মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে রেজুলেশন গৃহীত

নিউইয়র্ক: জাতিসংঘ সদরদপ্তরে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে সদস্য দেশসমূহের উপস্থিতিতে উন্মুক্ত ভোটের মাধ্যমে একটি রেজুলেশন গৃহীত হয়। ১৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার ১৩৫টি দেশ এই রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দেয়। বিপক্ষে ভোট দেয় ১০টি দেশ এবং ভোট প্রদানে বিরত থাকে ২৬টি দেশ। ওআইসির পক্ষে সৌদি আরব এই রেজুলেশন উত্থাপন করে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি আহুত এই সভায় রেজুলেশন ভোটে যাওয়ার আগে এর যৌক্তিকতা তুলে ধরে বক্তব্য রাখে সৌদি আরব। সৌদি আরবের বক্তব্যে সমর্থন করে রেজুলেশনের পক্ষে ভোট দানের আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য প্রদান করে যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, সোমালিয়া, মিশর ও বাংলাদেশ। ভোট গ্রহণের আগে ও পরে দেওয়া বক্তব্যে সকল সদস্য দেশ জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তায় হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের সরকার ও জনগণ বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অবদানের কথা উল্লেখ করে।
তৃতীয় কমিটিতে গৃহীত এই রেজুলেশন আগামী ডিসেম্বর মাসে সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে উপস্থাপিত হবে। এই রেজুলেশনে মিয়ানমারের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিবের একজন বিশেষ দূত নিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। রেজুলেশনটিতে রাখাইন প্রদেশে অনতিবিলম্বে সহিংসতা বন্ধ, সকলের জন্য মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করা ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করার জন্য মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এতে ২৫ শে আগস্ট থেকে রাখাইন প্রদেশে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিবর্গকে চিহ্নিত ও বিচারের আওতায় আনার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়। সাধারণ পরিষদের প্লেনারিতে প্রস্তাবটি পাশ হওয়ার পর জাতিসংঘ মহাসচিব একজন উপযুক্ত ব্যক্তিকে এই পদে নিয়োগ প্রদান করবেন বলে আশা করা যাচ্ছে।
সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটি গৃহীত এই রেজুলেশন মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশ থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের মানবাধিকারের পক্ষে বিশ্বসম্প্রদায়ের সমর্থনেরই প্রতিফলন। উল্লেখ্য, নিরাপত্তা পরিষদ গত ৬ নভেম্বর মিয়ানমার পরিস্থিতির উপর সর্বসম্মতিক্রমে প্রেসিডেন্সিয়াল স্টেটমেন্ট গ্রহণ করে। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেজ নিরাপত্তা পরিষদের একটি উন্মুক্ত সেশনে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে মিয়ানমারের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির উপর বিবৃতি প্রদান করেন। অত:পর ১৩ অক্টোবর মিয়ানমারের চলমান পরিস্থিতিতে ‘আরিয়া ফর্মুলা’ মিটিং এ বসে নিরাপত্তা পরিষদ। ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘ সদরদপ্তরের ইকোসক চেম্বারে ‘রোহিঙ্গা সঙ্কট ও বাংলাদেশের মানবিক সহযোগিতা বিষয়ে’ জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা ও জরুরী ত্রাণ বিষয়ক সমন্বয়কারী এবং  জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক সদস্য রাষ্ট্রসমূহের জন্য এক ব্রিফিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ সদরদপ্তরে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের আয়োজনে এবং ‘গণহত্যা, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নির্মূল ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ প্রতিরোধ বিষয়ক আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন সংগঠন ‘গ্লোবাল সেন্টার ফর রেসপনসিবিলিটি টু প্রটেক্ট’ এর সহযোগিতায় ‘রোহিঙ্গাদের উপর নৃশংসতা : শুধু নিন্দা জ্ঞাপনই নয় প্রয়োজন কার্যকর পদক্ষেপ’ শীর্ষক একটি সাইড ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়। – প্রেস বিজ্ঞপ্তি






একই ধরনের খবর

  • জাতিসংঘের ৭২তম সাধারণ অধিবেশন শুরু ১২ সেপ্টেম্বর : ব্যস্ততা বেড়েছে মিশন ও আ.লীগে
  • বাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতির ভূয়সী প্রসংশা করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব
  • বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পর এবার জাতিসংঘে কর্মরত বাংলাদেশী কূটনীতিক গ্রেফতার
  • নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানবাধিকার ও টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে ‘জাতির পিতা’র দেখানো পথে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ
  • নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের সাথে নয়া প্রেস সেক্রেটারী মিনা’র মতবিনিময়
  • ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন আইএসসিএস’র সদস্য নির্বাচিত
  • পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তেনিউ গুতেরাস জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব
  • Shares