যুদ্ধ এড়াতে চাইছে ট্রাম্প ও কিম জং উন?

সাহেদ আলম: সরকার পরিচালনা যে আগের ভাবনার চেয়ে অনেক কঠিন সেটি জানিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ক্ষমতা গ্রহনের শততম দিন উপলক্ষে রয়টার্স কে দেয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, তার আগের জীবন অনেক ভালো ছিল। সেই দিনগুলিকে মিস করেন অনেক। এই হতাশার পেছনে অনেক কারণ।তার নির্বাচনী ওয়াদার ৯০ ভাগ তিনি প্রথম ১০০ দিনে দেখাতে পারেন নি। একের পর এক আইনী পদক্ষেপে আটকে গেছে মূল সব নির্বাহী আদেশ। মেক্সকো সীমান্তে দেয়াল নির্মানের টাকা দিতে চায়নি কংগ্রেস। সেটিকে বাদ রেখেই চুড়ান্ত হয়েছে পরবর্তী বছরের বাজেট। আর ওবামা কেয়ার বাতিলের জন্য নতুন যে স্বাস্থ্য নীতি নিয়ে এসেছেন সেটাতে রাজ্যের কোষাগার থেকে বাড়তি টাকা যেতে পারে তাই আইন প্রনেতারা সেটিতে আটকে দিয়েছেন।অথচ ট্রাম্প বার বার বলেছেন প্রথম ১০০ দিনের মধ্যেই বাতিল করবেন ওবামা কেয়ার। বাস্তবতা হচ্ছে, তৃতীয়বারের ভুটাভুটিতেও সেটি আলোর মুখ দেখবে না বলেই বলছে সিএনএন, কেননা খোদ রিপাবলিকান দলের সিনেটরদের বড় অংশ ওবামাকেয়ারের স্থলে আনীত নতুন বিল নিয়ে সন্তুষ্ট নন। কেননা, রাজ্যের কোষাগারে এত খরচের টাকা নেই। এর মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ টানতে এক পা বাড়িয়েও সেখানে দ্বিত্বীয় বার ভাবছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেমনটিই মনে হচ্ছে সাম্প্রতিক আলোচনায়।
নিশ্চই আরেকটি যুদ্ধ দেখতে চাইনা বলেই এই ভাবনায় লিখছি। যদিও পরিস্থিতি এবং রণসজ্জা এতটাই প্রবল যে যেকোন সময় হয়তো আরেকটি মরনঘাতি যুদ্ধের দামামা বেধে যেতে পারে। কি ধরনের রণসজ্জা সেটা নিয়ে একটু পরে বলছি তবে তার আগে বলে নেই যে, মে মাসের ১ তারিখ থেকে বেশ কিছু ইঙ্গিত মিলেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রসাশন , রাশিয়া, চায়না এমন কি উত্তর কোরিয়ার তরফে,যেগুলি যুদ্ধটা না হওয়ার সম্ভাবনার কথাই বলছে।
ট্রাম্প প্রসাশন দায়িত্ব নেয়ার পরে খুব বেশি দিন সময় নেননি বিশ্বকে নতুন একটি বার্তা দিতে যে যুক্তরাষ্ট্র আবার গায়ের জোর নীতি প্রয়োগে ফিরে এসেছে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার শাসনামলে যুদ্ধ আর আক্রমনের চেয়ে দ্বিপাক্ষিক এবং স্ট্রেটেজিক পেশেনস বা কৌশলগত ধ্য্যৈ ধারনের নীতিতে তিনি এগিয়েছিলেন।সেই প্রক্রিয়ায় কিউবার সাথে কুটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল, ইরানের পরমানু অস্ত্র কর্মসুচির রশি টেনে ধরেছিলেন ওবামা, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলকে চাপে রেখেছিল ওবামা, আর উত্তর কোরিয়ার সাথে খুব বেশি বাদানুবাদ তৈরী হয়নি। তবে তার এই দ্বিপাক্ষিক পথে শান্তি প্রতিষ্টায় বড় রকম দূর্বলতা দেখেছিলেন তৎকালীন প্রেসিডেন্ট প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তার কৌশল ছিল বল প্রয়োগ করে শান্তি প্রতিষ্টা। পিস থ্রু পাওয়ার, বলে একটি কথা তিনি প্রায়শই বলতেন। সেসময়ে করা ইরানের সাথে চুক্তি, কিউবার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নসহ নানা বিষয়ে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে বলতেন, আমেরিকাকে দূর্বল করেছেন ওবামা।তবে দায়িত্ব নেয়ার বেশ কিছু দিনের মধ্যে তিনি বুঝে উঠেন যে, যতটা সহজ তিনি ভাবছেন সব সহজ নয়।বিশ্বের অস্বস্থিপূর্ন স্থানগুলো ট্রাম্পের জয়ে সতর্ক হয়নি, তাই ক্ষেপে গিয়েছেন বিশ্বের সবচে শক্তিধর রাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট। তার শক্তি দেখিয়েছেন সিরিয়ার একটি বিমান ঘাটি ধ্বংশ করে দিয়ে। বশির আল আসাদকে ক্ষমতায় রাখা হবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন, যদিও এর পর এ নিয়ে কোন কৌশলগত পন্থার দিয়ে মনোযোগ দিতে দেখিনি আমরা।
এর পর, আফগানিস্থানের একটি দূর্গম এলাকায় আইএস জঙ্গিদের দ্বারা একজন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ২ দিন পরেই প্রায় এক যুগ ধরে অব্যহৃত একটি শক্তিশালী বোমা যেটাকে বলা হয় মাদার অফ অল বোম, সেটা নিক্ষেপ করেছেন। আর ট্রাম্প দায়িত্ব নেয়ার পর পরই যখন জাপানের প্রধানমন্ত্রী জাপান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কন্নয়নের জন্য হোয়াইট হাউস সফর করছিলেন ঠিক সে সময়ই জাপান সাগরে একাধিক ক্ষেপনাস্ত্র পরিক্ষা চালিয়ে উত্তর কোরিয়ার যুবক স্বৈর শাসক কিম জং উন, রাগিয়ে দিয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। সে কারনেই ট্রাম্প প্রশাসন হুমকি দিয়ে রেখেছে আর একটি আর্ন্ত মহাদেশীয় বা দুর পাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র পরিক্ষা চালালেই আক্রমন করা হবে পিয়ংইয়নকে। সেই হুমকির মধ্যেই কেটেছে গেল তিন সপ্তাহ। এর মধ্যে একটি মাঝারি ধরনের ক্ষেপনাস্ত্র পরিক্ষা করতে গিয়ে সেটি ব্যার্থ হলেও, যুক্তরাষ্ট্রের সবচে বড় রণতরী ইউএসএস কার্ল ভিনসন আর দ্বিত্বীয় বৃহত সাবমেরিন বা ডুবন্ত যুদ্ধজাহাজ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে কোরিয়া পেনিনসুলাতে। ঐ সাবমেরিন টিতে প্রায় সাড়ে ৬ শত টমহ্যাক ক্ষেপনাস্ত্র মজুদ আছে। আর কাল ভিনসনের সামরিক প্রস্তুতিতে পারমানবিক অস্ত্র সংযুক্ত আছে। এমনিতে জাপান আর দক্ষিন কোরিয়াতে বর্তমানে ৬২ হাজার মার্কিন সেনা আছে, সাথে কার্ল ভিনসনের মাধ্যমে যুক্ত হয়েছে আরো বেশ কয়েক হাজার। সব মিলিয়ে পেন্টাগত তৈরী উত্তর কোরিয়া আক্রমনে। এমনকি মে মাসের ২ তারিখে দক্ষিন কোরিয়াতে, সাম্ভাব্য পরমানু ক্ষেপনাস্ত্র বা বিমান বিধ্বংশী কৌশল হিসেবে ‘থার্ড অপারেশন সিস্টেম’ নামে একটি বিতর্কিত রণ প্রস্তুতি সম্পন্ন করে রেখেছে। ২ দিন আগেও যেটা মনে হচ্ছিল যে কোন সময় আক্রমন, সেটির প্রস্তুতি ঠিক থাকলেও সাম্প্রতিক কথা বার্তায় পরিস্থিতি আপাত শান্ত হওয়ার একটি আভাষ মিলেছে।
ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ক্ষমতায় শততম দিন পালন উপলক্ষে সিবিএস এর ফেস দ্যা নেশন এর উপস্থাপন জন ডিকারসন কে যে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সেখানে পরোক্ষভাবে কিম জং উনকে প্রসাংশা করেছেন এবং তাকে ‘স্মাট কুকি’ বা চালাক মাল বলে অভিহিত করেছেন। সেই সাথে এটাও বলেছেন যে, কিম উত্তর কোরিয়ার দায়িত্ব নেয়ার পর তার ক্ষমতাকে কেড়ে নেয়ার কিছু সম্ভাবনা তৈরী হয়েছিল। তার জন্য তার চাচা, কিংবা সেনা বাহিনীর জেনারেলদের দমন করে ক্ষমতায় টিকে থাকাটা একটা চ্যালেন্জ ছিল , সেগুলি সে কাটিয়ে উঠেছে। এমনকি পরের দিন ডোনাল্ড ট্রাম্প সবাইকে অবাক করে দিয়ে বলেছেন, তিনি অবস্যই কিম জং উনের সাথে বৈঠক করতে চান।
এই একই সময়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প কথা বলেছেন উত্তর কোরিয়ার মদদদাতা হিসেবে পরিচিত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে। পুতিন এর আগে উত্তর কোরিয়া পরিস্থিতিকে ভয়ংকর ঝুকির দিকে আগাচ্ছে বলে সতর্ক করেছিলেন। এবং গরম গরম কথা বার্তা পরিহার করার জন্য বলেছিলেন। গরম গরম কথা বার্তা শুধু আমেরিকার পক্ষ থেকে আসেনি, এসেছে উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকেও। তাদের পারমানবিক অস্ত্র দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভুমি ছাই ভষ্ম বানিয়ে ছেড়ে দেবে বলে হুঙ্কার দিয়েছিল কিম জং উন। শুধু তাই নয়, বরং যে কোন মূল্যে পারমানবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম আইসিবিএম বা ইন্টার কন্টিনেন্টাল ব্যালেস্টিক মিসাইল পরিক্ষা করা হবে বলে কট্টর প্রতিজ্ঞা ছিল পিয়ং ইয়ং এর।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোরিয়াকে থামাতে চীনের প্রেসিডেন্ট শিং পে কে অনুরোধ করেছিলেন। এবং বার বার এটা বড় গলায় বলেছেন যে, চীনের প্রেসিডেন্ট অনেক কষ্ট করছেন, কোরিয়াকে থামাতে। এটা বড় চেষ্টা এবং এই চেষ্টা ব্যর্থ হলেই তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন কোন পথ খোলা আছে। সেই চেষ্টার মধ্যেই কোরিয়া যে কিছুটা পরিস্থিতি বুঝতে পেরেছে তার প্রমান হলো, সে দুর পাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র পরিক্ষার পরিবর্তে মান সম্মান রক্ষার মত একটি বিষয় বোঝাতে একটি ২৫ মাই্ল দুরত্বের ক্ষেপনাস্ত্র পরিক্ষা করেছে, সেটিও নাকি বার্থ হয়েছে। বিষয়টি একেবারেই বজ্রমেঘের হুঙ্কারের মধ্য সামান্য ছিটে ফোটা বৃষ্টির মত। এর মধ্যদিয়ে ট্রাম্পও বুঝতে পেরেছেন উত্তর কোরিয়ার সামরিক সামর্থ কতখানি, কিম জং উন বোঝাতে চেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকিতে ভীত হয়নি উত্তর কোরিয়া, তাই একটি ক্ষেপনাস্ত্র পরিক্ষা করে মান বাচাতে চেয়েছেন। এসব বিষয় বলছে পরিস্থিতির বরফ গলছে, এবং যুদ্ধের পথের বিপরিতে কোন পথ খোলা আছে সেদিকেই হাটতে চাইছে দুই পক্ষই।
তবে পথটা যে খুব সহজ তেমনটা নয়। যুক্তরাষ্ট্র আর তার মিত্র দেশ জাপান ও দক্ষিন কোরিয়া চাইবে না ঘরে বিষফোড়াটা বাড়তে থাকুক। কি সেই বিষফোড়া? সেটি হলো উত্তর কোরিয়ার পারমানবিক আক্রমনের সক্ষমতা অর্জন। সেই অর্জন এরি মধ্যে করে ফেলেছে উত্তর কোরিয়া। তাদের কয়েক হাজার করে স্বল্প আর মাঝারি পাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র আছে যেটি দিয়ে দক্ষিন কোরিয়া কিংবা জাপান এমনকি প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়ামে যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাটি আছে সেটিতে আঘাত হানতে পারে। আরো বেশি হলে হাওয়াই দ্বীপপুন্জ এমনকি আলাক্সার কোন শহরে আঘাত হানার সক্ষমতা অর্জন করেছে বলে দাবী করা হচ্ছে। উত্তর কোরিয়ার আন্ত মহাদেশীয় পারমানবিক সক্ষমতায় যে গতিতে আগাচ্ছে তাতে ২০২৭ সাল নাগাদ তারা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম হতে পারে বলে এরই মধ্যে সিনেট শুনানীতে সাক্ষ্য দিয়েছেন প্রশান্ত মহাসাগরীয় অন্চলের সামরিক কমান্ডার এ্যাডমিরাল হ্যারি হ্যারিস। পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স তিলারসন তাই দেড় সপ্তাহ আগে স্পষ্ট করে বলেছেন, আগে উত্তর কোরিয়ার ধারণা ছিল যে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো তার সরকারেক উৎখাত করতে চাইছে। তাই টিকে থাকার প্রয়োজনেই সে পারমানবিক শক্তির মহড়া দেখানো ছাড়া আর কোন পথ খোলা নেই বলে মনে করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বেশ স্পষ্ট, তাকে ক্ষমতায় থাকতে হলে উত্তর কোরিয়াকে পারমানবিক অস্ত্রমুক্ত করতে হবে।সেটাই একমাত্র পথ বলে তিলারসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নিশ্চই ডোনাল্ড ট্রাম্প সে নিয়েই কথা বলতে চাইছেন কিম জং উনের সাথে।
তবে কিম জং উন তার যে শত বছরেরর পারিবারিক শাসন, সেই শাসনের ভিত্তিই হচ্ছে উত্তর কোরিয়াকে পারমানবিক অস্ত্র সমৃদ্ধ করা। দেশে মানুষ না খেয়ে মরলেও তারা অস্ত্র কর্মসুচি থেকে বিরত হননি। লিবিয়া, ইরাক, আফগানিস্থান, মিশরে সরকার প্রধানকে ফেলে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, শুধু ঐসব দেশের শাসকদের হাতে পারমানবিক অস্ত্র ছিল না বলে, এমন বিশ্বাস করেন অনেকেই। তাই কিম জং উন সহজেই চাইবেন না তার পরমানু অস্ত্র নিরস্ত্রকরণের পথে হাটতে।
সেসব দিক বিবেচনায় কোন সরল সমাধান নেই এখই এই যুদ্ধাবস্থার। তবে বারাক ওবামা যেই স্ট্রাটেজিক পেশেনস দেখিয়েছিলেন, আপাতত উত্তর কোরিয়া কোন পরিক্ষা নিরিক্ষা না করে, চুপ চাপ তাদের পারমানবিক কর্মসুচিকে চালিয়ে নেয়ার পথেই হাটতে চাইবেন। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র চাইবে তাকে পরমানু অস্ত্র নিরস্ত্রকরণ করতে। দেখা যাক পথ কোন দিকে মোড় নেয়। তকে এসব আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান যে যুদ্ধটা সম্ভবত এখন থামিয়ে দেয়া যাচ্ছে। তেমনটি হলেই মানবতার শান্তি, না হলে কেউই যে রক্ষা পাবে না এই মরণঘাতি লড়াইয়ে।
লেখক: সাংবাদিক,কলাম লেখক
নিউইয়র্ক।






একই ধরনের খবর

  • স্মৃতিতে ১৭ মে: ঐক্য ও অস্তিত্বের প্রতীক শেখ হাসিনা
  • ‘ওহ, দ্য সেইম বাংলাদেশী পিপল’
  • বাংলাদেশের প্রস্তাবিত নাগরিকত্ব আইন ও প্রবাসীদের অধিকার
  • ভাষা আন্দোলন ও মওলানা ভাসানী
  • রত্মগর্ভা এক মায়ের চলে যাওয়া
  • সেই ৬ ডিসেম্বর
  • স্মৃতি রক্ষায় ‘কাস্ত্রোর’ অনিহা ॥ বিস্মৃতির তলানিতে ‘বঙ্গবন্ধু’
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked as *

    *

    Shares