নিউইয়র্কে দেশে বিদেশে সম্পাদক মিন্টো সংবর্ধিত

বিশেষ প্রতিনিধি: কানাডা থেকে প্রকাশিত প্রথম বাংলা সাপ্তাহিক ও প্রথম বাংলা টিভি চ্যানেল ‘দেশে বিদেশে’-এর সম্পাদক ও সিইও নজরুল ইসলাম মিন্টোকে সংবর্ধিত করেছে বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন। নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য ৩৩তম ফোবানা বাংলাদেশ সম্মেলন উপলক্ষে তিনি নিউইয়র্ক এলে তাকে এই সম্মান জানানো হয়।

বাংলাদেশী অধ্যুষিত ব্রঙ্কসের বাংলাগার্ডেন রেষ্টুরেন্টে গত ২০ আগষ্ট মঙ্গলবার এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল হাসিম হাসনুর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক আহবাব চৌধুরী খোকনের সঞ্চালনায় আয়োজিত উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের সভাপতি মোহাম্মদ এন মজুমদার এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন যথাক্রমে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা সম্পাদক ও টাইম টেলিভিশন-এর সিইও আবু তাহের, আমেরিকান বাংলাদেশী ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুস শহিদ, পি পি এম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সহকারী প্রধান শিক্ষক শামসুল ইসলাম, বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন কমিশনার কাওছারুজ্জামান কয়েছ, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র প্রাক্তন সহ সভাপতি আব্দুল বাসির খান, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ নুরে আলম জিকু, নুরুল ইসলাম খোকন, বাংলাদেশী আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল হক, হৃদয়ে বাংলাদেশ-এর সহ সভাপতি মোহতাসিন বিল্লাহ তোষার, নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক এবিএম সালাহউদ্দিন আহমেদ, সাপ্তাহিক জনতার কন্ঠ সম্পাদক সাখওয়াত হোসেন সেলিম, ব্রঙ্কস বাংলাদেশী এসোসিয়েশন সভাপতি এ ইসলাম মামুন, বিশিষ্ট বাউল শিল্পী কালা মিয়া, প্রাক্তন নন্দিত ফুটবলার কবির আহমদ খান, ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল হাকিম, বিশিষ্ট সমাজসেবী সালেহ আহমদ চৌধুরী ও আব্দুল কালাম মনু।
সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক সারওয়ার চৌধুরী। এরপর অতিথিবৃন্দ ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পাদক এমডি আলাউদ্দীন, প্রচার ও গণ সংযোগ সম্পাদক সোহেল আহমদ, কোষাধ্যক্ষ কবি শাহ বদরুজ্জামান রুহেল ও কার্যকরী কমিটির সিনিয়ার সদস্য আহমদ ফয়ছল ও হেলাল আহমদ, সাবেক ছাত্রনেতা আবুল কালাম, শাহ মামুন আহমদ ও আব্দুল কাইয়ুম।
সভায় সংবর্ধিত অতিথি নজরুল ইসলাম মিন্টো তাকে সম্মান জানানোর জন্য বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশনকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনি অতি সাধারণ মানুষ। নিজে এভাবে লোকিকতায় বিশ্বাস করেন না। প্রবাসে এসে বাংলাদেশকে ভুলে যাননি বরং নিজের মাটি ও দেশের গর্ভিত ইতিহাসকে সব সময় উর্ধে তোলে ধরার চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন, আশির দশকের প্রারম্ভে এমন এক সময় কানাড়ায় এসেছিলাম, যখন সেখানে বাংলাদেশী কমিউনিটি বলতে কিছুই ছিলো না। তবে লোকজন এতোটা খারাপ অবস্থায় ছিলো যে, কখন শবে বরাত পালন করবে, কখন রোজা রাখা শুরু করবে এই নিয়ে মানুষের মধ্যে বেশ বিভ্রান্তি ছিলো। এই জন্যই তিনি দেশে বিদেশে শুরু করেছিলেন। তিনি বলেন, আমি কানাডায় এসে প্রথমে অর্থের পেছনে না দৌড়ে নিজেকে গড়ার পেছনে মনোনিবেশ করেছিলাম। তিনি দেশে বিদেশে প্রকাশ করার শুরুর কথা বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেন তিনি এই পত্রিকা বের করার আগে এই পত্রিকা বের করার সকল কৌশল আগে আয়ত্ব করেছিলেন ।
সভায় মোহাম্মদ এন মজুমদার নজরুল ইসলাম মিন্টোকে বাংলাদেশের গর্ব আখ্যায়িত করে তার উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন বলেন, নজরুল ইসলাম মিন্টো, আবু তাহেররা প্রবাসে বাংলাদেশী কমিউনিটির আইকন। প্রবাসের মিডিয়াগুলোই কমিউনিটি বিনির্মাণ করেছে, আমাদের একত্রিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে, আমাদের নেতা বানিয়েছে। তিনি কমিউনিটির কর্মকান্ডের পাশাপাশি মূলধারার রাজনীতিতে আরো সক্রিয় হওয়ার জন্য প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, আমাদের অধিকারের প্রশ্নে সবাইকে একযোগে ভয়েস রেইজ করতে হবে।
আবু তাহের তার বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মিন্টোকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘আইকন’ আখ্যায়িত করে বলেন তিনি বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মকান্ডের মাধ্যমে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। কানাডা তথা উত্তর আমেরিকার বাংলাদেশী সাংবাদিকতা জগতের অন্যতম পুরোধা নজরুল ইসলাম মিন্টো এবং দেশে বিদেশে প্রবাসী বাংলাদেশীর গর্বিত ইতিহাসের অংশ। তাদের বাদ দিয়ে বর্হিবিশ্বে প্রবাসীদের গর্বের ইতিহাস লেখা সম্ভব নয়।
শামসুল ইসলাম বলেন, জ্ঞানী-গুনীদের স্মান না জানালে, জ্ঞানী-গুণী জন্মায় না। মিন্টোর মতো সাংবাদিককে সংবর্ধিত করে বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন সকল জ্ঞানীকেই সম্মানিত করেছে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ তার বক্তব্যে বক্তাদের বক্তব্যের আলোকে বলেন, যেহেতে উত্তর আমেরিকায় বাংলাদেশী কমিউনিটি বিনির্মানে বাংলা মিডিয়াগুলোর অবদান অনস্বীকার্য। সেইহেতু বাংলা মিডিয়াগুলো বটিকিয়ে রাখাও কমিউনিটির দায়িত্ব। তাই স্ব স্ব অবস্থান থেকে মিডিয়াগুলোকে পৃষ্ঠপোষকতা দানের জন্য তিনি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের প্রতি উদাত্ব আহ্বান জানান।
সভায় অন্যান্য বক্তারা তাদের বক্তব্যে নজরুল ইসলাম মিন্টোর ভূয়াসী প্রশংসা করে বলেন তাঁর মতো কিছু গুনী ও ক্ষনজন্মা মানুষের জন্যই বর্হিবিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান আজ উজ্জল থেকে উজ্জলতর হচ্ছে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একজন নিরহংকার, প্রচার বিমুখ ক্রিয়েটিভ মানুষ।
অনুষ্ঠানে নজরুল ইসলাম মিন্টোকে বাংলাদেশী আমেরিকান কালচারাল এসোসিয়েশন মনোগ্রাম সম্বলিত একটি প্ল্যাক উপহার প্রদান করা হয়।






একই ধরনের খবর

  • নাইন-ইলেভেনের ১৮ বছর: কী ঘটেছিল সেদিন?
  • জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচন ২৭ অক্টোবর
  • ৯/১১ : কী ঘটেছিল সেদিন
  • নাইন ইলেভেন : সন্ত্রাসী হামলার আতঙ্ক এখনো কাটেনি
  • ভয়াল ৯/১১ বুধবার
  • ‘এ-এইচ ১৬ ড্রিম ফাউন্ডেশন’র স্কুল সাপ্লাই বিতরণ
  • বাংলাদেশ সোসাইটি ভবনে ৮৬ হাজার ডলারের লীন : বাড়ী হাত ছাড়া হওয়ার আশংকা
  • লাগোর্ডিয়া ম্যারিয়ট ফোবানা কনভেনশনে ঐক্যের আহবান : ২০২০ সালের সম্মেলন মন্ট্রিয়ল
  • Shares