মওলানা ভাসানীর মাজারে ভক্তদের ঢল : টাঙ্গাইলের সন্তোষে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে মওলানা ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত

টাঙ্গাইল: টাঙ্গাইলের সন্তোষে নানা কর্মসূচির মধ্যদিয়ে ১৭ নভেম্বর শুক্রবার স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা, আফ্রো-এশিয়ার মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে শুক্রবার সন্তোষে ভাসানীর মাজারে মুরিদান, ভক্ত-অনুসারীদের ঢল নেমেছিল। তাদের শ্রদ্ধার ফুলে ভরে গিয়েছিল মজলুম জননেতার মাজার। এছাড়া দিনভর অনুষ্ঠিত হয় মিলাদ মাহফিল, কাঙালী ভোজ, স্মরণসভা ও মুর্শেদী গানসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান।
শুক্রবার সকাল থেকেই মওলানা ভাসানীর প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য মাজার প্রাঙ্গণে সমবেত হন দেশ-বিদেশ থেকে আগত অসংখ্য মুরিদান ও ভক্ত-অনুসারী। এর পর ফুল দিয়ে একে একে মাজারে শ্রদ্ধা জানান মওলানা ভাসানীর পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। ভাসানীর অনুসারী, ভক্ত, বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মাজারে ফাতেহা পাঠ ও পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
প্রথমে মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং মাজার জিয়ারত করেন মওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন। এর পর শ্রদ্ধা জানান কৃষক-শ্রমিক-জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকী (বীর উত্তম), জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান খান ফারুক ও সাধারণ সম্পাদক জোয়োহেরুল ইসলাম, বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু, জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি শামছুল আলম তোফা, সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ ইকবাল, জেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক, টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি জাফর আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক কাজী জাকেরুল মওলা, বেঙ্গল জাতীয় কংগ্রেসের (বিজেসি) আবুল হোসেন প্রমুখ।
বিএনপির পক্ষ থকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ভাসানীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর মাজার প্রাঙ্গণে স্মরণসভা আয়োজন করলে সেখানে স্মরণ সভা করতে দেওয়া হয়নি।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের পর নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে মাজার প্রাঙ্গণে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন। এ সময় তিনি বলেন, আগামীতে সহায়ক সরকারের অধীনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। এমন একটি নির্বাচন চাই যেখানে সকল রাজনৈতিক দলের সমান অধিকার থাকবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আগামী নির্বাচনে বেগম খালেদা জিয়াকে এমনকি বিএনপি নেতৃবৃন্দকে দুরে রেখে নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। জনগন সে নির্বাচন মেনে নিবেনা। তাই আগামী দিনে জনগনের ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার জন্যে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলনের মধ্যদিয়ে সেই নির্বাচনকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমানে একটি দখলদার জালিম সরকার আমাদের বুকের উপর চেপে বসেছে। এই জালিম সরকারের হাত থেকে যেন মানুষ মুক্তি পায় সেজন্যে দেশের জনগনকে সাথে নিয়ে জুলুমবাজ সরকারকে সরিয়ে জনগনের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এ সময় বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামামান দুদু, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, জেলা বিএনপির সভাপতি কৃষিবিদ শামছুল আলম তোফা ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট ফরহাদ ইকবালসহ কেন্দ্রীয় ও জেলার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
মাজার জিয়ারত শেষে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বলেন, মওলানা ভাসানীর মত মানুষকে আমাদের দেশে আজ যে সন্মান পাওয়ার কথা তার কিছুই তিনি পাননা। রাজনৈতিক আবহাওয়া লোহার খাচায় বন্দি থাকলে অশুভ তৎপরতার সম্ভাবনা বেশী থাকে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এছাড়াও সন্তোষে আলোকচিত্র প্রদর্শনী দোয়া মাহফিল ও দুস্থদের মাঝে খাবার বিতরণ, কোরান তেলাওয়াতসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হয়।






একই ধরনের খবর

  • নিউইয়র্কে বাংলাদেশের ব্যাংক প্রতিষ্ঠা সহজ নয়
  • মাওলানা ভাসানী ছিলেন স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টা : হাসান সরকার
  • মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৭ নভেম্বর
  • কানাডায় সুরেন্দ্র সিনহা, পদত্যাগের বিষয়টি অনিশ্চিত!
  • প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার পদত্যাগ?
  • শহীদ নূর হোসেন দিবস ১০ নভেম্বর : ‘স্বৈরাচার নিপাত যাক’ আর ‘গণতন্ত্র মুক্তি পাক’
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন ২৮ সেপ্টেম্বর
  • Shares