নিউইয়র্কে সম্পাদক ও সাংবাদিকদের সাথে নতুন কনসাল জেনারেল ফয়জুননেসার মতবিনিময়

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটে নবনিযুক্ত কনসাল জেনারেল (সিজি) মিজ সাদিয়া ফয়জুননেসা বাংলা ভাষায় প্রকাশিত ও প্রচারিত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক/পরিচালক ও সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় করেছেন। চলতি মাসের প্রথম দিকে তিনি তার নতুন কর্মস্থলে যোগদানের পর এই প্রথম সিজি সাদিয়া ফয়জুননেসা তার অফিসিয়াল কর্মকান্ডের বাইরে মিডিয়ার সাথে মতবিনিময় করেন। লং আইল্যান্ড সিটির নর্দান বুলেভার্ডস্থ কনস্যুলেট মিলনায়তনে বৃহস্পতিবার (২১ জুন) বিকেলে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন ও ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে নিযুক্ত প্রেস মিস্টিার শামীম আহমেদ এসময় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। খবর ইউএনএ’র।
অনুষ্ঠানে কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা তার স্বাগত বক্তব্যে ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং উপস্থিত সকল সম্পাদক ও সাংবাদিকদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের নতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় তিনি নিউইয়র্কের সকল মিডিয়ার সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, বাংলাদেশ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড আমেরিকানদেন মাঝে তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাংলাদেশীদের সেবা নিশ্চিত করাই আমার প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। তিনি বলেন, কনস্যুলেটকে আমি ‘জনবান্ধব’ কনস্যুলেটে পরিণত করতে চাই।
কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা বলেন, ইতিপূর্বে জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশনে উপ স্থায়ী প্রতিনিধির দায়িত্ব পালন করার সুবাদে নিউইয়র্ক তথা আমেরিকা ছাড়াও বাংলাদেশী কমিউনিটি সম্পর্কে আমার জানা রয়েছে। তবে জাতিসংঘে কাজ করা আর কনস্যুলেটে কাজ ধরণের পার্থক্য রয়েছে এবং মিশনের চেয়ে কনস্যুলেটের দায়িত্ব অনেক বেশী বলেই মনে করি। তিনি বলেন, আমি উন্নয়ন কূটনীতির মাধ্যমে আমেরিকান কমিউনিটিতে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে চাই। আর এজন্য কাজের নতুন ধারা সৃষ্টি করে আমেরিকানদের কাছে বাংলাদেশ-কে নিয়ে যেতে চাই।
কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা বলেন, আমি কাজ-কে এনজয় করি। নতুন দায়িত্বে আসার আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মহা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন ছাড়াও কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে রাত জেগে কাজ করারও অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাই একজন নারী বা মহিলা হিসেবে নয়, একজন কূটনীতক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে আমার কোন সমস্যা নেই। তাছাড়া সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী দু’জনই আমার উপর আস্থা রেখেই আমাকে নতুন দায়িত্ব পালনের সুযোগ দিয়েছেন। তাই আমার দায়িত্ব পালনে আমি সবার সার্বিক সহযোগিতা চাই।
মতবিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন মিডিয়ার সম্পাদক/পরিচালক ও সাংবাদিকগণ নতুন কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা-কে স্বাগতম ও শুভেচ্ছা জানান এবং তাদের পরামর্শমূলক কতিপয় প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। এসব প্রস্তাবনার মধ্যে কনস্যুলেটের নিজস্ব ভবন তথা নিউইয়র্কে একটি বাংলাদেশ ভবন প্রতিষ্ঠা, কনস্যুলেটের সেবার মান বৃদ্ধি করতে লোকবল বৃদ্ধি, ইতিপূর্বে কনস্যুলেটে ঘটে যাওয়ায় ‘জাতির জনক’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি’র অপমান ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের ডকুমেন্টের কপি রাস্তার পড়ে থাকার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে এবং সব ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তিন অথবা ছয় মাস অন্তর অন্তর একবার মিডিয়ার সাথে মতবিনিময় করা সহ কমিউনিটির স্বার্থ সংশ্লিস্ট বিষয়দী উঠে আসে। সিজি মিজ সাদিয়া ফয়জুননেসা সম্পাদক/সাংবাদিকদের প্রস্তাব/পরামর্শ/মতামত অগ্রহভরে শুনেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন তার সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বাংলাদেশ মিশন ও কনস্যুলেট অতীতের মতো আগামী দিনেও বাংলাদেশ সরকার ও কমিউনিটির স্বার্থে যৌথভাবে কাজ করে যাবে বলে উল্লেখ এবং পুনরায় সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। উল্লেখ্য, নবনিযুক্ত কনসাল জেনারেল (সিজি) মিজ সাদিয়া ফয়জুননেসা বিদায়ী কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ শামীম আহসান-এর স্থলাভিষিক্ত হলেন এবং তিনিই নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রথম নারী ও ১৫তম কনসাল জেনারেল।






একই ধরনের খবর

  • ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সিএনএনের মামলা
  • নিউইয়র্কের ৯টি সাপ্তাহিকের সম্পাদকদের নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠিত
  • শুভানুধ্যায়ীদের ভালোবাসায় মুগ্ধ নয়া দিগন্ত পরিবার
  • পত্রিকার রাজধানী মজমপুর গ্রাম থেকে প্রকাশিত হয় অর্ধশত পত্রিকা
  • চারটি পত্রিকার প্রকাশনা বন্ধ
  • সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করতেই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন
  • ইনসাফের যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ পেলেন রশীদ আহমদ
  • যে কারণে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বিরোধিতা করছে সম্পাদক পরিষদ
  • Shares