নজিরবিহীন

আপিল বিভাগে বিএনপিপন্থি আইনজীবীদের বিক্ষোভ হট্টগোল, খালেদার জামিন শুনানি পেছালো

ঢাকা ডেস্ক: সুপ্রিম কোটের্র আপিল বিভাগ। এক নম্বর এজলাস কক্ষ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বিচারপতিরা বসেন এখানে। সেই আপিল বিভাগেই মুহুর্মুহু শ্লোগান। বিক্ষোভ। দীর্ঘ অবস্থান। তুমুল হট্টগোল। বিচারপতিদের এজলাস ত্যাগ। অচলাবস্থা।

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জামিন শুনানি এগিয়ে আনার দাবিতে দলটির সমর্থক আইনজীবীদের আন্দোলনে বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) দিনভর উত্তপ্ত ছিল উচ্চ আদালত। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ছিল নজিরবিহীন। এদিন সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর জামিন আবেদনের শুনানির কথা থাকলেও তা হয়নি। মেডিকেল রিপোর্ট দাখিলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সময় চান এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
আদালত ১১ ডিসেম্বরের মধ্যে মেডিকেল রিপোর্ট দুটি দাখিলের নির্দেশ দেন। আর শুনানির দিন ঠিক করে দেন ১২ ডিসেম্বর। এতেই আপত্তি জানান বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। আর এ নিয়ে তৈরি হওয়া হট্টগোল চলে বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত। খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, বাড়াবাড়ির একটা সীমা আছে। আপিল বিভাগে এমন অবস্থা আমরা আগে কখনো দেখিনি। অর্ডার দেয়া হয়ে গেছে। আদালতের পরিবেশ নষ্ট করবেন না। এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমও বলেছেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা যে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছেন তা অভাবনীয়। এ ধরনের ঘটনা আমাদের জীবনে দেখিনি। যদিও খালেদা জিয়ার আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সরকারের প্রভাবের কারণেই খালেদা জিয়া জামিন পাচ্ছেন না। আইনানুযায়ী তার জামিন হওয়া উচিত।
খালেদা জিয়ার জামিন আবেদনের শুনানি ঘিরে গত কয়েকদিনে রাজনীতির ময়দানে মৃদু উত্তাপ ছিল। বাহাসে জড়িয়ে ছিলেন সরকারি দল ও বিএনপির নেতারা। বৃহস্পতিবার এ শুনানি ঘিরে সকাল থেকে নেয়া হয় কড়া নিরাপত্তা। সুপ্রিম কোর্টের সবকয়টি প্রবেশ পথে মোতায়েন করা হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য। পরিচয়পত্র না দেখে এসময় কাউকে আদালতে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। খালেদা জিয়ার আবেদনটি আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির বেঞ্চের কার্যতালিকায় ৭ নাম্বারে ছিল। সকাল সাড়ে ৯টার কিছু পর আবেদনটি শুনানির জন্য আসে। এসময় অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বলেন, খালেদা জিয়ার কিছু পরীক্ষা হয়েছে, কিছু পরীক্ষা বাকি আছে। সেজন্য সময় প্রয়োজন বলে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। আদালত সময় দিয়ে ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য্য করেন। এসময় বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা প্রতিবাদ জানাতে থাকেন। বিশেষকরে জুনিয়র আইনজীবীরা ছিলেন বেশি স্বোচ্চার। তারা বিএনপিন্থী আইনজীবী নেতাদেরও এজলাসে অবস্থান নেয়ার আহ্বান জানান। এ সময় বিএনপি ও আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা তর্কে জড়ান।
পরিস্থিতি শান্ত না হওয়ায় ১০টার দিকে প্রধান বিচারপতিসহ অন্য বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন। আপিল বিভাগের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। কিছুসময় পর সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির উত্তর হলে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম, আইনজীবী সমিতির সভাপতি এএম আমিন উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন। অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আদালতকে অবমাননাকর অবস্থায় নিয়ে গেছে। ওদিকে, আপিল বিভাগে অবস্থান নেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা। সাড়ে ১১টার দিকে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ অন্য বিচারপতিরা ফের এজলাসে আসেন। আপিল বিভাগ এসময় কার্যতালিকার পরবর্তী মামলা শুনানি শুরুর কথা বলেন। এসময় খালেদা জিয়ার সিনিয়র আইনজীবীরা কথা বলার চেষ্টা করলে প্রধান বিচারপতি বলেন, আমরা এখন আর অন্য কিছু শুনব না। সব কিছুর একটা সীমা আছে। এটা নজিরবিহীন। আইনজীবী জয়নুল আবেদীন এসময় বলেন, অনেক কথাই তো বলা যায়। সরকার প্রধান বলেছেন, খালেদা জিয়া রাজার হালে আছেন। এসময় প্রধান বিচারপতি বলেন, কে কী বললো তা দেখে আমরা বিচার করি না।
মামলার কাগজপত্র দেখে আমরা বিচার করবো। খালেদা জিয়ার আরেক আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মইনুল হোসেন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এসময় অর্ডার রিভিউ করার অনুরোধ জানান। প্রধান বিচারপতি বলেন, অর্ডার হয়ে গেছে। সবাই বলছেন, আগামী বৃহস্পতিবারের আগে শুনতে পারবেন না। এসময় আপিল বিভাগ পরবর্তী মামলা শুনানি করতে বলেন। সিনিয়র আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি তখন অন্য একটি মামলার শুনানি শুরু করেন। বিএনপিপন্থী সিনিয়র আইনজীবীরা এসময় এজলাসকক্ষ ত্যাগ করতে চাইলেও জুনিয়ররা বাধা দেন। মিনিট কয়েকপর বিএনপি সমর্থক সব জুনিয়র আইনজীবী একযোগে দাঁড়িয়ে যান। তারা ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ স্লোগান দিতে থাকেন। তারা খালেদা জিয়ার মুক্তি চেয়েও নানা স্লোগান দেন। বেলা সোয়া ১টা পর্যন্ত চলে এ পরিস্থিতি। এসময় আদালতের নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেলে বিচারপতিরা এজলাস ত্যাগ করেন। বিএনপির আইনজীবীরাও আস্তে আস্তে এজলাস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। তারা মিছিল-স্লোগান নিয়ে আইনজীবী সমিতি ভবনের বিভিন্ন অংশ প্রদক্ষিণ করেন। (মানবজমিন)






একই ধরনের খবর

  • যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩১ বাংলাদেশীকে ফেরত
  • বগুড়ার এমপি আব্দুল মান্নান লাইফ সাপোর্টে
  • উমা কাজী আর নেই
  • বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস আজ
  • জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ : ‘জনগণের রায় ক্ষমতা পালাবদলের একমাত্র উপায় : আমার উপর ভরসা রাখুন, আমি আপনাদেরই একজন হয়ে থাকতে চাই’
  • বাংলাদেশে যাঁদের হারালাম ২০১৯ সালে
  • আসকের প্রতিবেদন : বিদায়ী বছরে বিচারবহির্ভূত হত্যাকান্ড ৩৮৮, ধর্ষণ ১৪১৩
  • বছর শেষে অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী
  • Shares