যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রণহীন করোনা পরিস্থিতি : তিনমাসে লোকসান ৭ বিলিয়ন ডলার : দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে নিউইয়র্ক

এমদাদ চৌধুরী দীপু: ক্রমেই বাড়ছে লোকসান। দেউলিয়া হওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্রের ফুসফুসখ্যাত ওয়ার্ল্ড ক্যাপিটাল নিউইয়র্ক রাজ্য। কেন্দ্রীয় সরকারের সাহায্য না পেলে তিনমাসে যে লোকসান হয়েছে আগামীর লোকসান মিলে এক ভয়াবহ পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে ৯০ লাখ মানুষের শহর নিউইয়র্কবাসীর জন্য। এদিকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি। মৃত্যু কমলেও বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্যা। এক দিনে আক্রান্ত বেড়েছে ২৯ হাজার আর মৃত্যু বেড়েছে ১,৮৬০ জন। যুক্তরাষ্ট্রে মোট আক্রান্ত ৭ লাখ ৩৮ হাজার ৭৯২ জন। আর মৃতের সংখ্যা ৩৯ হাজার ১৪ জন। এদিকে নিউইয়র্কে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ হাজারের উপরে, কমেছে মারা যাওয়ার সংখ্যা। গত ২৪ ঘন্টায় ৫৪০ জনের মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব তথ্য ওয়ার্ল্ডোমেটারের। এই সংস্থার তথ্যমতে আলাচনায় থাকা পাঁচ রাজ্যে আক্রান্ত এবং মৃতের সংখ্যা যথাক্রমে নিউজার্সীতে করোনা সনাক্ত ৮১ হাজারের উপরে, মারা গেছেন ৪০৭০ জন, ম্যাসাসুয়েটস অঙ্গরাজ্যে সনাক্ত হয়েছে ৩৬ হাজারের উপরে, মারা গেছেন ১৫৬০ জন, পেনসেলভেনিয়ায় সনাক্ত হয়েছেন প্রায় ৩২ হাজার, আর মারা গেছেন ১১০২ জন, মিশিগানে সনাক্ত রোগী প্রায় ৩১ হাজার, মৃত্যু ২৩০৮ জন, ক্যালিফোনিয়ায় আক্রান্ত প্রায় ৩১ হাজার আর মৃত্যু ১১৪৭জন।

যুক্তরাষ্ট্রে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৬৮ হাজারের উপরে, একদিনে ৮ হাজার করোনা রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এদিকে এসব তথ্যের বাইরেও মৃত্যু এবং আরোগ্য হওয়ার খবর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের কাছে। তবে নিউইয়র্ক-এর গভর্ন কুমো বলেছেন যারা করোনা পজেটিভ এর তথ্য গোপন করবেন তাদেরকে জরিমানা করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতির শুরু থেকে রাষ্ট্রীয় এবং রাজ্য সরকারসহ সিটি কর্পোরেশনের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে বিশ্লেষণ করেছেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারুল ইসলাম। তার কাছে জানতে চেয়েছিলাম নিউইয়র্কে এই মহামারী আর্থিকভাবে কী প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে এই সিনিয়র সাংবাদিক দিয়েছেন উদ্বেগজনক তথ্য। তিনি মনে করেন, রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডেমোক্র্যাটদের একটা শিক্ষা দেয়ার জেদ ভুলতে পারছেন না এই বৈশ্বিক মহামরীতে। একটা দুরত্ব স্পষ্ট নিউইয়র্ক এর গভর্নর এন্ড্রো কুমো এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ, বিভিন্ন কথা, মন্তব্য, টুইট-এর মাধ্যমে এসবের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, তিনমাসে যে ৭ বিলিয়ন ডলার ঘাটতিতে রয়েছে নিউইয়র্ক-এর ফলে ব্যাংকগুলো দেউলিয়া হওয়ার আশংকা রয়েছে। ফেডারেল এর সাহায্য যদি ষ্টেট না পায় তাহলে একটি অনিবার্য মহামন্দার মুখোমুখী হবে নিউইয়র্ক রাজ্য সরকার।
এদিকে শুক্রবারও (১৭ এপ্রিল) বাংলাদেশীদের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তবে বিভিন্ন সংগঠন এগিয়ে আসার কারনে কবর, ফিউনারেল, জানাজা এসব নিয়ে কাউকে সমস্যায় পড়তে হচ্ছেনা।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যমে গুরত্ব পাচ্ছে তিনধাপে উত্তর আমেরিকাকে আবার খোলে দেয়ার ভাবনা। যদিও প্রেসিডেন্ট ট্রম্প-এর এই ভাবনাকে বাস্তবতা বিবর্জিত মনে করেন রাজনৈতিক নেতারাসহ বিভিন্ন ষ্টেটের গভর্নররা।
নিউইয়র্ক, ১৮ এপ্রিল, ২০২০ইং






একই ধরনের খবর

  • করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি লাখে মৃত্যু ২৮.৮জন
  • যুক্তরাষ্ট্রে দুই কোটি ৫৭ লাখ বেকার : শ্রম বিভাগে আবেদন জমা পড়া অব্যাহত
  • করোনা : যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ২,৭৩৮ জনের মৃত্যু
  • পেনসেলভেনিয়ায় ব্যবসায়ীদের শাটডাউন স্থগিতের আবেদন খারিজ
  • ৫ হাজার থেকে মৃত্যু ৬৪ হাজারে, সনাক্ত ২ লাখ থেকে ১১ লাখ, টেস্ট সম্পন্ন হলো ৬৪ লাখ মানুষের
  • পহেলা মে ফ্লোরিডায় লকডাউন খুলে দেয়া হচ্ছে : মায়ামী পার্ক ব্যবহারে থাকবে সাবধানতা
  • যুক্তরাষ্ট্রে করোনার চিত্র : এক সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ১৮,৭২০ থেকে ৩৭,১৫৪ জনে
  • Shares