বাংলাদেশ বিপুল ভোটে জাতিসংঘের ইকোসক’র সদস্য নির্বাচিত

জাতিসংঘ থেকে সালাহউদ্দিন আহমেদ: বাংলাদেশ জাতিসংঘের ইকোনমিক এন্ড সোস্যাল কাউন্সিল-ইসিওএসওসি (‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ-ইকোসক)’-এর সদস্য নির্বাচিত হয়েছে। শুক্রবার (১৪ জুন) সকালে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত বিশেষ বৈঠকে গোপন ভোটে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বাংলাদেশ আগামী তিন বছরের (২০২০-২০২২) জন্য সদস্য নির্বাচিত হলো। নির্বাচনে বাংলাদেশ ১৯১ ভোটের মধ্যে ১৮১ ভোটে পেয়ে নির্বাচিত হয়েছে। এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ছাড়াও আরো ৪টি দেশ ইসিওএসওসি’র সদস্য নির্বাচত হলো। অন্য দেশ তিনটি হলো থাইল্যান্ড, রিপাবলিক অব কোরিয়া ও গণ চীন। নির্বাচনে থাইল্যান্ড ১৮৭, কোরিয়া ১৮৩ এবং চীন ১৭৭ ভোট পেয়েছে। উল্লেখ্য, জাসিংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলের পরেই ইকোসক-কে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। নির্বাচনে ইকোসক’র ৪টি পদের জন্য উল্লেখিত ৪টি দেশ ছাড়াও ইরাক প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ঘোষণা দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে ইরাক তার প্রার্থীতা প্রত্যাহার করে নেয়।
জাতিসংঘের ইকোসক’র নির্বাচন শেষে জাতিসংঘ ভবনের সামনে তাৎক্ষনিক ব্রিফিং-এর রাষ্ট্রদূত মোমেন সাংবাদিকদের বলেন, ইকোসক-তে এই জয়লাভের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক যাত্রার উন্নয়নে বিশ্ববাসীর প্রতিফল হিসেবে উল্লেখ করেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ মিন মোমেন। পাশাপাশি বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো। এতে করে বাংলাদেশ আগামী ২০৩০ সালের জাতিসংঘের এসডিজি এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখবে।
এই প্রতিনিধির এক প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, জাতিসংঘে বাংলাদেশের আগামী দিনের টার্গেট হচ্ছে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ ফোরাম সিকিউরটি কাউন্সিলের সদস্যপদ লাভ। তবে এটি সহজ নয়, অনেক দেশ এই পদের জন্য এগিয়ে রয়েছে। এজন্য আমাদেরকে আরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। আমরা আশাবাদী। সেই সাথে ইকোসক’র প্রেসিডেন্টর পদটিই আমাদের লক্ষ্য।
রাষ্ট্রদূত মোমেন বলেন, ইকোসক’র নির্বাচন বিজয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়ন অগ্রগতির পথ যাত্রায় আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো। আগামী বছর ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শতবর্ষ জন্মোৎসব আয়োজনের মধ্যদিয়ে বিশ্ববাসীকে বাংলাদেশ-কে বিশেষভাবে তুলে ধরা হবে। এজন্য জাতিসংঘের মাধ্যমে বাংলাদেশ মিশন কাজ করছে।
এদিকে বাংলাদেশ মিশনের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়: আজ (১৪ জুন) জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ‘অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)’ এর সদস্য পদে ২০২০-২০২২ মেয়াদের নির্বাচনে বাংলাদেশ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়। ১৯১ ভোটের মধ্যে ১৮১ ভোট পেয়ে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে বাংলাদেশ ৫৪ সদস্য বিশিষ্ট মর্যাদাপূর্ণ এই পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হল। বাংলাদেশ ছাড়া এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চল থেকে এ নির্বাচনে থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও চীন বিজয়ী হয়েছে। এই বিজয় অর্জনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ২০২০-২০২২ মেয়াদে বহুপাক্ষিক কূটনৈতিক প্লাটফর্মে এবং বৈশ্বিক আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম ইকোসকে তার দৃঢ় অবস্থান নিশ্চিত করল।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও গতিশীল নেতৃত্বে বাংলাদেশ রূপকল্প ২০২১ ও এজেন্ডা ২০৩০ অর্জনে অদম্য গতিতে এগিয়ে চলেছে এবং বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে উন্নয়নের রোল মডেলে পরিণত করেছে। বিপুল ভোটে এই বিজয় তারই বৈশ্বিক স্বীকৃতি বলে মন্তব্য করেন উপস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফার্নেন্দা এপ্সিনোসা গার্সেজ-এর সভাপতিত্বে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গোপন ভোটে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল প্রকাশিত হওয়ার পর সাংবাদিকদের সামনে প্রতিক্রিয়া ব্যক্তকালে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন বলেন, “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালী, ‘জাতির পিতা’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকী ও বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের প্রাক্কালে এই বিজয় বাংলাদেশের মানুষের জন্য এক অনন্য উপহার”।
গতবছর বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশ অভিমূখে অগ্রযাত্রার প্রাথমিক ধাপ এলডিসি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে মর্মে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত মাসুদ আরও বলেন, “টেকসই উত্তরণ নিশ্চিতে ইকোসকের এই সদস্যপদ লাভ আমাদেরকে আরও সামনে এগিয়ে নিবে। এছাড়া এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নেও এই বিজয় নতুন গতি আনবে”।
স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞাময় নেতৃত্বে বাংলাদেশের অব্যাহত উন্নয়নেরই প্রতিফলন। বিগত বছরগুলোতে বাংলাদেশ সরকার তথা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তত্বাবধানে ও দিক-নির্দেশনায় জাতিসংঘ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন ও এর পাশপাশি সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অন্যান্য দূতাবাস ও মিশনসমূহ এই নির্বাচন উপলক্ষে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করেছে, তাই এই বিজয় আমাদের টিমওয়ার্কেরই স্বীকৃতি”।
ইকোসকের সদস্যপদের মাধ্যমে বাংলাদেশ ইকোসকের আওতাধীন বিভিন্ন ফোরাম, কমিশন, কমিটি, নির্বাহী বোর্ড ও আঞ্চলিক ফোরাম যেমন ইউএনএসকাপ এর সাথে এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়নে আরও নিবিড়ভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে এবং বাংলাদেশের সর্বোত্তম উন্নয়ন অনুশীলনসমূহ বৈশ্বিকভাবে ছড়িয়ে দিতে পারবে বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রদূত মাসুদ।
ইকোসকে আগামী ২০২০ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিনবছর মেয়াদে (২০২০-২০২২) বাংলাদেশ দায়িত্ব পালন করবে। উল্লেখ্য এর আগে ২০১৮ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নির্বাচিত হয়ে ২০১৯-২০২১ মেয়াদে দায়িত্বপালন করছে।






একই ধরনের খবর

  • জাতিসংঘকে বাংলাদেশ থেকে বিদায় হওয়ার পরামর্শ দিয়েছি : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
  • আবহমান বাঙালীয়ানার স্পন্দন অনুভব করলেন আমন্ত্রিত বিদেশী অতিথিগণ
  • UNGA’s High-Level meeting on ‘Global launch of the International Year of Indigenous Languages’
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে জাতিসংঘের সাথে বাংলাদেশ অত্যন্ত ঘনিষ্ট সম্পর্ক বজায় রেখে চলেছে : রাষ্ট্রদূত মোমেন
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানব পাচার রোধে জিরো টলারেন্স এবং প্রবাসে শ্রমিক নিয়োগ খরচ হ্রাস সংক্রান্ত বৈশ্বিক আহ্বান
  • ফিলিস্তিন প্রশ্নে নিরাপত্তা পরিষদ কেবল দর্শকের ভূমিকায় থাকতে পারে না
  • প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে  এলডিসি ক্যাটাগরি থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ
  • Shares