ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন নীতির বিরুদ্ধে ১৩ রাজ্যে মামলা

ইব্রাহীম চৌধুরী: ইমিগ্রেশন বা অভিবাসন নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ঘোষিত নতুন নীতিমালাকে চ্যালেঞ্জ করে ১৩টি অঙ্গরাজ্য থেকে এরই মধ্যে মামলা করা হয়েছে। আরও বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্যও এই মামলায় যোগ দিচ্ছে। অসামর্থ্য লোকজন সরকারি সাহায্য নিচ্ছে বা নেবে- এমন ব্যক্তিদের গ্রিনকার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে কড়াকড়ি আরোপ করা হবে বলে নতুন নির্দেশনা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নতুন বিধি আসছে ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন নীতির বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় ওই নির্দেশনার ওপর স্থগিতাদেশ চাওয়া হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন থেকে চালু থাকা ইমিগ্রেশন আইনের সংস্কার না করে কেবল নির্দেশনা দিয়েই বদলে ফেলা হচ্ছে। প্রশাসনের এই উদ্যোগ আমেরিকার ইমিগ্রেশনকে পুরোই বদলে দেবে। ধনীরাই কেবল আমেরিকায় আসতে পারবে। অনগ্রসর বা সামর্থ্যহীন লোকজন আমেরিকায় আসার স্বপ্ন এবং এই দেশে নিজেকে প্রমাণ করার কোনো সুযোগই পাবে না। এমন নির্দেশনা ইমিগ্রেশনের দেশ আমেরিকার ঐতিহ্যের পরিপন্থী বলে মামলার সমর্থকেরা বলেছেন।
ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল মার্ক হেরিংসহ অঙ্গরাজ্যের একদল অ্যাটর্নি ১৪ আগস্ট এ মামলা দায়ের করেছেন। কলোরাডো, দেলাওয়ার, ইলিনয়, ম্যাসাচুসেটস, মিশিগান, মিনেসোটা, নেভাদা, নিউজার্সি, নিউ মেক্সিকো এবং রোড আইল্যান্ড এরই মধ্যে এই মামলায় যোগ দিয়েছে।
সান্তাক্লারা ও সানফ্রান্সিসকো কাউন্টির জনপ্রতিনিধিরা ১৩ আগস্ট মামলা দায়ের করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশনার ওপর সাময়িক স্থগিতাদেশের আবেদন করেছেন। মামলায় বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সহযোগিতার যে কথা তুলেছেন, তা ইমিগ্রেশন আইনের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ডিপার্টমেন্ট হোমল্যান্ড সিকিউরিটির পক্ষ থেকে বিচারাধীন বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিসিয়া জেমস বলেছেন, রাজ্যের পক্ষ থেকে তারাও মামলায় যোগ দেবেন। লেটিসিয়া জেমস বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বার্তা পরিষ্কার- তুমি যদি সামর্থ্যবান হও, তাহলেই আমেরিকায় আসো। যদি গরিব হও আমেরিকার দরজা তোমার জন্য বন্ধ।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত অসমর্থ্য পরিবারগুলোকে আমেরিকার স্বপ্ন দেখা পরিহার করতে বাধ্য করছে। বহু পরিবারকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে, তারা স্বাস্থ্যসেবা নেবে কি না, ছাদের নিচে থাকবে কি না, পর্যাপ্ত খাবার খাবে কি না? আমেরিকার নাগরিকত্বের জন্য বিপর্যস্ত পরিবারগুলোকে বেঁচে থাকার মৌলিক বিষয়গুলোকে পরিহার করতে হবে।
ক্ষমতায় আসার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একের পর এক ইমিগ্রেশনবিরোধী পদক্ষেপ নিচ্ছেন। নতুন বিধি আরোপ করে, সীমান্তে কড়াকড়ি আরোপ করে, ধরপাকড় বাড়িয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইমিগ্রান্টদের কাছে এক আতঙ্কের নামে পরিণত হয়েছেন। কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেশ কিছু নির্দেশনা এর মধ্যেই আদালতে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আমেরিকার ইমিগ্রেশনের চেহারা পাল্টে দেওয়া নতুন এই নির্দেশনা নিয়েও শক্ত আইনি লড়াইয়ে নামছেন উদারনৈতিকেরা। অভিবাসী গ্রুপ ও ডেমোক্র্যাট প্রধান রাজ্যগুলো এর মধ্যেই এগিয়ে এসেছে। ১৫ অক্টোবর থেকে কার্যকর করার উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে- তা এখন নির্ভর করছে আদালতের নির্দেশনা বা নির্লিপ্ততার ওপর। (প্রথম আলো)






একই ধরনের খবর

  • নাইন ইলেভেন : সন্ত্রাসী হামলার আতঙ্ক এখনো কাটেনি
  • ভয়াল ৯/১১ বুধবার
  • লুইজিয়ানায় বাংলাদেশী শিক্ষার্থীকে গুলি করে হত্যা
  • জেরুজালেমে যাব না : জোরালো ঘোষণা রাশিদা তাইলিবের
  • যুক্তরাষ্ট্রের দুই মুসলিম নারী কংগ্রেস সদস্যের ইসরাইল সফরে নিষেধাজ্ঞা
  • যুক্তরাষ্ট্রে বঙ্গবন্ধু’র জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবে ভারতীয় বাঙালীরা
  • বাংলাদেশী মুসলিমকে বাড়ি ভাড়া না দেয়ায় ৫ কোটি টাকা জরিমানা
  • Shares