সাক্ষাৎকার : উত্তরসূরীর চোখে মাওলানা মুহিউদ্দীন খান

তিনি ছিলেন ইসলামী রেঁনেসা’র পুরোধা ব্যক্তিত্ব

নিউইয়র্ক: উপমহাদেশের বিশিষ্ট ইসলামী ব্যক্তিত্ব, বাংলাদেশের আলেম সমাজের শীর্ষস্থানীয় মুরুব্বী মাওলানা মুহিউদ্দীন খান ইসলামের নানা ক্ষেত্রে যে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে গেছেন তা রীতিমত বিস্ময়কর এবং গবেষণার বিষয়। ইসলামের এ মহান ব্যক্তিত্বের জীবনকাল তার কর্মক্ষেত্রের বিশালতা এক গৌরবোজ্জল অধ্যায় যা তার সমসামায়িক আলেমগণের মধ্যে খুব বেশী দেখা যাবে না। তিনি আজীবন কলম ও জবান যুদ্ধ চালিয়ে গেছেন ইসলাম, মুসলমান এবং মুসলিম উম্মাহর মঙ্গল কল্যাণে। তাঁর মাসিক মদীনা ও সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান কেবল এদেশের আলেম সমাজ নয়, বুদ্ধিজীবি সহ সমাজদের সবাইকে প্রভাবিত করেছে। সমসামায়িক আলেম সমাজ তাঁকে ইসলামী রেঁনেসা এবং মুসলিম সাহিত্যের পুরোধা ব্যক্তিত্ব বলে আখ্যায়িত করেছেন। নিউইয়র্ক থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকার সাথে আলাপকালে এ কথা বলেন, তার জৈষ্ঠ্য পুত্র এবং ‘সাপ্তাহিক মুসলিম জাহান’ সম্পাদক মোস্তফা মঈনউদ্দীন খান। তিনি গত সপ্তাহে এক সংক্ষিপ্ত সফরে যুক্তরাষ্ট্রে আসেন।
মঈন খান বলেন, ইসলামের বিভিন্ন শাখায় তাঁর রচনা সম্ভার এবং অনুবাদ ভান্ডার ইসলামী সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। অনুবাদ এবং মৌলিক গ্রন্থ মিলিয়ে তার গ্রন্থের সংখ্যা শতাধিক।তিনি বলেন, মরহুম মাওলানা মুহিউদ্দিন খান তাঁর পূর্বসূরী মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ ও মাওলানা মুনিরুজ্জামান ইসলামাবাদীর সাংবাদিকতা ও লেখনীর আদর্শ অনুসরণ করে শিক্ষাজীবন শেষ করেই বাংলা সাংবাদিকতা জগতে প্রবেশ করেন। তিনি সাপ্তাহিক ‘আজ’ ও ‘নয়া জমানা’, তৎকালীন ইসলামী একাডেমীর মাসিক মুখপাত্র ‘দিশারী’ সম্পাদনার দ্বায়িত্ব পালন করেন। তা ছাড়া ১৯৬১ সালের মার্চ থেকে নিজ সম্পাদনা ও মালিকানায় মাসিক মদীনা প্রকাশনা করেন। বিগত ৫৫ বছর ধরে তা নিয়মিত প্রকাশিত হয়ে আসছে এবং আমরা যতদিন জীবিত আছি ইনশাল্লাহ এর প্রকাশনা অব্যাহত থাকবে।
মোস্তফা বলেন, তার অপূর্ব লেখনী শক্তি ছিল আল্লাহ প্রদত্ত। সীরাত জীবনী, কোরআনের তাফসীর, বাণী সংকলন, ইসলামী আন্দোলন, ইসলামী ঘটনাবলী নিয়ে নানা বিষয়ের উপর তার অনুবাদ ও রচনাবলী বাংলায় ইসলামী সাহিত্যের এক অমূল্য সম্পদ। হযরত মাওলানা মুফতী শফী (রাঃ) রচিত ৮ খন্ডে ‘মারেফুল কোরআনের’ বাংলা অনুবাদ ইসলামপ্রিয় সকলের কাছে সমাদৃত হয়েছে।
mowlana-muhiuddin-khanএকজন সুদক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রকাশক হিসাবে মরহুম মাওলানা মুহিউদ্দিন খান ছিলেন আদর্শ। তিনি ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে বই পুস্তক প্রকাশ করে বড় অর্থ উপার্জন করতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেন নি। কুরুচিপূর্ণ এবং অপসংস্কৃতির গন্ধযুক্ত বই পুস্তক প্রকাশ করা তিনি সচেতন ভাবে পরিহার করেছেন।
মোস্তফা বলেন, কর্মজীবনে তিনি সব সময় ছিলেন নেতৃত্বের ভূমিকায়। বাংলাদেশে মাদ্রাসা তথা ইসলামী শিক্ষার উন্নয়ন ও সংস্কার আন্দোলন, ইসলামী আরবী বিশ্ববিদ্যালয় আন্দোলন, মাদ্রাসা শিক্ষক, ছাত্রদের নানা সমস্যা ও দাবী দাওয়া ইত্যাদির ব্যাপারে জমিয়তে তালবায়ে আরাবিয়ার নেতা হিসাবে সবসময় তিনি সম্মুখ কাতারে ছিলেন। ইসলাম বিরোধী নানা তৎপরতার বিরুদ্ধে তার সোচ্চার ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশ স্বাধীনতার প্রাক্কালেও তাঁর ভূমিকা ছিলো স্মরণীয়। ১৯৭১ সালের শুরুর দিকে পাকিস্তান জামায়াতে উলামা ইসলামের সভাপতি মুফতি মুহম্মদ এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মধ্যস্থতা করেন।
তিনি বলেন, দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বেও মাওলানা মুহিউদ্দিন খান ছিলেন সমান জনপ্রিয়। তিনি আন্তর্জাতিক সংগঠন মোতামারে আলমে ইসলামীর বাংলাদেশ শাখার প্রতিষ্ঠালগ্ম থেকে সেক্রেটারী জেনারেল এবং সউদী আরব ভিত্তিক ইসলামী সংগঠন রাবেতায়ে আলমে ইসলামীর সদস্য ছিলেন। তিনি মধ্য প্রাচ্যের আরব দেশগুলো ছাড়াও বিশ্বের বহু মুসলিম দেশে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ গ্রহণ করেন।
তিনি বিশ্বের ৫০টি দেশ ভ্রমণ করেন এবং সৌদি আরব, লন্ডন, ভারত, পাকিস্তান সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে শতাধিক পদক এবং সম্মাননা লাভ করেন।






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares