পিআইবি’র মহাপরিচালক শাহ আলমগীরের ইন্তেকাল 

সুজন কৈরী ও জান্নাতুল ফেরদৌসী: বিশিষ্ট সাংবাদিক ও বাংলাদেশ প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশের (পিআইবি) মহাপরিচালক শাহ আলমগীর ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি………রাজেউন)। গত ২৮ ফেব্রুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজধানী ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে শাহ আলমগীরকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। ২১ ফেব্রুয়ারী রাতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। ২২ ফেব্রুয়ারী তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। শাহ আলমগীরের রক্তে হিমোগ্লোবিন কমে যাওয়া, ডায়াবেটিসসহ নানা ধরনের শারীরিক জটিলতা ছিল। বুধবার চিকিৎসকরা জানান, তাকে চিকিৎসা দিতে শারীরিক যে সক্ষমতা থাকা দরকার রোগীর সেই সক্ষমতা ছিল না। এদিকে তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বৃহস্পতিবার সকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়। শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, শাহ আলমগীরের মৃত্যু বাংলাদেশের গণমাধ্যম জগতের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার নীতি ও আদর্শ সাংবাদিকদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। শাহ আলমগীরের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করে রাষ্ট্রপতি এই সাংবাদিকের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। অপরদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শাহ আলগীরের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।
পিআইবি মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী শেখ সাইফউদ্দিন (মিন্টু) জানান, বেলা দেড়টার দিকে শাহ আলমগীরের লাশ গোড়ানে তার বাবার বাড়িতে নেয়ার কথা। সেখানে প্রথম জানাজা শেষে বেলা আড়াইটার দিকে পিআইবিতে এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিকেল ৩টায় জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিকেল ৪টার দিকে উত্তরার শাহ আলমগীরের বাসভবনে তার লাশ নেয়া হবে। সেখানে জানাজা শেষে বিকেল ৫টার দিকে উত্তরা ১২ নম্বর সেক্টরে তার লাশ দাফন করা হবে।
শাহ আলমগীর ২০১৩ সালের ৭ জুলাই পিআইবির মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। সরকার ২০১৮ সালের জুলাই মাসে তার চাকরির মেয়াদ আরো এক বছর বাড়ায়।
উপমহাদেশের প্রথম শিশু-কিশোর পত্রিকা সাপ্তাহিক কিশোর বাংলা পত্রিকায় যোগ দেয়ার মাধ্যমে তিনি সাংবাদিকতা শুরু করেন। এখানে তিনি ১৯৮০ সাল থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সহ-সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এরপর তিনি কাজ করেন দৈনিক জনতা, বাংলার বাণী, আজাদ ও সংবাদে। তিনি প্রথম আলোর যুগ্ম বার্তা-সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি চ্যানেল আইয়ের প্রধান বার্তা সম্পাদক, একুশে টেলিভিশনের হেড অব নিউজ, যমুনা টেলিভিশনে পরিচালক (বার্তা) এবং মাছরাঙা টেলিভিশনে বার্তা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
শাহ আলমগীর ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ‘কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ সাহিত্য পুরস্কার ২০০৬, ‘চন্দ্রাবতী স্বর্ণপদক ২০০৫’, ‘রোটারি ঢাকা সাউথ ভকেশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০০৪’ এবং ‘কুমিল্লা যুব সমিতি অ্যাওয়ার্ড ২০০৪’ পেয়েছেন।
শাহ আলমগীরের পৈতৃক বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে হলেও বাবার চাকরি সূত্রে বৃহত্তর ময়মনসিংহে জীবনের বড় একটি সময় কাটে তার। ময়মনসিংহের গৌরীপুর কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। বাংলা সাহিত্যে অনার্স ও মাস্টার্স করেন।
পারিবারিক জীবনে শাহ আলমগীর এক পুত্র ও কন্যা সন্তানের জনক। তার স্ত্রী ফৌজিয়া বেগম একটি ওষুধ কোম্পানিতে কাজ করেন। ছেলে আশিকুল আলম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ থেকে বিবিএ পাশের পর এইচএসবিসি ব্যাংকে কর্মরত। মেয়ে অর্চি অনন্যা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইইউবিতে সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।






একই ধরনের খবর

  • টাইম টেলিভিশন-এর বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ সোলায়মান
  • সাংবাদিক আব্দুর রহীম আজাদের ইন্তেকাল
  • যা চাচ্ছি তা লিখতে পারছি না
  • বাংলা গণমাধ্যমগুলো নিউইয়র্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে
  • বিজ্ঞাপন বাজেটের ৫০ ভাগ এথনিক মিডিয়ার জন্য বরাদ্দ
  • ফোবানা নিয়ে নিউইয়র্কে তোপের মুখে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক
  • কমিউনিটি সাংবাদিকতার হালচাল
  • ‘টাইম টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানের ঘোষণা
  • Shares