নিউইয়র্কের মিডিয়া কড়চা-৩

স্বাগতম ইংরেজী নতুন বছর ২০১৯, বিদায় ২০১৮। বিদায় বছরের শেষ মূহুর্তে অর্থাৎ গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশের বহুল আলোচিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নির্বাচনে ক্ষমতাসীন শেখ হাসিনা সরকারের মহাজোট নিরঙ্কুশ সংখ্যা ঘরিষ্ঠতা অর্জন করে জয়লাভ করেছে। সর্বশেষ হিসেবে জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৮৮ আসন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৭ আর স্বতন্ত্র ৩ আসন লাভ করেছে। স্বাভাবিক কারণেই দেশ-বিদেশের মিডিয়াগুলোর মতো প্রবাসের বাংলা মিডিয়াগুলোতে গুরুত্বের সাথে এই নির্বাচনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। সেই সাথে প্রবাস থেকে সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড. একে আব্দুল মোমেন ও সাপ্তাহিক ঠিকানা’র সম্পাদকমন্ডলীর সভাপতি, সাবেক এমপি এম এম শাহীনের জয়-পরাজয়’র খবরও কোন কোন মিডিয়ায় গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে। এদিকে গত ৩ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন গণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-১ আসন থেকে পুন: নির্বাচিত এমপি সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি ১৯৭১ সালের ‘মুজিবনগর সরকার’-এর অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং জাতীয় চার নেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলাম-এর পুত্র। সৈয়দ আশফুল ইসলামের মৃত্যুর খবরও প্রবাসের মিডিয়াগুলোতে গুরুত্বের সাথে প্রকাশিত হয়েছে।
নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলো পর্যালোচনায় দেখা যাচ্ছে দিনে দিনে হাতে গোনা কয়েকটি মিডিয়া ছাড়া অধিকাংশ মিডিয়াগুলোর ব্যাপারে পাঠক, বিজ্ঞাপদাতা সহ সংশ্লিস্ট অনেকই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন। সেই সাথে নানা অভিযোগ উঠছে মিডিয়াগুলোর ওপর তথা বাংলা সাংবাদিকতা নিয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়াগুলো ঢাকার মিডিয়ার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা ‘কাট-এন্ড পেষ্ট’ বলেই পরিচিত। আর অপ্রিয় হলেও সত্য যে, ঢাকার মিডিয়াগুলোর খবর আগেভাগেই ইন্টারনেটে দেখার সুযোগ হওয়ায় এসব পত্রিকার কদরও কমছে। নিইয়র্ক থেকে প্রকাশিত প্রায় দুই ডজন প্রিন্ট মিডিয়ার মধ্যে স্থানীয় পাঠকমহলে ৯/১০টি পত্রিকাই পাঠকপ্রিয় বলে সংশ্লিষ্ট অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
গেলো সপ্তাহে নিউইয়র্কের উল্লেখযোগ্য পত্রিকাগুলোর মধ্যে ৩১ সোমবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৮৮ আসনে মহাজোটের জয় ॥ রেকর্ড সৃষ্টি করলেন শেখ হাসিনা’। ০২ জানুয়ারী বুধবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক ঠিকানা’র প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘বিএনপিকেও আওয়ামী বশীকরণ পরিকল্পনা’, ০৩ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘বাদ পড়ছেন একাধিক মন্ত্রী, আসবেন তৃণমূল থেকেও ॥ চমক আসছে নতুন মন্ত্রিসভায়’, একই দিন প্রকাশিত অপর সাপ্তাহিক বাংলাদেশ-এর প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘শপথ নিলেন এমপিরা, যোগ দেয়নি ঐক্যফ্রন্ট’, ০৪ জানুয়ারী শুক্রবার প্রকাশিত সাপ্তাহিক আজকাল-এর প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘আওয়ামী লীগের বিশাল বিজয় : চতুর্থ দফা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা : বড় মন্ত্রিসভার আভাস ॥ নতুন বছরে নতুন সরকার শপথ সোমবার’, একই দিন প্রকাশিত সাপ্তাহিক প্রবাস-এর প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘সোমবার শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মন্ত্রিসভার শপথ’, প্রথম আলো’র (উত্তর আমেরিকা সংস্করণ) প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘আ. লীগের নিরঙ্কুশ জয়, সোমবার নতুন সরকার’ এবং বাংলাদেশ প্রতিদিন (উত্তর আমেরিকা সংস্করণ) প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘ইতিহাস সৃষ্টি করল আওয়ামী লীগ’, ০৫ জানুয়ারী প্রকাশিত সাপ্তাহিক পরিচয়-এর প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘সীমান্তে দেওয়াল নির্মাণে বরাদ্দ না পেলে যুক্তরাষ্ট্রে জরুরী অবস্থার হুমকি ট্রাম্পের’ আর সাপ্তাহিক বাঙালী’র প্রধান শিরোনাম ছিলো ‘মানুষের মনে গগনচুম্বি প্রত্যাশা ॥ সরকারের সামনে বিশাল চ্যালেঞ্জ ॥ উন্নত দেশে পরিণত করার স্বপ্ন হাসিনার’।
এছাড়াও গেলো সপ্তাহের পত্রিকাগুলোর মধ্যে সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা’র ‘অন্ধত্ব, সমালোচনা, ভয় উপেক্ষা করে জয় করে চলেছেন জীবন ॥ আরো এগিয়ে যেতে রনি’র চাই আর্থিক সাহায্য’, সাপ্তাহিক ঠিকানা’র ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন ॥ ঐক্যফ্রন্টের ফলাফল প্রত্যাখ্যান ॥ আওয়ামী লীগের বিস্ময়কর রেকর্ড, আজকাল-এ প্রকাশিত ‘বিএনপি’র পরিণতির জন্য তারেক দায়ী! : নিউইয়র্কে খোকার নামে প্রচারণায় তোলপাড়’ এবং ‘বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ আবারও ক্ষমতায় যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থীরা স্বস্তিতে’, প্রথম আলো’র ‘বছরের ব্যবধানে দুবার সংবাদ শিরোনাম আলী’, বাংলাদেশ প্রতিদিন-এর ‘বাংলাদেশ সোসাইটিতে অচলবস্থা চলছেই’ শিরোনামের খবরগুলো পাঠকমহলে আলোচিত হয়েছে।
অপরদিকে নতুন বছর ২০১৯-কে স্বাগত আর ২০১৮ সালকে বিদায় জানিয়ে এবং বাংলাদেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে বিভিন্ন মিডিয়ায় সম্পাদকীয় ও বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এরমধ্যে বাংলা পত্রিকার সম্পাদকীয় শিরোনাম ছিলো ‘বিদায় ২০১৮ স্বাগত ২০১৯’, ঠিকানা’র শিরোনাম ছিলো ‘বিজয়ের অভিনন্দন শেখ হাসিনা, এবার নাগরিক প্রত্যাশা পূরণের পালা’, বাংলাদেশ-এর শিরোনাম ছিলো ‘একাদশ সংসদ নির্বাচন’, অপর বাংলাদেশ-এর শিরোনাম ছিলো ‘শপথ ও জনরায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রাখুন’ এবং ‘স্বাগত ২০১৯’, আজকাল-এর শিরোনাম ছিলো ‘রেকর্ড গড়লেন শেখ হাসিনা, অভিনন্দন বিজয়ী প্রার্থীদের’, প্রথম আলো’র শিরোনাম ছিলো ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন, প্রত্যাশা পূরণ হলো না’, সাপ্তাহিক বাঙালী’র শিরোনাম ছিলো ‘এ বিজয় স্বাধীনতা প্রজন্মের’।
(প্রতিবেদনটি নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন পত্রিকা’র প্রিন্ট কপি ছাড়াও ওয়েব সাইট-এর সহযোগিতায় তৈরী।)
মিশুক
০৫ জানুয়ারী ২০১৯






একই ধরনের খবর

  • টাইম টেলিভিশন-এর বিশেষ প্রতিনিধি মোহাম্মদ সোলায়মান
  • সাংবাদিক আব্দুর রহীম আজাদের ইন্তেকাল
  • যা চাচ্ছি তা লিখতে পারছি না
  • বাংলা গণমাধ্যমগুলো নিউইয়র্কে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে
  • বিজ্ঞাপন বাজেটের ৫০ ভাগ এথনিক মিডিয়ার জন্য বরাদ্দ
  • ফোবানা নিয়ে নিউইয়র্কে তোপের মুখে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক
  • কমিউনিটি সাংবাদিকতার হালচাল
  • ‘টাইম টেলিভিশন অ্যাওয়ার্ড’ প্রদানের ঘোষণা
  • Shares