ধেয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ ॥ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ, শঙ্কা, সতর্কতা ॥ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ॥ উদ্বিগ্ন দেশবাসী সহ প্রবাসীরা

নিউইয়র্ক: বাংলাদেশের বঙ্গোপসাগর উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’। মঙ্গলবার (৩০ মে) সকালে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূলে আঘাত হানবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ঘূর্ণিঝড়ের তীব্রতা বেশি হতে পারে এমন আশঙ্কায় চট্টগ্রাম বন্দর ও কক্সবাজার উপকূলীয় এলাকাকে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত এবং মংলা ও পায়রা বন্দরকে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উপকূলের লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে আনা হয়েছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম। রাতে কক্সবাজার বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ ছিল। চট্টগ্রাম বিমানবন্দরেও বিশেষ সতর্কতা জারি রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে গতকাল কক্সবাজারের নিম্নাঞ্চলের অনেক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সংশ্লিস্ট এলাকার চিকিৎসকদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র খবরে দেশবাসীর পাশাপাশি নিউইয়র্ক তথ উত্তর আমেরিকা প্রবাসী বাংলাদেশীরা উদ্বিগ্ন সময় পার করছেন। অজানা উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশীদের মধ্যে।
ঢাকা থেকে প্রাপ্ত খবরে জানা গেছে, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী উপকূলীয় জেলা নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। এবং ৮ নম্বর সংকেতের এলাকাগুলো হলো- ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং জেলাগুলোর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলো। এসব উপকূলীয় এলাকায় স্বাভাবিকের চেয়ে চার থেকে পাঁচ ফুট বেশি জলোচ্ছ্বাস হতে পারে বলে ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে উপকূলীয় এলাকার আশ্রয়কেন্দ্র ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে স্থানীয় অধিবাসীদের তাদের গবাদিপশুসহ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশ দেয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে।
সোমবার সচিবালয়ে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সচিবের দায়িত্বে) গোলাম মোস্তফা জানান, এলাকায় সরকারের বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৫৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবককে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালীসহ বাগেরহাট ও খুলনা জেলার কিছু অংশে এই ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানতে পারে। ওই এলাকাগুলোতে প্রস্তুত আছেন স্বেচ্ছাসেবকরা। এছাড়া পর্যাপ্ত পরিমাণ ত্রাণ মজুত করা হয়েছে। এছাড়া একটি সার্বক্ষণিক নিয়ন্ত্রণকক্ষ খোলা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়সংক্রান্ত যেকোনো ব্যাপারে নিয়ন্ত্রণকক্ষের ৯৫৪০৪৫৪, ৯৫৪৫১১৫, ৯৫৪৯১১৬ ও ০১৭১৫১৮০১৯২ নম্বরে ফোন করে যোগাযোগ করা যাবে। এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’র প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে ঢাকা থেকে দূরপাল্লার সব নৌযান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)।
সোমবার বেলা সাড়ে ১২টায় দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোতে দুই নম্বর সতর্কতা সংকেত জারি করা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক জয়নাল আবেদিন জানান, এই সতর্কতায় ৬৫ ফুটের উপরের জাহাজ চলাচল করতে পারে। কিন্তু উপকূলীয় এলাকায় দুর্যোগপূর্ণ অবস্থা থাকায় ভোলা, পটুয়াখালী ও বরিশাল অঞ্চলে লঞ্চ চলাচল বন্ধ করা হয়েছে। শুধু চাঁদপুর ও কাছের নৌপথে লঞ্চ চলাচল করতে পারবে।
সোমবার সকালে আবহাওয়ার সর্বশেষ বার্তায় বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়টি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর নাগাদ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। তবে আবহাওয়া বিষয়ক সংস্থা স্কাইমেট জানিয়েছে, মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে ঘূর্ণিঝড়টি উপকূল অতিক্রম করতে পারে। আবহাওয়াবিদ ড. আব্দুল মান্নান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ সোমবার সকাল নয়টা পর্যন্ত চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কিলোমিটার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে অবস্থান করছিল। ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রে ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার। এটি দমকা বা ঝড়ো হাওয়ায় ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ হিসেবে ধারণা করা হচ্ছে, আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল থেকে দুপুর নাগাদ এটি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর ও এদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোও ১০ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে। ঘূর্ণিঝড় মোরা উপকূল অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চাঁদপুর, ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর এসব উপকূলীয় জেলায় ভারি থেকে অতি ভারি বর্ষণ এবং ঘণ্টায় ৬২ থেকে ৮৮ কিলোমিটার বেগে ঝড়ো ও দমকা হাওয়া বয়ে যেতে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে ঘূর্ণিঝড় সিডরের চেয়ে মোরা বেশি শক্তিশালী হবে না। ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত ঘূর্ণিঝড় সিডরে ব্যাপক ক্ষতক্ষতি হয়েছিল। ওই ঘূর্ণিঝড়ের সময় ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত জারি করেছিল আবহাওয়া বিভাগ। (সূত্র: দৈনিক মানবজমিন)






একই ধরনের খবর

  • অভিযোগ থেকে রেহাই পাচ্ছেন বাবুল আক্তার!
  • জাতীয় সংদে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট পেশ
  • অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চায় যুক্তরাষ্ট্র : বার্নিকাট
  • যেভাবে বড় বিপদ থেকে বাঁচলো বাংলাদেশ
  • জিয়াউর রহমানের ৩৬তম শাহাদাত বার্ষিকী ৩০ মে
  • টাঙ্গাইল জেলা বিএনপি’র নতুন কমিটি
  • ভিয়েনায় প্রধানমন্ত্রীকে লালগালিচা সংবর্ধনা
  • Shares