জাতিসংঘ মহাসচিবের সাথে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতির ভূয়সী প্রসংশা করলেন জাতিসংঘ মহাসচিব

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক জাতিসংঘ সদর দফতরে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেজের সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। মঙ্গলবার (২০ জুন) অত্যন্ত আন্তরিকতাপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের অসামান্য অগ্রগতি বিশেষ করে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, দূর্যোগ প্রতিরোধ সক্ষমতা ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন। জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, তিনি সবসময় বাংলাদেশকে জলবায়ু পরিবর্তনের হুমকি মোকাবিলার লড়াইয়ে প্রথম সারিতে দেখতে চান। তিনি এসডিজি বাস্তবায়নের অগ্রগতিতেও বাংলাদেশকে সামনের কাতারে আশা করেন।
শান্তিরক্ষা ও শান্তিনির্মাণে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কাযর্ক্রমে অন্যতম বৃহৎ সেনা ও পুলিশ সদস্য প্রেরণকারী দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আসন্ন সাধারণ পরিষদের সময় অনুষ্ঠিতব্য ‘সার্কেল অব লিডার’ বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো হবে মর্মে জাতিসংঘ মহাসচিব উল্লেখ করেন।
পররাষ্ট্র সচিব জাতিসংঘের মূল্যবোধ ও নীতিমালার প্রতি বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকারের কথা উল্লেখ করে বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশ জাতিসংঘ মহাসচিবের নেতৃত্বের প্রতি আস্থাশীল। তিনি, আন্তর্জাতিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় মহাসচিবের অগ্রাধিকার প্রদানের প্রশংসা করেন। বিগত ৮ বছরে বাংলাদেশ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে যে অগ্রগতি সাধন করেছে পররাষ্ট্র সচিব সে বিষয়ে মহাসচিবকে অবহিত করেন। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ) সাদিয়া ফয়জুন্নেছা, বাংলাদেশ মিশনের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি তারেক মো: আরিফুল ইসলাম এসময় উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে, মঙ্গলবার সকালে, পররাষ্ট্র সচিব মোহাম্মদ শহীদুল হক জাতিসংঘ সদর দফতরে ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম’ এর উপর একটি হাই লেভেলে ডিবেটে বক্তব্য রাখেন। ইতালির স্থায়ী মিশন এবং জাতিসংঘের ড্রাগস অ্যান্ড ক্রাইম অফিসের (ইউএনওডিসি) সহযোগিতায় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এ ইভেন্টটির আয়োজন করেন। পররাষ্ট্র সচিব তাঁর বক্তৃতায় বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিক-নিদের্শনায় ‘ট্রান্সন্যাশনাল অর্গানাইজড ক্রাইম’ মোকাবিলায় বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সাথে কাজ করে যাচ্ছে। এ জাতীয় অপরাধ দমনে গত কয়েক বছরে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী আইনী ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। অতিকতর নজরদারি ও কার্যকর বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অবৈধ অভিগমন ও মানব পাচার এবং চোরাচালানের প্রবণতা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে’।
পররাষ্ট্র সচিব হক আরো বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দুর্নীতি দমন কমিশন প্রতিষ্ঠা করেছি এবং এটিকে শক্তিশালী করেছি। মানি লন্ডারিং এবং সন্ত্রাসবাদের অর্থায়ন মোকাবিলায় আমাদের টেকসই উদ্যোগগুলি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের স্বীকৃত পেয়েছে’।
মাদক, আগ্নেয়াস্ত্র, বন্যপ্রাণী ও সাংস্কৃতিক সম্পদের অবৈধ পাচার রোধে কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতার উপর পররাষ্ট্র সচিব গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ‘ডার্ক ওয়েব’ এর বিস্তারের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন যা প্রায়শ:ই সন্ত্রাসী ও সহিংস চরমপন্থীরা তাদের কাজে ব্যবহার করে থাকে। এদিকে সন্ধ্যায় পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন আয়োজিত বিদেশী কূটনীতিকদের এক সম্বর্ধনা অনুষ্ঠানে  যোগ দেন। সেখানে উপস্থিত কূটনীতিকদের কাছে তিনি কমিটি অব মাইগ্রেন্ট ওয়ার্কারস (সিএমডব্লিউ) এর পুন-নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে নিজের অবস্থান ও অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরেন। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।






একই ধরনের খবর

  • বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পর এবার জাতিসংঘে কর্মরত বাংলাদেশী কূটনীতিক গ্রেফতার
  • নারীর ক্ষমতায়নের মাধ্যমে মানবাধিকার ও টেকসই শান্তি নিশ্চিত করতে ‘জাতির পিতা’র দেখানো পথে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ
  • নিউইয়র্কের সাংবাদিকদের সাথে নয়া প্রেস সেক্রেটারী মিনা’র মতবিনিময়
  • ড. মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন আইএসসিএস’র সদস্য নির্বাচিত
  • পর্তুগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আন্তেনিউ গুতেরাস জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব
  • মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে বান কি মুনের বিদায়ী সাক্ষাত
  • জাতিসংঘের ৭১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বিশ্বশান্তির লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের একমঞ্চে উপনীত হওয়ার আহবান
  • Shares