জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশ উত্থাপিত “শান্তির সংস্কৃতি” রেজুলুশন গৃহীত

নিউইয়র্ক: প্রতিবছরের ন্যায় এবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে গত ১২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ উত্থাপিত ‘শান্তির সংস্কৃতি’ রেজুলুশন সর্ব সম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বাংলাদেশের পক্ষে রেজুলুশনটি উপস্থাপন করেন। বিশ্বব্যাপী শান্তির সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি জাতিসংঘের সকল সদস্য রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান।
স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, “আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের ক্ষমতায়ন ও শান্তির সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। তাঁর প্রথমবারের সরকারের সময় ১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সর্বসম্মতিক্রমে রেজুলুশন ৫৩/২৪৩ অর্থাৎ এই শান্তির সংস্কৃতি রেজুলুশনটি গ্রহণ করে। সেই থেকে শুরু করে প্রতিবছর বাংলাদেশ এই রেজুলুশনটি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করে আসছে এবং যা প্রতিবছরই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হচ্ছে।
স্থায়ী প্রতিনিধি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে এবং তাঁর রূপকল্প-২০২১ ও রূপকল্প-২০৪১ এর আলোকে ‘জন-কেন্দ্রিক উন্নয়ন কৌশল’ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ।
এ বছর সেপ্টেম্বর মাসের ১৩ তারিখে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে শান্তির সংস্কৃতি রেজুলুশনের ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপন অনুষ্ঠানের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা বলেন, “এটি টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা ২০৩০ এর পূর্ণ ও কার্যকর বাস্তবায়নার্থে শান্তির সংস্কৃতির প্রয়োজনীয়তাকেই স্বীকৃতি দিয়েছে। শান্তির সংস্কৃতি এমনই একটি ব্যাপক-ভিত্তিক ধারণা যা এজেন্ডা ২০৩০ বাস্তবায়ন পরবর্তী সময়েও শান্তির বার্তাকে শক্তিশালী করতে সমভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখবে”।
স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, সামনের বছরে বিশেষ করে জাতিসংঘের ৭৫ বছর পূর্তিসহ ‘বেইজিং+২৫’ বার্ষিকী এবং ‘নারী, শান্তি ও নিরাপত্তা’ এজেন্ডার ২০ বছর পূর্তি উদযাপন শান্তির সংস্কৃতি ধারণাকে আরও কার্যকরীভাবে তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে।
এবারের রেজুলুশনটি গ্রহণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় শান্তির সংস্কৃতির ২০ বছর পূর্তি উদযাপনকেই শুধু স্বাগত জানায়নি, বরং একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও এজেন্ডা ২০৩০ এর পূর্ণ বাস্তবায়নে এর প্রয়োজনীয়তাকেও স্বীকৃতি দিয়েছে। উপরন্তু, রেজুলুশনটিতে সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাতিসংঘের কাজের তিনটি স্তম্ভের প্রতিটিতেই শান্তির সংস্কৃতির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বছর বিশ্বের ১২৬টি দেশ বাংলাদেশের এই রেজুলুশন কো-স্পন্সর করেছে যা এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ। এই সমর্থন বিশ্ব শান্তির ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবদানের প্রতি বিশ্ববাসীর গভীর আস্থারই বহি:প্রকাশ। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি।






একই ধরনের খবর

  • জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধির পরিচয়পত্র পেশ
  • রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকী : জাতিসংঘে ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আবার ৪ দফা প্রস্তাব
  • ইউনিসেফের ‘চ্যাম্পিয়ন অব স্কিল ডেভেলপমেন্ট ফর ইয়ুথ’ পুরস্কার নিলেন প্রধানমন্ত্রী
  • অভিন্ন সুবিধা ও সমৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশের সঙ্গে থাকুন : ইউএস চেম্বারস অব কমার্স আয়োজিত গোলটেবিল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী
  • নিউইয়র্কে হাসিনা-ট্রাম্প আন্তরিক কথোপকথন : ট্রাম্পের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ফাইল হস্তান্তর করেন শেখ হাসিনা
  • ট্রাম্পের সাথে শেখ হাসিনার কুশল বিনিময়
  • রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে জাতিসংঘে চারদফা প্রস্তাব করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  • Shares