ছন্দে ফিরছে নিউইয়র্ক

হাবিবুর রহমান: নিউইয়র্কে মৃত্যুর মিছিলটা না থামলেও গতিটা একটু কমেছে। আর তাতেই যেন খুশী নিউইয়র্কাররা। আরো বেশী খুশী এজন্য যে দোকানপাট ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে। লক ডাউনের শুরু থেকেই শাট ডাউন ছিলো নিউইয়র্কারদের প্রিয় কফি হাউজ স্টার বাক্স। গত মঙ্গলবার (৬ মে) থেকে তাদের ঝাঁপ খুলেছে। তবে নিয়ম কানুন কিছুটা পাল্টেছে। আগের মত এক গøাস কফি নিয়ে ল্যাপটপ খুলে ঘন্টার পর ঘন্টা আড্ডা দেয়ার সুযোগ নেই। অন লাইনে অর্ডার দিয়ে শুধু পিক আপ। তারপরও এতেই খুশী নতুন প্রজন্ম। কফি হাতে সোস্যাল দূরত্ব মেনে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আড্ডার সুযোগ যে পাওয়া যাচ্ছে এটাই ঢের!

এসেনসিয়াল স্টোর হিসাবে ফার্মেসী খোলা থাকলেও চশমার দোকান এতদিন খোলা ছিলনা। এসপ্তাহে তাও খুলেছে। শহরব্যাপি মেট্রো অপটিকের সব ক’টি শাখাই খোলার ঘোষণা দিয়েছে তারা। ব্রঙ্কসের মেট্রোপলিটন এভিন্যুর একটি শাখায় ঢুকে দেখা গেলো সেট আপ গেট আপে বিশাল পরিবর্তন। এবছরের শুরুতে অনেকদিন বন্ধ রেখে নতুন করে দৃস্টিনন্দন করে সাজানো হয়েছিলো দোকানটি। কিন্তু কোভিড-১৯ ভাইরাস হানা দেবার পর পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন করে সাজ সজ্জায় আনা হয়েছে পরিবর্তন। লম্বা সোফাগুলো তুলে ফেলে ৬ ফুট দূরত্ব বজায় রেখে চেয়ার পাতা হয়েছে। দুই চেয়ারের মাঝে পাতা হয়েছে ছোট টেবিল যাতে দূরত্বটা কোন অবস্থাতেই না কমে যায়। দরজার মুখেই সেট করা হয়েছে হ্যান্ড সেনিটাইজারের বড় বোতল। হ্যান্ড গøাভস পরা থাকলেও হাত সেনিটাইজ বাধ্যতামূলক সকলের জন্য।
ইতোপূর্বে দিন বা রাতে একটু পর পর শোনা যেত অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন। এখন তা অনেকই কমেছে। আর সেআওয়াজের জায়গা দখল করেছে আইসক্রিম গাড়ীর টুংটাং মিস্টি শব্দ। শহরের অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে গাড়ীগুলো। টুং টীম ঘন্টার মিস্টি আওয়াজে ছুটে আসছে বাসা বন্দী ছেলেমেয়েরা। স্কুল ছুটি থাকায় আইসক্রিম বিক্রি ভালোই হচ্ছে জানালো কার্ট মালিকরা।
প্রতিটি বাসা বাড়ীর আশে-পাশের পার্কগুলোতেও ছেলেমেয়েরা খেলা করছে। দূরত্ব বজায় রেখে আড্ডা দিচ্ছেন বয়স্করা। অনেকে মাঠের চারপাশে হাঁটাহাঁটি করে শরীরের জড়তা কমানোর চেস্টা করছেন। পুলিশের গাড়ীও টহল দিয়ে বেড়াচ্ছে একটু পর পর। রাস্তাঘাটে, পার্কে সোস্যাল ডিসটান্স মানা হচ্ছে কিনা এদিকে তীক্ষè নজর রাখছে তারা। এই আইন না মানায় এরি মাঝে কয়েকজনকে টিকিট (জরিমানা) দেয়ার খবরও বেরিয়েছে পত্রপত্রিকায়। তাই আড্ডা দিতে গিয়েও সচেতন প্রবাসীরা।
কোভিড-১৯ ভীতিকে উপেক্ষা করে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরাও তাদের পসরা সাজিয়েছে। এর মাঝে ফল বিক্রেতাদের পরিমানই বেশী। রমজান মাসে তৈলাক্ত খাবারের চেয়ে তাজা ফলমূলের চাহিদা বেশী জানালেন বিক্রেতারা। বেচাকেনা ভালো হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
সব আশার মাঝেও একটু হতাশার বাণী শোনালেন চেইন ট্রাভেল বিজনেস কোম্পানী লিবার্টি ট্রাভালসের ম্যানেজার জোসেফ। তিনি জানান, কোভিড পরবর্তী সময়ে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ট্রাভেল ব্যবসা। ধ্বস নামবে এয়ারলাইন্স কোম্পানীগুলোতে। সোস্যাল ডিসটান্স বজায় রাখতে হলে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ফ্লাই করতে হবে। ব্যবসায়ে টিকে থাকতে হলে ভাড়া বাড়াতে হবে দ্বিগুন। প্রভাব পরবে দুনিয়াব্যাপী ট্রাভেল ব্যবসায়। তাই আগে ভাগেই ক্ষতির পরিমাণ কমাতে ব্যবসা গুটাচ্ছে তাদের এই কোম্পানী। এর ধারাবাহিকতায় বন্ধ করে দিয়েছে পার্কচেস্টারের এই আউটলেটটি। (বাংলা পত্রিকা)






একই ধরনের খবর

  • ১৯৪৩ সালের পর ঐতিহাসিক কারফিউর কবলে নিউইয়র্ক
  • বিশ্বের ইতিহাসে ভিন্নধর্মী ঈদুল ফিতর পালিত : করোনা মুক্ত বিশ্ব কামনা : করোনাকালের লক ডাউনে নিউইয়র্কের ঘরে ঘরে ঈদের জামাত
  • কোভিড-১৯ জয়ী ইলিয়াস খসরু বলছি…
  • চাঁদ দেখা যায়নি : যুক্তরাষ্ট্রে রোববার ঈদ বাংলাদেশে সোমবার
  • নিউইয়র্কে সামার স্কুল পরিকল্পনা
  • নিউইয়র্ক সিটিতে নতুন উদ্বেগ করোনা আক্রান্ত শিশু
  • করোনায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি লাখে মৃত্যু ২৮.৮জন
  • জ্যামাইকা বাংলাদেশ ফ্রেন্ডস সোসাইটির সপ্তাহব্যাপী ‘ফুড ডিষ্ট্রিবিউশন’ কার্যক্রম তিন শতাধিক পরিবার পেলো ‘ঈদ উপহার’
  • Shares