যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস ৪ জুলাই

হককথা ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা দিবস আজ ৪ জুলাই। ১৭৭৬ সালের এদিনে আমেরিকার স্বাধীনতা ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। একটি সার্বভৌম যুক্তরাষ্ট্র বা ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকার জন্ম হয়েছিল এই দিনে। দিনটি আমেরিকানদের জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। দিনটি আমেরিকার নাগরিকেরা মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে উদযাপন করে থাকেন।
উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মার্কিন বিপ্লবী যুদ্ধ চলে ১৭৭৫ থেকে ১৭৮৩ পর্যন্ত। সে সময় আমেরিকার কর্তৃত্ব থাকা ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই ছিল এই বিপ্লবী যুদ্ধের প্রেক্ষাপট। আমেরিকার মাটিতে ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর আরোপের কারণে মূলত এই যুদ্ধ শুরু হয়। এই করকে ইউরোপীয় অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রীয় বণিকেরা বেআইনী হিসেবে দেখতেন। ১৭৭৪ সালে সাফোক রিসলভস ম্যাসাচুসেটস বে প্রদেশের রাজকীয় সরকার অধিকার করলে বিদ্রোহ শুরু হয়। এর ফলে প্যাট্রিয়ট বা দেশপ্রেমিক মিলিশিয়া ও ব্রিটিশ নিয়মিত বাহিনীর মধ্যে ১৭৭৫ সালে লেক্সিংটন এবং কর্নকর্ডে যুদ্ধ হয়। ১৭৭৬ সালের বসস্ত নাগাদ প্যাট্রিয়টরা ১৩টি উপনিবেশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং ১৭৭৬ সালের ৪ জুন কন্টিনেন্টাল স্বাধীনতা লাভ করে।
মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধ: মার্কিন স্বাধীনতা যুদ্ধ বা মার্কিন বিপ্লবী যুদ্ধ (১৭৭৫-১৭৮৩) হল গ্রেট ব্রিটেনের বিরুদ্ধে আমেরিকার তের উপনিবেশের বিদ্রোহ। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র গঠিত হয়। প্রথমে এই লড়াই শুধু উপনিবেশে সীমাবদ্ধ থাকলেও ফরাসি ও স্প্যানিশদের আগমনের ফলে তা ইউরোপ, ক্যারিবীয় ও ইস্ট ইন্ডিজে ছড়িয়ে পড়ে।
ব্রিটিশ পার্লামেন্ট কর্তৃক কর আরোপের কারণে মূলত এই যুদ্ধ শুরু হয়। এই করকে মার্কিনীরা বেআইনি হিসেবে দেখত। ১৭৭৪ সালে সাফোক রিসলভস ম্যাসাচুসেটস বে প্রদেশের রাজকীয় সরকার অধিকার করলে বিদ্রোহ শুরু হয়। এর ফলে সৃষ্ট উত্তেজনার ফলে পেট্রিওট মিলিশিয়া ও ব্রিটিশ নিয়মিত সেনাবাহিনীর মধ্যে ১৭৭৫ সালে লেক্সিংটন ও কনকর্ডের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। ১৭৭৬ সালের বসন্ত নাগাদ পেট্রিওটরা ১৩ টি উপনিবেশে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ অর্জন করে এবং ১৭৭৬ সালের ৪ জুন কন্টিনেন্টাল কংগ্রেস স্বাধীনতা ঘোষণা করে।
এর মধ্যে ব্রিটিশরা বিদ্রোহ দমন করার জন্য বৃহৎ আকারে সেনা সমবেত করে। মার্কিন বিদ্রোহী সেনাদের বিরুদ্ধে তারা গুরুত্বপূর্ণ বিজয় অর্জন করে। এসময় জর্জ ওয়াশিংটন এর নেতৃত্বে ছিলেন। ১৭৭৬ সালে নিউইয়র্ক ও ১৭৭৭ সালে ফিলাডেলফিয়া জয় করা হয়। কিন্তু তারা ওয়াশিংটনের বাহিনীর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত কোনো হামলা করতে সক্ষম হয়নি। ব্রিটিশদের কৌশল মার্কিন অনুগতদের চালনা করার উপর নির্ভর করছিল। সামঞ্জস্যের দুরবস্থার কারণে ১৭৭৭ সালে আলবেনির বিরুদ্ধে ব্রিটিশদের অগ্রযাত্রা ব্যাহত হয়।
ফ্রান্স, স্পেন ও ডাচ প্রজাতন্ত্র ১৭৭৬ সালের শুরুতে গোপনে বিপ্লবীদেরকে রসদ ও অস্ত্র সরবরাহ করতে থাকে। সারাটোগায় মার্কিনীদের বিজয়ের ফলে ব্রিটেন উপনিবেশে পূর্ণ স্বশাসনের প্রস্তাব করে। কিন্তু মার্কিনীদের আপোস থেকে বিরত রাখার জন্য ফ্রান্স যুদ্ধে প্রবেশ করে। ১৭৭৯ সালে তাদের মিত্র স্পেনও এতে যোগ দেয়। ফ্রান্স ও স্পেনের যোগদান বিজয় সূচক ছিল। তারা স্থল ও নৌ ক্ষেত্রে মার্কিনীদের সহায়তা দেয় এবং ব্রিটিশদেরকে উত্তর আমেরিকা থেকে হটিয়ে দেয়।
১৭৭৮ সালের পর ব্রিটিশরা দক্ষিণ উপনিবেশগুলোতে মনোনিবেশ করে এবং ১৭৭৯ ও ১৭৮০ সালে জর্জিয়া ও সাউথ ক্যারোলিনা জয় করতে সক্ষম হয়। ১৭৮১ সালে ব্রিটিশরা ভার্জিনিয়া দখলের চেষ্টা চালায় কিন্তু ফরাসী নৌ বিজয়ের ফলে ফরাসী-মার্কিনীদের কর্তৃক ইয়র্কটাউন অবরোধ করা হয় এবং ৭,০০০ এর বেশি ব্রিটিশ সৈনিক বন্দী হয়। এর ফলে যুদ্ধ এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে ব্রিটেনের ইচ্ছায় পরিবর্তন আসে। ১৭৮২ সাল পর্যন্ত সীমিত আকারে লড়াই চলতে থাকে। ১৭৮৩ সালে স্বাক্ষরিত প্যারিসের চুক্তি মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে এবং বর্তমানকালের হিসেবে উত্তরে কানাডা, দক্ষিণে ফ্লোরিডা ও পশ্চিমে মিসিসিপি নদী দ্বারা চিহ্নিত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করে নেয়া হয়। পক্ষগুলো বৃহৎ পরিসরে একটি আন্তর্জাতিক শান্তিতে একমত হয় যাতে কয়েকটি অঞ্চল বিনিময় করা হয়। ব্যয়বহুল যুদ্ধ ফ্রান্সকে বড় অংঙ্কের ঋণগ্রস্ত করে। এর ফলে পরবর্তীতে ফরাসী বিপ্লব সংঘটিত হয়। সূত্র: উইকিপিডিয়া






একই ধরনের খবর

  • ডাকা বাতিল করলেন প্রেসিডেন্ট ড্রাম্প
  • ট্রাম্পের বিভাজিত আমেরিকা
  • আরকানসাসে নাইটক্লাবে গুলি, আহত ১৭
  • পবিত্র রমজান উপলক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের শুভেচ্ছা
  • যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ বছরে ১,০৯,২৪,৩৫জনকে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব প্রদান
  • মিশিগানে ঝোড়ো হওয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন
  • ১২ মার্চ রোববার থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডেলাইট সেভিং টাইম’ শুরু
  • Shares