আক্রান্ত বাড়েনি, সুস্থতা দ্বিগুণের উপরে, কাটেনি উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে করোনার চিত্র : এক সপ্তাহে মৃত্যু বেড়েছে ১৮,৭২০ থেকে ৩৭,১৫৪ জনে

এমদাদ চৌধুরী দীপু: এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে সনাক্ত হওয়া রোগী বেড়েছে ২ লাখ, গত সপ্তাহে একই হার ছিল। আর মৃত্যু বেড়েছে ১৮ হাজার এর উপরে এটি আগের সপ্তাহের চেয়ে দ্বিগুণের উপরে। সুস্থ হয়েছেন দ্বিগুণ। তবে কাটেনি উদ্বেগ, আতংক একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড নিউইয়র্কে, ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ১০২৫ জন। পুরো যুক্তরাষ্ট্রে মারা গেছেন ২৪ ঘন্টায় ২৫৭৪জন। এসব তথ্য ওয়ার্ল্ডোমেটারের। প্রতিঘন্টায় মারা যাচ্ছেন ৪২জন। নিউইয়র্কে এখন আক্রান্ত রোগী ২,৩৩,৯৫১ এর উপরে, মোট মৃত্যু ১৭,১৩১ জন, শুধু নিউইয়র্ক নয় করোনার চিত্র এখন উদ্বগজনক অবস্থায় যে সব অঙ্গরাজ্যে, নিউজার্সী, সনাক্ত ৭৮ হাজারের উপরে, মৃত্যু ৩৮৪০ জন, ম্যাসাসুয়েটে সনাক্ত ৩৪ হাজারের উপরে, মৃত্যু ১৪০৪ জন। মিশিগানে সনাক্ত, ৩০ হাজারের উপরে, মৃত্য ২২২৭ জন, ক্যালিফোর্নিয়ায় সনাক্ত ২৯ হাজারের উপরে, মৃত্যু ১০৪১ জন, পেনসেলভেনিয়ায় সনাক্ত ২৯ হাজারের উপরে, মৃত্যু ৯৫৯ জন, লুসিয়ানা, সনাক্ত হয়েছে ২৩ হাজারের উপরে, মৃত্যু ১২১৩জন। ফ্লোরিডায় সনাক্ত ২৪ হাজারের উপওে, মারা গেছেন ৭২৬জন। এদিকে করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ রাখা হয়েছে ইমিগ্রেশনের সকল কর্মকান্ড।
গত ২৯ ফেব্রæয়ারী যুক্তরাষ্ট্রে করোনা আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে। প্রথমে একজন, পরে দু’জন আর এখন ৭ লাখের উপরে। প্রতিবেদনে গত ২৩ মার্চ থেকে বিভিন্ন রাজ্যে করোনায় আক্রান্ত, মৃত্যু এবং আরোগ্য হওয়ার চিত্র তুলে ধরা হলো।
যুক্তরাষ্ট্রে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে নিয়মিত খোঁজ-খবর রাখছেন নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শিবলী চৌধুরী কায়েস। তার সাথে কথা হয় যুক্তরাষ্ট্র এবং নিউইয়র্ক এর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে। তিনি মনে করেন আগে রাষ্ট্র বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিলেও এখন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং এটি নিয়ন্ত্রনে আসবে এমনটি আশা করা যায়। শুরুতে রাষ্ট্র এবং নাগরিক এমনকি বাংলাদেশীরা এটিকে গুরুত্ব না দেয়ায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশী কমিউনিটির ভূমিকার প্রশংসা করে কায়েস বলেন, এখন পর্যন্ত কোন বাংলাদেশীর জানাজা ছাড়া দাফন হয়নি। বাংলাদেশী যারা মারা গেছেন, আক্রান্ত হয়েছেন এবং কর্মহীন হয়েছেন এছাড়া যারা ব্যবসা হারিয়েছেন তাদের ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে বলে করেন এই সাংবাদিক নেতা।
এক মাস ১৭দিন পেরিয়ে করোনা পরিস্থিতি ভয়ংকর রুপ নিয়েছে। এখন আক্রান্ত লাখ লাখ শুধু এই খবর নয়, এপ্রিল মাস এর শেষে লক্ষপ্রাণের মৃত্যুর খবর আসলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবেনা। হোয়াইট হাউস সেই বার্তা দিচ্ছে উত্তর আমেরিকার নাগরিককে। শুধু বার্তা নয় লক্ষাধিক মানুষকে কবর দেয়ার জন্য ইতিমধ্যে গণকবর শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুর মিছিল চলছে বাংলাশেীদের, এখানে প্রবাসীদের দিন শুরু হয় মৃত্যুর সংবাদ শুনে। ১৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত রোগী ৭লাখ ৭ হাজারের উপরে, মৃত্যু ৩৬,৯২২ জন, শুক্রবারে এই সংখ্যা ছিল ১৮,৭২০জন। সুস্থ হয়েছেন ৫৯,১৫৮ জন, শুক্রবারে এই সংখ্যা ছিল ২৭,২৩০জন। মৃত্যু এবং সুস্থ হওয়ার সংখ্যা বাদ দিলে এখন আমেরিকার ৫০ রাজ্য সহ অন্যান্য বড় শহরে বিভিন্ন হাসপাতালে রোগী প্রায় ৬ লাখ।
গত ২৩ মার্চ আমেরিকায় আক্রান্ত ছিল ৪২ হাজারের উপরে। গত ৩০ মার্চ সেটি দাঁড়ায় ১ লাখ ৬৪ হাজারের উপরে। গত ১০ এপ্রিল সেটি দাঁড়ায় ৫ লাখ ২ হাজার, তিন সপ্তাহেই বেড়েছে সাড়ে ৬ লাখ। প্রথমে ছিল সপ্তাহে এক লাখ বৃদ্বি, পরে সেটি দাঁড়ায় সপ্তাহে ২ লাখ বৃদ্ধিতে, এই সপ্তাহে আগের সপ্তাহের ধারাবাহিকতা রয়েছে। আক্রান্তের হার একটু কমলেও তিন সপ্তাহে আমেরিকার করোনা চিত্র ভয়ংকর রুপ নিয়েছে মৃত্যু বিবেচনায়। আগামী সপ্তাহে আকস্মিক কিছু যদি না হয়, কোন প্রতিষেধক কিংবা আবিস্কার যদি অবনতি আটকাতে না পারে তবে লক্ষাধিক মানুষের প্রাণহানী হতে পারে আমেরিকায় এমন আশংকার কথা বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়া হচ্ছে।
এদিকে বিপুল সংখ্যক মানুষের প্রানহাণীর কারনে লাশ পুড়িয়ে ফেলার সিদ্বান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে লাশ পুড়ানোর খবর এখনো পাওয়া যায়নি। ইতিমধ্যে গণকবর শুরু হয়েছে। আর কোন বাংলাদেশীকে গণ কবরে কবর দেয়া হয়নি।
মাত্র ৫১৭ জনের মৃত্যু ছিল গত ২৩ মার্চ, সপ্তাহ শেষে সেটি দাঁড়ায় ৩১৬৫ জনে গত ৩০ মার্চ। গত ১০ এপ্রিল মৃতের সংখ্যা দাঁড়ায় ১৮,৭২০ জন। শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) এই সংখ্যা ৩৬ হাজার ৯২২ জন। তিন সপ্তাহে মৃত্যুই বেড়েছে ৩৬ হাজার এর উপরে। এসবের বিপরীতে আরোগ্য আছে প্রায় ৫৯,১৫৮ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৭টি রাজ্যে নেই আরোগ্য হওয়ার সুখবর। নিউইয়র্কসহ বিভিন্ন রাজ্যে বিভিন্নœ সংখ্যায় সুস্থ হচ্ছেন এমন রাজ্য হচ্ছে ২৩টি। সামগ্রিক বিবেচনায় চরম নাজুক এক পরিস্থিতির দিকে যাচ্ছে যুক্তরাস্ট্রের করোনা পরিস্থিতি।
প্রায় দেড়মাস থেকে সৃষ্ট করোনা পরিস্থিতিতে এ পর্যন্ত ১৫৯ জন এর উপরে বাংলাদেশী মারা যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। প্রতিদিন মারা যাওয়ার খবর আসছে। এদের মধ্যে আছেন চিকিৎসক, কমিউিনিটি নেতা, রাজনৈতিক নেতা সহ নানা শ্রেনী ও পেশার মানুষ।
৫০ অঙ্গরাজ্যের মধ্যে যে সব অঙ্গরাজ্যে মৃত্যু এবং আক্রান্ত রোগী বেশী সে তালিকায় রয়েছে- নিউইয়র্ক, নিউজার্সী, ওয়াশিংটন, ক্যালিফোর্নিয়া, ম্যাসাসয়েটস, ইলিনয়, পেনসেলভেনিয়া, ইন্ডিয়ানা, মিশিগান, ফ্লোরিডা, লুইজিয়ানা, জর্জিয়া, টেক্সাস, কানেকটিকাট। এছাড়াও অন্যান্য অঙ্গরাজ্যগুলো আক্রান্ত এবং মৃত্যু সবই উদ্বেগ এবং আতংক সৃষ্টিকারী সকল দেশ, সকল মহল, সকল ধর্ম, বর্ণের মানুষের জন্য।
নিউইয়র্কঃ
সংশ্লিস্ট তথ্য মতে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) পর্যন্ত করোনায় নিউইয়র্কে আক্রান্ত ২,৩৪,০০০ জন, ২৩ মার্চ নিউইয়র্কে আক্রান্ত রোগী ছিল ২০,৮৭৫ জন, গত সপ্তাহে ৫৯,৫১৩ জন। গত ১০ এপ্রিল ছিল ১,৭২ ৩৫৮ এর উপরে। মৃতের সংখ্যা ৭,৮৪৪ এর উপরে, ৩০ মার্চ মৃতের সংখ্যা ১,৩৪২ জন যা ২৩ মার্চ ছিল ১৫৭ জন। দু’সপ্তাহ যাবত নিউইয়র্ক লকডাউন ছিল এবং সেটি ১৫ মে পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
নিউজার্সীঃ
নিউজার্সীতে এখন আক্রান্তের সংখ্যা ৪৭,৪৩৭ এর উপরে, গত সপ্তাহে ১৩৩৮৬ জন, যা ২৩ মার্চ ছিল ২৮৪৪ জন। মৃতের সংখ্যা শুক্রবার পর্যন্ত ১৫০৪ জন, গত সপ্তাহে ছিল ১৯৮ জন, দুই সপ্তাহ আগে ছিল ২৭জন।
ওয়াশিংটনঃ
শুক্রবারের চিত্র আক্রান্ত ৯০৯৭ জন, মৃত ৪২১ জন। যা গত সপ্তাহে ছিল ৪৩৯২ জন, মারা গেছেন ২০২ জন। দুই সপ্তাহে আগে সে চিত্র ছিল আক্রান্ত ১৯৯৬ জন, মৃত্যু ৯৫ জন।
মিশিগানঃ
মিশিগান অঙ্গরাজ্যে এ যাবত করোনা আক্রান্ত সনাক্ত হয়েছে ২১ হাজার ৫০৪ জনের উপরে, মারা গেছেন ১০৭৬ জন। এক সপ্তাহ আগে এটি ছিল আক্রান্ত ৬৪৯৮জন, আর মারা গেছেন ১৮৪জন। মাত্র দুই সপ্তাহে নাজুক মিশিগান অঙ্গরাজ্যে করোনা ভাইরাস চিত্র। ২৩ মার্চ ছিল মাত্র ১৫ জন মারা যাওয়ার খবর। আক্রান্ত ছিল ১৩২৮জন। আক্রান্ত রোগী বেড়েছে ২০ হাজার।
ক্যালিফোর্নিয়াঃ
ক্যালিফোর্নিয়ায় মারা গেছেন ৫০৩ জন, এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৪৫ জন, এখন আক্রান্ত ১৯ হাজারের উপরে, এক সপ্তাহ আগে ছিল আক্রান্ত রোগী ৫৮৪৬ জন। যা দুই সপ্তাহ আগে ছিল মৃত্যু ৩৮ জন, আক্রান্ত রোগী ১৯৪৬ জন।
ম্যাসাসুয়েটসঃ
ম্যাসাসুয়েটস অঙ্গরাজ্যে করোনায় আক্রান্ত প্রায় ১৭ হাজার, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৪৯৫৫জন, এই অঙ্গরাজ্যে মারা গেছেন ৪৩৩ জন, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ৫৬ জন। মাত্র দুই সপ্তাহে পরিবর্তন অন্যান্য অঙ্গরাজ্যের মত বিস্ময়কর। ২৩ মার্চ রোগী ছিল ৭৭৭ জন, আর মৃত্যু ছিল মাত্র ৭ জন।
ইলিনয়সঃ
এই অঙ্গরাজ্যে এখন রোগী ১৬ হাজারের উপরে, মারা গেছেন ৫২৮ জন। এক সপ্তাহ আগে আক্রান্ত ছিল ৫০৫৭ জন করোনা রোগীর যন্ত্রনায় কাতর, মারা গেছেন ১৯৮ জন। অথচ দুই সপ্তাহ আগে ১২৮৫ জন রোগী সনাক্ত হয়েছিল মারা গিয়েছিল ২৭জন।
পেনসেলভেনিয়াঃ
পেনসেলভেনিয়া অঙ্গরাজ্যে রোগী ১৬ হাজারের উপরে, মারা গেছেন ৩০৯ জন। এক সপ্তাহ আগে ৪১৫৪ জন করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে, মারা গেছেন ৫১জন। যা দুই সপ্তাহ আগের রেকর্ডে আছে আক্রান্ত ৮৫১জন, মৃত্যু ৭জন।
ইন্ডিয়ানাঃ
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে এখন আক্রান্ত রোগী ৬ হাজারের উপরে, মারা গেছেন ২৪৫ জন। এক সপ্তাহ আগে আক্রান্ত ছিল, ১৭৮৬ জন, মারা গেছেন ৩৫ জন। তিনগুণ বৃদ্বি পেয়েছে মৃত্যু। দুই সপ্তাহ আগে যা ছিল আক্রান্ত ৩৬৫ জন মৃত্যু ১২জন।
ফ্লোরিডাঃ
ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এখন আক্রান্ত ১৬ হাজারের উপরে, মারা গেছেন ৩৫৪ জন। এক সপ্তাহ আগে আক্রান্ত ৫৭০৪ জন, ২৩ মার্চ যা ছিল ১১৭১ জন। দুই সপ্তাহ আগে মারা গেছেন ১৪ জন, গত সপ্তাহে সেটি দাঁড়ায় ৭১জন।
নিউইয়র্ক, ১৭ এপ্রিল, ২০২০



« (পূর্ববর্তী খবর)



একই ধরনের খবর

  • করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি লাখে মৃত্যু ২৮.৮জন
  • যুক্তরাষ্ট্রে দুই কোটি ৫৭ লাখ বেকার : শ্রম বিভাগে আবেদন জমা পড়া অব্যাহত
  • করোনা : যুক্তরাষ্ট্রে একদিনে ২,৭৩৮ জনের মৃত্যু
  • পেনসেলভেনিয়ায় ব্যবসায়ীদের শাটডাউন স্থগিতের আবেদন খারিজ
  • ৫ হাজার থেকে মৃত্যু ৬৪ হাজারে, সনাক্ত ২ লাখ থেকে ১১ লাখ, টেস্ট সম্পন্ন হলো ৬৪ লাখ মানুষের
  • পহেলা মে ফ্লোরিডায় লকডাউন খুলে দেয়া হচ্ছে : মায়ামী পার্ক ব্যবহারে থাকবে সাবধানতা
  • যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ন্ত্রণহীন করোনা পরিস্থিতি : তিনমাসে লোকসান ৭ বিলিয়ন ডলার : দেউলিয়া হয়ে যেতে পারে নিউইয়র্ক
  • Shares