান্ডসাম যুবক তাহমিদের জন্ম সিলেটে হলেও বাপ-দাদার বাড়ী অর্থাৎ স্থায়ী ঠিকানা নরসিংদী। বাবার নাম ডা. আলমগীর শহীদ আর মা’র নাম নেহমিন চৌধুরী। বাবা বর্তমানে নিউইয়র্কে এপোলো ইমেজিং-এর ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত আর বাংলাদেশের স্কুল শিক্ষকা মা বর্তমানে গৃহীনি। বাবা-মা আর ছোট দুই বোন যথাক্রমে ওয়াজিয়া শহীদ ও মাজরেহা শহীদ-কে নিয়ে তাহমিদের বসবাস উডসাইড। শখের বসে মডেলিং করতে গিয়ে তাহমিদ এখন ‘আন্তর্জাতিক মডেল’ হলে চলেছেন। মাত্র এক বছরের চেষ্টায় মডেলিং করে এলেন প্যারিসে। গত ২৬ জানুয়ারী শনিবার অপরাহ্নে  সেকথাই জানালেন এই প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে।

তাহমিদ শহীদ আদিয়াত জানান, নবম গ্রেডের ছাত্র থাকাবস্থায় ২০১২ সালের মার্চ মাসে তার নিউইয়র্ক আগমন। পরিবারের সাথে বসবাস সিটির উডসাইডে। বর্তমানে সে নিউইয়র্কের ফোর্ডহাম ইউনিভার্সিটিতে পড়ছেন। গ্র্যাজুয়েশন শেষ হবে ২০১৯-এর জুনে। তার মেজর সাবজেক্ট ইকোনিমিক্স আর মাইনর সাবজেক্ট বিজনেস। তাহমিদ ভবিষ্যত একজন ‘ইনভেন্সমেন্ট ব্যাংকার’ হতে চান।
তাহমিদ জানান, মডেলিং করা তার শখ। এতে অনেক মানুষের সাথে পরিচয় হয়, ভালো লাগে। অন্য রকম অনুভূতি কাজ করে, ইত্যাদি ইত্যাদি। গেলো বছর অর্থাৎ ২০১৮ জানুয়ারী থেকেই তার শুরু মডেলিং। ক্লোথিং ব্যান্ড ‘এসট্রিড’-এর মাধ্যমেই তার মডেলিং এ পদার্পণ। পরবর্তীতে ‘মেজর মডেল এনওয়াইসি’ এজেন্সির সাথে ২ বছরের চুক্তিবদ্ধ হয়ে মডেলিং-এরকাজ করে এলেন ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে।
জানান, ‘মেজর মডেল এনওয়াইসি’ মাধ্যমে ওয়েডিং এডোটেরিয়াল, ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারীতে নিউইয়র্ক ফ্যাশন উইক-এর ওয়াক, অর্গানিক স্কীন কোম্পানী ‘আউন্স অব নেচার’ স্কীন কেয়ার প্রডাক্টের জন্য মডেলিং করেন। এছাড়াও লং আইল্যান্ডের ম্যাসাপিকুয়াতে প্রতিষ্ঠিত ‘স্টুডিও ২৭’-তে মডেলিং করেন।
গত সপ্তাহে অর্থাৎ প্যারিসে সবচেয়ে বড় শো প্যারিসের হার্কিম ব্রীজ ও প্লেস কলেট গ্যালারীতে মডেলিং-এর স্যুটিং করেন। ‘ডিস্কোয়ার্ড টু’ ব্র্যান্ডের উইন্টার ব্র্রান্ডিং করে নিউইয়র্ক ফিরেন ২২ জানুয়ারী। এজন্য চার দিন প্যারিস অবস্থান করতে হয়। প্যারিস অবস্থানকালে একাধিক মডেল প্রতিষ্ঠান তাকে মডেলিং-এর প্রস্তাব দিলেও সঙ্গত কারণে তাদের প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।
শখের মডেলিং সম্পর্কে তাহমিদ জানান, নতুন কিছু জানার জন্য ওয়াক-এ যোগ দেই। তখন ‘মেজর মডেল এনওয়াইসি’-এর বুকার চেলসি’র নজর কাড়লে তাকে এই প্রতিষ্ঠানের মডেল হওয়ার অফার দেয়া হয়। বলেন, মা-বাবার অনুপ্রেরনা সব সময় সাথে আছে। পরিবারের সহযোগিতার পাশাপাশি স্বাধীনভাবে চলাফেরা আর লেখাপড়ার সুযোগই তাকে মডেলিং করার সুযোগ করে দিয়েছে। জানান, লেখাপড়ার পাশাপাশি নিয়মিত মডেলিং চালিয়ে যাওয়ার কথা।
এক প্রশ্নের জবাবে তাহমিদ জানান, মডেলিং সম্পর্কে কারো কারো খারাপ ধারনা থাকলেও তার কাছে মডেলিং খারাপ না। মডেলিং-এও ভালো মানুষ আছে। নিজেকে ভালো রাখা বা ভালো থাকার সুযোগ রয়েছে। এটা নির্ভর করে নিজের উপর। তবে মডেলিং করা সহজ কাজ নয়। প্রফেশনাল মডেলিং করতে অনেক কষ্ট করতে হয়। ভলো মডেল হতে হলে- ভালো করে কথা বলা জানতে হবে, সময়ের প্রতি সচেতন হতে হবে। নিজের আতœবিশ্বাস থাকতে হবে। সেই সাথে মাইন্ডসেট ভেরী ভেরী ইমপোর্টেন্ট। (বাংলা পত্রিকা)






Shares