কমিউনিটির নতুন উপদ্রব-ফেসবুক সাংবাদিক : এদের থামাতে হবে

হাবিব রহমান: স্বজনদের কাছ থেকে প্রায় প্রতিদিন অভিযোগ আসছে-হাসপাতালে অসুস্থ চিকিৎসাধীনদের মৃত্যু সংবাদ ছাপছেন তাঁরা। জ্বী তারা সাংবাদিক-ফেস বুক সাংবাদিক। ঘরে বসে দূরবীন দিয়ে তারা সংবাদ খুঁজেন। যাচাই বাছাইয়ের বালাই নেই। ঙনলবপঃরারঃু-র তোয়াক্কা নেই। তাদের অভিযোগ যে অমুলক নয় এর স্বপক্ষে অনেকেই একমত হবেন। আমি নিজে দু’একটা প্রমান দিচ্ছি।
ব্রঙ্কসের পরিচিত মুখ আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দীন। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, স্থানীয় বিজন্যাস এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট, মসজিদ কমিটির সভাপতি। অসুস্থ হয়ে তিনি হাসপাতালে। দুদিন আগেই ফেস বুকে তার মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করলো একজন ফেস বুক সাংবাদিক।
মারা গেছেন মৌলভীবাজারের গিয়াস উদ্দীন। মেরে দিলেন সুনামগঞ্জের আলহাজ্ব গিয়াস উদ্দীনকে। মারা গেলেন বিএনপি নেতা প্রিন্স, খবর ছড়ালেন রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ী প্রিন্সের মৃত্যুর। মারা গেলেন এক কায়কোবাদ। টানা হিচরা করলেন আরেক প্রিয় ভাজন আওয়ামী লীগ নেতা বরিশালের কায়কোবাদ-কে নিয়ে। মানুষের মৃত্যু নিয়ে নিউজ করবেন ধৈর্য নেই কেন? পরিবারের কাছে কি জানতে চেয়েছিলেন তিনি মৃত না জীবিত? যে জীবিত মানুষটাকে মৃত বানিয়ে নিউজ করলেন তিনি জানার পর কতটুকু আঘাত পাবেন তার ধারনা আছে আপনাদের? তার পরিবার কতটুকু শকড হয় তা বুঝার ক্ষমতা কি আছে? এ ধরনের নিউজ করা যে কত বড় ক্রাইম তা কি আপনারা জানেন? মামলা করলে ধাক্কা সামলাতে পারবেন তো!
আজাদ বাকের। কমিউনিটির পরিচিত মুখ। সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এলমহাস্ট হাসপাতালে। জীবনমৃত্যুর সন্ধিক্ষণে। তবে তিনি বেঁচে আছেন। পরশুদিন রাত ১২টায় সাংবাদিক বন্ধু সৈয়দ মাসুদুল করিম একটা স্কিন শট পাঠিয়ে জানতে চাইলেন আজাদ বাকেরের মৃত্যু সংবাদ ঠিক ক কিনা! আমি এর একটু আগে কথা বলেছি আজাদ বাকেরের সর্বশেষ অবস্থা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র যুবদল নেতা আবু সাঈদের সাথে। বিএনপি নেতা ইমরান শাহ রন এর সাথে। আজাদ বাকের আমারও বন্ধু। তাই তার স্বাস্থের ব্যাপারে আমিও উদ্বিগ্ন ছিলাম। আবার ফোন করলাম সাঈদকে। তিনি কনফার্ম করলেন তিনি হাসপাতালে আগের অবস্থানেই আছেন। (অবশ্য পরবর্তীতে আজাদ বাকের ইন্তেকাল করেন)।
ফেস বুক স্কিন শট টা আমার কাছে আছে। এটা একটা রেকর্ড। সাংবাদিক (!) ভাই আপনার নাম পরিচয় কিন্তু আমার কাছে আছে। ভালো হয়ে যান। ভালো হইতে পয়সালাগেনা। আগামীতে যদি এমনি উল্টা পাল্টা খবর প্রকাশ করেন তাহলে ভিক্টিমের স্বজনরা কি করেন জানিনা-একজন সচেতন পাবলিক হিসাবে আমি কিন্তু মামলা ঠুকে দিব।
পাবনার মেয়ে রাশিদা আহমদ মুন। তিনি লং আইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকৎসাধীন আছেন। তারও মৃত্যু সংবাদ প্রকাশ করেছেন কোন একজন সেলিব্রেটি ফেস বুক সাংবাদিক! বোনটি এখনো জীবিত। এই অপ সাংবাদিকতায় তার স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
কুইন্স থেকে সুফিয়ান খান জানিয়েছেন, এই সো কলড ফেবু সাংবাদিকরা চিকিৎসাধীন ডা. কায়সার রশীদকেও মৃত বানিয়েছিলো।
আর একদল আছেন যারা ফেস বুকে প্রতিদিন ৪/৬ লাইনের স্টেটাস দেন। সারা বিশ্বে করোনা মহানারীতে আক্রান্ত কত, মরলো কত। যুক্তরাষ্ট্রে আক্রান্ত কত, মরলো কত, নিউইয়র্কে আক্রান্ত কত, মরলো কত, প্রতি কয়মিনিটে কত জনের মৃত্যু হচ্ছে ইত্যাদি। এদের মধ্যে হাতে গোনা দু’একজন বাদে কারো স্টেটাসেই রিকভারির কোন তথ্য নেই। জন্মিলে মৃত্যু হয়, অসুস্থ হলে সুস্থ হয় এটাইতো স্বাভাবিক নিয়ম। ভাইজানরা তাহলে এই রিকভারীর তথ্য না দিয়ে স্টাটাসটা সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করছেন কেন! আপনার কি জানা আছে ঘরবন্দী মানুষদের মধ্যে অনেকে অসুস্থ আছেন, অনেক সিনিয়র সিটিজেন আছেন। আপনার এই স্টাটাস পড়ে অনেকেই প্যানিক হচ্ছেন তা কি জানেন? নিজে না জানলে অন্যকে জিজ্ঞাসা করুন। জবাব পেয়ে যাবেন।
ফেস বুকে সংবাদ প্রকাশ অনিয়ন্ত্রিত ভাববেন না। যে সংবাদ অন্যের ক্ষতি করে, প্যানিক ছড়ায় তা ক্রাইম। জেনে বুঝে স্টাটাস দিন। না হয় বিপদে পড়ে যাবেন।
আপনি ফেস বুকে একটা স্টাটাস দিলেন। ওমনি শকুনের মত তারা হামলে পড়বে এর উপর। ছুরি, কাঁচি নিয়ে এরা প্রস্তুত থাকে সব সময়। আপনার স্টাটাসের অংশটুকু কেটে তার নাম দিয়ে দাড়ি কমা সেমিকোলন কোন কিছু না বদলিয়ে বসিয়ে দেবে। আজব চরিত্র এরা। আমি কারো কাছ থেকে শুনে বলছিনা। আমি নিজেই এর শিকার। কারো স্টাটাস “শেয়ার” করতে ওরা লজ্জা পায়। কিন্তু অন্যের স্টাটাস নিজের নামে চালাতে একটুও লজ্জা বোধ করেনা।
আমি দু:খিত এভাবে বলার জন্য। আমিও কিন্তু চাই আপনারা আরো বেশী বেশী করে সংবাদ প্রচার করুন। তবে তা যদি হয় তথ্য ভিত্তিক তাতে কমিউনিটি উপকৃত হবে। সাধারণ মানুষও খুশী হবে। আমি তো কোন ছাড়!
হাতুড়ে ডাক্তার, হাতুড়ে সাংবাদিক সহ সব শ্রেণী পেশার “হাতুড়ে” প্রজাতি কমিউনিটির জন্য বিপজ্জনক। এদেরকে রুখতে হবে। থামাতে হবে।
বিপজ্জনক ভায়েরা আপনারাও সাবধান হয়ে যান। তা না হলে আগামীতে কিন্তু কপালে ভোগান্তি আছে। কেউ যদি সু করে তা হলে জমানো টাকা দিয়ে কিন্তু পার পাবেন না!
আবারো বলি-ভাইজানরা ভালো হয়ে যান। ভালো হইতে পয়সা লাগেনা।






Shares