ভূমিকম্প: মধুপুরে ফাটল রেখা, ঝুঁকিতে পুরো গড়াঞ্চল

টাঙ্গাইল: বাংলাদেশ, নেপাল, ভারত, মিয়ানমারসহ এই উপমহাদেশে বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলেই প্রথমেই চলে আসে পাইস্টোসিন সোপান টাঙ্গাইলের মধুপুর ভূকম্পন বলয়ের নাম। দেশের তিনটি ভূমিকম্পের ফাটল রেখার (ফল্ট) মধ্যে একটির অবস্থান মধুপুর পাহাড়ী গড় অঞ্চলে হওয়ায় এলাকাটি ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে। গত শনিবার (২৫ এপ্রিল) নেপালে ৭.৯ মাত্রার প্রভাবে মধুপুরসহ বাংলাদেশেও এর প্রচন্ড ঝাঁকুনি অনুভূত হয়। রোববারও মধুপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প হয়।
২০০৯ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মেহেদী আহমেদ আনসারীর নেতৃত্বে পরিচালিত ইউএনডিপির গবেষণা থেকে জানা যায়, বাংলাদেশের ভূকম্পন বলয়সমূহ বিশেষ করে পাইস্টোসিন বা মহাহিম যুগে সৃষ্টি মধুপুর ফল্ট বিপজ্জনক। রাজধানী ঢাকা থেকে মধুপুর ফল্টের দূরত্ব মাত্র ৬০ থেকে ৯০ কি.মি. হওয়ায় আলোচনায় সর্বাধিক গুাংত্ব পাচ্ছে মধুপুর ফল্ট নিয়ে। মধুপুর ফল্ট রাজধানী ঢাকার খুব কাছে হওয়ায় রাতের বেলায় ৭ থেকে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হলে শুধু ঢাকা শহরেই হতাহত হবে ৯০ হাজার লোকের অধিক। আর দিনের বেলায় আঘাত হানলে হতাহত হবে ৭০ হাজার লোকের মতো। এতে ৭২ হাজার ভবন সম্পূর্ণরূপে এবং ৮৫ হাজার ভবন আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
১৯১০ সালে ভারতীয় উপমহাদেশের ভূমিকম্প বিষয়ক গবেষণায় ভূগোলবিদ ডিলাটিসে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলেন, মহাহিম যুগে সৃষ্টি হয়েছে এই মধুপুর গড়ের। তার মতে মধুপুর ভূকম্পন এলাকাভুক্ত বিপজ্জনক এলাকা এবং উৎপত্তিস্থল। ভূগোলবিদ এফসি হাস্ট তার মতকে সমর্থন করেছেন। মধুপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যাপক জয়নাল আবেদীন জানান, নেপালে ভূমিকম্পের ফলে মধুপুর ফল্টের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে এখানকার প্লেট বা সাবপ্লেট বিচ্যুত হয়েছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা খুবই জরুরী। অন্যদিকে দীর্ঘদিন ধরে মধুপুর ভূ-বলয়ের বিপজ্জনক কেন্দ্র নিয়ে গবেষণা করে বিশেষজ্ঞরা রাজধানী ঢাকা থেকে এর দূরত্ব ৬০ থেকে ৯০ কি.মি. বলে উল্লেখ করেছেন। তবে এ দূরত্ব নির্ণয় নিয়েও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
মধুপুর অঞ্চলের ফল্ট নিয়ে দেড় দশক ধরে কাজ করছে বেসরকারী সংস্থা ওয়ার্ল্ডভিশন। ওয়ার্ল্ডভিশনের মধুপুর শাখার ম্যানেজার বাপন মানকিন বলেন, সারা দেশকে যে তিনি ভূকম্পন বলয়ে বিভক্ত করা হয়েছে তার মধ্যে মধুপুর জোন দ্বিতীয়। মধুপুর ফল্টের ভূমিকম্পের জন্য শুধু রাজধানী ঢাকা নয়, ভূচ্যুতির থাবার মুখে অবস্থিত মধুপুর গড়াঞ্চলের টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ এবং গাজীপুর ব্যাপক ধবংসযজ্ঞ ও ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হবে। রাজধানীর বাইরে শহরায়ন ও শিল্পায়ন হওয়ায় ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে আরও সতর্ক হতে হবে। তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্প সম্পর্কে সচেতন করে তোলার জন্য ওয়ার্ল্ডভিশন টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার প্রত্যেক ইউনিয়নে ২০ সদস্যের একটি প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক দল গঠন করেছে। জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক বলেন, আমরা মধুপুর গড়ে বসবাসকারীরা ভূমিকম্প নিয়ে খুবই আতঙ্কিত। কেননা ভূমিকম্পের ফলে যদি ভূমিধস ঘটে তাহলে আমরা তো চাপা পড়বই, আমাদের ভূমিও হারিয়ে যেতে পারে।
টাঙ্গাইল ডিস্ট্রিক্ট গেজেটিয়ার-১৯৮৩ তথ্যসূত্রে জানা যায়, ভূগোলবিদ মর্গান এবং ম্যাকিটায়ারের মতে, ভূকম্পন এবং বিপর্যয়ের ফলে একটি বিদ্যমান অববাহিকা থেকে মধুপুরের গড়ের মত উঁচু ভূমির সৃষ্টি হয়েছে। এর মৃত্তিকার স্তরায়নের এখনও শেষ হয়নি। এ জন্য ভূকম্পনের দিক থেকে মধুপুর গড় বেশি মাত্রায় ঝুঁকিপূর্ণ।
সুতরাং ভূস্তরে মধুপুর টেকটোনিক বলতে যা বোঝায় তা শুধু মধুপুর উপজেলাকে বোঝায় না বরং মধুপুর গড়ের পুরো এলাকাকে বোঝায়। আর এ ভূচ্যুতি ঢাকার কাছে হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প হলে রাজধানী ঢাকার খুব বেশি ক্ষয়ক্ষতি হবে। মধুপুর শহীদ স্মৃতি কলেজের অধ্যক্ষ বজলুর রশীদ চুন্নু জানান, ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণের জন্য মধুপুরে একটি সাইসমোগ্রাফ রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব বিভাগ এটি পরিচালনা করছে। কিন্তু এখানে সর্বক্ষণিক কোন লোক থাকে না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষজ্ঞরা মাঝে মধ্যে এসে দেখে যান। তিনি আরও বলেন, টানা দুই দিনের ভূমিকম্পে সাইসমোগ্রাফের ফল কী হয় তা জানতে পারলে আমরা হয়ত আশঙ্কামুক্ত থাকতে পারি।(দৈনিক জনকন্ঠ)






একই ধরনের খবর

  • টাঙ্গাইলে প্রগতি লেখক সংঘের সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত
  • শিগগীরই নিউইয়র্ক-ঢাকা শিক্ষা বিনিময় কর্মসূচি : চমক থাকবে বাংলাদেশ ডে অনুষ্ঠানে
  • যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাড়ছে বাংলাদেশী শিক্ষার্থীর সংখ্যা : অধ্যয়নরত ৮,২৪৯
  • মাওলানা ভাসানীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় শ্রদ্ধাভরে স্মরণ
  • মওলানা ভাসানীর ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী ১৭ নভেম্বর রোববার : নিউইয়র্কে আলোচনা ও দোয়া আয়োজন
  • বাড়ছেই পেঁয়াজের ঝাঁজ, ভোক্তারা দিশেহারা : কেজি ২৫০ টাকা
  • ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ট্রেন দুর্ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা
  • বিয়ে করেছেন গুলতেকিন : বর আফতাব আহমেদ
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked as *

    *

    Shares