এক স্লিপ

নিউইয়র্ক: বাংলা নতুন বছর ১৪২৩ শুরু হয়েছে গত ১৪ এপ্রিল’২০১৬। দেশের ন্যায় প্রবাসেও ব্যাপক আয়োজনে বষর্ণবরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন। বর্ণাঢ্য এসব আয়োজনে দল-মত নির্বিশেষে সর্বস্তরের শত-সহস্র, হাজারো মানুষের সমাবেশ ঘটে। মাটির সানকিতে ‘পান্তা-ভাত’ ‘ইলিশ-পান্তা’ খাওয়া থেকে শুরু করে নাচ-গান, ঢাক-ঢোল পিটিয়ে র‌্যালী অনেকেরই দৃষ্টি কাড়ে। বাংলা বর্ষবরণ বা বৈশাখী মেলা উপলক্ষ্যে মিডিয়াগুলো ব্যাপক প্রচারণাও লক্ষ্য করা যায়। এসব প্রচারণায় রংবেরং-এর হরফে ‘পান্তা-ইলিশ’ ভোজন-এর কথা ফলাও করে প্রচার করা হলেও কার্যত অধিকাংশ অনুষ্ঠানেই ‘পান্তা-ইলিশ’ নয়, ‘ইলিশ-ভাত’, বা ‘ভর্তা-ভাত’ বা ‘ডাল-ভাত’ পরিবেশিত হয়। গেলো সপ্তাহে এমনি একটি অনুষ্ঠানে গিয়ে দেখা গেলো ‘পান্তা’র কোন খবর নেই। পান্তার স্থলে গরম ভাত পরিবেশিত হলো। এব্যাপারে আয়োজকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তারা বললেন- ‘বাস্তবে পান্তা-ইলিশ না হলেও ‘ইলিশ-ভাত’ খাওয়া হচ্ছে তো। আরে ভাই একটা কিছু হলেও হলো’। অনুষ্ঠান স্থলে এক প্রবাসী বললেন- ‘ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বছরে এক দিন এতো ঘটা করে তথা কথিত পান্তা-ইলিশ খাওয়ার কোন মানে আছে কি? এটা দেশের গরিব মানুষকে উপহাস করা ছাড়া আর কি!’। আরেকজন মন্তব্য করলেন- যেখানে ‘পান্তা-ইলিশ’-এর ব্যবস্থা থাকবে না, সেখানে ‘পান্তা-ইলিশ’ প্রচারণা প্রতারণা ছাড়া আর কি!। ব্যক্তিগতভাবে বিষয়গুলো নিয়ে ভাবলেও ইচ্ছে-অনিচ্ছায় আমরা সংবাদ কর্মীরা অবলিলায় এসবই প্রচার করছি। প্রকৃত অথেই বিষয়গুলো মিডিয়াকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সকলেরই প্রশ্নগুলো নিয়ে ভাবববার অবকাশ রয়েছে। ২৪ এপ্রিল’২০১৬ (সাপ্তাহিক বাংলা পত্রিকা)






Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked as *

*

Shares