নিউইয়র্কের প্রেসনোট : প্রবাসের বাংলা সংবাদপত্রের ‘সম্পাদক’-এর যোগ্যতা নিয়ে নানা প্রশ্ন

প্রবাসে বাংলা সংবাদপত্রের ‘সম্পাদক’-এর যোগ্যতা নিয়ে কমিউনিটিতে নানা প্রশ্ন উঠেছে। দীর্ঘ দিন ধরে এই প্রশ্ন কমিউনিটির সচেতন মহলে আড়ালে-আবডালে আলোচিত হলেও এবার প্রকাশ্যেই আলোচিত হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েক মাস আগে স্থানীয় বিভিন্ন বাংলা সংবাদপত্রে একাধিক বিজ্ঞাপন ম্যানেজার/কালেক্টর ফ্রি পত্রিকা প্রকাশ করে সম্পাদক বনে যাওয়ার ফলে সম্পাদকদের যোগ্যতার প্রশ্ন এখন প্রকাশ্যেই আলোচিত হচ্ছে। গত সপ্তাহে সাপ্তাহিক পরিচয়-এর ‘ডিজিটাল ওয়ান ট্রাভেল’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে যাত্রীদের অভিযোগের খবর প্রকাশের পর সেই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম কর্ণধার হিসেবে জাকারিয়া মাসুদ জিকুর সাংবাদিক সম্মেলনে আতœপক্ষ সমর্থন এবং ভুক্তভোগী যাত্রীদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকীর প্রেক্ষিতে মিডিয়ার সম্পাদকদের যোগ্যতা নিয়ে নানা কথা আলোচিত হচ্ছে। কেননা তিনি একই সাথে নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক আজকাল-এর ‘প্রধান সম্পাদক’। জাকারিয়া মাসুদ জিকুর (অনেকের কাছে জাকির হোসেন নামেও পরিচিত) এই দ্বৈত ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি মিডিয়ার আড়ালে অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্যের নামে প্রবাসীদের হয়রানী বা অর্থ হাতিয়ে নেয়ার জন্যই নিজেকে মিডিয়ার আবরণে ঢেকে রাখ! আরো প্রশ্ন উঠেছে কেউ মানুক, না মানুক সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধির জন্যই কি সম্পাদক বনে যাওয়া? শুধু আজকাল-এর প্রধান সম্পাদক নয়, প্রশ্ন উঠেছে নিউইয়র্কের আরো অনেক সংবাদপত্রের সম্পাদকদের যোগ্যতা নিয়ে। আলোচিত এইসব সংবাদপত্রের সম্পাদকদের মধ্যে কেউই পেশাগতভাবে সাংবাদিক ছিলেন না। সাংবাদিক বা সম্পাদক হিসেবে তাদেরও দু’কলম লেখারও যোগ্যতা আছে কিনা তা নিয়ে অনেকেরই সন্দেহ রয়েছে। এইসব সংবাদপত্রের সম্পাদক/প্রধান সম্পাদকদের মধ্যে অনেকেই অন্য পেশার মানুষ, শুধু সম্পাদক বা প্রধান সম্পাদকের পদবী ব্যবহার করে সমাজে মর্যাদাবাদ হওয়ার অপচেষ্ঠায় লিপ্ত। ইতিপূর্বে ক্রেডিট কার্ড জালিয়াতি সহ নানা অভিযোগে অভিযুক্ত এবং সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে কেউ কেউ প্রবাসের একাধিক সংবাদপত্র প্রকাশের সাথে জড়িত ছিলেন বা হয়েছেন। ফলে প্রবাসে বাংলা সংবাদপত্র ও সাংবাদিকতার মান-মর্যাদা হোচট খেয়েছে ভালোভাবে। শুধু তাই নয় বেশ কয়েকটি পত্রিকার অতীত ও বর্তমান ভূমিকা সমাজের অপরাধীদের হাতকে শক্তিশালীও করেছে বা করছে। কোনটি খবর, কোনটি খবর নয়, সেই বিবেচনা হচ্ছে বিজ্ঞাপনের শক্তিতে। সংবাদপত্র সমাজের দর্পণ হিসেবে পরিচিত হলেও নিউইয়র্কের বাংলা সংবাদপত্রের অনেকগুওেলাই পরিচিত হচ্ছে ‘বিজ্ঞাপনের দর্পণ’ হিসেবে। সংবাদপত্রের জন্য বিজ্ঞাপন আপবশ্যক। কিন্তু বিজ্ঞাপন বস্তুনিষ্ঠ খবর বা মতামত প্রকাশের নিয়ন্ত্রক হতে পারে না। তাহলে সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
নিউইয়র্কের বাংলা মিডিয়ার সংখ্যা বাড়লেও মিডিয়াগুলোর সাংবাদিকতায় পেশাগত মর্যাদা বাড়েনি। এজন্য ফ্রি পত্রিকার পাশাপাশি সম্পাদক পদে পেশাদার সাংবাদিক অধিষ্ঠিত না থাকাকেই দায়ী করেছেন কমিউনিটির সচেতন মহল। ফলে প্রবাসে প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকতার বহি:প্রকাশ ঘটছে না। কোন কোন মিডিয়ায় সাংবাদিকই নেই। আবার কোন কোন মিডিয়া বিজ্ঞাপন সর্বস্ব ‘কাট এন্ড পেষ্ট’ নিউজ ছাড়া আর কিছুই নয়। ‘হু কেয়ার্স’-এর দেশে কে কাকে কি বললে ফলেই এমনটি হয়েছে বা হচ্ছে বলে সচেতন প্রবাসীরা অভিমত ব্যক্ত করেছেন।
সংবাদপত্র বা সাংবাদিকতা একটি মর্যাদা সম্পন্ন সৃজনশীল পেশা। মূলত: সাংবাদিকরাই মিডিয়ার সম্পাদক হওয়ার যোগ্যতা রাখেন। আর অর্থের যোগানদাতা মিডিয়ার প্রকাশক হন। আবার কোন কোন ক্ষেত্রে একটি মিডিয়ার সম্পাদক/প্রকাশ একই ব্যক্তি। কিন্তু বাংলাদেশের মতো এই প্রবাসেও এক শ্রেনীর ব্যক্তিবর্গ অর্থের (তাদের অনেকের অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে) দাপটে মিডিয়ার মালিক হয়েছেন, সম্পাদক পদ দখল করেছেন। কোন মিডিয়ার সম্পাদকের অন্যকোন পেশা বা ব্যবসা-বাণিজ্য বা রাজনীতিকে জড়িতা থাকায় দোষ নেই। তবে এই ক্ষেত্রে সম্পাদক পদে বহাল না থাকাই ভালো। যেকারণে দেখা যায় বাংলাশের জনপ্রিয় দৈনিক ইত্তেফাক-এর সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পার্লামেন্টের মেম্বার (এমপি) বা সরকারের নির্বাচিত বা মন্ত্রী পরিষদে যোগ দিলে তিনি আর ইত্তেফাক-এর সম্পাদক পদে নিজেকে অধিষ্ঠিত রাখেন না। একইভাবে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক সালমা ইসলাম এমপি থাকাবস্থায় যুগান্তরের সম্পাদক পদে অধিষ্ঠিত থাকছেন না। সংবাদপত্র, সাংবাদিকতা আর সম্পাদক পদের মর্যাদার প্রশ্নে বিষয়গুলো ভাববার অবকাশ রয়েছে।
২. গত সপ্তাহে সাপ্তাহিক পরিচয়-এ প্রকাশিত ‘জ্যাকসন হাইটস এর ডিজিটাল ওয়ান ট্রাভেলস এর বিরুদ্ধে যাত্রীদের টিকিটের অর্থ আতœসাতের অভিযোগ’ শীর্ষক খবরটি উত্তর আমেরিকায় ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। ভুক্তভোগী তিন যাত্রীর গত ৫ এপ্রিল রোববার জ্যাকসন হাইটসের ফুডকোর্টে অনুষ্ঠিত সাংবআদিক সম্মেলনের খবরটি এটিএন বাংলা, এনটিভি, সিনে বাংলা এবং পরের দিন ৬ এপ্রিল ডিজিটাল ওয়ান ট্রাভেলস-এর আতœপক্ষ সমর্থনের জন্য আয়োজিত সাংবাদিক সস্মেলনের খবরটি টাইম টেলিভিশনে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়েছে। বিষয়টি এখন কমিউনিটির সর্বত্রই আলোচিত হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসের বাংলাদেশী ট্রাভেল ব্যবসায় কতিপয় প্রশ্নবিদ্ধ এজেন্সী যেমন জ্যাকসন হাইটসের ট্রেডস্কাই, ওয়ার্ল্ড এয়ার লিংক, বেঙ্গল ট্রাভেলস-এর সাথে ডিজিটাল ওয়ান ট্রাভেলস’র নামটিও যুক্ত হলো। বাংলাদেশী কমিউনিটিতে মাত্র তিনটি ট্রাভেল এজেন্সী এয়াললাইন্স স্বীকৃত ‘আইএটিএ’ সনদপত্র রয়েছে। এরা হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলস, কর্ণফূলী ট্রাভেলস এবং এস্টোরিয়ার ডিজিটাল ট্রাভেলস (অভিযুক্ত জ্যাকসন হাইটসের ডিজিটাল ওয়ান ট্রাভেলস-এর সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই)। বাংলাদেশী আমেরীকান মালিকানাধীন একটিমাত্র ট্রাভেল এজেন্সী রয়েছে যরা এয়ারলাইন্স টিকেট কন্স্যুলিডেটর। যারা নিজেদের অফিস থেকেই এয়ার টিকেট ইস্যু করতে পারেন। সেই প্রতিষ্ঠান হচ্ছে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ট্রাভেলস।
৩.
এদিকে প্রায় এক মাস বন্ধ থাকার পর টিবিএন২৪ চ্যানেল গত ২৬ মার্চ থেকে তাদের প্রাইম টাইম নিউজ পুনরায় চালু করেছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৮টায় প্রাইম টাইম নিউজ প্রচারিত হচ্ছে। আগামী ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ থেকে প্রাইম টাইম নিউজ সন্ধ্যা ৮টার পরিবর্তে রাত ৯টায় পরিবেশিত হবে বলে টিবিএন২৪ চ্যানেলের নতুন ঘোষণায় বলা হয়েছে। ১০ এপ্রিল’২০১৫ (সাপ্তাহিক পরিচয়)






একই ধরনের খবর

  • নবযুগ প্রকাশিত হচ্ছে ১০ জানুয়ারী শুক্রবার
  • নিউইয়র্কে এটিভি’র লোগো উন্মোচন
  • নিউইয়র্ক বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের নব নির্বাচিত কমিটির অভিষেক : পেশাদারিত্ব বজায় রাখার অঙ্গীকার
  • নতুন কমিটির অভিষেক ২৮ ডিসেম্বর
  • জামাত মুখপত্রের দফতরে ভাঙচুর
  • দৈনিক সংগ্রামে ডিএফপি’র নোটিশ
  • সংগ্রাম কার্যালয়ে ভাঙচুর, সম্পাদক থানা হেফাজতে
  • আক্রান্ত দৈনিক সংগ্রাম : সম্পাদক আবুল আসাদ পুলিশ হেফাজতে
  • Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked as *

    *

    Shares