বিশেষ সাক্ষাৎকারে মিজান খন্দকার

ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিলো ইন্টারন্যাশনাল নিউজ প্রেজেন্টার হওয়ার

নিউইয়র্ক: পুরো নাম খন্দকার মিজানুর রহমান। তিনি ‘মিজান খন্দকার’ নামেই সমধিক পরিচিত। বাংলাদেশ বেতার থেকে শুরু করে ঢাকার বিভিন্ন মিডিয়া ছাড়াও বিবিসি’র সংবাদ উপস্থাপক তথা নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে দেশ-বিদেশের দর্শকপ্রিয় একটি নাম। তার স্বপ্ন-সাধনা, চাওয়া পাওয়া আর ভবিষৎ নিয়েই সাক্ষাৎকার ভিত্তিক এই বিশেষ প্রতিবেদন।
মিজান খন্দকারের জন্ম ঢাকায়। স্থায়ী বসবাস নারায়নগঞ্জ। পিতার নাম মরহুম খন্দকার আমিনুল হক। মাতা বিলকিস আমিন। আমিন দম্পতির এক পুত্র আর ছয় কন্যা। মিজান খন্দকারের মাতা বিলকিস আমিন একজন ‘রতœগর্ভা মা’ হিসেবে ২০১৭ সালের ১৪ মে আন্তর্জাতিক মা দিবসে পুরষ্কৃত হন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং স্ত্রী শাহানা ফেরদৌসী লুনা একজন ব্যাংকার। তারা দুই পুত্র সন্তানের জনক-জননী। তিনি বাংলাদেশ সংবাদ পাঠক সমিতির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক। সম্প্রতি তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর এসেছেন। গত ৩ ফেব্রুয়ারী শনিবার মিজান খন্দকারের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয়।
প্রশ্ন: কিভাবে আসলেন এই পেশায়। বা নিউজ প্রেজেন্টার হলেন কিভাবে?
মিজান খন্দকার: সে এক স্বপ্ন। ছোট বেলায় স্কুলে পড়ার সময় সবার মতো আমাকেও বিভিন্ন ক্লাশে ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে একাধিকবার রচনা লেখতে হয়েছে। আমার বন্ধু-বান্ধব অনেকেই ডাক্তার, জজ-ব্যারিস্টার, শিল্পী ছাড়াও সরকারী কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। কিন্তু আমার মাঝে নিউজ প্রেজেন্টার হওয়ার স্বপ্ন জাগে। ছোটবেলা থেকেই রেডিওতে খবর শুনে আর দেশের একমাত্র টেলিভিশন বিটিভি’র খবর দেখে নিউজ প্রেজেন্টার হওয়ার স্বপ্ন মাথায় ঢুকে যায়। আর সেই যে শুরু। বিশেষ করে বিটিভি ও বাংলাদেশ বেতার এবং বিবিসি’র বিখ্যাত সংবাদ উপস্থাপক সালেহ আকরাম এবং বিটিভি’র আসমা আহমেদ মাসুদ-এর সংবাদ উপস্থাপনা আমাকে উদ্বুদ্ধ করে। সেই থেকে স্বপ্ন ছিলো ইন্টারন্যাশনাল নিউজ প্রেজেন্টার হওয়ার।
প্রশ্ন: তো শুরু হলো কিভাবে?
মিজান খন্দকার: ঢাকা সিটি কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন করার পর ছোটবেলার স্বপ্ন নিয়ে চলে গেলাম বাংলাদেশ বেতার অফিসে। সেখানে কেন্দ্রীয় বার্তা সংস্থার সাথে যোগযোগ করে আমার ইচ্ছের কথা জানাই এবং তাদের সহযোগিতায় ১৯৯২-তে সংবাদ উপস্থাপক হিসেবে প্রথম অডিশন দেই। এভাবেই ৭বার অডিশন দিয়ে পাশ করার পর রি-অডিশন দিয়ে ১৯৯৬ সালের ১৪ মার্চ বাংলাদেশ বেতারে প্রথম খবর পাঠ করি। এক্ষেত্রে বিটিভি’র তৎকালীন সিনিয়র সংবাদ উপস্থাপিকা রতœা রহমতউল্লাহ আমাকে বিশেষভাবে গাইড করেন। এর আগে নিজে নিজেই বাসায় বসে একাকী রেডিও শুনে আর বিটিভি’র খবর দেখে প্র্যাকটিস করেছি। পরবর্তীতে পিআইবি থেকে ‘ম্যাস কমিউনিকেশন এন্ড জার্নালিজম’ থেকে পোষ্টগ্র্যাজুয়েশন কোর্স সম্পন্ন করি।
প্রশ্ন: নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে প্রথম অভিজ্ঞতা কেমন?
মিজান খন্দকার: প্রথম যেদিন সংবাদ উপস্থাপনা করলাম সেদিন খুবই ‘এ্যাকসাইটেড’ ছিলাম। মনের মধ্যে আনন্দ ছিলো। দীর্ঘ দিনের স্বপ্ন পূরণ হওয়াতে অন্য রকম সুখানুভুতি অনুভতি কাজ করে। যা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। পরবর্তীতে বিবিসি-তে যেদিন সংবাদ উপস্থাপনার জন্য তালিকাভূক্ত হই (১৮ ডিসেম্বর ২০১২) সেদিনের অনুভূতি আরো অন্যরকম ছিলো। সেদিন নিজেকে পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ মনে হয়েছে।
প্রশ্ন: আর কোন কোন মিডিয়ায় কাজ করেছেন?
মিজান খন্দকার: বাংলাদেশ বেতারের পর এটিএন বাংলা, চ্যানেল আই, আরটিভি, দিগন্ত টিভি তে নিউজ এন্ড কারেন্ট এফেয়ার্স অ্যাঙ্কর হিসেবে কাজ করি এবং রেডিও টুডে (রেডিও টুডে-ভয়েস অব আমেরিকা যৌথভাবে সংবাদ প্রযোজনা করে) এবং সর্বশেষ ব্রিটিশ ব্রডকার্স্টিং করপোরেশন-বিবিসি বাংলা’য় নিউজ প্রেজেন্টার হিসেবে কাজ করি। এছাড়াও বিভিন্ন মিডিয়ায় রিসোর্স পার্সন হিসেবেও কাজ করেছি।
প্রশ্ন: পেশাগতভাবে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?
মিজান খন্দকার: রেডিও-টিভি’র নিউজ প্রেজেন্টার ছাড়াও এবিষয়ে অর্জিত অভিজ্ঞতার আলোকে পেশাগতভাবে আরো ভালো কিছু করার ইচ্ছে রয়েছে।
প্রশ্ন: নতুনদের জন্য আপনার পরামর্শ কি?
মিজান খন্দকার: একজন ভালো নিউজ প্রেজেন্টার হতে হলে কাজের প্রতি ‘নেশা, ধৈর্য্য ও আন্তরিকতা’ থাকতে হবে। ভালো নিউজ প্রেজেন্টারদের অনুসরণ করতে হবে। ভালোভাবে ভাষা জ্ঞান, সম্পাদনা জ্ঞান এবং উচ্চারণ রপ্ত করতে হবে। পাশাপাশি পৃথিবী সম্পর্কে নিয়মিত আপগ্রেড থাকতে হবে।
আপনাকে ধন্যবাদ।
(সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)






একই ধরনের খবর

  • বাংলাদেশের সকল স্তরেই চরম অনৈতিক অবস্থা বিরাজ করছে
  • DIDER CHOWDHURY: WON AWARD FOR CONTEMPORARY INFORMATION BASED ANALYTICAL REPORT
  • দিদার চৌধুরী : প্রাণের তাগিদে সাংবাদিক হওয়ার গল্প
  • ভিনদেশী সাংবাদিকেরা বাংলাদেশকে নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছেন
  • The Immigrant’s Fourth Estate
  • আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের এক দশক পূর্তি অনুষ্ঠান ৮ এপ্রিল
  • প্রবাসের বাংলা সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব চাই, সুস্থ প্রতিযোগিতা চাই
  • Shares