প্রবাসীদের দেশে না ফেরার অনুরোধ : মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে করোনা নিয়ে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা ডেস্ক: করোনা ভাইরাসে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসী বাংলাদেশীদের এই মুহূর্তে দেশে না ফেরার অনুরোধ জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। বলেছেন, যারা যে দেশে আছেন সেই দেশে অবস্থান করেন। তাড়াহুড়া করে দেশে আসার প্রয়োজন নেই। আপনারা সে দেশে থাকেন। কিছুদিন অবজার্ভ করুন। এখন সারা পৃথিবীতে একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আপাতত দেশে আসার প্রয়োজন নেই।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মধ্যপ্রাচ্যের পাঁচ দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে করোনা নিয়ে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি প্রবাসীদের অনুরোধ করে বলেন, যে যেই দেশে আছেন, সেখানকার আইনকানুন মানেন। তারা বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছেন সেগুলো ফলো করেন। সমস্যা হলে আমাদের মিশনের কাছে খবর নিবেন। আমাদের সবগুলো মিশন ২৪ ঘণ্টা খোলা আছে। আপনাদের সেবার জন্য। তবে তাড়াহুড়া করে দেশে আসার প্রয়োজন নেই। যে সকল দেশে অধিকতর করোনা ভাইরাস হয়েছে সেই দেশ থেকে আসলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকতে হবে। ১৪ দিন কোথাও আসতে যেতে পারবেন না, কারো সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না। বুঝে শুনে দেশে আসবেন। আপনারা এই মুহূর্তে যেখানে আছেন, সেখানে থাকবেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের অধিকাংশ প্রবাসী বাংলাদেশীরা কাজ করেন। অনেকে দেশে এসেছেন, অনেকে যাবেন। তখন তারা অনেক সময় কনফিউজড থাকে। তাদের ভাইরাস পরীক্ষা করে সনদ নিতে হবে, তখন তারা কোথা থেকে নিবেন। তারা খুব ভয় পায়, তদের ভিসা বাতিল হয়ে যাবে। এ ধরনের বহু সন্দেহ তাদের। সেজন্যই আজকে আমরা বৈঠক ডেকেছি। সৌদি আরবের যিনি আছেন, তিনি বলেছেন এখন শুধুমাত্র ওমরাহ ভিসাটা বন্ধ রয়েছে কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশী যারা দেশে রয়েছেন কিন্তু আপাতত তারা যাচ্ছেন না। তাদের প্রত্যেকেরই ভিসার মেয়াদ বাড়ানো হবে। তখন তাদের অসুবিধা হবে না। যারা কাজ করতেন তারা নিশ্চিন্তে গিয়ে কাজ করতে পারবেন। বাংলাদেশের জন্য তারা কোনো বাধ্যবাধকতা করেননি। কাতার ১৪টি দেশের বিমান বন্ধ করেছে। কিন্তু বাংলাদেশীরা কিছুদিন পর ঠিক যেতে পারবেন। এবং তাদের ভিসার মেয়াদও বাড়াবে। যারা নতুন ওখানে কাজে যাচ্ছেন তাদেরও পরে গেলে কোনো ক্ষতি হবে না। কুয়েতে আপাতত সব দেশের সব ফ্লাইট বন্ধ রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রবাসীদের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে সার্টিফিকেট আনা, পরীক্ষা করানো এসবের কোনো প্রয়োজন নেই। বাড়িতে ভালোভাবে থাকেন সুখে থাকেন। তিনি বলেন, চীন, ইরান, সাউথ কুরিয়া, ইতালি এই চারটা দেশের ফ্লাইট আমরা বাতিল করেছি। তবে আমরা প্রতিনিয়ত অবজার্ভ করছি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলছি। ভারতের সঙ্গে সব ফ্লাইট আপাতত বন্ধ। তবে বিশেষ প্রয়োজন হলে, বাংলাদেশীরা আটকা পড়লে পরিস্থিতি বিবেচনায় বিমান বাংলাদেশ বিশেষ ফ্লাইট পাঠাবে কেবল মাত্র বাংলাদেশীদের ফিরিয়ে আনার জন্য। তাছাড়া বাংলাদেশ কোনো দেশের নাগরিকের ভিসা বন্ধ করবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবাসীদের উদ্দেশ্য করে মন্ত্রী বলেন, দেশে আসলে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থাকবেন। আমাদের ১ কোটি ২২ লাখ প্রবাসী থাকেন। তাদের বলেছি একটু ধীরে আসুন। ভারত ফ্লাইট বন্ধ করেছে। ট্রেনে ও বাসে ফিরে আসুন। যারা যে দেশে আছেন, সে দেশেই থাকুন। সে দেশের আইন কানুন মানুন। কোনো কিছুর দরকার হলে দূতাবাসে যোগাযোগ করুন। বৈঠকে সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কু?য়েত, ইরাকের প্রতিনিধি অংশ নেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ। (মানবজমিন)



(পরবর্তী খবর) »



একই ধরনের খবর

  • ব্রিটিশ সরকারের উচ্চ পদে বাংলাদেশের রুদমিলা
  • প্রধানমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন : ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা ঘোষণা
  • অতি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাবেন না: জাতির উদ্দেশে দেয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী
  • বাংলাদেশের পরিস্থিতি আসলে কি?
  • মৃত্যপুরী থেকে সান্তনা
  • আমেরিকান দূতাবাসের বাংলা ওয়েবসাইট চালু
  • প্রভাবশালীদের খুশি করেই পাপিয়ার এত সম্পদ !
  • Shares