যুক্তরাষ্ট্রে প্রকাশিত গ্রন্থে বিশ্বনেতাদের অন্যতম শেখ হাসিনা

ঢাকা: যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি.সি তে মঙ্গলবার (২৭ জুন) ‘নারী রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী’ শীর্ষক একটি গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। গ্রন্থটিতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
গ্রন্থটির লেখক বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী ও শিক্ষাবিদ রিচার্ড ও’ব্রাইয়েন। তিনি বর্তমান বিশ্বের ১৮ জন নারী জাতীয় নেতার তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিশেষভাবে উপস্থাপন করেছেন। বইয়ের প্রচ্ছদে বিশ্বের আরও ছয়জন শীর্ষ নেতৃবৃন্দর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবিও স্থান করে নিয়েছে।
লেখক গ্রন্থটিতে গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় একনিষ্ঠতা ও কঠোর পরিশ্রম, তাঁর জীবননাশের চেষ্টা এবং বাংলাদেশের ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার ঐতিহাসিক অর্জন লিপিবদ্ধে ৩ পৃষ্ঠা উৎসর্গ করেন। এ প্রসঙ্গে লেখক শেখ হাসিনার এই উক্তি উদ্ধৃত করেন যে, ‘বাংলাদেশকে যখন দারিদ্রমুক্ত, ক্ষুধা মুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হব তখন হয়ত আমি বলতে পারব যে আমি এখন গর্বিত।’
ওয়াশিংটন ডি. সি.র ওমেন্স ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ক্লাবে বইটির মোড়ক উন্মোচিত হয়। এসময় বিদেশি কূটনীতিক, নারী নেতৃবৃন্দসহ সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘অধিকতরও স্থিতিশীল, অধিকতরও গণতান্ত্রিক ও কম সহিংসতাপূর্ণ’ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আত্মত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন গ্রন্থাকার রিচার্ড ও’ব্রাইয়েন। বইয়ে প্রধানমন্ত্রীর পারিবারিক পটভূমির কথা উল্লেখ করে বলা হয়, তাঁর পিতা শেখ মুজিবুর রহমান আধুনিক বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জনক ও দেশটির প্রথম রাষ্ট্রপতি ছিলেন। ১৯৭৫ সালে ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকান্ডে ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তারা পরিবারের অন্যান্যরা নির্মম হত্যাকান্ডের শিকার হলেও শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহেনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গিয়েছিলেন।
রিচার্ড বলেন, শেখ হাসিনা নির্বাচনী জালিয়াতি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে শক্ত হাতে রুখে দাঁড়াতে ১৯৮১ সালে নির্বাসন থেকে দেশে ফিরে এসেছিলেন। সেসময় তিনি আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। এজন্য ৮০’র দশকে তাকে অনেক নির্যাতন, জুলুম সহ্য করা সহ গৃহবন্দী হয়ে থাকতে হয়েছিল।
লেখক আরও বলেন, তখনকার শাসনব্যবস্থায় নিপীড়িত হওয়া সত্ত্বেও শেখ হাসিনা এত শক্তিশালী ছিলেন যে তাঁর দৃঢ়তায় ১৯৯০ সালে একটি অভ্যুত্থানে তখনকার শাসককে (জেনারেল এরশাদ) পদত্যাগে বাধ্য হয়েছিল। ২০০৪ সালে ঢাকায় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে নিয়ে ভয়ঙ্কর হামলা করা হয়। যে হামলায় বহু লোক হতাহত হয়েছিল। সেই সঙ্গে ২০০৭ সালে তাকে আবারো গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ২০০৮ সালের নির্বাচনের আগেই তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার।
রিচার্ড আরও বলেন, বর্তমানসহ শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন তিনবারের সরকারের সময়ে দেশকে অস্থিতিশীল ও সংহিংসতাপূর্ণ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা বারবার করা হয়ে হয়েছে। তবে এত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন বেশকিছু যুগান্তকারী পদক্ষেপগ্র্রহণ করতে সক্ষম হয়েছে। তারমধ্যে ১৯৯৭ সালে ‘পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি’, স্থলমাইনের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ ও ক্ষুদ্র ঋণ সম্মেলনে সভাপতিকে সহায়তা ও নারী কল্যাণ গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাসহ অনেক কর্মকান্ড।
রিচার্ড লেখেন, বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও গণতন্ত্র প্রচারণার জন্য শেখ হাসিনাকে তাঁর অসামান্য কর্মকান্ডের পুরষ্কার স্বরূপ ‘মাদার তেরে-সা অ্যাওয়ার্ড, ‘গান্ধী অ্যাওয়ার্ড’ এ ভূষিত করা হয়েছে।






একই ধরনের খবর

  • মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৭ নভেম্বর
  • কানাডায় সুরেন্দ্র সিনহা, পদত্যাগের বিষয়টি অনিশ্চিত!
  • প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ?
  • শহীদ নূর হোসেন দিবস ১০ নভেম্বর : ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ আর ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর
  • প্রধানমন্ত্রীর গল-ব্লাডারে সফল অস্ত্রোপচার, সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন : তথ্য সরবরাহে গোপনীয়তা
  • নিউইয়র্কে প্রবাসী নাগরিক সম্বর্ধনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : ভোটারদের মন জয় করেই আগামী নির্বাচনে জয়ী হতে হবে
  • রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংস নির্যাতন: ৭৩ হাজার রোহিঙ্গার বাংলাদেশে আশ্রয় : রাখাইনে ৮৬ হিন্দু হত্যার শিকার
  • Shares