ব্রাক্ষণবাড়িয়ার রাসেলের চির বিদায়

নিউইয়র্ক: অকালেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন ব্রাক্ষণবাড়িয়ার সন্তান রাফেল মোল্লা রাসেল (৪৬)। ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা শহরের দক্ষিণ মৌরাইলেরই সন্তান রাসেল বিশিষ্ট ঠিকাদার মরহুম মিজানুর রহমান মোল্লা (দানা মিয়া)-এর কনিষ্ঠ পুত্র। চির কুমার রাসেল মৃত্যুকালে বয়োবৃদ্ধ মা, ৫ ভাই আর তিন বোন সহ বহু আতœীয়-স্বজন রেখে গেছেন। গত ২০ জানুয়ারী শনিবার ঘুমের মধ্যেই তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন বলে জানা গেছে।
নিউইয়র্ক সিটির রিচমন্ড হীলে বসবাসকারী রাফেল মোল্লা রাসেল একটি প্রাইভেট হাউজের একটি রুমে একাকী বাসবাস করতেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি ‘অ্যাজমা’ সহ নানা রোগে ভুগছিলেন। ঘটনার দিন ২০ জানুয়ারী শনিবার তার কাজে যাওয়ার কথা ছিলো। তাই ঐদিন (শনিবার) কেউ তার খোঁজ নেয়নি। শনিবার সন্ধ্যায় তার এক বন্ধু তার খোঁজ নিতে গিয়ে দেখেতে পান রাসেল ঘরের মধ্যে শুয়ে আসেন। ডাক-খোঁজ করে কোন সাড়া-শব্দ না পেয়ে নিশ্চিত হন রাসেল আর নেই। জানান অন্যান্য বন্ধু সহ পরিবারের সদস্যদের। কল করেন ৯১১-এ। জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আর পুলিশ এসে তাকে দেখে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পরবর্তীতে নিউইয়র্ক সিটির স্বাস্থ্য বিভাগের পরীক্ষক (এক্সামিনার) এসে চুড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রাসেলকে মৃত ঘোষণা করেন। ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার দিবাগত রাত বা শনিবার দিনের কোন এক সময় শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন।
রাসেলের মৃত্যু সংবাদে তার বন্ধু মহলে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিউইয়র্কে বসবাসকারী তার বাল্যবন্ধু সহ অনেকই শনিবার রাতেই ছুটে আসেন রিচমন্ড হিলে। নিউইয়র্কে অধ্যয়নরত তার আপর ভাগ্নে সারাবও ছুটে আসের মামার মৃত্যু সংবাদে।
শনিবার দিবাগত ভোর রাতে রাসেলের মরদেহ মর্গে নিয়ে যাওয়ার পর চুড়ান্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রোববার অপরাহ্নে হস্তান্তর করা হয় এবং স্থানীয় ফিউনেরাল হোমে রাখা হয়। পরবর্তীতে রোববার রাতে বাদ এশা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানানায় বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অংশ নেন। পারিবারিক সিদ্ধান্তে রাসেলের মরদেহ সোমবার (২২ জানুয়ারী) রাতের ফ্লাইটে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার কথা।
রাসেলের দীর্ঘ দিনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু জহিরুল ইসলাম, শহীদুল ইসলাম খান ও সাইদুল বাসার খান (রুমান) জানান, ব্যক্তিগত জীবনে রাসেল একজন অমায়িক, ভদ্র আর সুন্দর মনের মানুষ ছিলো। শিক্ষিত পরিবারের সন্তান রাসেল ডাক্তারী পড়তে রাশিয়া গিয়ে সেখানে ভালো না লাগায় যুক্তরাষ্ট্র আসেন। বসবাস শুরু করেন নিউইয়র্কে। কিন্তু এখানে আর তার পড়াশুনা হয়নি। স্বপ পূরণের জন্য কাজ করতেন রেষ্টুরেন্টে। পাশাপাশি নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসী হিসেবে তৈরী করার সকল প্রক্রিয়া প্রায় সম্পন্ন করছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। -ইউএনএ






একই ধরনের খবর

  • রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে পানি সমস্যার সমাধানে ঐক্য গড়তে হবে
  • নির্বাচিত হলে ইমিগ্র্যান্টদের অধিকার আদায়ে কাজ করবো : মিজান চৌধুরী
  • নর্থ বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের নতুন কমিটি
  • যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ নেতা সামাদ আজাদের বাসায় অগ্নিকান্ড ॥ একজনের লাশ উদ্ধার
  • খালেদা জিয়ার মুক্তি না হলে আন্দোলন : পারভেজ সাজ্জাদ
  • ব্রুকলীনে ‘টাইম টেলিভিশন-ব্রুস ফিসার’ বৈশাখী মেলায় মানুষের ঢল
  • ঐতিহাসিক ফারাক্কা দিবস স্মরণে সভা ১২ মে শনিবার
  • বাংলাদেশের জন্য বাংলাদেশী কমিউনিটিকেই ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে
  • Shares